adimage

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
সকাল ১২:৩৬, সোমবার

আজ ভোট: নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা গাজীপুর

আপডেট  07:50 PM, Jun ২৫ ২০১৮   Posted in : জাতীয় ঢাকা    

আজভোট:নিরাপত্তারচাদরেঢাকাগাজীপুর

গাজীপুর, ২৬ জুন : রাত পোহালেই কাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র কে হচ্ছেন তার চুলচেরা বিশ্লেষণ ও হিসেব নিকেশ করেই ভোটাররা আজ নিজেদের প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

সকাল ৮টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেলের মধ্যেই নির্বাচন সামগ্রী ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকা। নির্বাচনী এলাকায় টহল দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ভোট গ্রহণের দিন মঙ্গলবার নির্বাচনী এলাকার সকল অফিস, মিল-কারখানা, স্কুল কলেজসহ প্রতিষ্ঠাণ সমূহ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে গত কয়েকদিনের মতো সোমবারেও বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার দাবী করেছেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং বিনা কারণে গ্রেফতার করছে। এতে ভোটারদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে মঙ্গলবার। এটি এ সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন। এর আগে ২০১৩ সালে এ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক এম.এ. মান্নান নির্বাচিত হন।

অধ্যাপক মান্নান মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও সরকারের রোষানলে পড়ে গত ৫বছরের অধিকাংশ সময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। দ্বিতীয় বারের মতো এ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মোট ৪২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠাণ উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সোমবার বিকেলের মধ্যেই সকল কেন্দ্রের জন্য ব্যালট পেপার, সীল, কালিসহ প্রয়োজনীয় সকল নির্বাচন সামগ্রী ভোট কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রাতের মধ্যেই ভোট প্রদানের জন্য উপযোগী করে তোলা হয় কেন্দ্রসহ ভোটকক্ষ গুলো। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠাণ উপলক্ষে যাতে কোন নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন ও আনসারসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে চলে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী রবিবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। এখনো পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। তবে একাধিক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিশেষ করে মেয়র পদে সরকারদলীয় প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি ভঙ্গের একাধিক অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি মনোনীত অপর মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। এছাড়াও গত কয়েকদিনের মতো তিনি সোমবারেও দাবী করেছেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে এবং বিনা কারণে গ্রেফতার ও মারধর করছে।

গ্রেফতারকৃতদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারছেন না তাদের স্বজনরা।এতে ভোটারদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং লেবেল প্লেয়িং নির্বাচন অনুষ্ঠাণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবী জানান। তিনি গ্রেফতারকৃতদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠানের পূর্বেই মুক্তি দেওয়ার আহবান জানান।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মাজহারুল আলম জানান, নির্বাচনের এক দিন আগে গাজীপুরে ব্যাপক ধড়পাকড় শুরু হয়েছে। এতে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। রবিবার রাতে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতদের কারোর বিরুদ্ধেই কোন মামলা নেই এবং রাতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারাও মুখোশ পড়ে পুলিশের এই গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেয়।

বিশেষ করে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী-সমর্থকদের তালিকা ধরে টার্গেট গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। এতে নেতাকর্মীরা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। লাগাতার পুলিশী হামলা ও হয়রানিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিএনপি তথা ২০দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অসহায় পরিবার। নেতাকর্মীদের বাড়ির গেট ও দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে পুলিশ গ্রেফতার করছে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা নাই। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামী হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন। পুলিশের গ্রেফতার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের এই গ্রেফতার অভিযানে গাজীপুর ডিবি পুলিশের সঙ্গে জেলার সকল থানা ও পাশ^বর্তী জেলা সমূহের পুলিশ নামানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কারোর অবস্থান এখনো জানানো হচ্ছে না। -নয়া দিগন্ত


সর্বাধিক পঠিত

Comments

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন

nazrul