adimage

১৮ Jun ২০১৮
বিকাল ০৭:৩৮, সোমবার

কৃষি থেকে আমরা শিল্পে উন্নীত হবো: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট  12:51 PM, মার্চ ০১ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

কৃষিথেকেআমরাশিল্পেউন্নীতহবো:প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১ মার্চ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘কৃষি আমাদের জীবন এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।  কৃষি থেকেই ধীরে ধীরে আমরা শিল্পে উন্নীত হবো, কিন্তু কৃষিকে বাদ দিয়ে নয়।  কারণ, কৃষিই তো আমার কাঁচামালের যোগানটা দেবে। আর আমাদের খাদ্যের যোগান দেবে।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ বিতরণকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। ‘৯৮ সালের বন্যায় দেশের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। বিশ্বব্যাংক বলেছিল মানুষ খাবার না পেয়ে মারা যাবে। কিন্তু একটা মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। ‘৯৮ সালেই ঘাটতি পূরণ করে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। এখন আমরা ধান উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে।’

আধুনিক পদ্ধতিতে চাষবাস শুরু করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষিকে আমরা যান্ত্রিকীকরণ করছি। এখন হাত দিয়ে চারা রোপন করা লাগবে না আমরা মেশিন দিয়ে চারা রোপন করতে পারবো।  জমি চাষ করতে পারবো, ফসল কাটতে পারবো, ফসলকে আলাদা করতে পারবো-সবই করা যাবে মেশিন দিয়ে।  বিশ্বে গবেষণার মাধ্যমে এগুলো আস্তে আস্তে উঠে আসছে, আমরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়েদের আমরা লেখাপড়া শেখাচ্ছি। এখন লেখাপড়া শেখার পর অনেকে আর জমিতে কাজ করতে যেতে চাইছে না।  আমি বলব আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে কৃষিকাজে অন্তত আন্তরিক হয় সেজন্য তাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কৃষির ব্যবহারিক শিক্ষাটা যেন থাকে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি বিশেষভাবে আহবান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, মাটিতে হাত দিয়ে চারা রোপন করলে বা কাজ করলে লজ্জার কিছু নেই। বরং নিজের হাতে বাগান করলে সেই বাগানে যখন একটা ফল হয় সেটা ছিঁড়ে খেতে আরও বেশি গর্ববোধ হয়।

অনেকেই ছাদের ওপর বাগান করছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্রাম-গঞ্জ পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে এই কাজে উৎসাহিত করা উচিত।  প্রত্যেকে অন্তত নিজের ঘরেও যদি বাগান করে বা নিজের যেসব জমি আছে সেখানে বাগান করেন অথবা অব্যবহৃত যেসব জমি পড়ে আছে কো-অপারেটিভের মাধ্যমে সেসব যদি চাষ করা যায় তাহলে আমাদের খাদ্যের অভাবতো হবেই না, উপরন্তুু আমরা বিশ্বের অনেক দেশের মানুষকে খাদ্য সাহায্য দিতে পারবো, সেই সক্ষমতা আমরা অর্জন করবো।’

অনুষ্ঠানে ৩২ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে বঙ্গবন্ধু কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।  এর মধ্যে পাঁচটি স্বর্ণ, নয়টি রোপ্য এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়।  একই সঙ্গে পুরষ্কারপ্রাপ্তদের নগদ এক লাখ টাকা, ৫০ হাজার টাকা এবং ২৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়।

পুরস্কারের ক্যাটাগরিতে ক্রপ এগ্রিকালচার, মৎস, প্রাণিসম্পদ ও বনায়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়ন সচিব মইনুদ্দিন আব্দুল্লাহ স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং পদক বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul