adimage

২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮
বিকাল ০১:৩৫, মঙ্গলবার

আবার শেয়ারবাজারে কারসাজির শঙ্কা

আপডেট  09:38 AM, ফেব্রুয়ারী ১৮ ২০১৮   Posted in : শেয়ারবাজার    

আবারশেয়ারবাজারেকারসাজিরশঙ্কা

শেয়ারবাজার ডেস্ক, ১৮ ফেব্রুয়ারি : জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কোনো অসাধু চক্র শেয়ারবাজার নিয়ে আবার কারসাজিতে মেতে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ব্রোকারেজ মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৯৬ কিংবা ২০১০ সালের শেয়ার কেলেঙ্কারি ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন কোনোভাবেই না ঘটে সে দিকে নজর রাখতে বলা হয়।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই ঢাকা শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ১৩৩ পয়েন্ট কমে যায়, যা ছিল গত তিন বছরের সর্বোচ্চ দরপতন। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনার দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ শীর্ষ ব্রোকারেজ মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে কাউকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের উচ্চ মহলকে শেয়ারবাজারে আবার কারসাজি হতে পারে বলে শঙ্কার কথা জানায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত সপ্তাহের শেষদিকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন।

এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও সম্প্রতি অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মার্কিন শেয়ারবাজারে ভয়াবহ ধস নামে। সেদিন দেশটির প্রধান শেয়ারবাজারের সূচক হঠাৎ করেই ১৬০০ পয়েন্ট কমে যায়। এতে সেখানকার বিনিয়োগকারীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ফলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বৈশ্বিক প্রভাবও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি মানুষের নেতিবাচক মনোভাবে সৃষ্টিতে শেয়ারবাজার কারসাজির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা বলেছেন, সরকারের প্রতিটি সংস্থাকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে সার্বক্ষণিক সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যেন কোনো কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত না হয়। এতে যেন কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে। এমনকি প্রযুুক্তিগত দিকগুলোও নজরে রাখতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি কর্মশালায় বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজারের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই বিনিয়োগকারী ও স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হবে না। বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থে যা যা করা দরকার তার সবই করা হবে। বিএসইসি বিগত কয়েক বছরে বিনিয়োগকারী এবং স্টেকহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে অনেক আইন প্রণয়ন করেছে, পাশাপাশি অনেক আইনের পরিবর্তন এনেছে। যে কারণে পুঁজিবাজার এখন স্থিতিশীল পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল রাখতে ৪ ফেব্রুয়ারি চার দফা সুপারিশ করেছিল ডিএসইসি। প্রস্তাবের মধ্যে ছিল কস্ট প্রাইসে এক্সপোজার বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ এক্সপোজারের বাইরে দেখা, হাউসগুলোর নতুন শাখা খোলার অনুমতি, লেনদেন ডেটার গোপনীয়তা রক্ষা। পাশাপাশি আইসিবিকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে একগুচ্ছ সুপারিশ করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এর মধ্যে ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ বা এক্সপোজারের সীমা পুনর্বিন্যাস বা রিভিউ করা। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সিএসই। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছেও চিঠি পাঠানো হয়। খবর সিএসই ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রের।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সিএসইর চেয়ারম্যান ড. একে আবদুল মোমেনের সই করা একটি চিঠি অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রেগুলেটরি মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

রেগুলেটরি মূলধনের মধ্যে রয়েছে পরিশোধিত মূলধন, অবণ্টিত মুনাফা, প্রিমিয়াম আয় ও বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি। এই সীমাকে নতুন করে নির্ধারণ কিংবা সংজ্ঞা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছে সিএসই, যাতে সামান্য শেয়ারের দর বাড়লে ওভার এক্সপোজার না হয়ে যায়। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আর তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাজারের সংকটের সময় আইসিবি ভালোভাবে পুঁজিবাজারকে সাপোর্ট দিতে পারে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি, আইডিআরএসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরি সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে যে কোনো পলিসি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর থেকে সোমবার পর্যন্ত টানা দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। বাজারের এ পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে শীর্ষ ব্র্রোকারেজ হাউস বৈঠক করেছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য এক্সপোজারের বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

কারণ পুঁজিবাজারে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারমূল্য হিসাবে ধরা হয়। এতে শেয়ারের দর বেড়ে গেলেই এক্সপোজারের সীমা বেড়ে যায়। তখন প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার বিক্রি করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। তাই এক্সপোজারের আওতা থেকে বন্ড, ডিবেঞ্চার, প্রেফারেন্স শেয়ারসহ তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাইরে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। -আমাদের সময়



সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul