adimage

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
বিকাল ০৩:০৪, রবিবার

উন্নয়নের স্থায়িত্ব নির্ভর করে নারী-পুরুষের সম্মিলিত শ্রমে

আপডেট  06:53 AM, জানুয়ারী ১৫ ২০১৮   Posted in : নারী উন্নয়ন    

উন্নয়নেরস্থায়িত্বনির্ভরকরেনারী-পুরুষেরসম্মিলিতশ্রমে

ঢাকা, ১৫ জানুয়ারি সকলেই
 আমরা জানি যেবাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে। রাষ্ট্রেরসরকারগুলো তাদের দায়িত্বভার পালনকালে স্বল্প  দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হন। তারধারাবাহিকতা রক্ষা করে পরবর্তী দায়িত্বে নিয়োজিতরা অর্থনৈতিক  অবকাঠামোগত কর্মকা– এগিয়ে নিয়ে চলেন। এটাই কল্যাণকামী সরকারসমূহের কাজ। আরএই কাজে তাদের নির্ভরতাহলোদেশের নারীপুরুষের সম্মিলিত শ্রমশক্তি। বাংলাদেশ এখন বহুলাংশে সফল।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অনেক অর্জনই আজ বিশ্বের দৃষ্টিতে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবেপরিচিতি পেয়েছে। নজর কেড়েছে রোল মডেলরূপে চিহ্নিত হয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপপ্রভাব মোকাবেলা থেকে শুরু করে নারী ক্ষমতায়ন সর্বত্রই দৃশ্যমান এই এগিয়ে চলা। আমাদেরনারীজনগোষ্ঠীর সামনেও দেশের বর্তমান পরিবর্তনের ধারায় ধীরে ধীরে খুলে যেতে চলেছে বন্ধদুয়ারগুলো। নারীর অধিকার নিয়ে এখন অত্যন্ত সোচ্চার এদেশের মেয়েরা। পরস্পরের হাতে হাতরেখে সচেতন হয়ে উঠেছে বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে। তবেদেশের প্রত্যন্ত অনগ্রসর অঞ্চলে এইচিত্রের বিপরীত সত্যটাও দেখতে পাওয়া যায়। আর্থসামাজিক  রাজনৈতিকসাংস্কৃতিকসচেতনতার প্রকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রটি নানাভাবে বাধাগ্রস্ত  িত হতে থাকে। এই বাস্তবতাঅস্বীকার করা যাচ্ছে না। একে অস্বীকার করলে নারীর অধিকার বাস্তবায়নের কর্মধারা পথভ্রষ্ট হতেপারে।
নারীর প্রতি প্রবল অবহেলানারীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণনারীর অধিকারের প্রতি অবজ্ঞা এবংশ্রমমূল্যে তাদের নানাভাবে বঞ্চিত করার প্রবণতা আজও দেশে দেশে বিদ্যমান। এদেশের নারীদেরদীর্ঘকালের বঞ্চিতজীবন থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টাগুলোপশ্চাদপদ ধ্যানধারণা এবংকুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজের বাধায় এবং কোথাও কোথাও মৌলবাদী চিন্তার থাবায় বন্দী করে রাখারপ্রচেষ্টা এখনও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্বীকৃতি  অধিকার আদায় করে নিতে হয় আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। নিরন্তর সংগ্রামের পথেঐক্যবদ্ধভাবে পথ হেঁটেত্যাগ স্বীকার করে। উন্নয়নের আজকের মহা আয়োজন এদেশের নারীসমাজের সামনে সুযোগ এনে দিয়েছে। এদেশের শহরেবন্দরেরাজধানীতে বসবাস করেন যেনারীরা,তাঁরা আমাদের গ্রামেগঞ্জে বসবাসরত নারীসমাজের তুলনায় উল্লিখিত সুযোগের ছোঁয়াপেয়েই অনেকখানি সুবিধাজনক স্তরে অবস্থান করেন। আমাদের গ্রামগঞ্জের নারীকুলের প্রকৃতঅবস্থার অনুসন্ধান হলে দেখা যাবেতারা অনেক ক্ষেত্রেই ন্যূনতম অধিকারটুকুও ভোগ করতেপারে না। নির্যাতন যেনো তাদের বিধিলিপি। ফলেতারা আজও এক ধরনের শোষণেরও শিকার।নারীসমাজের প্রকৃত মুক্তি  তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজে এগিয়েআসতে হবে আমাদের বিবেকবানবিবেচকউদারচিন্তার সমর্থক  মানবাধিকার সংরক্ষণকারীপুরুষ সমাজকে। নারীর স্বীকৃতি  তাদের অধিকার পুরুষ শ্রমশক্তির সাথে সংঘাতের কোনো বিষয়নয়। পুরুষসমাজের মতোই যে কোনো দেশের নারীসমাজও একটি অর্থনৈতিক শক্তি। নারীঅধিকার প্রতিষ্ঠানারীর ক্ষমতায়ননারীর মর্যাদাসংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠার জন্যেশিক্ষার আলো এদেশের প্রতিটি নারীর কাছে পৌঁছে দেওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই।
নারী সচেতনতা বৃদ্ধি  তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের দেশে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।যেমন : নারী শিক্ষাবিশেষত প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করাদ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীউপবৃত্তিচালু চাকুরির ক্ষেত্রে কোটা সংরক্ষণস্থানীয় পর্যায়ে নারীনেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ সম্পত্তির অধিকারনিশ্চিতকরণের আইন ইত্যাদি। দেশ  জাতির কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের প্রশিক্ষিতপুরুষ শ্রমশক্তি তৈরির পাশাপাশি নারীমুক্তির সব বাধা দূর করতে হবে। নারী  পুরুষ শ্রমশক্তিকেপরিচর্যা দিয়ে দেশ  সমাজ গঠনের সক্রিয় কর্মীতে পরিণত করার যে আযোজন দেশে শুরুহয়েছে তাকে সফল করতে হবে। মৌলবাদী সংকীর্ণতার অন্ধকারকে বিতারিত করে এগিয়েচলাবিশ্বের কল্যাণমুখী জ্ঞানের আলোয় নিজেদের চিন্তাচেতনা  মুক্তবুদ্ধির বিকাশ ঘটালেই এদেশেরঅগ্রযাত্রা  উন্নয়নের ধারাকে স্থায়িত্ব দেওয়া সম্ভব হবে

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul