adimage

২৭ মে ২০১৮
সকাল ০৭:২৯, রবিবার

আমানত ফেরত দিতে পারছে না ফারমার্স ব্যাংক: অর্থমন্ত্রী

আপডেট  07:44 PM, জানুয়ারী ২৫ ২০১৮   Posted in : ব্যাংক-বীমা    

আমানতফেরতদিতেপারছেনাফারমার্সব্যাংক:অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ফারমার্স ব্যাংকে বর্তমানে তারল্য সংকট বিদ্যমান থাকার ফলে গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে পারছে না। ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রেগুলেটরি ও প্রুডেনশিয়াল নিয়মকানুন পরিপালনে অনীহা এবং পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে থাকে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে সেলিম উদ্দিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একাধিক পদক্ষেপ নিলেও সার্বিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ক্রমাবনতি বিদ্যমান থাকে। ইতোমধ্যে ব্যাংকটির দুর্বল আর্থিক অবস্থা বিভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়ে পড়লে আমানতকারীরা ব্যাংক থেকে আমানত উঠিয়ে নিতে থাকে। যার ফলে তারল্য সংকটের সৃষ্টি হয়। ব্যাংকটির তারল্য সংকটজনিত এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ শৃংখলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ করে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন ফান্ড ও প্রতিষ্ঠানের পর্যায়ক্রমিক বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন করেছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ৫০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটড বন্ড ইস্যুর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করে আমানতকারীদের আস্থা অর্জনে তৎপর হওয়ার বিষয়ে নির্দেশনাও প্রদান করেছে সরকার।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচারের খবর তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করে ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমান সময়ে প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে যে দাবি করা হচ্ছে তা তথ্যভিত্তিক নয়।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিদেশে অর্থ পাচারের শনাক্ত হওয়া ঘটনাগুলোয় অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে দেশের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ও ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট তৎপর হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে তারা বিদেশের কাউন্টার পার্টদের যোগাযোগ বাড়িয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হংকং ও কানাডায় ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনা বা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থ পাচারবিষয়ক বেশকিছু মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন ও দুদকে (দুর্নীতি দমন কমিশন) তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের মাত্রা যাই হোক না কেন, পাচারের সম্ভাব্য উৎসগুলো বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি বা অন্য কোনো অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সরকার সক্রিয় রয়েছে। -যুগান্তর

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul