adimage

২৪ মে ২০১৮
বিকাল ০৯:৫৮, বৃহস্পতিবার

ক্ষমতার বাঁকা পথ খোঁজে সুশীলরা : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট  08:38 PM, জানুয়ারী ২৪ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

ক্ষমতারবাঁকাপথখোঁজেসুশীলরা:প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সুশীলরা ক্ষমতার বাঁকা পথ খোঁজে। বুধবার জাতীয় সংসদে  প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য  ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির (সংরক্ষিত আসন-৩০) এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সুশীলদের আচরণ দেখে গাধার কথা মনে পড়ে যায়, মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা আমাদের দেশের জনগণের কাছে যেতে পারে না। ভোটের রাজনীতিতে তারা অচল। ভোটের রাজনীতি করতে হলে জনগণের ভোট পেতে হয়। ভোট পেয়ে এই সংসদে বসতে হয় ও সরকার গঠন করতে হয়, যদি আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অনুসরণ করতে চাই। কিন্তু এই একটা শ্রেণি আমাদের আছে, তারা কিন্তু জনগণের কাছে যেতে চায় না। তারা ক্ষমতার বাঁকা পথ খোঁজে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের গতিধারায় এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্ব স্বীকৃতি দিচ্ছে। এটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্য- বাংলাদেশের কিছু মানুষ তারা এই উন্নয়নটা চোখে দেখে না। বাংলায় তো একটা গান আছে- হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ। যারা চোখ থাকিতে অন্ধ, কান থাকতে বধির, তাদের তো হাজার বলেও দেখানোও যাবে না, শোনানোও যাবে না। যারা দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, তাদের তো আমাদের বোঝানোর কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, আমার একটাই চিন্তা- বাংলাদেশের মানুষ কী পেল, তারা ভালো আছে কি না, তারা খুশি আছে কি না। তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছি কি না- এটাই আমাদের বিষয়। আমি জানি না, এই সুশীলের ব্যাখ্যাটা কী, অর্থটা কী। কোন তত্ত্বের ভিত্তিতে তারা সুশীল সেটা প্রশ্ন হয়ে দেখা দেয়, যখন তারা কোনো কিছু দেখেন না, শোনেনও না। তারা সুশীল না অসুশীল, আমি জানি না। তবে একটা শ্রেণি আছে, যাদের খুব আকাঙ্ক্ষা ক্ষমতায় যাবার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ ধরনের কিছু মানুষ ক্ষমতায় যাওয়ার পথ পায়। এই ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য কিছু মানুষ খুঁজে নেয়, যারা সব সময় নিজেদের এসব অশুভ শক্তির কাছে বিক্রি করতে প্রস্তুত। যেমন, আমরা রাস্তার পাসে ডাস্টবিনে লেখা দেখি- ‘ইউজ মি’। তারাও রাজনীতি বা ক্ষমতার ক্ষেত্রে বুকে ওরকম একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই বসে থাকে ‘ইউজ মি’, মানে আমাকে ব্যবহার করুন। তারা সব সময় এরকম একটা আশায় বসে থাকে। তাদের এই যে না দেখাটাও কিন্তু ওই ধরনের একটা অসুস্থতা। কারণ, তাদের দৃষ্টিটা রয়ে গেছে ওই অবৈধ ক্ষমতার দিকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্কাসের একটি সুন্দরী মেয়েকে বারবার দড়ি দিয়ে ঝোলানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না তার ইন্সট্রাকটর। এরপর তিনি মেয়েটির পাশে রাখা একটি অথর্ব গাধাকে দেখিয়ে বলে এরপর যদি তুমি না পার তাহলে গাধার সঙ্গে বিয়ে দেব। এ কথা শুনে গাধা আশায় আশায় থাকে কখন দড়ি ছিলে ওই মেয়ে পড়ে যাবে। আর গাধা বিয়ে করবে। আমাদের দেশের সুশীল সমাজের অবস্থা এরকম। তবে আমি তাদের গাধা বলছি না। কারণ, তারা সবাই জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষিত। তবে তাদের আচরণগুলো যখন দেখি, আর ওই যে কবে দড়ি ছিঁড়বে, কবে কপাল খুলবে, ওই আশায় যারা বসে থাকে স্বাভাবিকভাবে তখন তো একটু গাধার কথা মনে পড়ে।

তিনি আরো বলেন, বিরোধী দল গঠনমূলক বক্তব্য রেখেছে, আলোচনা করছে। অন্তত বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন যে খিস্তি-খেউর ছিল, যেসব আলাপ-আলোচনা হতো, কান পেতে শোনা যেত না। এখন সেসব নেই। অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে একটি গঠনমূলক আলোচনা করছে বিরোধী দল। সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul