adimage

২১ Jun ২০১৮
বিকাল ০৪:১৮, বৃহস্পতিবার

শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা পালাচ্ছে

আপডেট  03:27 AM, ফেব্রুয়ারী ২২ ২০১৮   Posted in : চট্টগ্রাম    

শূন্যরেখাররোহিঙ্গারাপালাচ্ছে

কক্সবাজার, ২২ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন সম্পর্কিত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রতিনিধি দল গত মঙ্গলবার ঘুমধুমের তুমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গা বস্তি পরিদর্শন করে। মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে তারা। ওই রাতেই বস্তি ছেড়ে পালিয়ে যায় পাঁচ পরিবারের ৩২ রোহিঙ্গা। বস্তির নেতারা জানান, তারা কোথায় গেছে কেউ তা জানে না।

২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে ৩২টি সেনা চৌকিতে হামলার ঘটনা নিয়ে জাতিগত নিধনের লোমহর্ষক ঘটনার সূত্রপাত হয়। এ সময় উখিয়া-টেকনাফের অন্য সীমান্ত দিয়ে যেসব রোহিঙ্গা এসেছে, মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দিয়ে খাদ্য, চিকিৎসাসহ যাবতীয় সহায়তা দিয়েছে সরকার; কিন্তু নাইক্ষ্যংছড়ি, ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্ত দিয়ে আসা প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে এপারে এলেও বিজিবির বাধার মুখে এ দেশে ঢুকতে পারেনি তারা। নিরুপায় হয়ে ওইসব রোহিঙ্গা শূন্যরেখায় খালের পাড়ে ঝুপড়ি বেঁধে আশ্রয় নেয়। বুধবার সকালে শূন্যরেখা ঘুরে বস্তির নেতা মৌলভী আরিফ বলেন, তারা বাংলাদেশেও যেতে পারছে না, আবার মিয়ানমারেও ফিরতে পারছে না। উভয় সংকটে পড়ে তাদের মানবেতর দিনযাপন করতে হচ্ছে সেখানে। এরই মধ্যে ছয় হাজারের মধ্যে দুই হাজারের মতো রোহিঙ্গা বস্তি ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা কোথায় গেছে, কেউ জানে না তা।

বস্তির নেতা ওবাইদুল হক (৩৫) জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশ-মিয়ানমারের যৌথ প্রতিনিধি দল তাদের সঙ্গে শূন্যরেখায় এসে কথা বলেছে এবং মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের নির্দেশও দিয়েছেন তারা। ফলে বস্তির রোহিঙ্গাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভয়ভীতি। রোহিঙ্গাদের দাবি, যেখানে ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক বিভিন্ন ক্যাম্পে রয়ে গেছে, সেখানে শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের আগে ফিরে নেওয়ার ঘটনাটি কিসের ইঙ্গিত বহন করে? এ নিয়ে রোহিঙ্গারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ভয়ে মঙ্গলবার রাতেই আট সদস্যের পরিবার মোহাম্মদ উল্লাহ, আট সদস্যের আরেক পরিবার নিয়ে আবুল আলম, ছয় ছেলেমেয়ে নিয়ে মৌলভী হানিফ, ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে জাহেদ আলম ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে মোবারকসহ পাঁচ পরিবারের ৩২ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়েছে।

তারা এ কথাও উল্লেখ করেন, শূন্যরেখা থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা ধারাবাহিকভাবে বস্তি ছেড়ে পালাচ্ছে।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ জানান, শূন্যরেখায় প্রায় ছয় হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকে বস্তি ছেড়ে রাতের আঁধারে শূন্যরেখা ত্যাগ করেছে। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ পরির্দশনের পর তাদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। যে কারণে বিচ্ছিন্নভাবে এক-দুই পরিবার করে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি শুনেছি। তবে তারা যেন শূন্যরেখা ত্যাগ করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। -সমকাল

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul