adimage

২৩ এপ্রিল ২০১৮
বিকাল ০৭:৪৩, সোমবার

৫ জানুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা

আপডেট  07:03 PM, জানুয়ারী ০৩ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

৫জানুয়ারিঘিরেউত্তেজনা

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি : ৫ জানুয়ারি ঘিরে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি গত তিন বছরের মতো দিনটিকে ঘিরে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করতে সারা দেশে র্যালি ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকারবিরোধী দল বিএনপি। পাল্টাপাল্টি এমন কর্মসূচি নিয়ে নতুন বছরের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি। দুই দলের এমন কর্মসূচিতে যে কোনো ধরনের সংঘাতের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪র্থ বর্ষপূর্তির দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে উদযাপন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ৫ জানুয়ারি বিএনপিহীন নির্বাচনে জয়ের পর থেকে প্রতিবছর দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, দিনটি উপলক্ষে দলের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে র্যালি ও সমাবেশ করবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর বনানী পূজা মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় র্যালি ও সমাবেশ হবে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানাগুলোয় ৫ জানুয়ারির অনুরূপ কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশব্যাপী এই কর্মসূচিতেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি এক বিবৃতিতে গতকাল বুধবার ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্যও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, ৫ জানুয়ারির কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শনিবার রাজধানীর শিল্পকলায় বিএনপি জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের খ-চিত্র প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সেল। এতে অগ্নিসন্ত্রাসে হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে দশম জাতীয় নির্বাচনের চতুর্থবার্ষিকীতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এ উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশসহ সারাদেশের জেলা-মহানগর এবং উপজেলায় কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দলটি এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। ৫ জানুয়ারির কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সিনিয়র নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। সমাবেশের অনুমতি না পেলে প্রতিবাদে রাজধানীর থানা-ওয়ার্ডগুলোয় কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে পারে। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে করা হতে পারে একটি সংবাদ সম্মেলন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একতরফা। এখানে ১৫৪ আসনে কোনো ভোট হয়নি। যেসব আসনে ভোট হয়েছে সেখানেও শতকরা ৫ ভাগ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যায়নি। এটা কোনো নির্বাচনই নয়। এটা হচ্ছে গণতন্ত্র হত্যার দিন। এবারও দিনটিতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এমন কোনো কর্মসূচি করব না, যেন করে সাধারণ মানুষের কষ্টের কারণ হয়।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে সংঘাত এড়িয়ে ঢাকার বাইরেও ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে এ কর্মসূচির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি পুলিশি অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা মহানগরীতে কালো পতাকা হাতে বিএনপি সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার নেতারা।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন একটি বিতর্কিত নির্বাচন। ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা এ নির্বাচন করেছিল আওয়ামী লীগ। দেশে-বিদেশে কেউই ওই নির্বাচন মেনে নেয়নি। সরকার যতই প্রচার করুক ওই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশেগুলোর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পাল্টায়নি। বিএনপি বলছে, এ কর্মসূচি পালিত হবে শান্তিপূর্ণভাবে। তবে সরকারি দল যদি এতে বাদসাধে, পরিস্থিতির দায় তাদেরই নিতে হবে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে বিএনপি আবেদন করেছে। এখনো বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারলাম সেখানে ৫ জানুয়ারি একটি অখ্যাত ও অজানা একটি দলকে নাকি অনেক আগেই জনসভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটা সরকারের হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ। এটি সরকারের হিংসাপরায়ণ নীতি।

রিজভী বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই- সরকার বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতি সম্মান জানাবে। সমাবেশের অনুমতি দিয়ে বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ করে দেবে। যদি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়া হয় তা হলে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদত চৌধুরী বলেছেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করব। সমাবেশ করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। পুলিশ অনুমতি না দিলেও করব।-আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul