adimage

২৮ মে ২০১৮
বিকাল ০১:৪৭, সোমবার

খালেদা-তারেক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি

আপডেট  02:08 AM, জানুয়ারী ২৯ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

খালেদা-তারেকছাড়ানির্বাচনেযাবেনাবিএনপি

ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দলটি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপি এ ঘোষণা দিল। ওই মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রবিবার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে উদ্বেগের কথা জানায়। সিইসির কাছে বিএনপি অভিযোগ করেছে, খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন থেকে অন্যায়ভাবে বাইরে রাখার জন্য সরকার ষড়যন্ত্র করছে।

এদিকে ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে ‘অন্যায়ভাবে’ সাজা দেওয়া হলে তাঁর মুক্তির জন্য নয়, সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। গতকাল রাজধানীতে আলাদা অনুষ্ঠানে দলটির একাধিক নেতা এ ঘোষণা দেন।

তা ছাড়া ওই মামলার রায় ঘোষণার পর দলের কৌশল কী হবে তা ঠিক করতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ডেকেছে বিএনপি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৯ বছর আগে দায়ের করা ওই মামলার রায় দেওয়া হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক এই দিন ধার্য করেন।

এই প্রেক্ষাপটে গতকাল সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার জন্য যদি অন্যায়ভাবে চেষ্টা করা হয় তাহলে বিএনপির কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে এটা মূর্খ ছাড়া কেউ ভাববে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ না করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আসলে হয় না। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। সেই অংশগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করার আমরা চক্রান্ত বা অপচেষ্টা দেখছি। একেবারেই কোনো কারণ ছাড়া, কোনো প্রমাণ ছাড়া আমাদের নেত্রীকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের নেতা তারেক রহমান এবং আরো কিছু নিরীহ মানুষকে অভিযুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সে রকম কোনো কিছু হলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের যে আকাঙ্ক্ষা, যে প্রয়োজন সেটা বিঘ্নিত হবে। সে জন্য আমরা আশা করি যে সে রকম কিছু হবে না। আমরা সবাই মিলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারব।’

সিইসি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস দিয়েছেন জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা জানি এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের করার কিছু নেই। সম্ভবত দোয়া করা ছাড়া কিছু করার নেই; কিন্তু একটা জিনিস আমরা আলোচনায় অনুভব করেছি যে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এ রকম কিছু যেন না হয় সে ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, ভাবনা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের রয়েছে। আমরা বলেছি যে সরকারের যে চক্রান্ত দেখছি সেটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে প্রচণ্ড বাধা হবে। সে ব্যাপারে সিইসি একমত যে বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে না।’

সিইসি কোনো আশা দিয়েছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান তাঁরা। এখনো তাঁরা সে বিষয়ে আগ্রহী। আমরাও বলেছি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। যেমন আমরা চাই না আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা আছে কি না—সেটা জানি না। সময়ই বলে দেবে। আমরা আশা করি নৈতিক অবস্থান থেকে নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ভূমিকা নেবে।’

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইসির আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে বিএনপি জানতে চেয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রার্থী দিয়েছিলাম, নির্বাচনে যুক্ত হয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের যেসব কথা আমরা শুনেছি; তারা যে কারণে স্থগিত করা হয়েছে বলছেন সে রকম কারণ নাকি ছিল না। তাহলে নির্বাচন স্থগিত হলো কেন? সাধারণ মানুষ সন্দেহ করে যে সরকার এই নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ভীত হয়ে নানা কৌশলে এই নির্বাচন স্থগিত করেছে। সেই কৌশল থেকে এই প্রক্রিয়াটাকে মুক্ত করার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের যা কিছু করার দরকার করবে বলে আমরা আশা করি।’

তবে তিনি বলেন, ‘এটা আদালতের নির্দেশে বন্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন করেনি। এর পরও আরো নির্বাচন আছে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আমরা এইটুকু মনে করি যে সব নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হবে এবং অংশগ্রহণমূলক হবে। আর যদি কোনো নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয় তাহলে সেটা নির্বাচন নয়। ওটা নির্বাচনের নামে প্রহসন বা খেলা। আমরা খেলা বা প্রহসনে যুক্ত হতে চাই না। আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’

নজরুল ইসলাম খান জানান, মূলত বিএনপির সাংগঠনিক বিষয়ে কিছু নথি জমা দিতে নির্বাচন কমিশনে তাদের এই যাওয়া। বিএনপির যে কাউন্সিল হয়েছে সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, গঠনতন্ত্র সংশোধন আছে, বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আছে। সেই জিনিসগুলোর কপি নির্বাচন কমিশনকে দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা।

বিএনপির ওই প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ ও খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা ৩ ফেব্রুয়ারি : বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা ৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে এই বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। জোটের সঙ্গেও গতকাল বৈঠক করেছেন তিনি।

সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি : রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো রায় হলে যে আন্দোলন হবে, সেটা সরকার পতনের আন্দোলন হবে। আমরা সেই আন্দোলন শুরু করব। আর মুক্তি আমরা দাবি করব না। সরকারের পতন করেই এ দেশে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা যাব। এ দেশের মানুষ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে।’

স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তর শাখার উদ্যোগে সংগঠনটির কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর মুক্তির দাবিতে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছিল।

তবে ওই সভায় মোশাররফ হোসেন আরেকটি কৌশল হিসেবে বলেন, ‘আমরা সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়াকে যদি অন্যায়ভাবে কোনো রায়ের মাধ্যমে জেলের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে বিএনপির সিনিয়র নেতারা সবাই স্বেচ্ছায় কারাবরণে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।’

খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে মামলার রায় তড়িঘড়ি করে দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো প্রহসনের আরেক নির্বাচন করতে খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বানোয়াট ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এখন সেই মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।’

তবে খন্দকার মোশাররফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনারা বৃথা চেষ্টা করছেন, এ দেশে সে রকম নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়া ও বিএনপি ছাড়া এ দেশে নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না।’

স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ান-উল হোসেন রিয়াজের পরিচালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বক্তব্য দেন।

এদিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আরেক আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আপনারা (সরকার) জেল দেবেন, দেন। ভাবছেন আমরা কান্নাকাটি করুম, না। বলে দিতে চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তির আগে আপনাদের (সরকার) পতন ঘটাব। সরকারের পতন হলেই এবার খালেদা জিয়া মুক্ত, সরকারের পতন হলে এবার বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত হবে।’

‘আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ওই আলোচনাসভায় গয়েশ্বর আরো বলেন, ‘সামর্থ্য নেই বলে সরকার বিএনপির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ভয় পায়। ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য গণতন্ত্রকে হত্যা করলে আপনি টিকে থাকতে পারবেন না।’

সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন লাবুর সভাপতিত্বে এই আলোচনাসভায় বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, শাহ নুরুল কবির শাহিন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাসাস নেত্রী শাহরিন ইসলাম শায়লা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আলাদা আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের কাছে বাংলাদেশটির বর্তমান পরিচিত হচ্ছে এটি গুমের দেশ, খুনের দেশ, ক্রসফায়ারের দেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার দেশ। বাংলাদেশের বিশ্ব পরিচিতি হচ্ছে জেল-জুলুম-নির্যাতনের দেশ। এখানে আইনের শাসন নেই। বাংলাদেশের পরিচিতি হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল ও অব্যাহতভাবে ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া।’

এ থেকে উত্তরণে সবাইকে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘সরকার একটা ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করছে যাতে করে মুক্তিকামী মানুষগুলো, গণতান্ত্রিক মানুষগুলো এগিয়ে না আসে। সুধীসমাজ যাতে কথা বলতে না পারে, গণমাধ্যম যাতে সাহস না পায়। সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

বর্তমান সরকারের আমলে নিহত-আহত ১২ নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের শিক্ষাবৃত্তি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং এই আলোচনাসভার আয়োজন করে ‘অর্পণ বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন।

সংগঠনের সভানেত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে এই আলোচনাসভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু বক্তব্য দেন।

শাসকগোষ্ঠী আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায়—ফখরুল : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বিনা ভোটের নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে চায়। তবে তিনি হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসন বজায় রেখে, ভয় দেখিয়ে এ দেশে আর প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেবে না জনগণ।

গতকাল বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফখরুল এসব কথা বলেন। গাজীপুর জেলা বিএনপির কর্মিসভা থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি এ বিবৃতি দেন। সেই সঙ্গে তিনি গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। -কালের কণ্ঠ


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul