adimage

১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
বিকাল ০১:০৫, সোমবার

একুশের দিনে দুই বাংলার মিলন মেলা

আপডেট  04:48 PM, ফেব্রুয়ারী ২১ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

একুশেরদিনেদুইবাংলারমিলনমেলা

যশোর, ২১ ফেব্রুয়ারি : ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে একটি রক্ত ঝরানো দিন। মাতৃভাষার জন্য জীবন দেয়া শহীদদের স্মরণে শপথ নেয়ার এই দিন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার টানে দুই বাংলার হাজার হাজার মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় বেনাপোল চেকপোস্ট নোমান্সল্যান্ডে। ভৌগোলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে আজ বুধবার সকালে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করে দলে দলে মানুষ যোগ দেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২১ শে মঞ্চে’।
 
‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধায় মাথানত করতে বাংলাদেশের বাঙালিদের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরাও। সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে অস্থায়ী শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান দুই বাংলার মানুষ, রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যবসায়ীক ও সাংস্কৃতিক দল এবং সরকারি কর্মকর্তারাও। এবার দু’বাংলার মৈত্রী পরিষদ যৌথভাবে এই মিলন মেলার আয়োজন করেন।
 
নোমান্সল্যান্ডে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ বেদিতে সকাল সাড়ে ১১টায় প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সংসদ বনগাঁ লোক সভার শ্রীমতী মমতা ঠাকুর, বিধায়ক শ্রী বিশ্বজিত দাস, বিধায়ক শ্রী সুরজিত কুমার বিশ্বাস, বনগাঁও পৌর সভার চেয়ারম্যান শ্রী শংকর আঢ্য ও কবি সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সনজিব চট্রপাধ্যায়, সংগীত শিল্পী অনুপম রায় ও বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক ও  উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলো শতস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। মিলন মেলার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

তারা একই মঞ্চে গাইলেন ভাষা শহীদদের স্মরণে বাংলার জয়গান। নেতারা শ্রদ্ধা জানাতে হাতে হাত রেখে ঊর্ধ্বে তুলে ধরলেন বাংলা ভাষাকে। মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্স ল্যান্ডে এভাবেই কাটালেন দুই বাংলার ‘বাংলা ভাষাভাষী’ মানুষ। তারা বললেন, একই আকাশ-একই বাতাস, দুই বাংলার মানুষের ভাষা এক।

আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি বলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আমাদের প্রাণ কাঁদে। তাই তো বারবার ছুটে আসি দুই দেশের বাঙালি বাংলাভাষী মানুষের পাশে।
 
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যৌথভাবে দু’দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও দিবসটি পালন করল দুই বাংলার মানুষ। দুই দেশের সীমান্ত এলাকাসহ নানা রং এর ফেস্টুন, ব্যানার, প্লেকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। ভাষার টানে বাঙালির বাঁধন হারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় দু’বাংলার মানুষ। একইসঙ্গে সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেন দুই বাংলার ভাষাপ্রেমী মানুষ।
 
দু’দেশের সীমান্ত রেখা ভুলে নিরাপওা বেস্টনি পেরিয়ে ভাষা প্রেমীরা ছুটে এসে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে উভয়কে বরণ করে নেয়। দুই বাংলার মানুষের এ মিলনমেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়। ফুলের মালা ও জাতীয় পতাকা বিনিময় করেন। বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের। ক্ষণিকের জন্য হলেও স্তব্ধ হয়ে যায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
 
ভাষা দিবসের মিলনমেলায় বিজিবি বিএসএফকে ফুল দিয়ে শুভেচছা জানায়। এরপর দু’দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষ দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ‘বিশ্ব মানব হবি যদি, কায় মনে বাঙালি হ’, আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ এমন সব কথা।  
 
সমগ্র অনুষ্ঠানে নেয়া হয় নজিরবিহীন নিরাপত্তা। কড়াকড়ি আরোপ করা হয় দুই সীমান্তে। বেনাপোল পেট্রাপোল চেকপোস্টে যাতে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য ডগ স্কোয়াড নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে দুই সীমান্তে।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul