adimage

২২ অক্টোবর ২০১৮
বিকাল ১০:০৬, সোমবার

মুমিনুল-লিটনের দৃঢ়তায় চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র

আপডেট  07:49 PM, ফেব্রুয়ারী ০৪ ২০১৮   Posted in : স্পোর্টস    

মুমিনুল-লিটনেরদৃঢ়তায়চট্টগ্রামটেস্টড্র

স্পোর্টস ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারি : চতুর্থ দিনের শেষ ওভারে মুশফিকের আউটে হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে সাগরিকায়। টাইগার-ভক্তদের তখন একটাই চিন্তা, প্রথম ইনিংসে ৫০০ ছাড়িয়েও হারের লজ্জায় পড়তে হবে না তো! আজ রবিবার সকালে বন্দরনগরীতে ছিল হালকা কুয়াশা। বাংলাদেশও তখন দুশ্চিন্তার কুয়াশায় আচ্ছন্ন। কিন্তু মুমিনুল হক আর লিটন দাসের অসাধারণ দৃঢ়তায় অন্ধকার কেটে আলোর পথে যাত্রা করলো দেশের ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে শেষ দিনের ব্যাটিং কেমন হতে পারে, তারই উদাহরণ সৃষ্টি করলেন দুজনে। বাংলাদেশকে এমন এক ড্র উপহার দিলেন, যার মূল্য জয়ের চেয়ে কম নয়।

এই ফল স্বাগতিকদের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। কঠিন পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালো, তাতে এই ড্র জয়ের সমান বড়! ১১৯ রানে পিছিয়ে, সাত উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিনে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। প্রায় আড়াই সেশনে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে ১৮৮ রান করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৭ ওভার বাকি থাকতে বেলা তিনটা ২০ মিনিটে দুই দল ড্র মেনে নিলে বাংলাদেশের সাফল্যে আরেকটি পলক যোগ হয়।

সকালের কুয়াশা দেখে বোঝার উপায় ছিল না, শেষ বিকেলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আশপাশে আলোর ঝলকানি থাকবে! দিনটি ছিল অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর জন্মদিন। আর এমন শুভদিনে এর চেয়ে ভালো উপহার আর কী হতে পারে!

মাঠে লড়াই করেছে বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা, কিন্তু আড়ালে ‘লড়াই’ ছিল আরও।  বাংলাদেশের সাবেক আর শ্রীলঙ্কার বর্তমান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহর লড়াইয়ের কথা ভুলে গেলে চলবে না। হাথুরুসিংহে টাইগারদের দায়িত্ব নেওয়ার পর শর্ট বলে দুর্বলতার অজুহাতে মুমিনুল বাদ পড়েন ওয়ানডে দল থেকে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দলেও তাকে রাখা হয়নি। তবে এনিয়ে তোলপাড় শুরু হলে শেষ পর্যন্ত নেওয়া হয় মুমিনুলকে। মুমিনুল ব্যাট হাতেই জবাবটা দিলেন। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এক টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ১৭৬ আর ১০৫ রানের দুটো চমৎকার ইনিংসের সুবাদে তিনি এখন ব্র্যাডম্যান-গাভাস্কার-লারাদের মতো কিংবদন্তিদের সারিতে।

সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে গ্যালারি থেকে কোরাস উঠলো, ‘মুমিনুল ভাই, মুমিনুল ভাই!’ সংবাদ সম্মেলন কক্ষের কাছাকাছি আসতেই শ্রীলঙ্কান ধারাভাষ্যকার তাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি কী করেছো জানো?’ মুমিনুল তখনও বুঝতে পারছিলেন না নিজের কীর্তির কথা। সংবাদ সম্মেলন শেষে ভক্তদের সেলফি আর অটোগ্রাফের আবদার হাসি মুখে মেটালেন চট্টগ্রাম টেস্টের সেরা খেলোয়াড়।

টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে মাহমুদউল্লাহর অভিষেকও ভালো হলো। ৮৩ আর ২৮ (দুবারই অপরাজিত) রানের দুটো অধিনায়কোচিত ইনিংসে তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে দিয়েছেন ড্রয়ের পথে।

চট্টগ্রামে টেস্ট থেকে টাইগারদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার পর চট্টগ্রামে পা রাখে বাংলাদেশ দল। বন্দরনগরী থেকে জয়ের সমান ড্র নিয়ে ঢাকায় ফিরবে তারা। ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্টে চট্টগ্রামের অর্জন স্বাগতিকদের অনুপ্রাণিত করবেই।

সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul