adimage

১১ ডিসেম্বর ২০১৮
বিকাল ০৩:২৬, মঙ্গলবার

শূন্যরেখায় থাকা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার

আপডেট  07:53 PM, ফেব্রুয়ারী ২০ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

শূন্যরেখায়থাকারোহিঙ্গাদেরফিরিয়েনেবেমিয়ানমার

ঢাকা, ২১ ফেব্রুয়ারি : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া প্রায় সাত হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। দেশটির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেশে ফিরে মঙ্গলবার বিকেলে ঘুমধুম সীমান্তে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান।

কমিশনার আবদুল মান্নান বলেন, 'গত বছর ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সহিংসতার পর জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ৮ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া ৬ হাজারের বেশি (প্রায় সাত হাজার) রোহিঙ্গার ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, তারা কীভাবে আছে এবং কেন এখানে রাখা হয়েছে; তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে না পারা, আবার নিজ বাড়িঘরেও ফিরতে পারা- এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে বৈঠকে।

প্রতিনিধি দলের প্রধান বলেন, 'শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, কষ্ট ও আকুতি সম্পর্কে তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বৈঠকে বিষয়টি মিয়ানমারের কাছে অবহিত করেছি। এর আগেও এসব রোহিঙ্গার ব্যাপারে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে মিয়ানমার প্রতিনিধি দল শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মোটামুটি ঐকমত্য পোষণ করেছে। তারা অন্তত শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের শিগগিরই ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসন করবে ও তাদের বাড়িঘর ফিরিয়ে দেবে।'

ফেরত নেওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে মিয়ানমার আশ্বস্ত করেছে বলে জানান এই বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বলেন, শূন্যরেখায় আশ্রয়ে থাকা রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, মিয়ানমার যদি নিরাপত্তা ও জানমালের সুরক্ষা দেয়, তাহলে আজই তারা ফিরে যেতে রাজি।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম সীমান্তের 'বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু' দিয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল মিয়ানমার যায়। তারা ঘুমধুম সীমান্তের বিপরীতে মিয়ানমারের ঢেকিবুনিয়া এলাকায় পৌঁছে সে দেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসে। তাদের মধ্যে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়। বেলা ৩টার দিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি দেশে ফেরে।

প্রতিনিধি দলে ত্রাণ ও শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় উভয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে আলোচনা করতে আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। বৈঠকে মিয়ানমারের পক্ষে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মংডু টাউনশিপের ডেপুটি কমিশনার অং সো। বৈঠকের মাঝামাঝি সময়ে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা তুমব্রু সীমান্তের শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিন পরির্দশন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের নেতৃস্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তারা কথা বলেন।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ হুমকি দিয়েছিল, শূন্যরেখা না ছাড়লে তারা ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা বলেছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই কেবল তারা দেশে ফিরে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার তাদের বিষয়ে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রতিনিধি দল। এর মধ্য দিয়ে নতুন করে নির্যাতন-নিপীড়নের আশঙ্কা থেকে কিছুটা হলেও তারা মুক্ত হলো।-সমকাল

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul