adimage

২৮ মে ২০১৮
বিকাল ০১:৪৩, সোমবার

অভিযোগ প্রমাণ হলে যা হতে পারে

আপডেট  07:41 PM, জানুয়ারী ২৫ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

অভিযোগপ্রমাণহলেযাহতেপারে

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করবেন আদালত। এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন আসামি রয়েছেন। রায় ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণ হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এ মামলায় কত বছর দণ্ড হতে পারে, দণ্ডিত হলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে কিনা- এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।

জানা গেছে, আইনের যে ধারায় এ মামলা হয়েছে, তাতে দোষীসাব্যস্ত হলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আইনে সর্বনিম্ন দণ্ড কত হতে পারে তা বলা নেই, যা আদালতে বিবেচনার ওপর নির্ভর করে বলেও জানা গেছে। তবে এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে এবং বিচারিক আদালতে দণ্ডিত হলে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কী পারবেন না- তা সুস্পষ্ট নয়।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের (২)(ঘ) উপ-অনুচ্ছেদে সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা আছে। এ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষীসাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’ তা হলে তিনি নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ কতটুকু সে ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হলে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি সাংবিধানিক বার (বাধা) রয়েছে। ন্যূনতম দুই বছর দণ্ডপ্রাপ্ত হলে এবং তার পর ৫ বছর অতিবাহিত না হলে সে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।’

হাইকোর্ট যদি সাজা স্থগিত করে এবং আসামিকে জামিন দেয়, সে ক্ষেত্রে পারবে কিনা জানতে চাইলে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাজা স্থগিত করলে তো সাজা বাতিল হলো না। সাজা খাটা হলো না। সে ক্ষেত্রে পারবে না।’

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত থেকে অনুমতি নিয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এ বিষয়টি নজরে আনা হলে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, যদি উচ্চ আদালতে আবেদন করে এবং আবেদনের যুক্তি দেখে আদালত সন্তুষ্টিসাপেক্ষে অনুমতি দেন, সে ক্ষেত্রে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

ড. শাহদীন মালিক এ বিষয়ে বলেন, আমি যতদূর জানি, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এখনো সেটেল হয়নি। কোনো রায়ে নেই, আবার আইনও হয়নি। অনেক আগে একটি রায়ে বিচারপতি জয়নাল আবেদীন বলেছিলেন, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। আর বিচারপতি খায়রুল হক বলেছেন পারবে না। এ বিষয়টির সুরাহা হওয়ার জন্য তৃতীয় কোনো বেঞ্চে যায়নি।

ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও লুৎফুজ্জামান বাবরের বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের ব্যাপারে আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়টি এখনো সেটেল হয়নি। এ বিষয়টি পুরো অস্পষ্ট রয়েছে।

জানা যায়, মামলাটিতে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার অপর আসামিরা হলেন সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। আসামিদের মধ্যে খালেদা জিয়া ও ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী হিসেবে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। অপর আসামি তারেক রহমান, সালিমুল হক কামাল, শরফুদ্দিন আহমেদ ও মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অপরাধের সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী, একজন ব্যাংকার, বণিক আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি অথবা প্রতিনিধি হিসেবে কোনো প্রকার সম্পত্তি বা সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধজনক বিশ^াস ভঙ্গ করে, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ড যার মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে, দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

অন্যদিকে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় বলা হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী কোনো আর্থিক সম্পদ বা সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক অসদাচরণ করে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে তবে সেই ব্যক্তি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং উক্ত আর্থিক সম্পদ বা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ হবে।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয় আসামির সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে এবং অর্থদণ্ড হবে। অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী হিসেবে খালেদা জিয়া এবং কামাল উদ্দিন সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা হিসেবে অর্থদণ্ডও দণ্ড হতে পারে। এই ধারায় আদালত কারাদণ্ড না দিয়ে শুধু জরিমানা দণ্ডও করতে পারেন। কেননা এই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে উভয় ধারায়ই সর্বনিম্ন দণ্ড কত হবে উল্লেখ না থাকায় তা আদালতে ইচ্ছাধীন ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। -আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul