adimage

২৪ এপ্রিল ২০১৮
সকাল ০১:৩৩, মঙ্গলবার

জয়পাড়া কলেজ সরকারিকরণের দাবি: প্রধানমন্ত্রীর দিকেই তাকিয়ে দোহারবাসী

আপডেট  05:07 PM, নভেম্বর ১৮ ২০১৭   Posted in : জাতীয় অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা    

জয়পাড়াকলেজসরকারিকরণেরদাবি:প্রধানমন্ত্রীরদিকেইতাকিয়েদোহারবাসী

প্রিয় বাংলা অনলাইন: ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অর্ন্তগত শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা প্রসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান জয়পাড়া কলেজ। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারনা সভায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহারবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মার ভাঙন থেকে দোহারকে রক্ষার্থে বাঁধ নির্মাণ ও জয়পাড়া কলেজকে সরকারিকরণ করা হবে। কিন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদাকে পাশ কাটিয়ে জয়পাড়া কলেজ প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরে উপজেলার শেষ প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত অন্য একটি কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা আসার পর থেকেই ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে কলেজটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ দোহারের মানুষের মাঝে।
 
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা মুকসুদপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের প্রভাবের কারনে জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করনের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ওই এলাকার একটি কলেজকে জাতীয়করনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এমন খবরের পর থেকেই কলেজটির বর্তমান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষই রীতিমতো ক্ষুদ্ধ ও হতাশ। জয়পাড়া কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, রাস্তা অবরোধ সহ বিভিন্ন কর্মসূচীও পালন করেছে কলেজটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ কলেজ কর্তৃপক্ষ। গঠিত হয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদ। কিন্তু দাবি আদায় না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা মিলে ‘কেন জয়পাড়া কলেজকে সরকারিকরণ করা হবে না’ গত ৬ মার্চ উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেণ। রিটটি নিয়ে বর্তমানে আদালতের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানি চলছে। 

জয়পাড়া কলেজের শিক্ষকরা জানান, কলেজ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেসরকারি কলেজের অধীনে জমির পরিমাণ, নির্মিত অবকাঠামো, খেলার মাঠ, শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, কলেজের ফলাফল, এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি, জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্যের মতামত ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেয়ার কথা। কিন্তু উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় না নিয়ে স্বজনপ্রীতি এবং বিশেষ এক শ্রেণির মহলের যোগসাজশে ঐতিহ্যবাহী এই কলেজটিকে বাদ দিয়ে ২০ বছর পরে প্রতিষ্ঠিত অপেক্ষাকৃত নতুন একটি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। 
                                                      
জানা যায়, ১৯৭২ সালে ২৫ জুলাই বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও সাবেক এম.এন.এ ও ঢাকা জেলার গভর্নর মরহুম আশ্রাফ আলী চৌধুরী উপজেলার প্রথম কলেজ “জয়পাড়া কলেজ” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর শিলান্যাস করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধূুরী। প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ছিলেন দেওয়ান আব্দুল হাই। সেই শুরু থেকে উপজেলার উচ্চ মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থানীয় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জয়পাড়া কলেজই ছিল একমাত্র ভরসা। সুনিপুন প্রাকৃতিক পরিবেশ বেষ্টিত প্রায় পাঁচ একর জায়গা নিয়ে স্থাপিত এই প্রধান বিদ্যাপিঠটি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠার কারনে দ্রুতই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায়। 

কলেজ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে জয়পাড়া কলেজ উপজেলায় উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কলেজটি ১৯৮৪ সালের ১লা মার্চ এইচএসসি ও ১৯৮৯ সালের ২রা অক্টোবর ¯œাতক এমপিও তালিকাভূক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। ২০১২ সালে বর্তমান সরকারের আমলেই এই কলেজে অর্নাস কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে ছয়টি বিষয়ে অর্নাস কোর্স চালু আছে এবং আরো দুটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কলেজটিতে ২০১৫ সালের অনার্সের পাশের হার ছিল ৭৯.৩১%। 

জানা জায়, গত ২ আগষ্ট ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর ও ৩০ আগষ্ট ২০১৫ সালে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বরাবর ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি জয়পাড়া কলেজ সরকারীকরনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লিখিত আবেদন পেশ করেন। কিন্তু অত্যন্ত অনাঙ্খিত ও দূর্ভাগ্যজনকভাবে এটি সরকারীকরন থেকে বাদ পরে। 

জয়পাড়া কলেজের সাবেক জিএস ও রিট আবেদনকারী আব্দুর রহমান আকন্দ বলেন, দোহারের কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির স্বজনপ্রীতির কারনে উপজেলার প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু বঞ্চিতই হয়নি বরং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝিয়ে তাঁর ওয়াদা বাস্তবায়নে বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে দোহারের ৯৫ শতাংশ মানুষ হতাশ। প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন আমরা তাঁর ওয়াদার বাস্তবায়ন চাই। পুরো দোহারের মানুষ এখন তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন। 

জয়পাড়া কলেজের সাবেক ভিপি ও রিট আবেদনকারী আলমাস উদ্দিন বলেন, উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ও বঙ্গবন্ধুৃর ঘনিষ্ট সহচর মরহুম আশ্রাফ আলী চৌধূরীর হাতে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার সবচেয়ে প্রাচীনতম কলেজ জয়পাড়া কলেজকে জাতীয়করন থেকে বাদ দেয়ায় পুরো দোহারবাসী হতাশ। রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতির কারনেই কলেজটি সরকারিকরন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের একটি মহতী উদ্যোগ ব্যক্তিবিশেষের অসদাচরণ কিংবা দায়িত্বহীনতায় বিতর্কিত হোক, ক্ষতিগ্রস্ত হোক তা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমরা কিছুই চাইনা, আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ওয়াদার বাস্তবায়ন চাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ২০০৮ সালে আমার সভাপতিত্বে জয়পাড়া বড়মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বর্তমার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহারবাসীকে কথা দিয়েছিলেন জয়পাড়া কলেজ সরকারি করা হবে। আমি এর জলন্ত স্বাক্ষী। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরাও হতাশ। আমরা মাঠ পর্যায়ে রাজনীতি করি। আমাদের মতো তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে এবং আমাদের মতামত গ্রহন না করেই গুটিকয়েক রাজনীতিবিদের কথায় উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জয়পাড়া কলেজকে পাশ কাটিয়ে উপজেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত অন্য একটি কলেজকে জাতীয়করনের ঘোষনা দেওয়া আমরাও হতাশ। 

জয়পাড়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাপস কুমার নন্দী বলেন, কলেজটিকে জাতীয়করনের জন্য আমাদের প্রচেষ্টার কোন কমতি ছিল না। রাজনৈতিক প্রভাবের কারনেই হয়তো আমাদের কলেজটি জাতীয়করন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠান সরকারিকরনের জন্য আইনত ও যৌক্তিক সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul