adimage

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৭:৫০, শনিবার

ইউএনও’র উদ্যোগ, ওসির সহযোগিতা : নবাবগঞ্জে বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্ট

আপডেট  03:26 AM, ডিসেম্বর ১৯ ২০১৭   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য স্পোর্টস কৌতুক    

ইউএনও’রউদ্যোগ,ওসিরসহযোগিতা:নবাবগঞ্জেবঙ্গমাতাফুটবলটুর্ণামেন্ট

ইমরান হোসন সুজন, নবাবগঞ্জ:
খুব বেশি আগের কথা নয়, বিকেলে বন্ধুরা মাঠে একসাথে খেলার জন্য বন্ধুদের বাড়ির সামনে অপেক্ষা করতো। সব বন্ধুরা মিলে হৈচৈ করে মাঠ দাপিয়ে মসজিদের মাগরিবের আজানের সাথে সাথে ঘরে ফিরে আসতো। সময় পরিবর্তন হয়েছে। মোবাইল নামের যন্ত্রটা এসে মাঠ থেকে যুব সমাজের মনকে উঠিয়ে নিয়েছে। আর যখন সহজলভ্যে ইন্টারনেট অফারের ছড়াছড়ি শুরু হলে তখন তার অপব্যবহার করে বিপথগামী হয়ে পড়ল যুবকরা। বিভিন্ন অপসংস্কৃতির জালে জড়িয়ে তারা জড়িয়ে পড়ছে নেশার সাথে। আজ তারা মাঠে যেতে চায় না, তার ফলশ্রুতিতে মাঠ হয়ে পড়েছে খেলোয়ার শূণ্য। 

এমনই এক পরিস্থিতিতে ফুটবল টুর্ণামেন্টের মাধ্যমে যুব সমাজকে মাঠমুখী করার এক ব্যতিক্রম উদ্যোগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন। তার এই শুভ উদ্যোগ সফল করতে এগিয়ে আসেন উপজেলা ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১৪টি দল নিয়ে আয়োজন করা হয় “বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্ট”। এ ধরনের উদ্যোগ সারা বাংলাদেশে নবাবগঞ্জেই প্রথম। ইউএনও’র এমন শুভ উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তফা কামাল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. সালাহউদ্দিন। টুর্ণামেন্ট শুরুর পর থেকেই নবাবগঞ্জের মানুষ ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। সর্বস্তরের মানুষই ইউএনও এবং ওসি’র এ্ই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রতিটি খেলায় লক্ষ্য করা যায় মাঠভর্তি দর্শকদের ভিড়। এছাড়া প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত থেকে দোহার সার্কেল এএসপি মাহাবুব রহমান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিনকে দেখা যায় টুর্ণামেন্ট সার্থক করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে।

আর ১৪টি ইউনিয়নের সব চেয়ারম্যানের মতামত একই। তারা এই ধরনের উদ্যোগে পক্ষে। আর এর জন্যই সকলে এক সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান তারা। ফুটবলপ্রেমী দর্শকরাও মহাখুশি এই ধরনের একটি টুর্ণামেন্ট দেখতে পেরে। 

বান্দুরার দলিল লেখক আওয়াল হোসেন বলেন, নবাবগঞ্জের কয়েক জায়গায় গোল্ডকাপ টুর্ণামেন্টের আয়োজন করলেও সেখানে স্থানীয় খেলোয়াররা খেলার সুযোগ পায় না। কিন্ত এই টুর্ণামেন্টের মাধ্যমে নবাবগঞ্জের যুবকরাও দেখিয়ে দিলো সুযোগ পেলে তারাও নিজেদের মেলে ধরতে পারে। টুর্ণামেন্ট থেকে আমরা একাধিক উদীয়মান খেলোয়ার পেয়েছি। প্রতিবছরই এই ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজনের দাবি জানান তিনি। 

আওনার ফুটবলপ্রেমী মো. সেন্টু বলেন, ইউএনও সাহেব ভালো একটা উদ্যোগে নিয়েছেন। আশা করি প্রতিবছরই এই ধরনের টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হবে। তবে তিনি ঢাকা থেকে রেফারী আনার দাবি জানান। তার মতে খেলায় স্থানীয় রেফারিরা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারেন না।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন। বিকেলে মাঠে এসে যদি সবাই খেলায় মগ্ন থাকে এই সময়টুকু তারা কোন অপকর্মে জড়াতে পারে না। আমরা যুব সমাজকে খেলার মাঠে এনে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে চাই। এই টুনার্মেন্ট শেষ হলে আরেকটি টুর্ণামেন্টের আয়োজন করব। যাতে সবাই খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

উপজেলা নিবাহী কমকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বাঙ্গালী জাতির জন্য বঙ্গমাতা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতেই বঙ্গমাতা টুর্ণামেন্টের আয়োজন। এছাড়া বর্তমান মাঠে ফুটবল মৃতপ্রায়। সেই ফুটবলকে জাগ্রত করার জন্য আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। সার্বিক দিক দিয়ে আমরা সফল। পুরো নবাবগঞ্জবাসী আমাদেরকে সহযোগীতা করেছেন। তিনি আরো বলেন, এই ধরনের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে যুব সমাজকে নেশা থেকে দুরে রাখা যায়। যুবকদের মাঠমুখী করাই আমাদের লক্ষ্য। এই টুর্ণামেন্ট শেষ হলে একটি হা ডু ডু টুর্ণামেন্টের আয়োজন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। একইসাথে তিনি সকল ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে ধন্যবাদ জানান এমন একটি উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul