adimage

২৩ এপ্রিল ২০১৮
বিকাল ০৭:৪১, সোমবার

নবাবগঞ্জ ও দোহারে বিপিএল টিকিট নিয়ে আ’লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব ! ফেসবুকে প্রতিবাদে সরব বঞ্চিতরা

আপডেট  05:13 PM, ডিসেম্বর ১১ ২০১৭   Posted in : জাতীয় রাজনীতি অর্থ ও বাণিজ্য কৌতুক    

নবাবগঞ্জওদোহারেবিপিএলটিকিটনিয়েআ’লীগনেতাকর্মীদেরমাঝেদ্বন্দ্ব!ফেসবুকেপ্রতিবাদেসরববঞ্চিতরা

নবাবগঞ্জ ও দোহারে বিপিএল টিকিট নিয়ে আ’লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে দ্বন্দ্ব! ফেসবুকে প্রতিবাদে সরব বঞ্চিতরা

প্রিয় বাংলা অনলাইন:
বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ)-এর টিকিট নিয়ে ক্ষোভ বেড়েই চলছে নবাবগঞ্জ ও দোহারে। টুর্ণামেন্টের শুরু থেকে ঢাকা ডায়নামাইটস এর কর্ণধার সালমান এফ রহমান এর পক্ষ থেকে ওই দলের প্রতিটি খেলায় বিনামূল্যে দোহার-নবাবগঞ্জে টিকেট বিতরণ করা হচ্ছে। এই দুই উপজেলা থেকে বাস ভরে যাচ্ছেন দর্শকরা ঢাকার মাঠে যাচ্ছেন খেলা দেখার জন্য। কিন্তু বিনামূল্যের এই টিকেট নিয়ে দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভক্তি অনেকটা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।  বিতরণে অনিয়ম নিয়ে কেউ, আবার টিকিট বঞ্চিতরাও প্রতিবাদে সরব হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝড়। দুই উপজেলারই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, সামান্য খেলার টিকিট বিতরনকে কেন্দ্র করে বড় একটি দলের মধ্যে এভাবে বিভক্তি সৃষ্টি করার কোন যৌক্তিকতা নেই। আর সাধারন কর্মীরা বলছেন, টিকেট নিয়ে এমন পরিস্থিতি আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে। ফেসবুকে সেই ধরনের ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে। কারণ ঢাকা ডায়নামাইটস-এর কর্ণধার সালমান এফ রহমান আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এমপি পদপ্রার্থী।

ফেসবুকে পারেভজ মোশারফ নামে নবাবগঞ্জের এক ছাত্রলীগ নেতা লিখেছেন, ‘ভোটের রাজনীতিতে কৈলাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগকে প্রয়োজন পরবে। অতএব বিপিএল-এর টিকেটের ব্যাপারটাও আমাদের মাথায় থাকবে।’ টিকিট নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এমন অনেক স্ট্যাটাস দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে। 
নবাবগঞ্জের আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছন, ‘বিপিএল টিকিট স্বজনপ্রীতি ও গ্রুপিংয়ের মাধ্যমে বন্টন করা হচ্ছে। যার ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলা দেখা থেকে। আর পদ-পদবিতে থাকা নেতারা ছোট হচ্ছে কর্মীদের কাছে।’

‘সজল বাংলাদেশ’ নামে এক ফেসবুক এডমিন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “চলিতেছে সার্কাস..... হ্যাঁ ভাই আপনাদেরকেই বলছি..... সার্কাসের নামঃ বিপিএল টিকেট (দোহার-নবাবগঞ্জ)।” তার এর স্ট্যটাসের বিপরীতে তন্ময় তুহিন নামে এক ছাত্রলীগ নেতা মন্তব্য করেছেন “টিকিট লীগে যোগ দিন।” তখন সজল বাংলাদেশ মন্তব্য করেন “ভাবতেছি একটা আজাইরা লীগ করবো, আজাইরা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হতে চাই।” অন্যদিকে ‘আগামীর বাংলাদেশ’ নামে এক এডমিন মন্তব্য করেছেন “এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পরবে বলে আমি মনে করি।”

সজল বাংলাদেশ তার আরেক স্ট্যাটার্সে লিখেছেন ‘বিপিএল টিকিটকে কেন্দ্র করে দোহার-নবাবগঞ্জের তৃণমূলে আ’লীগের ও সহযোগী সংগঠনের সাথে দূরত্ব বেড়েছে....।’ তিনি চূড়াইন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনএম মনির হোসেনকে উদ্দেশ্য করে লিখেন, কোন প্রোগাম থাকলে ঠিকই সভাপতি/সাধরণ সম্পাদককে ফোন দিয়ে বলতো কাল প্রোগাম ৫০/১০০ জন লোক নিয়া আসবা, তাছাড়া ভা....।” এটুকু লিখেই তিনি থেমে যান। এই লেখার মাধ্যমেও তার ক্ষোভ করেছেন। 

ফেসবুকে সবচেয়ে স্বোচ্চার নবাবগঞ্জের শ্রমিক লীগ নেতা আমির হোসেন কুটি। তার ক্ষোভ আবার দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। ৭ই ডিসেম্বর তিনি স্ট্যাটাস দেন “ছোট ছোট অবজ্ঞা থেকে জম্ম নিতে পারে ঘৃণা। আলমগীর সাহেব একাধিকবার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছেন। ক্রিকেট খেলা শেষ হবে কিন্তু কিছু কথা ...।” তাঁর আরেক স্ট্যটাসে লিখেছেন “দোহারের চেয়ারম্যান আলমগীর সাহেব আমাগো চিনে না তাই দেয় না। নবাবগঞ্জের নেতাদের হিসাবেই থাকিনা। অথচ ফটকা ছেলেরা টিকিট সাধে.... ওরা কোথায় পায় ??।’ তিনি আরো মন্তব্য করেন, “শোভন. আমাগো টিকিট দেওয়ার দায়িত্ব পায় যন্ত্রাইল ইউ-যুবলীগ সভাপতি যথা-অনুপম দাদা আর উজ্জল ভাই। আমাগো চিনেনা, এই অযুহাতে শ্রমিকগো টিকিট তছরুপ করে.....টিকেটির হিসাব খেলার পর।’ তাকে সমর্থন করে মো. রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন “হায়রে হাইব্রিড পুরানো পথে হাটছে ?”

নবাবগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার হোসেন মন্তব্য করেছেন “হায়রে টিকিট ... টিকিট তুমি কার? ঢাকা জেলা কৃষকলীগ (দঃ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক রঞ্জিত কুমার মন্ডল মন্তব্য করেন “আমি শুনে গেলাম টিকিটের কথা। টিকিট চোখে দেখলাম না।” বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা এমারত বেপারী লিখেন “এ খেলাই শেষ খেলা নয়, আরো অনেক খেলা বাকী আছে।” দিলীপ কুমার মন্ডল নামে একজন মন্তব্য করেন “ক্রিকেট খেলায় যারা মাঠে যেতে পারলো না, রাজনীতির খেলায় জিততে গেলে টিমে তাদের অনেককেই লাগবে খেলোয়ার হিসেবে।”   

চূড়াইন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এনএম মনির হোসেন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন “আমি চূড়াইন ইউনিয়ন থেকে বলছি মনির (সাধারণ সম্পাদক) চূড়াইন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ আমি বা আমার ইউনিয়ে এর ছাত্রলীগ এর কেউ এখনো কোন টিকিট পায় নাই। আমাদের টিকেট হয়ত রোহিঙ্গাদের বিলিয়ে দিছে। সামনে আর ১টা খেলা আছে, সেই খেলায়ও যদি আমরা কর্মীদেরকে টিকিট দিতে না পারি তাহলে আগামী দিনে রাজনৈতিক কোন কাজেকর্মে আমরা কর্মীদেরকে আর ডাকলে আসবে না।

শুধু নবাবগঞ্জ নয়। দোহারের নেতাকর্মীদের মাঝেও একই চিত্র। দায়িত্বশীল পদে থাকা সবাই মনে করছেন সামনে নির্বাচন এসময় সামান্য টিকিট নিয়ে এভাবে দলে বিভক্তি সৃষ্টির কোন মানে হয়না। এ ভুলের মাশুল আগামী নির্বাচনে গুনতে হতে পারে। আর যে বিভক্তির সৃষ্টি হলো তা নিরসন করতেও বেগ পেতে হতে হবে দুই উপজেলার পদ-পদবীতে থাকা নেতাকর্মীদের। 

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul