adimage

২২ মে ২০১৮
সকাল ০১:০১, মঙ্গলবার

সাজানো হচ্ছে প্রশাসন বিবেচনায় নির্বাচন

আপডেট  09:47 AM, ফেব্রুয়ারী ০৫ ২০১৮   Posted in : জাতীয়    

সাজানোহচ্ছেপ্রশাসনবিবেচনায়নির্বাচন

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র নয় মাস। তাই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাজানো হচ্ছে প্রশাসন। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশাসনে কিছুটা রদবদল করতে হলেও পছন্দমতো ব্যক্তিরাই যাতে ওইসব পদে থাকেন- এমন চিন্তাভাবনা থেকেই তা করা হচ্ছে। বিগত সময়েও নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন সাজানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার কৌশলগত দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। অতীতে বিএনপি সরকারের আমলেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়।

প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদকাল রয়েছে মাত্র ১১ মাস। এ সময়ে সরকারকে নানা ধরনের চাপে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। একদিকে সরকারবিরোধীদের আন্দোলন, অন্যদিকে প্রশাসনের ভেতরের একটি অংশের নানা ধরনের ষড়যন্ত্র। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র যাতে সফল না হয়, সে জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল সচেতন। প্রশাসনের কয়েকটি পর্যায়ে রদবদলের এটিও একটি কারণ।

সূত্র জানায়, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ ও শক্তিশালী প্রশাসন গড়ে তোলার অংশ হিসেবে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পরিবর্তন আসছে। সরকার সমর্থিত ৮৫ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে বিগত সময়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা কাজকর্মে দক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে ওএসডি কিংবা ডাম্পিং পোস্টে পদায়ন করা হবে। মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ডিসি পদে পদায়ন শুরু হবে। এ ছাড়া কয়েকজন সচিবকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে। যারা তিন বছরের বেশি সময় ধরে সচিব হিসেবে রয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই কয়েকজনকে সিনিয়র সচিব করা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রশাসন সাজানোর কিছু নেই। নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি চলমান প্রক্রিয়া। কোনো উদ্দেশ্য সামনে রেখে প্রশাসন সাজানোর বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ সব সময়েই মাঠ প্রশাসনে কর্মকর্তা নিয়োগের তালিকা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তালিকা করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে পদায়ন করা হবে। এটি নেতিবাচকভাবে দেখা ঠিক নয়। সচিব পদ খালি হলেই নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মেধাবী ও দক্ষদেরই বিবেচনা করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানায়, সচিবদের তিন বছরের আমলনামা তৈরি করা হয়েছে। যাদের অদক্ষতার প্রমাণ মিলেছে, তাদের ডাম্পিং পোস্টিং করা হচ্ছে। এমনকি অনেককে ওএসডিও করা হতে পারে। যোগ্যদের আরও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমন প্রায় ১০টি মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন দক্ষ অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে তাদের পদে বসানো হতে পারে। অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ে আরও কয়েকজন দপ্তর-প্রধানকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ওইসব পদে আসবেন চৌকস কর্মকর্তারা, যারা সঠিক সময়ে সরকারের নির্দেশনা পালনে সক্ষম।

একই সঙ্গে যারা তিন বছর ডিসি ও ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের প্রত্যাহার করা হবে। তাদের স্থলে মেধাবী কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হবে। ২০ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ডিসি হিসেবে পদায়নের কাজ চলছে। ওই পদে নিয়োগের জন্য একটি সারসংক্ষেপও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনের সময় ২০ ও ২১ ব্যাচের কর্মকর্তারাই ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। ২১ ব্যাচের কর্মকর্তাদের ডিসি ফিটলিস্টের কাজও শিগগির শুরু হবে।

সূত্র আরও জানায়, মাঠ প্রশাসনের সব পদেই বড় ধরনের রদবদল আসছে। জুনের আগেই মাঠ প্রশাসনের ডিসি, এডিসি ও ইউএনও পদে প্রায় দেড়শ' কর্মকর্তার দপ্তর বদল করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন ডিসি পদে ২৫ জন, এডিসি পদে প্রায় ৪০ জন ও ইউএনও পদে প্রায় ৯০ জন।

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. আকবর আলি খান এ প্রতিবেদককে বলেন, নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটে। আর এ নির্বাচন সম্পন্ন করেন প্রশাসনের কমকর্তারা। তাদের দলমতের ঊর্ধ্বে থেকেই কাজ করতে হয়। কিন্তু কেউ যদি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে দলীয় মনোভাব পোষণকারী কাউকে এ দায়িত্বে রাখার পরিকল্পনা করেন- সে উদ্দেশ্য কখনোই সফল হয় না। কারণ অতীতেও বিভিন্ন সরকার এটি করেছে; তাতে কোনো লাভ হয়নি। -সমকাল


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul