adimage

২০ জানুয়ারী ২০১৮
বিকাল ০১:০৬, শনিবার

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়নি : আইনজীবী

আপডেট  12:38 PM, ডিসেম্বর ২৭ ২০১৭   Posted in : রাজনীতি    

খালেদাজিয়ারবিরুদ্ধেঅভিযোগপ্রমাণহয়নি:আইনজীবী

ঢাকা, ২৭ ডিসেম্বর : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এ মামলা থেকে তাকে খালাস দিতে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে।


আজ বুধবার খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্ততর্ক উপস্থাপন শেষে তার আইনজীবী আবদুর রেজাক খান এ কথা জানান।


রেজ্জাক খান বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ সম্বন্ধে কোনো সাক্ষী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে বলেননি। মোস্তাফিজুর রহমান এ মামলার বিষয়বস্তুর সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। মামলার বাদী ছাড়া আর কোনো সাক্ষী বলেননি যে, খালেদা জিয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।


খালেদা জিয়া কুয়েতের টাকা রাখার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, এ অভিযোগ প্রমাণশূন্য। শুধু তাই নয়, তার (খালেদা জিয়া) বিরুদ্ধে লিখিত ও মৌখিক কোনো প্রমাণও নেই।


তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে কুয়েত থেকে আসা টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এর কোনো প্রমাণ নেই। মামলার কোনো সাক্ষীও এ বিষয়ে কিছু বলেননি।


রেজাক খান আদালতকে বলেন, সেনা সমর্থিত সরকারের সময় এ মামলা হয়। এ সরকারের আমলেও তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা দেওয়া হয়েছে। মামলার ভারে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে জনসম্মুখে হেয় করার জন্য মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। যা বিচারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।


যুক্ততর্ক উপস্থাপন শেষে রেজাক খান সাংবাদিকদের বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ নেই।


রেজাক খানের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মামলার আইনী বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি আদালতে বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে চোর বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য। আগামীকালও তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।


যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়ার বিপক্ষে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। খালেদা জিয়া এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। এ মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ থেকে প্রমাণ হয়েছে খালেদা জিয়ার নির্দোষ। তাকে খালাস দেয়ার আবেদন জানিয়েছি। কোনো সাক্ষী তার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেনি। কোনো এভিডেন্সেও আসেনি। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়ার চরিত্র হনন করার জন্য দুরভীসন্ধীমূলকভাবে এ মামলা দিয়েছে।


আজ বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়া আদালতে আসেন। মাঝখানে ১৫ মিনিটের বিরতি দিয়ে বেলা ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ শুনানি গ্রহণ করেন।


আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন, প্রবীণ আইনবিদ জমির উদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মেহাম্মদ আলী, আবদুর রেজ্জাক খান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, রাগীব রউফ চৌধুরী প্রমুখ।


শুনানিকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মীর্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, খায়রুল কবীর খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, আফরোজা আব্বাস, বরকত উল্লা বুলু প্রমুখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


গত ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল যুক্তি উপস্থাপন করেন।


মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।


জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।


এ মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও অপর আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul