adimage

১৫ অক্টোবর ২০১৯
সকাল ০৩:১১, মঙ্গলবার

মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট  02:20 AM, সেপ্টেম্বর ১৭ ২০১৯   Posted in : রাজনীতি    

মানুষেরসেবারব্রতনিয়েইকাজকরেযাচ্ছি:প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর : ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পরমাণুবিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালামের নামে প্রবর্তিত ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল সোমবার এই পদক গ্রহণ করেই তা দেশবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতা ভোগ করার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। কতগুলো লক্ষ্য স্থির করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আশা করি, সেটা অর্জন করতে পারব।’

গতকাল বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক অনুষ্ঠানে ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনালের প্রধান উপদেষ্টা টি পি শ্রীনিবাসন ও সংস্থাটির চেয়ারপারসন দীনা দাস এ পুরস্কার তুলে দেন শেখ হাসিনার হাতে।

অনুষ্ঠানে দেশের জনগণের প্রতি কর্তব্য পালনে তাঁর দায়বদ্ধতার প্রশংসার নিদর্শন হিসেবে এই পুরস্কার গ্রহণ করছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রতি এই কর্তব্য পালনই আমার জীবনের মূলমন্ত্র, যেমনটি ছিল আমার পিতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। আমি এই পুরস্কার দেশের জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’

ভারতের একাদশ রাষ্ট্রপতি এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী তামিলনাড়ুর সন্তান এ পি জে আব্দুল কালামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তামিলনাড়ু সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে। ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই এ পি জে আব্দুল কালামের মৃত্যুর পর সে বছরই ৩১ জুলাই তামিলনাড়ুর সে সময়কার মুখ্যমন্ত্রী জয় ললিতা ভারতরত্ন এ পি জে আব্দুল কালামের নামে এ পুরস্কার চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে তোলায় অসামান্য অবদান, জনকল্যাণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি-সহযোগিতায় বিশেষ অবদান রাখায় ‘ড. কালাম স্মৃতিপদক-২০১৯’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকলে উন্নয়ন করাটা সহজ হয়। আমরা সব সময় বন্ধুসুলভ সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গত এক দশকে অনেক উঁচুতে পৌঁছেছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ভারত সব সময় বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। ছিটমহল বিনিময় ও স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও ভারত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা নজিরবিহীন।’

বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার ইচ্ছা ছিল সোনার বাংলা গড়ে তোলা। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। আর এ জন্য তিনি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ দেশের মানুষের কথা মনে করেই তিনি স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। তাঁর কথায় এ দেশের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তিনি এ দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। আমাদের চেয়েও (সন্তানদের) তিনি মানুষকেই বেশি ভালোবেসেছেন।’ দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ২৯তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। ২০১৯ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এ জন্য আজ আমি তাঁদের জন্য কাজ করতে পারছি। খাদ্যের পর মানুষের পুষ্টি নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগণের জন্য আরো বেশি কাজ করার ক্ষেত্রে এই পুরস্কার আমাকে অনুপ্রাণিত করবে।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা, সংসদ সদস্যরা, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা, রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, বুদ্ধিজীবীসহ ভারত ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, বিদেশি কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বাসস

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul