adimage

২২ মে ২০১৮
সকাল ১২:৫৭, মঙ্গলবার

খাবার নেই, পানি নেই, ইয়েমেনে হাহাকার

আপডেট  04:04 AM, জানুয়ারী ২৬ ২০১৮   Posted in : আন্তর্জাতিক    

খাবারনেই,পানিনেই,ইয়েমেনেহাহাকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ জানুয়ারি : খাদ্য নেই, পানি নেই, নেই জীবন রক্ষাকারী ওষুধ। সংঘাতকবলিত ইয়েমেনে না খেয়ে, বিনা চিকিৎসায়, ধুঁকে ধুঁকে মরার পথে প্রায় দুই কোটি মানুষ। একমুঠো খাবারের জন্য, এক চুমুক পরিষ্কার পানির জন্য চারদিকে হাহাকার ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ এবং রোগব্যাধিতে এরই মধ্যে মারা গেছে ৪০ হাজার শিশু। সেইভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, ইয়েমেনে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টি শিশু মারা যাচ্ছে। ডাক্তাররা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ। মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়া কলেরা ও ডিপথেরিয়া এবং অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাদের। এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে আলজাজিরা।

সম্প্রতি এক সতর্ক বার্তায় জাতিসংঘ বলে, জরুরি সহায়তা না পেলে ইয়েমেনে এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়তে পারে। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা এখন বাস্তব রূপ পাচ্ছে দেশটিতে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দরিদ্রতম দেশ ছিল ইয়েমেন। আর দুই বছরের গৃহযুদ্ধের পর সেই দেশটি এখন দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ডব্লিউএফপি। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ইয়েমেনের ২ কোটি ৫৬ লাখ মানুষের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ‘মারাত্মকভাবে খাদ্য অনিরাপত্তায়’ ভুগছে, অর্থাৎ তাদের জন্য দ্রুত খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। ২২ লাখ শিশু প্রচণ্ড রকমের পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

একসময়ের সমৃদ্ধশালী দেশ ইয়েমেন আজ দুর্ভিক্ষে পতিত, যুদ্ধে বিপর্যস্ত। দেশটির মানুষ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, জনগণ পরিণত হয়েছে দেশি-বিদেশি শাসকের হিংস্র খেলার পুতুলে। চারপাশ ঘিরে আছে আরব বিশ্বের মোড়ল সৌদি আরব। এই সৌদি আরবই ইয়েমেনের দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তৈরি করার প্রধান কুশীলব। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনে চলছে সৌদি আগ্রাসন। এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। গত আড়াই বছরে সৌদি আরবের উপর্যুপরি বোমা বর্ষণে ইয়েমেনে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য হয়েছে আকাশচুম্বি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সৌদিদের বোমা হামলার লক্ষ্য এখন হাসপাতাল। ফলে চিকিৎসা নিতেও মানুষ মরছে। কলেরা ব্যাপক সংক্রমণে মৃত্যুর হার বাড়ছে হু হু করে।

অবস্থা কতটা ভয়াবহ তার কিছুটা বর্ণনা পাওয়া যায় জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সংস্থার প্রধান জেনারেল লোককের মন্তব্য থেকে। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘এই দুর্ভিক্ষ দক্ষিণ সুদানের মতো হবে না যেটি আমরা এ বছরের শুরুতে দেখেছি। এমনকি ২০১১ সালে সোমালিয়ার দুর্ভিক্ষের মতোও হবে না, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষ হবে বহু দশকের মধ্যে ভয়াবহতম।’ গত বছর ইয়েমেনের জনগণের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সম্মেলনে দাতা দেশগুলো ১.১ বিলিয়ন ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয়। -যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul