২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৩, মঙ্গলবার

সূচক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই : ডিএসই

সূচক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই : ডিএসই 

g93yijtj-copy

ঢাকা : শেয়ারবাজারের বর্তমান সূচক নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। দীর্ঘদিন পর অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজার একটি ভালো জায়গায় অবস্থান নিয়েছে। তবে ধারদেনা, জমি, গয়না বিক্রি করে কারও এ বাজারে বিনিয়োগে আসা উচিত নয়। কারণ, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ ও প্রতিটি শেয়ারের অপর নাম ঝুঁকি।

শেয়ারবাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় রাজধানীর মতিঝিলে ডিএসইর নিজস্ব ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিএসইর পক্ষ থেকে গত কয়েক বছরে অনেক ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও শেয়ারবাজার সম্পর্কে ইতিবাচক নানা বার্তা দেওয়া হয়েছে। তার প্রতিফলন বাজারে দেখা যাচ্ছে। বাজারের সূচক বর্তমানে যে অবস্থায় পৌঁছেছে, তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া উচিত। যাঁদের হাতে উদ্বৃত্ত টাকা আছে, কেবল তাঁরাই সেই অর্থের একটি অংশ নিয়ে বাজারে আসতে পারেন।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম মাজেদুর রহমান বলেন, সূচকের উত্থান-পতন দিয়ে বাজারের ঝুঁকি নিরূপণ করা ঠিক নয়। বাজারের লেনদেন যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা সামলানোর দক্ষতা ও সক্ষমতা দুই-ই রয়েছে ডিএসইর।

সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ২০১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের বক্তব্যেরও বিরোধিতা করা হয়। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রকিবুর রহমান বলেন, এখন বাজারে যে কারওরই লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। খেলোয়াড়দের কেউ যদি খেলাধুলা করে, তাহলে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তা তুলে ধরা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডিএসইর সভাপতি বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া। উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক রুহুল আমিন প্রমুখ।

গত কয়েক কার্যদিবস ধরে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল ডিএসইতে। ৯ জানুয়ারি থেকে ১৭ জানুয়ারি সাত কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৪১৭ পয়েন্ট। টানা বৃদ্ধির পর গতকাল বুধবার লেনদেন শেষে সূচক কিছুটা কমতে শুরু করে। ডিএসইএক্স সূচক গতকাল ৪১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ৫৫৩৩ পয়েন্টে।

এদিকে ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সামান্য বেড়ে অবস্থান করছে ৫৫৩৪ পয়েন্টে। গতকাল ডিএসইএক্স সূচক ৪১ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে হয় ৫৫৩৩ পয়েন্ট। ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১,৪০৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গতকাল লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১,৯৮৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

ডিএসইতে আজ সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, ইফাদ অটোজ, বিএআরকে পাওয়ার, আরএকে সিরামিকস, বিবিএস, সিটি ব্যাংক, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, একমি ল্যাবরেটরিজ, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ও ন্যাশনাল পলিমার। ডিএসইতে আজ ৩১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩টির শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ২০৫টির। অপরিবর্তিত ৩০টির দাম।

অপর দিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও আজ সার্বিক সূচক কমেছে ৯ দশমিক ১৯ পয়েন্ট। আজ লেনদেনের পরিমাণ ৮৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। হাতবদল হওয়া ২৬৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ারের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৯টির, কমেছে ১৭৩টির, অপরিবর্তিত ২৪টির।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চলতি সপ্তাহে ৪ কোম্পানির এজিএম 

05877

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১৯ সেপ্টেম্বর : চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চার কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, জেমিনি সি ফুড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।

সান লাইফ ইন্স্যুরেন্স : সান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এজিএম আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম : বিডি থাইয়ের এজিএম আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

জেমিনি সি ফুড : জেমিনি সি ফুডের এজিএম আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টায় সেলিব্রিটি কনভেনশন সেন্টার, সাত মসজিদ রোড, ধানমন্ডিতে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৭০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ নগদ ও ৫০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।

পিপলস লিজিং : এই কোম্পানির এজিএম আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় রাওয়া কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হবে। সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

৫ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে পুঁজি বাড়ানোর অনুমোদন 

088

পুঁজিবাজার, ২১ জুলাই : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ (এক্সপোজার) সমন্বয়ের জন্য সাবসিডিয়ারি (সহযোগী) প্রতিষ্ঠানের মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার বিএসইসির ৫৮০তম কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ধারা ২৬ ক অনুসারে আগামী ২১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে সমাপ্ত তিন বছরের সময়সীমার মধ্যে ব্যাংকের পুঁজিবাজার এক্সপোজারের আইনানুগ সীমা (ইক্যুটির ২৫ শতাংশ) এর মধ্যে আনতে এসব ব্যাংকের সাবসিডিয়ারিগুলোর বর্ধিত মূলধন উত্তোলনের (শেয়ারের জন্য আমানত অথবা ঋণকে ইক্যুইটিতে রূপান্তরের মাধ্যমে) অনুমোদন দেয়া হয়।

অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি এমটিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড, সাউথইস্ট ব্যাংকের সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এবি ব্যাংকের এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। প্রতিটি শেয়ার ১০ টাকা ফেসভ্যালুতে এক্সিস্টিং শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে ইস্যু করে পরিশোধিত মূলধন বাড়াবে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

এর মধ্যে এমটিবি সিকিউরিটিজ স্টক ব্রোকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে ১২৫ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। ফলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা থেকে ৩২৫ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস লিমিটেড ৩০ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩০০ কোটি উত্তোলন করবে। ফলে, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২৫০ কোটি টাকা থেকে ৫৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

শাহজালাল ব্যাংকের শাহজালাল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৬ কোটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৬০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। ফলে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ২১৪ কোটি টাকা থেকে ২৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

এবি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৩০ কোটি ১১ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৫ টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াবে ৩০১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৫০ টাকা উত্তোলন করবে। ফলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২৯৮ কোটি ৮৫ লাখ ৬৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৩০ কোটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা উত্তোলন করবে। ফলে কোম্পানির মূলধন ১০০ কোটি টাকা থেকে ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

উল্লেখ, বর্তমানে প্রতিটি ব্যাংক তার রেগুলেটরি মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারে। বিনিয়োগের পরিমাণ গণনায় ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের (ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক) মূলধনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও বিদ্যমান আইন অনুসারে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এদের প্রতিটির রয়েছে আলাদা পর্ষদ। বিনিয়োগ, মুনাফা ও ঝুঁকি-সবই নিজস্ব।

এদিকে, ২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের সক্ষমতা কমিয়ে আনা হয়। কিন্তু পুঁজিবাজারে চলমান মন্দা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এক্সপোজারের গণনায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধনকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ প্রেক্ষিতে বুধবার (২০ জুলাই) ব্যাংকের সহযোগি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুঁজিবাজারে সরকারি কোম্পানির অবদান কমেছে 

index

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ২০ জুন : : বিগত এপ্রিলের তুলনায় গত মে মাসে দেশের পুঁজিবাজারে সরকারি কোম্পানিগুলোর অবদান কমেছে। বাজার মন্দা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় গত মে মাসে দেশের উভয় বাজারে লেনদেন ও বাজার মূলধনে অবদান কমেছে সরকারি কোম্পানির। অপরদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ওষুধ ও রসায়ন খাতে পুঁজিবাজারে বেসরকারি কোম্পানির অবদান আরো বেড়েছে।

নতুন বেসরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্তির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে দ্রুত সরকারি কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির প্রয়োজন বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

অথচ বাস্তব চিত্র হচ্ছে ২০১০ সালে মহাধস পরবর্তী সময়ে বহু বেসরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলেও এ সময়ে মাত্র একটি সরকারি কোম্পানি বাজারে এসেছে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যানুযায়ী, ডিএসইতে মোট ১৯ সরকারি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। মে মাসে এই কোম্পানিগুলো থেকে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। অথচ আগের মাস এপ্রিলে লেনদেন হয়েছিলো ডিএসই’র মোট লেনদেনের ১০ শতাংশ। যা মে মাসে কমে প্রায় অর্ধেক হয়েছে।

লেনদেনের পাশাপাশি এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে ডিএসইর বাজার মূলধনের ২ শতাংশ অবদান কমেছে। গত এপ্রিল মাসে ডিএসইতে এ খাতের অবদান ছিলো ১০ শতাংশ। আর মে মাসে অবদান ছিলো ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। অথচ বাজার মূলধনের দিক থেকে বহুজাতিক কোম্পানির অবদান ২৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। যা লেনদেনের দিক থেকে ৫৫ শতাংশ। এর ফলে বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারে দাম বাড়লে ডিএসইর চিত্র পাল্টে যায়।

জানা গেছে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যক্রমই দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়তই দুর্বল ও খারাপ কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিচ্ছে। যে কারণে প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

তাই বাজারের স্বার্থে দ্রুত সরকারি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা দরকার বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারি কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনলে সরকার বিনা সুদে টাকা সংগ্রহ করতে পারবে। আর মৌলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর কারণে বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হবেন।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, সরকারি কোম্পানিগুলো বাজারে আসলে কারসাজি চক্রের দাপট কমে আসবে। বিনিয়োগকারীরা লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন। বাজারও চাঙা হবে।

ডিএসইর সাবেক পরিচালক আহমেদ রশিদ লালী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পুঁজিবাজারে সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবদান অনেক বেশি। অথচ দেশের পুঁজিবাজারে সরকারি কোম্পানির অবদান মাত্র ৬শতাংশ। দুর্ভাগ্যজনক হলো, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হলে বাজার স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের অবদান রাখবে। পুঁজিবাজারের প্রতি সরকারের দায়িত্ব বাড়বে।

তিনি বলেন, সরকারি কোম্পানি বাজারে আসলে জবাবদিহিতা আরো বাড়বে। লোকসানে থাকা কোম্পানি মুনাফায় ফিরবে। যার সুফল পাবেন বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে ২০১০ সালে ধসের পরপরই বাজারে সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর গত ৬ বছরে মোট তিন দফা সময় বেধে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দু’বার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও হস্তক্ষেপ করেন।

এরপরও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ার কবে নাগাদ বাজারে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নতুন সচিব মো. ইউনুসুর রহমান এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন। গত ৫ মে তার সভাপতিত্বে সরকারি মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারি মলিকানাধীন কোম্পানিগুলোর শেয়ারবাজারে ছাড়ার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাওয়া হয়। এ সময় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির বক্তব্যে নেতিবাচক উত্তর পাওয়া যায়। অর্থাৎ গত ছয় বছরেও প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের শেয়ার বাজারে ছাড়ার পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিডি সার্ভিস), বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লি. (বিএসসিসিএল), বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), ইস্টার্ন কেবলস (ই কেবলস), ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্ট (ইস্টার্ন লুব), আইবিসি, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (যমুনা অয়েল), মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড( মেঘনা পেট), ন্যাশনাল টিউব (এনটিএল টিউবস), পদ্মা অয়েল কোম্পানি (পদ্মা অয়েল), পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পাওয়ার গ্রিড), রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি ( রেনউইক জেএ), শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড (শিয়ার এমইউজি), তিতাস গ্যাস, উসমানিয়া গ্লাস, জিলবাংলা সুগার মিলস লিমিটেড (জিলবাংলা), এটলাস বাংলাদেশ (এটলাস বাং)।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বশেষ ২০১২ সালে বাজারে তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সূচকের নিম্নমুখী ধারায় চলছে লেনদেন 

DSE-CSE-logo

ঢাকা, ৫ এপ্রিল : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার মূল্যসূচকের নিম্নমুখী ধারায় লেনদেন চলছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে ৮৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নিয়েছে ২৫৫টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৩টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৬৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির।

এই সময়ে ডিএসইর প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৪১৩ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৬৫ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৭১পয়েন্টে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসই সার্বিক সূচক  ৩৪ পয়েন্ট  কমে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৬১৫ পয়েন্টে। এই সময়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৫৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেশের প্রথম ব্রোকার হিসেবে বন্ড ছাড়ল লংকাবাংলা 

photo-1-290x193

শেয়ারবাজার ডেস্ক, ৩ এপ্রিল : দেশের প্রথম স্টক ব্রোকার হিসেবে বন্ড ছেড়েছে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ২০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ডের চাঁদা গ্রহণ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারীরাও এ বন্ড কিনতে পারবে। একজন বিনিয়োগকারী সর্বনিম্ন তিন কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ৯২৪ টাকার বন্ড কিনতে পারবে।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চলতি বছরের শুরুর দিকে লংকাবাংলা সিকিউরিটিজকে ২০০ কোটি টাকার নন-কনভার্টেবল জিরো কুপন বন্ড ছাড়ার অনুমোদন দেয়।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) লংকাবাংলা ফিন্যান্স লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটি বন্ডের অর্থে তাদের চলতি আর্থিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধ করবে। বন্ডের লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে রয়েছে লংকাবাংলা ফিন্যান্সের মার্চেন্ট ব্যাংকিং সাবসিডিয়ারি লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

বন্ডের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে লিড অ্যারেঞ্জার জানায়, বন্ডের মেয়াদ তিন বছর, যা প্রতি ছয় মাস পরপর মুনাফাসহ পরিশোধ করা হবে। আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর তফসিল ৬ প্রথম অংশের অনুচ্ছেদ ৪০ অনুসারে, ব্যাংক, বিমা ও এনবিএফআই ছাড়া অন্য সব বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে বন্ড থেকে প্রাপ্ত মুনাফা করমুক্ত থাকবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গভর্নরের পদত্যাগে শেয়ারবাজারে স্বস্তি 

untitled-3_173996

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১৬ মার্চ : দুদিন দরপতনের পর ঊর্ধ্বগতিতে ফিরে এসেছে শেয়ারবাজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের পদত্যাগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির ভাব ফিরে এসেছে, যার প্রভাব দেখা গেছে সূচক ও কেনাবেচার পরিস্থিতিতে। ‘শেয়ারবাজার অবান্ধব’ গভর্নরের বিদায়ে আনন্দ মিছিল বের করার পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা গেছে অনেক বিনিয়োগকারীকে।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আগের দিনের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বেশির ভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে সূচকেও বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি ইস্যুতে ড. আতিউর রহমান গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর দুপুরে ডিএসইর সামনে বিনিয়োগকারীরা আনন্দ মিছিল করেন। এ সময় তাদের অনেকে গভর্নরের শাস্তিও দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ ও ২০১০ সালে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগের রাশ টেনে ধরতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যর্থতায় শেয়ারবাজারে বুদবুদ তৈরি হয়। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আকস্মিক নির্দেশেই বিনিয়োগ প্রত্যাহার শুরু হলে শেয়ারবাজারে ধস নেমে আসে। এ পরিস্থিতির জন্য বিনিয়োগকারীরা আতিউর রহমানকেই দায়ী করে আসছেন।

ধস-পরবর্তীতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা তাদের দায়ের ১০ শতাংশের পরিবর্তে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যাংকের ও নিজস্বভাবে আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন আর্নিংসের মোট পরিমাণের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না মর্মে এক নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এক্ষেত্রে এককভাবে ব্যাংক তার ইকুইটির ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে। আর সাবসিডিয়ারিসহ সমন্বিতভাবে তা হয় ৫০ শতাংশ। এতে শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সংকুচিত হয়ে পড়ে।

ব্যাংকের নতুন বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের ফলে সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকাজের হাউজের বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এতে সেকেন্ডারি বাজারে তারল্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা কোনো ছাড় না দেয়ায় দীর্ঘমেয়াদে মন্দাভাব তৈরি হয়, যা বর্তমানেও অব্যাহত। অবশ্য গত ডিসেম্বরে এতে ব্যাংকের সহযোগী ৩৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা মূলধন ব্যাংকের একক বিনিয়োগসীমায় অন্তর্ভুক্ত রাখা সম্পর্কিত পূর্ববর্তী নির্দেশনা প্রত্যাহার করে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে সময় বাড়িয়ে দেয়ার জন্য অর্থ উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রী একাধিকবার সুপারিশ করলেও তা কখনই আমলে নেননি আতিউর রহমান। এমনকি গত নভেম্বরে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ে সময় বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও গত পাঁচ মাসে তা কার্যকর করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে চলতি বছরের ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সমন্বয়ের আইনি বাধ্যবাধকতা এখনো রয়ে গেছে, যার প্রভাবে অস্থিরতা কাজ করছে শেয়ারবাজারে। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদি ও তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে গণনার যে দাবি স্টেকহোল্ডাররা দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন, তাও আমলে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত গভর্নর আতিউর রহমানের অনাগ্রহেই শেয়ারবাজারের মন্দা দূরীকরণের সুপারিশগুলো কার্যকর হয়নি বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ব্যাংকের বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময়সীমা বাড়ানো, দীর্ঘমেয়াদি ও তালিকাবহির্ভুত কোম্পানির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার গণনা না করার দাবির বিষয়টি গভর্নর আতিউর রহমান আমলে নেননি। শেয়ারবাজারের পতনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে এর উল্টো মনোভাব রয়েছে বলে মনে করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এসব কারণে আগে বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী এ প্রতিবেদককে বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর শেয়ারবাজারবান্ধব নন, গভর্নর শেয়ারবাজারের বিকাশে নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাই গভর্নরের পদত্যাগে গতকাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে, যা লেনদেন বাড়াতে সহায়তা করেছে বলে আমি মনে করছি।

বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুদিনের নিম্নমুখী ধারার পর গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদর বেড়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে প্রায় ৫৬ শতাংশের দর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে সাড়ে ২৮ শতাংশের।

শেয়ারদর ও সূচকের বৃদ্ধির পাশাপাশি গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও ২৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড, যা আগের দিনের চেয়ে ৯৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা বেশি। বণিকবার্তা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ডিএসইতে মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন 

9333

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ৭ মার্চ : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সোমবার মিশ্র প্রবণতায় শেষ হয়েছে লেনদেন। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে পতনে। এইদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি টাকার শেয়ার। তবে গত কার্যদিবসের তুলনায় আজ দুই বাজারেই কমেছে লেনদেন। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১০ কোটি টাকার শেয়ার। যা গতকালের তুলনায় ১০ কোটি টাকা কম। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩০০ কোটি টাকার শেয়ার।

আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩১৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৯টির, কমেছে ১১০টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৮টির শেয়ার দর।

ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৪৪৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ৭৭ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭০৩ পয়েন্টে।

টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কোম্পানি -বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা, কাশেম ড্রাইসেলস, লংকাবাংলা ফিন্যান্স লিমিটেড, মালেক স্পিনিং মিলস, সিএমসি কামাল, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি,  সামিট পাওয়ার লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড।

একইসঙ্গে এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৭টির, কমেছে ৯৮টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ডিএসইতে ফের ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন 

full_864491929_1452844523

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারি : টানা ৫ কার্যদিবসে ৩০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৫০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ৫০৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বুধবারের তুলনায় ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বেশি লেনদেন হয়েছে। লেনদেন বাড়ার এ হার ৩৯.৫২ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে সর্বশেষ ৫০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ৫০৯ কোটি টাকা। পরের দিনই লেনদেন নেমে যায় ৪০০ কোটি টাকা ঘরে। এরপর টানা ৫ কার্যদিবসেই ৩০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছে।

এদিকে লেনদেন বৃদ্ধির পাশাপাশি সূচকের সামান্য বৃদ্ধিতে শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন। বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমলেও বুধবারের তুলনায় ৭.৯২ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) দাঁড়িয়েছে ৪৫৮১.৩৪ পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার বৃদ্ধির ফলে টানা ৩ কার্যদিবসে মূল্য সূচকের উত্থান শেষ হয়েছে দিনের লেনদেন।

লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২০টি ইস্যুর মধ্যে দিনশেষে দর বেড়েছে ১০৪টির, কমেছে ১৭৭টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির দর।

লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে বিএসআরএম লিমিটেড। দিনশেষে কোম্পানিটির ৫৬ কোটি ৫৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৮৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা। ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার।

লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- বিএসআরএম স্টিল, আলহাজ টেক্সটাইল, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ইফাদ অটোস, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, কাশেম ড্রাইসেল।

দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএসসিএক্স ২০.১১ পয়েন্ট বেড়ে দিনশেষে ৮৫৯০.১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়ালফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮১টির, কমেছে ১২৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টির দর।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আস্থা নেই শেয়ারবাজারে 

36

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ২৫ জানুয়ারি : ২০১০ সালে ধসের পাঁচ বছর পরও বিনিয়োগকারীর কাছে এখনো আস্থাহীন দেশের শেয়ারবাজার। এখনো এটি পুঁজি হারানোর বাজার। ভালো-মন্দ বেশির ভাগ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেও লাভের দেখা মিলছে না। তাই বাজারে আসতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে ক্রেতার সংকট। শেয়ার বিক্রি করেও লাভ না পাওয়াই এ সংকটের প্রধান কারণ। ফলে লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছেন না কেউ, নতুন করে কিনছেনও না। এ কারণেই ক্রেতা-সংকট বাজারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ও ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মতে, কেলেঙ্কারির ঘটনার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুনর্গঠন করা হলেও এ কমিশনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। এ অবস্থায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থা ফেরাতে বিএসইসির শীর্ষ পদে পরিবর্তন দরকার।

শেয়ারবাজারের আস্থাহীনতা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কার হাতে এমন জাদু আছে, বাজারকে পরিপূর্ণ আস্থার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে পারে।’ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের বিষয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল হোসেন বলেন, ‘উনি মুরব্বি মানুষ। উনি বলতেই পারেন। কিন্তু কোন যুক্তিতে তিনি এ পরিবর্তনের কথা বলেছেন সেটি কেবল উনিই ভালো বলতে পারবেন।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে নতুন যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়েছে, সেগুলোর মান নিয়েও রয়েছে বিনিয়োগকারীদের নানা প্রশ্ন। এ কারণে তালিকাভুক্তির কিছুদিন যেতে না যেতেই অনেক কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর দামের নিচে নেমে গেছে।

সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বলা যায় রিজেন্ট টেক্সটাইলের কথা। ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুর সঙ্গে ১৫ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়ার যোগ করে আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করা হয়েছিল ২৫ টাকায়। কিন্তু লেনদেন শুরুর দ্বিতীয় দিনে এসেই এই শেয়ারের দাম আইপিও দামের নিচে নেমে যায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে লেনদেন শুরু হয়েছিল বস্ত্র খাতের আরেক কোম্পানি হামিদ ফেব্রিকসের। অভিহিত ও অধিমূল্য মিলিয়ে আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ৩৫ টাকা। এক বছর না যেতেই কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের বাজারমূল্য নেমেছে ২১ টাকায়। তালিকাভুক্তির পর কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আইপিওতে কোম্পানিটির প্রতিটি বাজারগুচ্ছে ছিল ২০০ শেয়ার। সেই হিসাবে একজন বিনিয়োগকারীকে আইপিওতে ২০০ শেয়ারের জন্য বিনিয়োগ করতে হয়েছে সাত হাজার টাকা।

মানহীন কোম্পানির আইপিও অনুমোদন প্রসঙ্গে এম খায়রুল হোসেন বলেন, ভালো কোনো কোম্পানি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে বাজারে আসবে না। তাই কিছু কোম্পানিকে অভিহিত মূল্যে বাজারে আসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যদি ওই বিনিয়োগকারী তালিকাভুক্তির পরপর আইপিও শেয়ার বিক্রি না করে দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখেন, তাহলে লভ্যাংশ পাওয়ার পরও ২০০ শেয়ারে প্রায় তিন হাজার টাকার মতো লোকসান। সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের ক্রমাগত দরপতনের কারণেই এমনটি ঘটছে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আস্থাহীনতার কারণে বাজারে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না কেউ। অথচ শেয়ারের দাম যে পর্যায়ে নেমে এসেছে, তা বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। তারপরও ক্রেতা নেই বাজারে।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভীর মতে, বর্তমান বাজার ক্রেতার জন্য ভালো, বিক্রেতার জন্য নয়। ক্রেতার জন্য ভালো বাজারে পর্যাপ্ত ক্রেতা আসছে কি—পাল্টা প্রশ্নে শাকিল রিজভীর উত্তর, ‘না, ক্রেতাবান্ধব বাজারেও প্রত্যাশিত ক্রেতা নেই।’

বাজারে প্রত্যাশিত ক্রেতা না আসার প্রধান কারণ হিসেবে শাকিল রিজভী বললেন আস্থাহীনতার কথা। শাকিল রিজভী নিজে একটি ব্রোকারেজ হাউসের মালিক। ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে বাজারে শেয়ার কেনাবেচা করেন বিনিয়োগকারীরা।

লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মধ্যে একজন চট্টগ্রামের টিকলু কান্তি দাস। তাঁর কাছে শেয়ারবাজার এখন চরম এক মানসিক যন্ত্রণার নাম। কারণ, এ বাজারে বিনিয়োগ করে নিঃস্ব তিনি। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও ফিরে পাচ্ছেন না হারানো পুঁজি। তাই শেয়ারবাজার থেকে যতটা পারেন দূরে থাকার চেষ্টা করছেন বলেই এ প্রতিবেদককে জানালেন তিনি।

স্বস্তি নেই শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরিজীবীদেরও। শেয়ার কেনাবেচা কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউসগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো না। খরচ কমাতে চাকরি ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন এসব প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবীরা।

বিনিয়োগকারী থেকে ব্রোকারেজ হাউসের মালিক, শেয়ারবাজারে চাকরিজীবী থেকে চাকরিদাতা—আসলে স্বস্তিতে নেই কেউই। অথচ ২০১০ সালের ধসের পর বাজারে আস্থা ফেরাতে দেওয়া হয়েছে অনেক প্রণোদনা। গত পাঁচ বছরের আইনকানুন, বিধিবিধান থেকে শুরু করে অনেক পরিবর্তনই হয়েছে। কারসাজি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। পুনর্গঠন করা হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এত সব পরিবর্তনের বাতাস মিলছে না বাজারের পালে।

সেই কারণে ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রায় ৯ হাজারে উঠে যাওয়া দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ২০১৩ সালের এপ্রিলে নেমে এসেছিল সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে। আর এখন এসে সেই সূচক সাড়ে ৪ হাজার পয়েন্টকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে। অথচ ২০১০ সালের পর গত পাঁচ বছরে ৭০টির বেশি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তাতেও সূচকের খুব বেশি উন্নতি হয়নি।

বাজারের দৈনন্দিন লেনদেনের অবস্থা আরও খারাপ। ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর ডিএসইতে লেনদেন উঠেছিল ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। কমতে কমতে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সেটি নেমে আসে সর্বনিম্ন ১০১ কোটি টাকায়। ২০১৪ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সদ্য বিদায়ী ২০১৫ সাল শেষে দৈনিক গড় লেনদেন আরও কমে নেমে এসেছে ৪২২ কোটিতে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী এ প্রতিবেদককেকে বলেন, ‘আমাদের বাজারের যে শক্তি, তাতে এ বাজারে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রত্যাশিত। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। কারণ, বাজারে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ নেই। একদিকে আস্থার সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারে আসছেন না। অন্যদিকে, পুরোনো বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব ঋণভারে জর্জরিত। ফলে এসব হিসাবে কোনো লেনদেন হচ্ছে না।

কেন আস্থার সংকট কাটছে না জানতে চাইলে ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ২০১০ সালের চেয়ে এখনকার বাজারে অস্থিরতা অনেকাংশে কমেছে। তবে এখনো অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। কারসাজির ভয় যেমন আছে, তেমনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সরকারের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা সমস্যাও পুরোপুরি দূর হয়নি। বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসাবগুলো সচল করার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ ছাড়া শেয়ারবাজারের খারাপ অবস্থার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও অনেকাংশে দায়ী।

তবে গত পাঁচ বছরে শেয়ারবাজারে মৌলিক কিছু পরিবর্তনও হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনাকে আলাদা (ডিমিউচুয়ালাইজেশন) করা, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনসহ সিকিউরিটিজ আইন যুগোপযোগী করা অন্যতম। এসব কাঠামো ও আইনগত পরিবর্তনের পরও সুফল নেই।

মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডিমিউচুয়ালাইজেশনসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য আইনি পরিবর্তনের সুফল পেতে আরও সময় লাগবে।

বর্তমান বিএসইসির হাত ধরে শেয়ারবাজারে কিছু পরিবর্তন হলেও সংস্থাটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের পরিপূর্ণ আস্থা ফেরেনি। মানহীন কিছু কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বিনিয়োগকারীদের কাছে। এ ছাড়া কারসাজি ও আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছে সংস্থাটি, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা স্থাপনে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মনে করেন, ভালো কোম্পানি বাজারে আসছে না বলেই বাজার এখনো একটি দুষ্টচক্রের হাতে ঘুরপাক খাচ্ছে। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শেয়ারবাজারে ৭৪২ কোটি টাকা লেনদেন 

শেয়ারবাজার

অর্থনৈতিক ডেস্ক, ১৫ জানুয়ারি : শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ৭৪২ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৯২ কোটি টাকা এবং সিএসইতে ৫০ কোটি টাকা।

এছাড়া উভয় শেয়ারবাজারেই বৃহস্পতিবার মূল্যসূচক ও বাজার মূলধন বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন মুদ্রানীতির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৩২৪টি প্রতিষ্ঠানের ২৪ কোটি ৯৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৬৯২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে যা ৫১ কোটি ২৮ লাখ টাকা কম।

এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের, কমেছে ১২৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৬৯৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক দশমিক ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়া সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ৩ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

সিএসই : চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বৃহস্পতিবার ২৫৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি ৭ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৫০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের, কমেছে ১১২টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সিএসই-৩০ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

সিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে বেড়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- ইউনাইটেড পাওয়ার, গোল্ডেনসন, বিডি থাই, সিটি ব্যাংক, আইটিসি, বেক্সিমকো ফার্মা, এমারেল্ড অয়েল, তাল্লু স্পিনিং, ফার কেমিক্যাল এবং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের এজিএম ১৬ জানুয়ারি 

jakia..share_98166

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১১ জানুয়ারি : শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টসের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি শনিবার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্রে আরও জানা গেছে, এই কোম্পানির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টায়। ওইদিন চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে এই এজিএম অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ  লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৯ পয়সা  এবং প্রতি শেয়ারে প্রকৃত সম্পদ মূল্য ৭৩ টাকা ৪১ পয়সা ।

‘এ’ ক্যাটাগরির এই্ কোম্পানিটি ১৯৭৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজ থেকে যমুনা অয়েল স্পট মার্কেটে 

555

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ২৪ ডিসেম্বর :  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি যমুনা অয়েলের শেয়ার স্পট মার্কেটে আজ বৃহস্পতিবার থেকে লেনদেন শুরু হয়েছে। ডিএসই সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আজ ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন স্পট মার্কেটে এবং ব্লক/অডলটে হবে। কোম্পানির রেকর্ড ডেট আগামী ২৮ ডিসেম্বর। রেকর্ড ডেটের কারণে ওইদিন শেয়ারটির লেনদেন বন্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, যমুনা অয়েল লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ।

কোম্পানির ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২০ টাকা ৪০ পয়সা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্পট মার্কেটে এল আর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড 

শেয়ার-বাজার-752x440

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ২১ ডিসেম্বর : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এল আর গ্লোবাল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান স্পট মার্কেটে লেনদেন করছে আজ সোমবার। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আজ ২১ ডিসেম্বর ও কাল ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন স্পট মার্কেটে এবং ব্লক/অডলটে হবে। ফান্ডটির রেকর্ড ডেট আগামী ২৩ ডিসেম্বর। রেকর্ড ডেটের কারণে ওইদিন ফান্ডটির লেনদেন বন্ধ থাকবে।

প্রসঙ্গত, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ট্রাস্টি কমিটি  ই্উনিটহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ (ইউনিট প্রতি ১ টাকা) ঘোষণা করেছে। এর পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ।

আরও জানা গেছে, ফান্ডটির ইউনিট প্রতি আয় দশমিক ৮১ পয়সা। মার্কেট প্রাইস অনুযায়ী ইউনিট প্রকৃত সম্পদ মূল্য দাড়িয়েছে ১১ টাকা ২৮ পয়সা। এট কস্ট অনুযায়ী  ইউনিট প্রকৃত সম্পদ মূল্য দাড়িয়েছে ১১ টাকা ৩৭ পয়সা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৩.৫৬% 

DSE-CSE-logo

পুঁজিবাজার ডেস্ক, ১১ ডিসেম্বর : বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের সঙ্গে কমেছে সব ধরণের মূল্য সূচক। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৩৪০ কোটি  টাকা। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৬৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫০৮ কোটি টাকার শেয়ার।

সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে  দশমিক ৬৫ শতাংশ।

এদিকে, ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১ দশমিক ২৪ শতাংশ বা ৫৭ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বা ৩১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ১৮ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪২টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৫০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির। আর লেনদেন হয়নি ৫টি কোম্পানির শেয়ার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর