adimage

২১ জানুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৫:০৭, রবিবার

জাতির বিজয়ের দিনেও নবাবগঞ্জে বিএনপির ভাগাভাগি !

আপডেট  03:59 PM, ডিসেম্বর ১৭ ২০১৭   Posted in : জাতীয় রাজনীতি কৌতুক    

জাতিরবিজয়েরদিনেওনবাবগঞ্জেবিএনপিরভাগাভাগি!

প্রিয় বাংলা অনলাইন:
জাতির বিজয় দিবসেও আলাদা পৃথকভাবে ফুল দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের নিহত বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। প্রথমে বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান গ্রুপ এবং পরে সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খোন্দকার আবু আশফাক গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলা প্রশাসনে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আর বিজয়ের দিনে এমন ভাগাভাগিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা। দুই নেতার এই গ্রুপিং-এ ক্ষুব্ধ তারা।

‘দোহার-নবাবগঞ্জের মাটি, বিএনপির ঘাটি’ একসময় এমনই মনে করা হলেও এখন আর আগের সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই। রাজনৈতিক পালাবদলে এখন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য জতীয় পার্টির এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। দোহার-নবাবগঞ্জ বিএনপি এখন মান্নান ও আশফাক এই দুই গ্রুপে বিভক্ত। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান নবাবগঞ্জ থেকে একাধিকবার নির্বাচিত এমপি। অন্যদিকে তরুন রাজনীতিবিদ খন্দকার আবু আশফাক ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক।
জানা যায়, দোহার-নবাবগঞ্জে এখন বিএনপি কোন কর্মসূচি পালন করে না বললেই চলে। বিশেষ করে নবাবগঞ্জে ঘরোয়া কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদেরকে দায়িত্ব পালন করছে বিএনপি ও এর অংগসংগঠন। তাও আবার আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করা হয়। জাতীয় কর্মসূচিতে বিশেষ করে ২১শে ফেব্রুয়ারি ও ১৬ ডিসেম্বরে মান্নান গ্রুপের নেতাকর্মীরা গুটি কয়েক নেতাকর্মীদের নিয়ে ফুল দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। অন্যদিকে এইসব কর্মসূচিতে বিশাল মিছিল নিয়ে নিজেরকে আলাদা জানান দেন আশফাক গ্রুপের নেতাকর্মীরা। কিন্ত দলীয় কর্মসূচিতে মাঠে দেখাই যায় না কাউকে। ঘরোয়া কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিস্ব জানান দেন তারা। সবশেষ মহান বিজয় দিবসে দুই গ্রুপকেই আলাদা আলাদা ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। বিএনপির এই গ্রুপিং খেলায় বিরক্ত বিএনপিপন্থী সাধারন ভোটাররা। 

কলাকোপার বাসিন্দা এক বিএনপি কর্মী বলেন, রাজনৈতিক, হয়রানির ভয় ও হামলা মামলাসহ বিভিন্ন কারনে নবাবগঞ্জে বিএনপির কার্যক্রম নেই বললেই চলে। একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এখন বিএনপির নেতাদের হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া মুসকিল। এর মধ্যে আবার দুইটি গ্রুপ। মান্নান আর আশফাক। তিনি বলেন, দুজনকেই সেক্রিফাইজ করতে হবে। মান্নান সাহেবের বয়স হয়েছে তাকে অনেক কিছু হিসাব করে করতে হবে। অন্যদিকে আশফাককেও মান্নান সাহেবকে সম্মান করা উচিত। দ’জনে মিলে মিশে থাকলে নবাবগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

নয়নশ্রী বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা জিয়ার আদর্শে বিএনপি করি। কিন্তু কিছু নেতাকর্মীরা নিজেদের সুবিধার জন্য মান্নান সাহেব ও আশরাফ সাহেবকে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত করেছেন। এতে কিন্ত দু’জনেরই ক্ষতি হচ্ছে। বিজয় দিবসে এই ভাবে আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখে কষ্ট পেলাম। দুজনের দ্বন্দ্বে আমার শখের রাজনৈতিক সংগঠনটির বেহাল দশা দেখে।

তার কথা কেড়ে নিয়ে আরেক বিএনপি কর্মী বলেন, বিগত উপজেলা নির্বাচনে আব্দুল মান্নান ও খন্দকার আশফাক মিলেমিশে নির্বাচন করায় আশফাক কিন্ত বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। কিন্ত নির্বাচনের দেখা যায় সু্িবধাভোগীরা আবারো তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করে দিয়েছেন। দলের স্বার্থে তাদেরকে এক হয়ে কাজ করা দরকার। 

বারুয়াখালীর এক যুবদল নেতা বলেন, আমার বাবা  বিএনপির ভক্ত ছিলেন। সেই সূত্রে তারা আব্দুল মান্নানের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। আমার বাবা এখনও মান্নান সাহেবের পক্ষের লোক। অন্যদিকে আমাদের মতো যুব সমাজ বেশিরভাগ খন্দকার আশফাকের কর্মী। কারন দোহার-নবাবগঞ্জের বিএনপি পরবর্তী কান্ডারী তিনি। মান্নান আর আশফাক দু’জনেই কিন্ত আমাদের অভিভাবক। তাদের এই ধরনের গ্রুপিং কোনো ভাবেই কাম্য নয়। তাই দলের স্বার্থে দুজনকেই একসাথে মিলে মিশে কাজ করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul