adimage

১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
বিকাল ০৩:০৫, রবিবার

রায়ে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার: কাদের

আপডেট  02:30 AM, জানুয়ারী ২৯ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

রায়েহস্তক্ষেপকরবেনাসরকার:কাদের

মুন্সীগঞ্জ, ২৯ জানুয়ারি : বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ে সরকারের কোনো রকম হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বিশেষ জজ আদালতে ঘোষণা করা হবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়। গত বৃহস্পতিবার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, সরকার আদালতকে ব্যবহার করে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করতে চায়।

তবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার বিচার হবে, আমাদের কিছু করার নেই। আমরা এখানে হস্তক্ষেপ করতে যাবো না।’

রবিবার সন্ধ্যায় মু্ন্সিগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

বিচার বিভাগ স্বাধীন উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘আমাদের এমপিরাও দুদকের মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে। দুইজন মন্ত্রী এখনো আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন। আদালতের রায়ে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী এখনো কারাগারে। বিশ্বজিৎ হত্যাকার বিচার হয়েছে। কই আমরা তো কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।’

২০০৮ সালে যখন খালেদা জিয়া, তার ছেলে তারেক রহমান এবং আরও চার জনের বিরুদ্ধে এই মামলা হয়, তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না-সেই কথাটির স্মরণ করিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘মামলাটি তত্ত্বাবধায়ক আমলে দুদক করেছে, সরকার এই মামলা করেনি।’

খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হলে বিএনপির ‘আগুন জ্বালানোর’ হুমকিরও সমালোচনা করেন কাদের। বলেন, ‘যে দল আদালতকে হুমকি দেয় সেই দল ক্ষমতায় আসলে দেশে বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র আর সুশাসন কি থাকবে?’।

বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা এমনও বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাজা ঘোষণা হলে সেই দিনটিতে সরকার পতনের ভিত্তি রচিত হবে।

বিএনপির এই হুমকিতে পা্ত্তাই দিচ্ছেন না কাদের। তিনি বলেন, ‘এই বছর না অই বছর, কবে হবে আন্দোলন, দেখতে দেখতে নয় বছর।’

‘আন্দোলন, এগুলো ফাঁকা আওয়াজ। আষাঢ় মাসে তর্জন গর্জনে কি আর বৃষ্টি হয়?’

বিএনপিকে নিয়ে না ভাবার পরামর্শ দিয়ে আগামী নির্বাচন নিয়ে ভাবতেও নেতা-কর্মীদেরকে পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ নেতা।

কাদেরের এই সফরের দিন পদ্মা সেতুতে উঠেছে দ্বিতীয় স্প্যান। এই সেতু নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘এই পদ্মা নদীর উপর দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর সাথে; একদিন এই পদ্মা নদীর উপর ট্রেনে অথবা সড়ক পথে যেতে যেতে দেখতে পাবো পূর্ণিমার চাঁদ। স্বপ্ন আজ সত্যি হতে চলেছে।’

‘মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ছয় লেনের রাস্তা যাচ্ছে ভাংগা পর্যন্ত, সেনাবাহিনী কাজ শুরু করে দিয়েছে। বাংলাদেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে মুন্সীগঞ্জের উপর দিয়ে যাচ্ছে।’

মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, মুন্সীগঞ্জের সংসদ সদস্য মৃনাল কান্তি দাস, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেছা, সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খান, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শ্রী মুকুল বোস, মোজাফফর হোসেন পল্টু, গাজীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আক্তারউজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান প্রমুখ।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul