adimage

২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
বিকাল ০৩:১২, বুধবার

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু

আপডেট  03:46 AM, জানুয়ারী ১৯ ২০১৮   Posted in : ধর্ম চিন্তা    

বিশ্বইজতেমারদ্বিতীয়পর্বশুরু

ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। প্রথম পর্বের পর চারদিন বিরতি দিয়ে শুরু হচ্ছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এতে প্রথম দফার প্রস্তুতিই বহাল রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮  জানুয়ারি) মাগরিবের নামাজের পর ময়দানের ছামিয়ানার নিচে জমায়েত হওয়া মুসল্লিদের উদ্দেশে অনানুষ্ঠানিক বয়ান শুরু হয়েছে। আগামী রোববার জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এ বছরের ইজতেমা শেষ হবে।

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় যোগ দিতে ঢাকা জেলার একাংশ এবং ১২টি জেলার মুসল্লিদের ইজতেমাস্থলে আসা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে ইজতেমামুখী মানুষের ঢল নামে টঙ্গীর দিকে। বাস, ট্রাক, ট্রেন, ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মুসল্লিরা যোগ দিচ্ছে ইজতেমায়।

এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় যোগ দিতে কয়েক লাখ মুসল্লি ইজতেমা মাঠে সমবেত হয়েছে। আগামী রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। তারা নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিচ্ছে। প্রথম পর্বে অংশ নেয়া বেশকিছু বিদেশি মুসল্লি দ্বিতীয় পর্বেও অংশ নেয়ার জন্য ময়দানের বিদেশি নিবাসে রয়েছেন।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফার সব প্রস্তুতি দ্বিতীয় দফাও বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে মুসল্লিরা ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছে। গত ১৪ জানুয়ারি (রোববার) প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতের পর দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমার ময়দান প্রস্তুতের জন্য ইজতেমায় আসা তাবলিগ জামাতের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। তারা ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসল্লিদের ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে পুরো ময়দানকে উপযোগী করে তুলেছে। এ জন্য ময়দানে তাবলিগের কর্মীরা বেশ কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালায়। এছাড়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও ময়দান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে অংশ নেয়। 

দ্বিতীয় পর্বে যেসব জেলা অংশ নেবে :

দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় মুসল্লিদের অংশ নেয়ার জন্য জেলাওয়ারি পুরো প্যান্ডেলকে ২৮টি খিত্তায় (ভাগে) ভাগ করা হয়েছে। এতে ঢাকার একাংশসহ ১৩টি জেলার মুসল্লিরা অংশ নেবে। দ্বিতীয় পর্বে দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা খিত্তাওয়ারী যেভাবে অবস্থান নেবে তা হলো-১ থেকে ১০ নম্বর এবং ১৮ ও ১৯ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ১১ ও ১২ নম্বর খিত্তায় জামালপুর, ১৩ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ১৪ নম্বর খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৫ নম্বর খিত্তায় ঝিনাইদহ, ১৬ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ১৭ নম্বর খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ২০ নম্বর খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ২১ ও ২২ নম্বর খিত্তায় কুমিল্লা, ২৩ ও ২৪ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২৫ ও ২৭ নম্বর খিত্তায় খুলনা, ২৬ নম্বর খিত্তায় ঠাকুরগাঁও এবং  ২৮ নম্বর খিত্তায় পিরোজপুর জেলা।

গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, বর্তমান সরকারের নির্দেশে প্রতিবারের মতো ইজতেমা ময়দানে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে এ বছরও গোসলখানা, ওজুখানাসহ উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথম দফার ইজতেমার মতো দ্বিতীয় দফাও ইজতেমা ময়দান ও আগত মুসল্লিদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখব ইনশাল্লাহ।

জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিতীয় দফার জন্যও আমাদের আগের দফার মতো ব্যাপক ও সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মুসল্লিরা ভালো মতো ইজতেমা শেষে বাড়ি ফিরে যেতে পারে তার জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।



গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ জানান, বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালনের জন্য সাত হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রয়েছে, নেওয়া হয়েছে সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অর্ধশতাধিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে বাইনোকুলারের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে। ইজতেমা ময়দানে যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে আসতে পারেন সেজন্য যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। এর পাশাপাশি তুরাগ নদীতে নৌপুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। ইজতেমা ময়দানের প্রতিটি খিত্তা ও ময়দানের আশপাশের এলাকায় বিপুল সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ময়দানের আশপাশের এলাকা হকার ও ভিক্ষুকমুক্ত করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ইজতেমায় আগত বিদেশি মেহমানদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন। সাত স্তরের এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ইজতেমা ময়দান এলাকা ঢেকে রাখা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত  ঘটনা যেন ঘটতে না পারে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।

প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা :

গাজীপুরের সিভিল সার্জন জানান, প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে তাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ মেডিকেল অফিসারদের তালিকা ও ডিউটি রোস্টার করা হয়েছে। মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মন্নু গেট, এটলাস গেট, বাটা কারাখানার গেটে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগ, অ্যাজমা, ট্রমা, বার্ন, চক্ষু এবং ওআরটি কর্নারসহ বিভিন্ন ইউনিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেবেন। এছাড়া বেসরকারিপর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ কারখানা প্রতি বছরের মতো এ পর্বেও ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধপত্র বিতরণ শুরু করেছে। 

গাড়ি পার্কিং :

প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ, টঙ্গী সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজ মাঠ, উত্তরার আজমপুর স্কুল মাঠ, কামারপাড়ায় রানাভোলা মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ইজতেমার মুরুব্বি গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেয়া মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলার মুসল্লিদের জন্য দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়। এর আগে ৬৪ জেলার মুসল্লিদের জন্য তিনদিনের একদফায় ইজতেমা হতো। কিন্তু টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে দেশের ৩২টি জেলার মুসল্লিদের জন্য দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে এক বছর পরপর ৩২ জেলার মুসল্লিরা ইজতেমায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

 


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul