adimage

২৮ মে ২০১৮
বিকাল ০১:৫৫, সোমবার

পথে পথে তল্লাশি ও টহল

আপডেট  03:17 AM, ফেব্রুয়ারী ০৮ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

পথেপথেতল্লাশিওটহল

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে সারাদেশে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রায়ে খালেদার সাজা হলে নাশকতার আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সাধারণ মানুষ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় অনেক শহরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজপথ দখলে রাখার ঘোষণা দেওয়ায় জনমনে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে সম্ভাব্য যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থায়।

সতর্কতার অংশ হিসেবে বুধবার রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছে পুলিশ। দূরপাল্লার বাসেও তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে। এদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল র‌্যাবের বিশেষ টহল। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রেলপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য পুলিশের ১০টি টিম রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। পুলিশের আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহরের মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে পুলিশের তল্লাশি চলছে। চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুরে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

চট্টগ্রাম: খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ জন্য কঠোর অবস্থান নিয়ে মাঠে রয়েছে তারা। ইতিমধ্যে নগরী ও জেলার প্রবেশপথসহ অন্তত ১৯টি পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে পুলিশ। ধরপাকড়ে চলছে সাঁড়াশি অভিযান। র‌্যাব ছাড়াও চট্টগ্রামে মাঠে নেমেছে ছয় হাজারেরও বেশি পুলিশ। গতকাল সন্ধ্যা থেকে মোতায়েন করা হয়েছে ৩৪ প্লাটুন বিজিবি।

এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২০টি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে। স্থানগুলো হলো- দারুল ফজল মার্কেট চত্বর, আন্দরকিল্লা মোড়, অপিজেন মোড়, একে খান গেট, বাদামতল মোড়, নিমতল বিমান চত্বর, কালামিয়া বাজার, কাঠগড়, ইপিজেড মোড়, ঈশান মিস্ত্রিহাট, চকবাজার, শুভপুর বাসস্টেশন, জিইসি মোড়, বড়পুল, দেয়ানহাট মোড়, ইস্পাহানি মোড়, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, শাহ আমানত সেতু চত্বর ও চৌধুরীহাট এলাকা। অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা যে সাতটি পয়েন্টে অবস্থান নেবে সেগুলো হচ্ছে- কাজীর দেউড়ী সংলগ্ন নুর আহমদ সড়ক, বহদ্দারহাট, একে খান গেট, নিমতল, ইপিজেড মোড়, অপিজেন মোড় ও শাহ আমানত সেতু চত্বর।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কুসুম দেওয়ান এ প্রতিবেদককে বলেন, 'নাশকতা চালানোর চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।' চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, 'রায়কে ঘিরে যাতে কেউ কোনো ধরনের সহিংসতা চালাতে না পারে সে জন্য বহুমুখী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্পর্শকাতর থানাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।'

সিলেট: যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ঘরে-বাইরে তল্লাশি করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। র‌্যাব-পুলিশ বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করছে। প্রয়োজনে বিজিবি মাঠে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। অপরদিকে দলীয় নেত্রীর সাজা হলে তাৎক্ষণিক মাঠে নামবে বিএনপি, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রকাশ্যে কিছু না বললেও গোপনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ জানিয়েছেন, একটি সাজানো ও মিথ্যা মামলায় সাজা হলে নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। ত্যাগ স্বীকার করে শান্তিপূর্ণ, অহিংস আন্দোলনে নামার সব প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এ প্রতিবেদককে বলেছেন, রায়কে ঘিরে কেউ নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ কর্মীরাও মাঠে নামবে।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) আবদুল ওয়াহাব জানান, রায়কে কেন্দ্র করে নগরীতে কেউ যাতে কোনো ধরনের নাশকতা না করতে পারে সে জন্য সতর্ক অবস্থানে থাকবে পুলিশ। এ ছাড়া ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর রাখা হবে। নগরীর প্রতিটি মোড়ে পোশাকে, সাদা পোশাকে ও টহলে পুলিশ থাকবে।

রাজশাহী: রায়কে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রাজপথ দখলে রাখার পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর রাখার জন্য শহরের প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যা থেকে র‌্যাবের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, নগরীর কাসিয়াডাঙ্গা, আমচত্বর, কাটাখালি, রেলগেট ও রেল স্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যে কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্ক রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

রাজশাহী বিজিবির অধিনায়ক শামীম মাসুদ আল ইফতেখার বলেন, 'স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে চার প্লাটুন বিজিবি শহরে মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা কঠোর হাতে দমন করা হবে।'

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, 'আশা করছি, খালেদা জিয়া খালাস পাবেন। তারপরও যদি খারাপ কিছু হয় তবে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাব। আমাদের মিছিল থেকে কোনো নাশকতা কিংবা অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটবে না।'

নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, 'প্রতিবাদের নামে বিএনপি-জামায়াতের কোনো ধরনের নাশকতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তাদের সব অপতৎপরতা মোকাবেলা করা হবে। কোনো নৈরাজ্য, আগুন সন্ত্রাস সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না।'

রংপুর: রায়কে ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। এ জন্য আজ ভোর থেকে রাত পর্যন্ত রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি পয়েন্টে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করবে। পুলিশও নগরীর ১৪টি পয়েন্টে বিশেষ নজরদারি করবে।

রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল জানান, নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়, শাপলা চত্বর, মডার্ন মোড়, রেলওয়ে স্টেশন, সাতমাথা, মাহীগঞ্জ, কাচারি বাজার, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কামারপাড়া, আদালতপাড়া, লালবাগ, কলেজ মোড়, মেডিকেল মোড়, সিওবাজারসহ ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত ১০ থেকে ২০ জনের একটি দল অবস্থান করবে। এসব এলাকায় বিএনপি-জামায়াত কোনো ধরনের সহিংসতা ও আগুন সন্ত্রাস চালালে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিহত করা হবে।

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজু প্রশ্ন রেখে বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্ল্লাশি চালাচ্ছে। নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তারপরও খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে সরকার এত উৎকণ্ঠিত কেন?

রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের দমন করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ১৪টি পয়েন্টে তাদের পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যরা থাকবে। এ ছাড়াও নগরীতে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল থাকবে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

খুলনা: আজ সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে বিএনপি নেতাকর্মীরা। প্রয়োজনে রাজপথে নামবে তারা। মহানগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, তারা ইতিমধ্যে একাধিক সভা করেছেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আজ রায় ঘোষণার পরপরই তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। তবে সবকিছুই করা হবে শান্তিপূর্ণভাবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি জানান, রায় ঘোষণার পর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা মোকাবেলা করা হবে।

খুলনা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত উপকমিশনার মুনীরা সুলতানা জানান, নগরীর প্রবেশদ্বারসহ ১৬টি পয়েন্টে গতকাল থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আজ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে দেড় হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজনে বিজিবি মোতায়েন করারও পরিকল্পনা রয়েছে। -সমকাল

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul