adimage

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিকাল ০৪:০৩, সোমবার

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শায়িত প্রিয়ভাষিণী

আপডেট  03:32 PM, মার্চ ০৮ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

বুদ্ধিজীবীকবরস্থানেশায়িতপ্রিয়ভাষিণী

ঢাকা, ৮ মার্চ : আন্তর্জাতিক নারী দিবসেই শেষ বিদায় জানানো হলো ভাস্কর, মুক্তিযোদ্ধা ও সাহসিকতার প্রতীক ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন রাজনৈতিক ও সাংষ্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ।

প্রিয়ভাষিণীর জানাজা পড়ানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। এরপর তাঁকে দাফন করা হয় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন।

মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমঘরে রাখা হয়। পরে আজ সকালে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে তাঁর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।

স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে এ সময় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

সামাজিক সাংস্কৃতিকসহ নানা পেশাজীবী সংগঠন এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও এ সময় শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকেই। এ সময় তাঁরা ফেরদৌসী  প্রিয়ভাষিণী নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘তাঁর সঙ্গে আমরা অনেক আন্দোলন, অনেক সংগ্রামে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে, তাঁকে পাশে পেয়েছি। তিনি সব সময়ই রাজপথে ছিলেন।’

ভাস্কর প্রিয়ভাষিণীর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নতুন নতুন প্রজন্মে বিস্তার ঘটাবে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর সমস্যা, নারীর বৈষম্য এই সব কিছুই অতিক্রম করা সম্ভব, যদি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মতো সাহসী হন আপনি।’

আগামী ১৩ মার্চ ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর স্মরণে শহীদ মিনারে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক স্মরণসভা।

পেশায় ভাস্কর হলেও ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী সবচাইতে বেশি পরিচিতি পান পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিজের নির্যাতনের অকপট স্বীকারোক্তির কারণে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্যাতিত নারীরা যখন নিজেদের দুঃসহ স্মৃতির কথা বলতে চাইতেন না। তখন সব নীরবতা ভেঙ্গে বলতে শুরু করেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। এমনকি গ্রামে গ্রামে ঘুরে নির্যাতিত নারীদের কথা তুলে এনেছেন। ২০১৬ সালে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পান।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul