adimage

১৮ Jun ২০১৮
বিকাল ০৭:৩৭, সোমবার

বিএনপি ভাঙেনি, আরো শক্তিশালী হয়েছে : মির্জা ফখরুল

আপডেট  03:49 PM, ফেব্রুয়ারী ২৩ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

বিএনপিভাঙেনি,আরোশক্তিশালীহয়েছে:মির্জাফখরুল

ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি : রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশন মিলনায়তনে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশন মিলনায়তনে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

অতীতের চেয়ে বিএনপি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, তাদের অনেক আশা ছিল যে, দেশনেত্রীকে আটক করলেই বোধ হয় বিএনপি ভেঙে যাবে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, বিএনপি ভাঙেনি, বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে। আমাদের তরুণ নেতা যিনি গঠনতন্ত্র মতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা সব নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার নেতৃত্বে দলকে পরিচালনা করছি। এখন বিএনপি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ ও আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। আজ শুক্রবার বিকেলে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সিটিটিউশন মিলনায়তনে ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি।

সভার শেষ দিকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ‘কারাবন্দি খালেদা জিয়া’কে নিয়ে এক গান পরিবেশন করেন।

বর্তমান অবস্থাকে বদলে দেয়ার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা যে গণতন্ত্র অর্জন করেছিলাম সেই গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণভাবে লুণ্ঠন করা হয়েছে, অপহৃত করা হয়েছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সব অধিকার হারা হয়েছে তাদেরকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে মুক্তদেশে সুন্দরভাবে বাস করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই অবস্থা আমাদের বদলে দিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সহ প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিমের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারমান মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এনাম আহমেদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, গোলাম আকবর খন্দকার, মনিরুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, ঢাকা মহানগরীর বজলুল বাসিত আঞ্জু, কাজী আবুল বাশার প্রমুখ। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির নেতা খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, বেবী নাজনীন, হেলেন জেরিন খান, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুহাম্মদ আব্দুল আউয়াল খান, আমিনুল হক, রিয়াজ উদ্দিন নসু, আনোয়ার হোসাইন, এম মালেক, রফিক সিকদার, সালাউদ্দিন ভুইয়া শিশির, শেখ মো: শামিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, যুবদলের মাহবুবুল হাসান পিঙ্কু, ছাত্রদলের আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু সহ মহিলা দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল, ছাত্রদলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দলের চেয়ারপারসনের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের যে মানুষটি গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি সংগ্রাম করলেন। যে নেত্রী অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করে নিয়ে আসলেন সেই নেত্রীকে কারাগারের অন্ধকার প্রকৌষ্ঠে দিন কাটাতে হচ্ছে। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে হেলিকপ্টারে গিয়ে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন সরকারি টাকা খরচ করে। আর কারাগারের অন্ধকার প্রকৌষ্ঠে দিন কাটাতে হচ্ছে গণতন্ত্রের নেত্রীকে। এটা কখনো গণতন্ত্র হতে পারে না। এটা সমান মাঠ হতে পারে না।

সারাদেশে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর ওপর সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতন-গ্রেফতারের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান-সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত এমন কোনো নেতা-কর্মী নেই যার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়নি। অসংখ্য নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে খুন করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য আমরা এই সংগ্রাম করছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আজকে তিনি কারাগারে। আমরা যারা বাইরে আছি আমাদের একমাত্র লক্ষ হবে নিজেদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে সব শক্তি সংগঠিত করে আমাদেরকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই অবস্থা চলতে পারে না। এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। দেশনেত্রী কারাগারে যাবার আগে বলেছিলেন- তোমরা আন্দোলন করবে, সেই আন্দোলন হবে অবশ্যই শান্তিপূর্ণ। ধৈর্যের সাথে মোকাবিলা করে বিজয় অর্জন করতে হবে।

বিএনপিকে ভাঙা প্রসঙ্গে সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের একটা আশা ছিল দেশনেত্রীকে আটক করতে পারলে বিএনপি ভেঙে যাবে। কিন্তু বিএনপি ভাঙেনি, বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

দেশের চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের পরীক্ষার সময় এত পরীক্ষা জাতিকে কখনো দিতে হয়নি। আজকে আমরা যে সংগ্রাম করছি এটা বিএনপির জন্য সংগ্রাম নয়, খালেদা জিয়ার জন্য সংগ্রাম নয় এই সংগ্রাম দেশকে রক্ষা করার সংগ্রাম গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম। এদেশের স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, আমরা জানি তারা আমাদেরকে অনেক উস্কানি দিবে ফাঁদ পাতবে। কোনো ফাঁদে আমরা পা না দেই। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং একই সাথে গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো ইনশাল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার দেশনেত্রীকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে শাস্তি দিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চেয়েছে। তিনি কারাগারে যাবার পরে তার ভাবমূর্তি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে দেশের মানুষ তাকে দেশনেত্রী বানিয়েছিলো, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি এখন দেশমাতায় পরিণত হয়েছেন, জাতীয় নেত্রী থেকে এখন আন্তর্জাতিক নেত্রীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। অতএব সরকারের সব খায়েশ তা সম্পূর্ণ বুমেরাং হয়ে গেছে। আমরা বলতে চাই, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন। এরপর আমাদের বড় আন্দোলন সামনে আছে। দেশ একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার কায়েম করে সেই সরকারের অধীনে দেশনেত্রীকে নিয়ে বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে সামনে বড় লড়াইয়ে সকলকে অংশ নিতে আমি আহবান জানাচ্ছি।

মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার বেগম জিয়াকে বন্দি করে আবারো একদলীয় নির্বাচনের কথা ভাবছে। কিন্তু খালেদা জিয়া আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্তি পাবেন এবং আমাদের মাঝে আবারো নেতৃত্ব দিবেন। আমাদেরকে আজো গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। অথচ যারা ৭৫ সালে গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল করল। তারাই আজকে বেগম জিয়াকে বন্দি করে নির্বাচনের জন্য ভোট চাইছে। তাহলে বুঝেন গণতন্ত্রের কি অবস্থা!

মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপিকে ভাঙা নিয়ে আওয়ামী লীগের আশায় গুড়ে বালি। তাদের উসকানিতে পা দিবেন না। বরং তাদের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হোন। কেননা বিএনপি আগের চেয়ে আরো বেশি শক্তিশালী। ড. মঈন খান বলেন, আমরা খালেদা জিয়াকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই মুক্ত করে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul