adimage

১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
বিকাল ০৯:০৬, সোমবার

নাশকতার আগুনে পুড়ছে কয়েকশ একর পাহাড়ি বনভূমি

আপডেট  03:34 PM, মার্চ ০৮ ২০১৮   Posted in : জাতীয় চট্টগ্রাম    

নাশকতারআগুনেপুড়ছেকয়েকশএকরপাহাড়িবনভূমি

টেকনাফ, ৮ মার্চ : টেকনাফের নে টং পাহাড়ে আগুন লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে ১০০ একর সামাজিক বনায়ন ও পশু খাদ্য বাগান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

টেকনাফ উপজেলার পৌরসভাসংলগ্ন নুর আহমদ ঘোনা, নাইট্যংপাড়া ও বিজিবিসংলগ্ন পাহাড়সহ অন্তত ৪০টি পয়েন্টে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। বাতাসের তীব্রতায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ ও বন পাহারা দলের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। আগুনে লাখ লাখ চারা গাছ, বন্যপ্রাণীসহ শত শত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনীকে সতর্কবস্থায় রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা ও রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন পাহাড়ে ছুটে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় ভিলেজার, সামাজিক বনায়নের অংশীদার ও দমদমিয়া ন্যাচার পার্ক বন পাহারা দলের সদস্যদের দিয়ে চেষ্টা করছেন। বিকাল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

টেকনাফ উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন জানান, হঠাৎ করে সকালের দিকে দুর্বৃত্তরা পাহাড়ের ৪০টি পয়েন্টে আগুন দিয়েছে। এতে ২০১৫-১৬ সনে সৃজিত সামাজিক বনায়নের ৭৫ একর ও ২৫ একর পশু খাদ্য বাগানসহ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা হাজার চারা গাছ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্য পশু-পাখি ও উপকারভোগীরা। কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তের আগুনে গাছপালা পুড়ে গেছে। পাশাপাশি সৃজিত বাগান ও পশু-পাখিদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাতাসে তীব্রতা বেশি থাকায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে বনকর্মীদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যারা পাহাড়ে আগুন ধরিয়েছে তাদের খোঁজ নিয়ে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসতি রয়েছে। আগুনের কবল থেকে এসব ঘরবাড়ি রক্ষা এবং মানুষের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিভানো মুশকিল। নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনকর্মীদের সতর্কাবস্থা এবং কারা আগুন লাগিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাইট্যংপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল জানান, সকাল ১১টার দিকে পাহাড়ে আগুনের শব্দ পেয়ে দৌড়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসি। পরে খবর পেয়ে প্রশাসন ও বন বিভাগ আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। কারা আগুন লাগিয়েছে দেখেনি বলে জানায় সে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ বছর ধরে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা আবদুল হাকিম ডাকাত নে টং পাহাড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় ডাকাতি, খুন-গুম ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাকে নির্মূলে গত এক মাস ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলন ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। এমনকি উপজেলা পরিষদঘেঁষে পুরান পল্লানপাড়ায় ওই হাকিম ডাকাতের বসতবাড়িতে এলাকাবাসী হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হাকিম ডাকাতকে তাড়াতে পাহাড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul