adimage

১৯ নভেম্বর ২০১৯
সকাল ০৮:৩৬, মঙ্গলবার

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনা মোতায়েন

আপডেট  02:24 AM, অক্টোবর ১৪ ২০১৯   Posted in : আন্তর্জাতিক    

জরুরিপরিস্থিতিমোকাবেলায়সেনামোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ১৪ অক্টোবর : টাইফুনে আটকে পড়া বাসিন্দা এবং এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করেছে জাপান। সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ টাইফুন হাগিবিসের আঘাতে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এতে পুরো টোকিও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। খবর রয়টার্স।

জাপানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনএইচকে বলছে, টাইফুনে এখনো ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছে। এতে দেশটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টোকিওর নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরে অবতরণ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও ওইদিনে ৮০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় এনএইচকে। এছাড়া সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেন সেবাও বাতিল করা হয়েছে।

টোকিওর নিকটবর্তী কান্তো এলাকায় জারি করা বর্ষণ সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সেখানকার বিভিন্ন দোকানপাট চালু হয়েছে এবং অনেক ট্রেন চলতে শুরু করেছে। তবে পূর্ব জাপানের নদীগুলোর জন্য সতর্কাবস্থা বহাল রয়েছে, যেগুলোতে পানি উপচে পড়ে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে জরুরি সভা আহ্বান করেছেন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রীকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাইফুনের আঘাতে আহতদের প্রতি সমবেদনা ও নিহতদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক গোলযোগ, জলাবদ্ধতা ও পরিবহনসেবা স্থগিতের বিষয়ে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। ভূমিধস ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

ঝড়ের কারণে জাপানের মধ্যাঞ্চলের নাগানো এলাকায় মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। চিকুমা নদীর পানি বৃদ্ধিতে বন্যার পানি কোনো কোনো বাড়ির দ্বিতীয় তলাতেও উঠে গেছে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মধ্য জাপানের নাগানো ও অন্য এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর মোট ২৭ হাজার সদস্যকে প্রেরণ করা হয়েছে।

এনএইচকে বলছে, বেশির ভাগ অঞ্চল পানির নিচে ডুবে থাকায় এখনো পুরো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে ওঠেনি। সরকারি বরাতে জানা গেছে, প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টাইফুন হাগিবিস ১৯৫৮ সাল-পরবর্তী সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড় হিসেবে মনে করছে সরকার। বিভিন্ন এলাকায় রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত মাসে জাপানে আঘাত হেনেছিল এ রকম আরেকটি শক্তিশালী টাইফুন ফাক্সাই। ওই ঝড়ের কারণে রাজধানী ও আশপাশের পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিশাল এলাকা। ওই ঝড়ের ক্ষত সেরে উঠতে না উঠতেই টাইফুন হাগিবিস আঘাত হানল।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul