adimage

১৮ অগাস্ট ২০১৮
সকাল ১০:৩৬, শনিবার

সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড়

আপডেট  10:33 AM, ফেব্রুয়ারী ০২ ২০১৮   Posted in : রাজনীতি    

সারাদেশেব্যাপকধরপাকড়

ঢাকা, ২ ফেব্রুয়ারি : আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই সিনিয়রসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিগত সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়ে নেতারা বাসায় থাকছেন, রাজপথেও দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক ধরপাড়কের ঘটনায় সারা দেশে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে গ্রুপিংসহ বিভিন্ন কারণে যে দূরত্ব ছিল তা মিটিয়ে এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতেও গুলশান কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা তো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। তার পরও সরকার যেভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে, তাতে তারা মনে করছেন এ ছাড়া তাদের বাঁচার কোনো রাস্তা নেই। দেশে বিএনপি ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে জনপ্রিয়তা তাতে আগামী নির্বাচনে ন্যূনতম সুষ্ঠু ভোট হলেও আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারবে না। বিএনপি নেতাকর্মীদের এই নির্যাতন ও গ্রেপ্তারে কোনো লাভ হবে না জেনেও তারা এসব করছে।

দলটির নেতারা বলেন, বিগত সময়ে সরকারের লোকজন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্ত ছড়াতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। কখনো কখনো তারা সফল হয়েছে। কিন্তু এবার সেই সুযোগ নেই। আসলে বিগত সময়ে নেতাদের মধ্যে যে প্রতিযোগিতা ছিল চেয়ারপারসনকে ঘিরে। তাই খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে দলের সব পর্যায়ের নেতারা এখন ঐক্যবদ্ধ। খালেদা জিয়ার প্রশ্নে আমাদের কোনো ছাড় নয়, কোনো বিভেদ নয়।

মঙ্গলবার পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে বিএনপি নেতাদের ধরপাকড় শুরু হয়। ওই রাতে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ও ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনকে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজজামান মিয়া এক অনুষ্ঠানে বলেন, ২০১৪-১৫ সালের মতো নৈরাজ্য করলে বরদাশত করা হবে না। কারণ কোনো নাগরিক আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবারে সরকারের অবস্থান আরও কঠোর। বিএনপির আন্দোলন দমাতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রায়ের আগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথমে ঢাকায় শুরু হলেও বুধবার থেকে সারা দেশে এ অভিযান শুরু হয়েছে। দিনের বেলায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাতেই শুরু হয় অভিযান।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান আমাদের সময়কে বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি অন্যায় না করলেও ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যে মনে হয়েছে, চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে সাজার রায় দেওয়া হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করি, আমরা যদি দেশনেত্রীকে রক্ষা করতে না পারি দেশে গণতন্ত্র থাকবে না। ইতিহাসও আমাদের ক্ষমা করবে না। দেশের মানুষও আমাদের ছাড়বে না। তাই দেশ রক্ষার্থে দলের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়া প্রশ্নে আজ ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্য ইস্পাত কঠিন ঐক্য।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের সবারই লক্ষ্য খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সুষ্ঠু একটি ভোট করা। ওই ভোটে জনগণ যাকে ভোট দেবে সেই সরকার গঠন করবে। সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তার দাবিতে চলমান আন্দোলন ভ-ুল করতেই খালেদা জিয়াকে অযোগ্য ঘোষণা করে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় এবং যে কোনো মূল্যে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়। এ জন্য তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করছে।

হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ছে। মানুষ আতঙ্কিত। সবার শঙ্কা, রায়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। এভাবে গ্রেপ্তার চলতে থাকলেও রায়ের দিন সংঘর্ষ হবে।

গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চেয়ারপারসনের রায়কে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এদের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল শওকত সরদার, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক রওনকুল ইসলাম টিপু, কেন্দ্রীয় সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে অনিন্দ্র্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ চাঁন, যুবদলের মজিবর রহমান, আবদুস সালাম মোল্লা, সেলিম, রাজশাহীর বাঘা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আরমান মৃধা, আবদুস সালাম, নোয়াখালী জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাহার, সেনবাগ উপজেলা যুব দলের সভাপতি মির্জা মোস্তফা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, চাঁদপুরের শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মানিক মিয়া, কচুয়া ছাত্রদলের সহসভাপতি বোরহানউদ্দিন বাহার ও মো. লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, আকন কুদ্দুস, একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, বেলাল হোসেনসহ দলের ৬১ নেতাকর্মীর বাড়িতে বুধবার রাতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করে এসব অভিযানের তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এ ছাড়া গতকাল বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকা থেকে সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি হাজী রেফাত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এসব গ্রেপ্তারে আর ভীত নন। মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত শুধু ঢাকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়সহ দলটির ১৬৭ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ নেতারা আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি মাঠে থাকতে স্থান বদল করে রাত কাটাচ্ছেন। ওই দিনটির অপেক্ষায় নেতাকর্মীদের বিশাল জমায়েত ঘটানোই টার্গেট। জানা গেছে, রায়কে সামনে রেখে দেশের ভেতরে-বাইরে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিএনপি। এ বিষয়ে নেতারা ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে প্রভাবশালী দেশগুলোর মনোভাব জানার চেষ্টা করছেন। খালেদা জিয়া ৪ ফেব্রুয়ারি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এর আগে মঙ্গলবার বিএনপির নেতারা ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

হেলালসহ বিএনপির ৫৮ নেতাকর্মী রিমান্ডে

রাজধানীর রমনা ও শাহবাগ থানার পৃথক তিনটি মামলায় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালসহ ৫৮ নেতাকর্মীর বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার মোট ৭০ জনকে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করে প্রত্যেক আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম আহসান হাবিব শুনানি শেষে আজিজুল বারী হেলালসহ ৩১ আসামির ৫ দিন, অপর ২৬ আসামির ২ দিন করে ও ১ আসামির ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিদের মধ্যে ১২ নারী থাকায় তাদের রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

হেলাল ছাড়াও রিমান্ডকৃত উল্লেখযোগ্য অপর আসামিরা হলেনÑ সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের পিএস ফারুকুল ইসলাম সেলিম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল নেতা হাফিজ আল মাহমুদ। -আমাদের সময়

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul