adimage

১৯ জানুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৫:৫৮, শুক্রবার

চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি

আপডেট  08:42 PM, ডিসেম্বর ৩০ ২০১৭   Posted in : অর্থ ও বাণিজ্য     

চলছেবিশ্বইজতেমারপ্রস্তুতি

গাজীপুর : গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ১২ জনুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে তাবলীগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্ব।

এবার ময়দানে স্থায়ীভাবে বসানো হচ্ছে সিসি টিভি, বাড়ানো হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ছাড়া প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিশাল ময়দানের প্রস্তুতিমূলক কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শুক্রবার দুপুরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে ১২ জানুয়ারি থেকে। পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে আমরা কাজ করছি। এখানে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম হয়। ট্রাফিক জ্যাম থেকে শুরু করে কোথাও যেন সমস্যা না হয়, মুসল্লিরা যেন সুন্দরভাবে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে আসতে পারে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ওয়াচ টাওয়ারের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। স্থায়ী সিসি টিভি নাগানো হবে। প্রতিবছর আর সিসি টিভিটা খুলতে হবে না। ওয়াচ টাওয়ার গত বছর ছিল ১০টি, এবার ১৫টি ওয়াচ টাওয়ারের কাজ শেষের পথে। ইজতেমা মাঠের চতুরপাশে সাদা পোশাকে পুলিশ এখন থেকেই কাজ করছে।

তিনি জানান, বিশ্ব ইজতেমাকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ মনে করে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বীদের সঙ্গে আলোচনা করেই যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ইজতেমা মুরব্বী এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যেখানে পুলিশ দেওয়া দরকার সেখানে পুলিশ দেওয়া হবে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার আরো নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের চতুরপাশে পুলিশের কন্ট্রোলরুম থাকবে। এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় এবং পাঁচটি সাব কন্ট্রোল রুম থাকবে।

তাবলীগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর এ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব ইজতেমা। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের তিনদিন অবস্থানের জন্য তৈরি করা হয় বিশাল মাঠে চটের শামিয়ানা। তৈরি করা হয় বয়ানমঞ্চ, দোয়া মঞ্চ, বিদেশি মুসল্লিদের জন্য মাঠের উত্তর-দক্ষিণ দিকে নিবাস, তুরাগ নদীতে ভাসমান সেতু, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ইত্যাদি।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এসব কাজ তাবলীগ জামাতের সাথী, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ও কলকারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা করছেন। কেউ প্যান্ডেলের চট সেলাই করছেন, কেউ খুঁটি আনছেন, কেউ খুঁটি পুতছেন, কেউ চট টানাচ্ছেন,  কেউ ময়দান পরিষ্কার করছেন। সকলেই এখন প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কারো মধ্যে যেন কোনো বিরক্তি নেই। মাঠের বিভিন্নস্থানে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিকে প্রস্তুতি কাজ করতে দেখা গেছে।

বরিশাল সদরের চরবুখাইনগরের মনির হোসেন ও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার ফতেপুরের মেহেদি হাসান চাকরি করেন আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায়। দুপুরে ইজতেমা মাঠে তাদের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, শুক্রবার কারখানা ছুটি থাকায় আল্লাহর রাস্তায় সময় দিতে ইজতেমা মাঠে কাজ করতে এসেছেন। সকাল ৯ টার দিকে মাঠে পৌঁছে কাজ করা শুরু করেন।

একই রকম কথা জানালেন ঢাকার চকবাজার চাঁদনীঘাট থেকে আসা ব্যবসায়ী শাখাওয়াৎ হোসেন, সফিউল আলম ও সাকিব। তারা জানান, ওই এলাকা থেকে ৭০ জনের একটি জামাত শুক্রবার সকালে মাঠে কাজ করতে এসেছেন।

উল্লেখ, এবারও বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমপর্ব শুরু হবে আগামী ১২ জানুয়ারি। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথমপর্ব শেষ হবে।  ৪ দিন পর ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয়পর্ব। একইভাবে ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দ্বিতীয়পর্ব তথা এবারের বিশ্ব ইজতেমা।



সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul