adimage

১৬ অগাস্ট ২০১৮
সকাল ০৫:৫৯, বৃহস্পতিবার

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখছে ইসি

আপডেট  01:27 AM, জানুয়ারী ৩১ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

নির্বাচনীকর্মকর্তাদেরভোটদেওয়ারসুযোগরাখছেইসি

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি : নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ১০ লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আগাম ভোট গ্রহণের সুযোগ রাখতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ইভিএমে ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনের কাজে নিয়োজিতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলির ক্ষমতা, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) এসব বিধান সংযোজনসহ মোট ৩৪টি সংশোধনী আনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইসির আইন সংস্কার কমিটির এক সভায় আরপিওর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করা হয়। আগামী মাসের মাঝামাঝি কমিশন সভায় এসব প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে কমিটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ও আইন-বিধি সংস্কার কমিটির প্রধান বেগম কবিতা খানম এ প্রতিবেদককে বলেন, ভোটে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের আগাম ভোটগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের কিভাবে ভোট গ্রহণ করা যাবে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কমিটির আর দুই একটি সভার পর আরপিও’র খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, আশা করছি আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি কমিশন সভায় এ বিষয়ে কিছুটা উপস্থাপন করা হবে। তারপরের কমিশন সভায় আরপিও’র খসড়া উপস্থাপন করতে পারবো।

গত ১৬ জুলাই বিদ্যমান ১৪টি আইন ও বিধি সংস্কার করার জন্য নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানমকে প্রধান করে আইন ও বিধি সংস্কার কমিটি গঠন করে ইসি। আইন-বিধি সংস্কারের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মতামত চেয়েছিল কমিটি। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ জন কর্মকর্তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ওপর মোট ৯২টি সংশোধনীর প্রস্তাব পেশ করেন। গত ৩১ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয় ইসি। এরপর বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে আরপিওতে সংযোজন/বিয়োজন ও সংশোধনের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করে ৩৪টি সুপারিশ সম্বলিত প্রস্তাবনা তৈরি করেছে কমিটি।

আরপিওর ২৭(১)(২) ধারায় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোট দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আগাম ভোটগ্রহণ ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে ভোট দিতে হবে তাদের। ইসির কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার কেন্দ্র ও দুই লাখ ভোটকক্ষ থাকে। এতে ৪০ হাজার প্রিজাইডিং অফিসার ও ৬ লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকেন। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১০ জন সদস্য থাকেন। এ হিসাবে ৪ লাখ ৮০ হাজার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোট দিতে পারেন না। এর বাইরে স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে আরো কয়েক লাখ সদস্য ভোট দিতে পারেন না। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। আরপিওতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বদলির ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হচ্ছে। এজন্য আরপিওর ৭(৬) ধারায় সংশোধনী আনা হচ্ছে। এতে ইসির নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যে কাউকে বদলি করতে বাধ্য থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই আদেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ইসির হাতে প্রত্যাহারের ক্ষমতা রয়েছে। এর সঙ্গে বদলির ক্ষমতা ও সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলো আরপিওতে। এ বিষয়ে কবিতা খানম বলেন, কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তাকে প্রত্যাহার বা বদলির এজন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়ার বিধান রাখা হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি এই প্রস্তাব যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেন তিনি।

তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞা আগের মতই অপরিবর্তিত থাকছে। সংলাপে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের দাবি থাকলেও সশস্ত্রবাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে কবিতা খানমের যুক্তি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। কারণ নবম সংসদ নির্বাচনের পর আরপিও সংশোধনীর সময় এটি বাদ দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনের সময় চাইলে আমরা অন্য আইনে সেনা মোতায়েন করতে পারবো।

সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থিতার শর্ত সহজ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আরওপিও সংশোধনী প্রস্তাবনায়। আরপিওর ১২(৩এ)(এ) ধারায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে এক হাজার ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের তালিকা জমা দেয়ার বিধান যুক্তের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে ওই সংসদীয় আসনের মোট ভোটারের ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, একাধিক প্রার্থী হলে ৩১ ধারার অধীনে গোপন ব্যালটে অথবা নির্দিষ্ট ইভিএম বা ডিভিএম এ ভোটগ্রহণ করা যাবে। আর জামানত বাড়ানোর বিষয়ে আরপিওর ১৩(১)(এ) ধারায় ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাস্তবতার নিরিখে জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হলো। কোনো আসনে দুই বা তার বেশি প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পেলে সেখানে ওইসব প্রার্থীর মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণের বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী পরিবেশ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়ম, কোন প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কর্তৃক বড় ধরনের অনিয়ম বা আচরণ বিধি লংঘন ইত্যাদি সম্পর্কে সরাসরি খোঁজখবর নিতে তৃতীয় চোখ (থার্ড আই) নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। ১২ (৩বি) (এ) তে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট গ্রহণের পাশাপাশি মার্কসিট রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ঋণখেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস করার জন্য মনোনয়ন দাখিলের সাত দিন পূর্বের পরিবর্তে মনোনয়ন দাখিলের দিন ঋণখেলাপি তালিকা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জমা নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী পোলিং এজেন্টগণ প্রার্থীর প্রদত্ত প্রতীক সম্বলিত কার্ড বুকে ঝুলিয়ে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এটি পরিবর্তন করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত পরিচয়পত্র বহনের জন্য নতুন প্রস্তাবনা এসেছে। বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের অভিযোগসমূহ দাখিল ও নিষ্পত্তির জন্য বিধান রয়েছে। নির্বাচনে অভিযোগ দাখিল ও তা দ্রুতসময়ে নিষ্পত্তি করে অভিযোগকারীকে অবহিত করা হলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বিধায় নতুন ৯১ এএ বিধান সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া আরপিওর ৮৩ ও ৮৬ ধারায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাজার সর্বনিম্ন মেয়াদ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩ বছর এবং সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৯১এএ ধারায় নির্বাচন নিয়ে জমা হওয়া অভিযোগ সম্পর্কে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অভিযোগকারীকে জানানো বাধ্যতামূলক করার বিধান সংযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বেশকিছু বিধান সংশোধন করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর এই অধ্যাদেশ সংসদে পাস হয়। এর আগে বিগত কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনও আরপিওতে কিছু পরিবর্তন আনে। -ইত্তেফাক

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul