adimage

২১ জানুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৫:০৪, রবিবার

সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে: খালেদা জিয়া

আপডেট  12:05 PM, ডিসেম্বর ২৬ ২০১৭   Posted in : রাজনীতি    

সর্বাত্মকপ্রস্তুতিনিতেহবে:খালেদাজিয়া

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর : আগামী দিনে নির্বাচনকে সামনে রেখে যে কোনও আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতাকর্মীসহ দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গতকাল রবিবার বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনো সম্ভব নয়। সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। দেশে গণতন্ত্র নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই। বিএনপির মাধ্যমে আবারো দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে।

সমাবেশের আয়োজন করে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজীজ উলফাত। সমাবেশ পরিচালনা করেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান।

বেলা ১২টার এই সমাবেশে উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর। বিকেলে কোরআন তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশে শুরম্ন হয়। সমাবেশে প্রায় একঘন্টা বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সম্মেলনে ইসতিয়াক আজিজ ইলফাত ও সাদেক আহমেদ খান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুননির্বাচিত করা হয়।

খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। অথচ এই সরকার সব সময় সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু তারাই আবার সংবিধান লঙ্ঘন করে চলছেন।

তিনি বলেন, এই সরকার পাকিস্তানি কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। এই অবস্থায় দেশে নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হয় না। দেশের মানুষ একক নির্বাচন চায় না। দেশবাসী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন চায়।

খালেদা জিয়া বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন এটা নিয়ে সবসময় আওয়ামী লীগ হীনমন্যতায় ভোগে। তারা সত্যটাকে গোপন করে। শহীদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতাপর ঘোষণা দিয়েছেন দেশের মানুষ এটা জানে। তার ঘোষণায় সাড়া দিয়েই সারাদেশে মানুষ, সিপাহীরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। এজন্যই মুক্তিযোদ্ধাদের ভয় পায় এই সরকার। তারা মানুষকে সম্মান দিতে জানে না। দেশের মানুষও এখন আর আওয়ামী লীগকে সম্মান করে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মাঠে গিয়ে ভোট চাচ্ছে আর আমরা ঘরে বসেও সমাবেশ করতে পারব না এটাতো কখনও হতে পারে না। সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে। স্বাধীন দেশ আওয়ামী লীগের জন্য আজকে আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ। কাজেই আওয়ামী লীগের শৃপখলমুক্ত হতে হবে।

খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের মাধ্যমেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র এসেছিল, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। আবারও বিএনপির মাধ্যমে এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বিএনপি দাওয়াত পায় না। সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদেরও এসব প্রেগ্রামে দাওয়াত দেয়া হয় না। বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীককে দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে ইবরাহিম সাহেব তাকে ১৬ ডিসেম্বর প্যারেড গ্রাউন্ডে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি দাওয়াত পাওয়ার পরও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

সারাদেশে গুম-খুন, হত্যা পরিস্থিতিসহ নানা ইস্যুতে সরকারকে দায় করে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিকে তার এজলাসে আর বসতে দেয়া হলো না। বাড়িতেও বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তার অপরাধ এ সরকারের অপরাধ নিয়ে তিনি সত্য কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে সংসদ তা অকার্যকর সংসদ। এই সংসদে সত্যিকারের বিরোধী দল নেই। কোনো জবাবদিহিতা নেই। এই সত্য কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি। এজন্যই প্রধান বিচারপতিকে দেশের বাইরে যেতে বাধ্য করা হলো। প্রধান বিচারপতি দেশে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে জোর করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, সচিবালয়ে রাতের অন্ধকারে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ভালো ভালো অফিসারদের দিনের পর দিন বছরের পর বছর ওএসডি করে রাখা হচ্ছে। এক সময় তাদেরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। একই অবস্থা পুলিশেও।

তিনি ক্ষমতাসীন দল ‘লুটপাট’ করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এবং আগামী দিনে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কি করতে চায় এর একটি রূপরেখা ‘ভিশন-২০৩০’ কিছুটা মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড আব্দুল মঈন খান, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরীক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুলতাহ আল নোমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন এবং মুক্তিযোদ্ধা দলের মিজানুর রহমান খান, নজরম্নল ইসলাম খোকা, আবদুল মালেক খান, সামাদ মোলতা প্রমুখ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul