adimage

২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৫:৪১, বুধবার

বিদ্যুতের দাম নিয়ে গণশুনানি; দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা কমলে দাম কমানো সম্ভব

আপডেট  05:25 AM, জানুয়ারী ১৫ ২০১৮   Posted in : দুর্নীতি    

বিদ্যুতেরদামনিয়েগণশুনানি;দুর্নীতিওঅব্যবস্থাপনাকমলেদামকমানোসম্ভব

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারিবিদ্যুতের দাম নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি শেষ হয়েছে। প্রতিবার বিভিন্ন কোম্পানির বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে শুনানি হলেও এবারই দাম কমানোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি হয়।

এসব শুনানিতে দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরেন কোম্পানির কর্মকর্তারা। আর পাল্টা যুক্তি দিয়ে দাম কমানোর দাবি জানান ভোক্তা প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বৃদ্ধির প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের গণশুনানি। শেষ দিনে প্রথমবারের মতো দাম কমানোর প্রস্তাবনা দিয়ে শুনানি করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

শুনানিতে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা প্রফেসর শামসুল আলম বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, ঘুষ লেনদেন আর লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আদর্শিকভাবে এ খাতে কোন উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া বেশি দামে বিদ্যুৎ উৎপাদন করায় ভোক্তারা বছরে ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধ করা গেলে দেশে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে প্রায় প্রতিটি শুনানিতেই অংশ নেয়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, গত এক বছরে সরকারের ভুল নীতি ও পদক্ষেপের কারণে বিদ্যুৎখাতে সাত হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে গণশুনানিতে তুলে ধরেছেন তারা। এটি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১ টাকা ৫৬ পয়সা কমানো যেতো। বিষয়টি মেনে নিয়ে পিডিবি কর্মকর্তারাও বলেছেন যে, এসব ব্যবস্থা নেয়া গেলে দাম কমানো সম্ভব ছিল। আর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় আর সরকারি গ্যাস বেসরকারি রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল প্রতিষ্ঠানকে না দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেয়া হতো, তাহলে দাম না বাড়িয়ে দাম কমে যেত।

তার আশাবাদ, ভোক্তা প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের দেয়া যুক্তি পর্যালোচনা করে বিদ্যুতের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেবে বিইআরসি। তা না করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দিলে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকেই অকার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হবেন বলে জানান এ নাগরিক প্রতিনিধি।

বিইআরসির আইন অনুযায়ী, শুনানি শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার বিধান আছে। সর্বশেষ ২০১৫ সালের আগস্টে বিদ্যুতের দাম গড়ে ২.৯৩ শতাংশ হারে বাড়ায় বিইআরসি। সেপ্টেম্বর মাস থেকে বর্ধিত মূল্য কার্যকর করা হয়। এরআগে ২০১৪ সালের মার্চে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম বাড়ায় বিইআরসি।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul