adimage

২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
সকাল ১২:১৯, মঙ্গলবার

এখনই সহিংস কর্মসূচি চান না খালেদা জিয়া

আপডেট  01:38 AM, জানুয়ারী ৩১ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

এখনইসহিংসকর্মসূচিচাননাখালেদাজিয়া

ঢাকা, ৩১ জানুয়ারি : রায়ে সাজা হলেও এখনই সহিংস কর্মসূচি চান না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কেন্দ্রীয় নেতাদের এমনটি জানিয়েছেন তিনি। সোমবার রাতে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারাও তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলে যাতে বিভক্তি সৃষ্টি না হয়, সে জন্য কেন্দ্রীয় বিবদমান গ্রুপগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করা হচ্ছে। সোমবার দলের দুই শীর্ষ পর্যায়ের নেতার দ্বন্দ্ব নিরসনে বৈঠক হয়। দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, বৈঠক সফলও হয়েছে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের তারিখ ধার্য আছে। এদিন ঘিরে মাঠের নেতারা কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে সিনিয়র অনেকেই মনে করেন, এখনই কঠোর আন্দোলনের সময় নয়।

সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় অন্যান্য সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান।

জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আমরা আগেও সহিংসতা বা সন্ত্রাসের সঙ্গে ছিলাম না। খালেদা জিয়া এটা সমর্থন করেন না। ক্ষমতাসীনদের আগাম বক্তব্যে মনে হচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ভিত্তিহীন মামলার রায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজা দেওয়া হতে পারে। রায় নেত্রীর বিপক্ষে গেলেও আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শান্তিপূর্ণ ভাষায় প্রতিবাদ জানাতে হবে।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, রায় খালেদা জিয়ার বিপক্ষে গেলে অনেকেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন না। বিষয়টি নিয়ে এখন তারা কাজ করছেন। সবার কাছেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ যেন কিছু না করেন।

এদিকে রায়কে সামনে রেখে ‘গ্রুপিং যার যার, খালেদা জিয়া সবার’ এই স্লোগান নিয়ে বিএনপির সিনিয়র এবং মধ্যম সারির নেতারা ‘মুষ্ঠিবদ্ধঐক্য’ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র নেতারা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের সূত্রে জানা যায়, ঐক্য গড়ার অংশ হিসেবে সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা একত্রে বসেন। এতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একত্রিত হন। এর আগের দিন রবিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ও মো. শাহজাহান নয়াপল্টনে বসেন।

সূত্রে জানা যায়, ওই নেতারা উভয় বৈঠক থেকেই হাসি মুখে বেরিয়ে যান। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারাও বসেন।

বিএনপিতে ঐক্য ফেরানোর উদ্যোক্তা স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, খালেদা জিয়ার প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। হ্যাঁ আমরা বৈঠক করেছি- এই বৈঠক হয়েছে চেয়ারপারসনের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে। আমার জানা মতে আমাদের কারো মধ্যে কোনো বিভেদ আছে- এ কথা কেউ বলতে পারবে না। এটা হচ্ছে মানুষের ধারণাপ্রসূত চিন্তা। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুষ্ঠিবদ্ধভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ।

এদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমরা বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শনে’ সভা করার জন্য প্রয়োজনীয় হল ভাড়া বুকিং দিয়েছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সংস্কারের কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করেছে। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক চাপের কারণেই তারা হল বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।

বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা, বুকিং বাতিল করলেও বসুন্ধরায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’কে ভেন্যু হিসেবে ঠিক রেখে জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১২ জন, নির্বাহী কমিটির ৫০২ জন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ৮০ জন, অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ৭৮ সাংগঠনিক জেলার সভাপতিসহ মোট ৬৯৪ জনকে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আপনাদের এতটুকু বলতে পারি- আমরা জাতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠক করব। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। ভেন্যু নিয়ে চিন্তা করছি না। শেষ পর্যন্ত আমাদের নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় তো আছেই। -আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul