adimage

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
সকাল ০৭:৫৮, শনিবার

রায় সামনে রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা

আপডেট  08:35 PM, জানুয়ারী ২৬ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

রায়সামনেরেখেসর্বোচ্চসতর্কতা

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক পুলিশ-র‌্যাব। এরই মধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিও। অতীতে যারা জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সংশ্নিষ্ট ছিলেন তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দু'একদিনের মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে ঢাকায় মাসখানেক আগে থেকেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা অত্যন্ত পেশাদার। সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি রয়েছে। রায় ঘিরে কেউ ভাংচুর বা নৈরাজ্যের চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান। রায়ের পর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ যে-ই করুক না কেন তার শাস্তি হবেই।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ রায়কে সামনে রেখে আজ শনিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া কয়েকদিন ধরেই রায় ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এতে গরম হচ্ছে রাজনীতির মাঠ।

গতকাল শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট

দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নেতিবাচক রায় হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিএনপি ওই রায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি দিক বা না দিক, কিছু যে ঘটবে না, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।

গতকাল রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। দেশে আবার কোনো জ্বালাও-পোড়াও হলে তাতে বিএনপিই পুড়ে 'ছারখার হয়ে যাবে' বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, গতকাল মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক বলেন, রায় আদালত দেবেন। আদালত কারও পক্ষে বা বিপক্ষে রায় দেন না। এতদিন যে সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করা হয়েছে তার ভিত্তিতেই রায় হবে। রায় কেউ না মানলে তারা উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া আছে। বিএনপি দায়িত্বশীল একটি দল। রায় তারা মেনে নিতে না পারলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে। কিন্তু দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়- এমন কিছু তারা করবে না বলে বিশ্বাস করি। তারপরও পুলিশের প্রস্তুতি থাকবে। কেউ যদি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। কেউ যদি কোনো অজুহাতে আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে দলমত নির্বিশেষে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা ছক সাজাতে মাসখানেক আগে থেকেই নানাভাবে কাজ করছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (গোপনীয়) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রায় ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কেউ বেআইনি কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, জননিরাপত্তায় নির্বিঘ্ন পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করেছে র‌্যাব। এবার তার ব্যত্যয় হবে না।

পুলিশের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে যে কোনো নৈরাজ্য ঠেকাতে আগাম নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে রাজধানীর ৪৯টি থানার ওসি ও সংশ্নিষ্ট বিভাগের ডিসিদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজ নিজ এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে অতীতে নাশকতার মামলা ছিল তাদের সর্বশেষ অবস্থার ওপর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এ ধরনের মামলার কোনো আসামি জামিনে থাকলে তিনি বর্তমানে কোথায় রয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

সংশ্নিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ২০১৩-১৪ সালে নির্বাচনের আগে-পরে দেশের যেসব এলাকায় ব্যাপক নৈরাজ্য ও ভাংচুর হয়েছিল সেসব এলাকায় থাকবে বাড়তি সতর্কতা। সেখানকার মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে দু'একদিনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে পুলিশ সদর দপ্তর। তবে এরই মধ্যে তাদের 'চোখ-কান খোলা' রাখতে বলা হয়েছে। যাতে কেউ কোনো ধরনের নাশকতা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

ঢাকার বাইরের একাধিক জেলার পুলিশ সুপার এ প্রতিবেদককে বলেন, বেআইনি কর্মকাণ্ড ঠেকাতে তাদের সব সময় এক ধরনের প্রস্তুতি থাকে। তবে বিশেষ প্রেক্ষাপটে তা আরও বিস্তৃতভাবে সাজানো হয়।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নানা বিবেচনায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটাই হবে দেশের সাবেক কোনো প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতির বিচারের প্রথম রায়। এ রায়ে তার সাজা হলে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আইন অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছর সাজা হলে তিনি কোনো নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা বলছেন, এ রায়ের ওপর বিএনপির আগামীর রাজনীতির গতিপথ নির্ভর করছে। যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়ত দেশের সার্বিক রাজনীতির অনেক দৃশ্যপট বদলের নিয়ন্ত্রক হতে পারে। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে জনতা টাওয়ার মামলায় চার বছর এবং অবৈধ অস্ত্র আইনে করা মামলায় দশ বছর সাজা হয়েছিল। তিনি প্রায় ছয় বছর সাজা খেটেছিলেন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বিশেষ আদালত ঘিরে কী ধরনের নিরাপত্তা থাকবে, এরই মধ্যে সেই প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে থাকবে কয়েক হাজার পুলিশ-র‌্যাব। এর আগেও বিভিন্ন সময় খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রাজধানীর রমনা থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মোমিনুর রহমান। সূত্র: সমকাল


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul