adimage

২৮ মে ২০১৮
সকাল ০৯:০৮, সোমবার

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেট  03:11 PM, জানুয়ারী ২৫ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

জিয়াঅরফানেজট্রাস্টমামলাররায়৮ফেব্রুয়ারি

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি।

রাজধানীর বকশিবাজারে ঢাকা আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন।

আজ এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

এর আগে আজ বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া।

আজ এ মামলার দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাদের আইনজীবী আহসান উল্লাহ। তাকে সহায়তা করেন সৈয়দ মিজানুর রহমান।

তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

তার বক্তব্য শেষে খালেদা জিয়ার পক্ষে আবার রিপ্লাই বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনজীবী রেজাক খান।

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।

এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেছেন একই আদালত।

এদিকে, আজ আদালত মুলতবী ঘোষণার পর বিকাল ৩টা ২৭ মিনিটের দিকে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া।

তিনি আদালত থেকে চলে যাওয়ার পর মিডিয়ার সাথে কথা বলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য আ: রেজাক খান। তিনি বলেন, এ মামলাটি একটি সারবর্তাহীন মামলা। রাষ্ট্রপক্ষ কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি। কোনো এভিডেন্সেই মামলাটি প্রমাণিত হয়নি। কুয়েত থেকে আসা অর্থে খালেদা জিয়ার কোনো সংশ্লিষ্টতাও প্রমাণ হয়নি। তাই তিনি এ মামলার সব আসামিকেই সসম্মানে বেকসুর খালাস দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানান।

অপরদিকে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, তারা ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে এ মামলার আসামিদের দোষ প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই তারা আদালতে কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে এ আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রার্থনা করেছেন।

গত ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। এ দিন রাষ্ট্রপক্ষ খালেদা জিয়াসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর ২০, ২১, ২৬, ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর এবং ৩ , ৪, ১০ ও ১১ জানুয়ারি খালেদার পক্ষে যুক্ত উপস্থাপন করেন তার আইনজীবীরা। এরপর ১৬ জানুয়ারি শেষ হয় তার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় একটি মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ ছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় আরও একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর সাবেক নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul