adimage

১৪ অগাস্ট ২০১৮
বিকাল ০৫:০৯, মঙ্গলবার

লজ্জা থাকলে আর কোনোদিন দুর্নীতি করবে না: শেখ হাসিনা

আপডেট  02:39 AM, ফেব্রুয়ারী ০৯ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

লজ্জাথাকলেআরকোনোদিনদুর্নীতিকরবেনা:শেখহাসিনা

পটুয়াখালী, ৯ ফেব্রুয়ারি : লজ্জা থাকলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান ভবিষ্যতে আর দুর্নীতি করবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরিশালে এক জনসভায় খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতিমের টাকা চুরি করে খালেদা ও তারেক রহমান ধরা পড়েছে। আজ রায় হয়েছে। লজ্জা থাকলে তারা আর কোনো দিন দুর্নীতি করবে না। আদালত রায় দিয়েছেন। আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু অন্যায় করলে যে শাস্তি পেতে হয়, সেটিই আজ প্রমাণ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল বিকালে বরিশাল নগরের বঙ্গবন্ধু উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া তার অফিসে বসে বললেন- আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। আগুন দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার গাড়ি পোড়ানো হলো। পাঁচশর কাছাকাছি মানুষকে ২০১৩-১৪-১৫তে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তিন হাজারের ওপর মানুষ পুড়িয়ে আহত করেছে। আজকে তিনি কোথায়? এ সময় যুদ্ধাপরাধের বিচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বলেছিলাম- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করব। আল্লাহর রহমতে করেছি। এ সময় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায়কে আমরা প্রশ্রয় দিই না। মানুষের ওপর অত্যাচার করলে আল্লাহর আরশও কেঁপে ওঠে। যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, অত্যাচার করেছে- তার বিচার এমনই হয়। সেই বিচারই হচ্ছে। তিনি বলেন, লুটপাটকারী, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং এতিমের টাকা যারা লুটে খায়, তাদের স্থান এই বাংলার মাটিতে হবে না। তারা ক্ষমতা আসা মানেই দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়।

সমাবেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের ওয়াদা চাই। হাত তুলে ওয়াদা করুন, নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

এর পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটিশ নাগরিক ফ্রান্সিস লুসি হল্টের হাতে ১৫ বছরের জন্য মাল্টিপল ভিসা ও পাসপোর্ট তুলে দেন। ৮৭ বছর বয়সী মানবদরদি এই নারী মুক্তিযুদ্ধকালে যশোরের একটি হাসপাতালে ৯ মাস যুদ্ধাহতদের সেবা করেছেন। তিনি বর্তমানে বরিশালের অক্সফোর্ড মিশনে অবসরজীবন কাটাচ্ছেন এবং শিশুদের বিনা বেতনে ইংরেজি পড়াচ্ছেন।

দীর্ঘ ছয় বছর পর প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল আগমন ও জনসভাকে ঘিরে গোটা বিভাগে উৎসবমুখর পরিবেশের সূচনা ঘটেছিল। এটি ছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর। এর আগে ২০১২ সালের ২১ মার্চ বরিশাল সফরে এসে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর বহু প্রতীক্ষিত বরিশাল আধুনিক নৌবন্দর উদ্বোধন ও বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন, মেরিন একাডেমি, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং একই স্থানে জনসভায় বক্তৃতা করেন তিনি। দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে মানুষের মধ্যে বিপুল উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়। এ উপলক্ষে বরিশাল নগর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। গোটা বিভাগীয় শহরসহ সব সড়কে আলপনা, ফুল, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি, নৌকার প্রতিকৃতি এবং শতাধিক ছোটবড় সুসজ্জিত তোরণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। জনসভাস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানের মঞ্চের পশ্চিম পাশে নির্মাণ করা হয় প্রতীকী পদ্মা সেতু। মঞ্চের পাশেই ছিল সরকারের উন্নয়ন চিত্রপ্রদর্শনীর ডিজিটাল বিলবোর্ড। এ ছাড়া প্রধান সড়কের দুপাশে শোভা পেয়েছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের তথ্যচিত্রসংবলিত বিভিন্ন আকারের বিলবোর্ড, ব্যানার-ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। জনসভাস্থল ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।

জনসভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। বরিশাল ছাড়াও পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হেঁটে জনসভায় যোগ দেন তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। দুপুর নাগাদ মানুষের ভিড় জনসভাস্থল ছাড়িয়ে আশপাশের কয়েক বর্গকিলোমিটার এলাকা ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার সুযোগ করে দিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক মাইক বসানো হয়। এ ছাড়া বিশাল প্রজেক্টরের সাহায্যে জনসভার কার্যক্রম প্রচার করা হয়। এসব মাইক ও প্রজেক্টরের সামনেও ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়।

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রমুখ।

শেখ হাসিনা সেনানিবাসের উদ্বোধন

গতকাল দুপুরে পটুয়াখালীর লেবুখালীতে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আলোকে আধুনিক ও যুগোপযোগী সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশপ্রেমিক, পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বমানের বাহিনীতে উন্নীত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে এ ডিভিশনটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টায় হেলিকপ্টারযোগে নবনির্মিত শেখ হাসিনা সেনানিবাসে উপস্থিত হলে সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক ও ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আলম তাকে অভ্যর্থনা জানান। সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে প্রধানমন্ত্রী ৭ পদাতিক ডিভিশনসহ ১১টি ইউনিটের পতাকা উত্তোলন ও এমপি গেটের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে নতুন সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সেনানিবাসের অভ্যন্তরে ১৫টি উন্নয়নকাজ ও পটুয়াখালী জেলায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দীন আহমেদ, বিমানবাহিনীপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, সংসদ সদস্য, সাবেক সেনাবাহিনীপ্রধান, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের সমাবেশে যোগদানের উদ্দেশ্যে বেলা ৩টায় সেনানিবাস ত্যাগ করেন। -আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul