adimage

২৪ এপ্রিল ২০১৮
সকাল ০১:৩২, মঙ্গলবার

“শত প্রতিকূলতার মাঝেও স্কুলে যায় ওরা”

আপডেট  05:24 AM, নভেম্বর ২০ ২০১৭   Posted in : জাতীয় অর্থ ও বাণিজ্য ঢাকা শিক্ষাঙ্গন    

“শতপ্রতিকূলতারমাঝেওস্কুলেযায়ওরা”

শামীম আরমান, ২০ নভেম্বর ২০১৭:
কি রোদ কি বৃষ্টি সব কিছু উপেক্ষা করে কাঁদামাটি মাড়িয়ে ও নৌকায় চেপে প্রতিদিন স্কুলে যায় দোহার উপজেলার মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তবুও দুঃখ নেই ওদের মানুষের মত মানুষ হয়ে বাবা-মাকে বড় পাশ দিয়ে দেখাতে হবে। এমন স্বপ্নের কথা জানাল ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেনির শিক্ষার্থী রায়হান। কিন্তু রায়হানের মত অনেকেই যখন এমন স্বপ্ন বুনছেন ঠিক তখন শিক্ষার আলো নিতে আসা এই শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হতে হচ্ছে। 

সরেজমিন পরিদর্শণে গিয়ে দেখা যায় পদ্মানদীর তীরবর্তী চার কক্ষ বিশিষ্ট টিন সেডের একটি ঘরের দুটি কক্ষে ক্লাস করছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। পাশেই বিদ্যালয়ের লাইব্রেরী আর তার পাশেই বারান্দায় একটি খাটে ক্লাস করছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। কথা বলে জানা যায় বিদ্যালয়ে এ বছর বন্যার পানি ঢুকে একটি কক্ষের সামনে বেশখানিক জায়গা ভেঙ্গে গেছে। যার কারনে ওই ক্লাসটিতে পড়াশোনা করা ঝুকিপুর্ণ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বারান্দায় ক্লাস নিতে হয়। 

বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম বলে, “আমাদের একটি টয়লেট থাকলেও তাতে মলত্যাগ করার ব্যবস্থা নাই। তৃতীয় শ্রেনির শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলে “গরমে আমরা ঘাইমা যাই, তখন অনেক খারাপ লাগে আমগো”। 

জানা যায়, স্কুলে বৈদ্যুতিক মিটার থাকলেও বৈদ্যুতিক খুঁটির অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া একটি টিনসেডের বাথরুম থাকলেও তার কোন স্লাব না থাকায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষরা টয়লেটে যেতে হলে তাদের বিদ্যালয়ের পাশের বাড়িতে যেতে হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ে আসার তেমন কোন পথ না থাকায় বিদ্যালয়ের সামনের একটি নালা শিক্ষার্থীদের নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। 

বাহ্যিক চাকচিক্য সম্পন্ন এমন একটি বিদ্যালয়ের এমন সমস্য কেন তা জানতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালিন প্রধান শিক্ষক জিন্নত আলী বলেন, ১৯৮৬ সালে পদ্মানদী থেকে বেশ খানিক দূরে মধুরচর এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়টি। তখন প্রায় ৫ শতাধিক শিশু ভর্তি হয় এখানে। ধীরে ধীরে তা আরো ব্যপক আকার ধারন করে। এক সময়ে বিদ্যালয়টি টিনসেড থেকে ক্রমাগত দুই ধাপে ভবনে উন্নিত হয়। কিন্তু ২০১৩ সালে পদ্মানদীর ভাঙ্গনের শিকার হয় এই বিদ্যালয়টি। তখন দুটি ভবনের মোট ৭ টি কক্ষ নিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয় বিদ্যালয়টি। ধীরে ধীরে কমে যায় শিক্ষার্থীরা। এক সময়ে গাছতলায় খোলা আকাশের নিচে চলে পাঠদান। ২০১৩ সালে অস্থায়ীভাবে শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে গড়ে তোলা হয় একটি টিনসেড। সেখানে চলে পাঠদানের ব্যবস্থা। তাও কিনা ২০১৪ সালের পদ্মানদী ভাঙ্গনের স্বীকার হয়। এভাবে নির্মাণ করা হয় আর বছরের পর বছর ভাঙ্গতে থাকে অবকাঠামোগুলো। 
তিনি জানান, ২০১৬ সালে মধুরচর গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমান বিদ্যালয়টির সহ-সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়া (চৌকিদার) তাঁর ব্যক্তিগত জায়গায় মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জায়গা দেন। গড়ে ওঠে এডিপির অর্থায়নে ১০ লক্ষ টাকা ব্যায়ে চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেডের স্কুল। যা আজকের মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে বিদ্যালয়টি। এতে করে মারাত্মক সমস্যায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে বর্তমান প্রায় ১৫০ শতাধিক শিক্ষার্থীকে। এশিয়ান ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট (এডিপির) অর্থায়নে চারটি শ্রেণিকক্ষ ও একটি বাথরুমও হয়েছে তবে বাথরুম ব্যবহারের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। 

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলাউদ্দিন মোল্লা বলেন, এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ কয়েকবার পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সবই শেষ। তবুও এলাকার গরীব শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে যার যার অবস্থান থেবে সবাই সহযোগিতা করেছে। সরকার আর একটু সুদৃষ্টি দিলে বিদ্যালয়ের বাকি সমস্যাও সমাধান হবে বলে আমার বিশ^াস। বর্তমানে তিনজন শিক্ষক ও দুইজন শিক্ষিকা তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম করে চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের এই প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul