২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
সকাল ৭:১৫, রবিবার

“ঘুরে আসুন বাইক্কা বিলে”

“ঘুরে আসুন বাইক্কা বিলে” 

53

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : দেশের অন্যতম মৎস্য অভয়ারণ্য মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরের বাইক্কা বিলের সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। বিশেষ করে শীতকালের (শুষ্ক মওসুমের) বাইক্কা বিলের সাথে পরিচিতিটা একটু বেশি। কেননা শীতে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখর থাকে এই বিলের চারপাশ। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিলের সুনাম সর্বত্র। কিন্তু পানিপূর্ণ বাইক্কা বিলের সাথে আমরা ক’জনইবা পরিচিত। থৈ থৈ করা পানির বাইক্কা বিলের সৌন্দর্য্যের সাথে অনেকেই পরিচিত নয়।

প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের এই সংরক্ষিত জলাশয়টি মৎস্য সম্পদে বেশ পরিপূর্ণ। এখানে নানা জাতের মাছের সাথে রয়েছে সাপ-ব্যাঙ আর জলজ উদ্ভিদ। তবে পানিপূর্ণ বাইক্কা বিলে যাওয়া খুব কষ্টের। রাস্তার দুর্ভোগ মনে রাখার মতো! সোজাসাপ্টা কথা বাইক্কা বিলের শ্রাবণধারার টলমল সৌন্দর্য্য দেখতে হলে ভ্রমণ গ্লানি হিসেবে দেখতে হবে। বাইক্কা বিলের পানিঘেরা রূপ উপভোগ করতে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটেই যেতে হবে।

মাটির রাস্তা তাই কিছুটা বিড়ম্বনা পেয়েই যেতে হবে বাইক্কা বিলে। এই সময়ে বাইক্কা বিলে যাবার সড়কে কিছুটা কাঁদামাটি থাকায় চলে না কোনো সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, প্রাইভেট গাড়ি অথবা অন্য কোনো যানবাহন। এ ক্ষেত্রে নিজের ‘পা’-ই একমাত্র ভরসা।

বাইক্কা বিলে পৌঁছে দেখবেন মাঠ-ঘাট-প্রান্তরের মতো বিলেও শুধুই পানি। নির্দিষ্ট সীমারেখা থেকে বর্ধিত হয় পানির উপস্থিতি। মাছগুলো ছুটোছুটি করতে করতে পানির উপর হঠাৎ মুখ উচিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে। জলজপাখিগুলো গলা ছাড়ে ডাক ছাড়ে, সঙ্গীর উদ্দেশ্যে।

ঝিমিয়ে পড়া হিজল-করচ গাছের পাতাগুলো সতেজ হয়ে উঠেছে। ঢোলকলমি চোখ তুলে তাকায় আগত অতিথির দিকে। কাছে-দূরে ব্যাঙের অবিরাম ডাক। বিলের জলে পানকৌড়ি, ছোট সরালি আর পাতিহাঁসের ডুব দেয়ার দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবেই। পানিপূর্ণ বাইক্কা বিলের চারিদিকে শুধুই পানি আর পানি। পানির ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ আর হিজল-করচের ডুবে যাওয়া বনটি যেনো নতুন প্রাণ জেগেছে বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে।

হাইল হাওরে অবস্থিত সংরক্ষিত মৎস্য অভয়াশ্রম ‘বাইক্কা বিল’। ইউএসআইডি’র অর্থায়নে মাচ প্রকল্পের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় মৎস্য ও পাখির অভয়াশ্রম। ২০০৩ সালের ১ জুলাই ভূমি মন্ত্রণালয় বাইক্কা বিলকে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই বিল শুধু মাছের জন্যই নয়, পাখি এবং অন্যান্য প্রাণির জন্য একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এ বিল এখন আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হয়েছে। নয়নাভিরাম এই জলাভূমিতে রয়েছে হাজারও শাপলা, পদ্মসহ নানান জলজ উদ্ভিদ।

বাইক্কা বিল ছাড়াও শ্রীমঙ্গলে দেখা পাবেন সবুজের নিসর্গে ভরা ৪৪টি চা বাগান, জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি খাসিয়া, ত্রিপুরা, সাঁওতালদের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র, রামনগরের প্রসিদ্ধ মণিপুরী তাঁতশিল্প ও কাপড়, বৃটিশ চা ব্যবস্থাপকদের কবরস্থান ডিনস্টন সিমেট্রি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়া বন্যপ্রাণি সেবা ফাউন্ডেশন, ৫০০ বছরের পুরনো নির্মাই শিববাড়ি, লেবু, পান ও আনারস বাগানের প্রাকৃতিক রূপ প্রভৃতি।

শ্রীমঙ্গলের সাথে সারা দেশের রেল ও সড়কপথে রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঢাকা থেকে ৩টি, চট্টগ্রাম থেকে ২টি আন্ত:নগর ট্রেন প্রতিদিন যায় শ্রীমঙ্গল। ট্রেনে ভ্রমণ করেই শ্রীমঙ্গল যেতে পারেন। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে হানিফ বা শ্যামলী পরিবহনের বাসে করেও যেতে পারবেন। এছাড়া মহাখালি থেকে এনা পরিবহন উত্তরা হয়ে শ্রীমঙ্গল যায়। শ্রীমঙ্গল শহরে পৌঁছে অটোরিক্সা, সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, জীপ, প্রাইভেটকার কিংবা মাইক্রো ভাড়া করে আপনি দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে পারবেন।

পর্যটকদের রাত যাপনের জন্য এখানে বেশ কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট, রেস্ট হাউস ও কটেজ রয়েছে। নির্জন পরিবেশে পাহাড়ি টিলার ওপর নির্মিত টি-রিসোর্ট ও পাঁচ তারকা মানের গ্র্যা- সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ এর নজরকাড়া সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে টানবে অনায়াসেই। এছাড়া বিভিন্ন পাহাড়ি টিলার ওপর নির্মিত কটেজগুলোতে রাত যাপন করে পর্যটকরা প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অবলোকনের সুযোগ পাবেন। খাবারের জন্যে এখানে রয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও একটু ভালো মানের খাবারের জন্য আপনাকে অভিজাত রেস্টুরেন্টগুলোতে যেতে হবে। সেখানে বাঙালি খাবারের সঙ্গে চাইনিজ খাবারও পাবেন। এছাড়া দামি খাবারের জন্যও শহরে অনেক রেস্টুরেন্ট চোখে পড়বে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘুরে আসুন প্রকৃতি কন্যা জাফলং 

Untitled-2 copy

ট্যুরএন্ড ট্রাভেলস : jaflong১যদি কেউ এই অভিযোগ করে যে বাংলাদেশে দেখার মত স্থান নেই তবে তার এই অভিযোগের জন্য তাকে শাস্তি দেয়া যায়না বরং তাকে জানিয়ে দেয়া যায় যে আমদের এই দেশটিতে দেখার মতো কী কী আছে। বিশ্বাস করুন যদি আপনি যদি বাংলাদেশ ভ্রমনে বের হোন তবে বছরেও শেষ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ প্রায় প্রতিটি স্থানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে সৌন্দর্য়্যের সমাহার। তেমনই এক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বাংলাদেশের জাফলং স্থানটি।

জাফলং, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকা। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।

প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপলীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদেরদারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে।

jaflongএসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশীপর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিকস্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমনপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং নাগেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলংএর রুপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠেস্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়েরসবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিপাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজারফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।

jaflong4আবার শীতে অন্য রূপে হাজির হয় জাফলং। চারিদেকে তখন সবুজের সমারোহ, পাহাড় চূড়ায় গহীন অরণ্য। ফলে শীত এবং বর্ষা সব সময়েই বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে জাফলং। জাফলংয়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে দুই নদী। ধলাই ও পিয়াইন। এই নদী দুইটি অন্যন্যতা এনে দিয়েছে জাফলংকে।

ধলাই ও পিয়াইনের স্বচ্ছ জলে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় নানা জাতের ছোট মাছ। দুই নদীর পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও মুগ্ধ করে পর্যটকদের। নদীর পানিতে নারী-পুরুষের এই ‘ডুবোখেলা’ দেখা যায় ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি। সীমান্তের ওপারে ডাউকি নদীর উপরে দুই পাহাড়ের মধ্যখানে ঝুলন্ত সেতু বাড়িয়ে তুলেছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য। পাহাড়, পানি, পান, পাথর, ঝর্ণা সবমিলিয়ে জাফলং যেনো এক রূপকথার রাজ্য।

নাগরিক জঞ্জাল আর কোলাহল ছেড়ে দু’দণ্ড শান্তি খুঁজে নিতে তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, এমনকি দেশের বাইরে থেকেও দলবেঁধে জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন পর্যটকরা। ভাড়া নৌকায় পিয়াইন ও ধলাইর বুকে ভেসে বেড়ান তারা। পাহাড় আর নদীতে সীমাবদ্ধ নয় জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য।

জাফলংয়ের সৌন্দর্য্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে সেখানকার আদিবাসীদের জীবনধারা। নদী পার হলেই খাসিয়াপুঞ্জি। খাসিয়াদের গ্রামকে বলা হয় পুঞ্জি। এই পুঞ্জিগুলোতে গেলে দেখা যাবে ৩-৪ ফুট উঁচুতে বিশেষভাবে তৈরি খাসিয়াদের ঘর। প্রতিটি বাড়িতে সৃজিত পানবরজ।

মাতৃতান্ত্রিক খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুরুষরা গাছ বেয়ে বরজ থেকে পান পাতা সংগ্রহ করেন। আর বাড়ির উঠোনে বসে নারী সদস্যরা পান পাতা ভাঁজ করে খাঁচা ভর্তি করেন বিক্রির জন্য। পান পাতা সংগ্রহ ও খাঁচা ভর্তি করার অভিনব দৃশ্য পর্যটকদের নজরকাড়ে। পানবরজ ছাড়াও খাসিয়া পল্লীতে দেখা যাবে কমলা বাগান। কাঁচা-পাকা কমলায় নুয়ে আছে বাগানের গাছ। সংগ্রামপুঞ্জির রাস্তা ধরে আরেকটু এগুলো দেখা যাবে দেশের প্রথম সমতল চা বাগান।

jaflong3ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জনবনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যেরঅবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন।

পাথর ব্যবসারপ্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরামসৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতি প্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে।

কয়েক যুগ ধরে জাফলং এলাকা দেশের ২য় বৃহত্তম পর্যটন নগরী হিসাবে দেশ ও বিদেশের ভ্রমন পিপাসুদের কাছে যেমন পরিচিত তেমন সরকারী ভাবেও উল্লেখযোগ্য পর্যটন নগীর হিসাবে খ্যাত। প্রতি বছর ঈদ ছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার পর্যটক ছাড়াও বিদেশী পর্যটকরাও প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে এক নজর দেখতে জাফলং পর্যটন এরিয়া ঘুরে যান। এসব পর্যটকদের আদর আপ্যায়ন করতে গড়ে উঠেছে জাফলং এলাকায় ভিন্ন রকম ব্যবসা বানিজ্য। এতে রয়েছে আবাসিক-অনাবাসিক হোঠেল রেস্তুরা, দেশী-বিদেশী কাপড়-চোপড়ের ব্যাপক পশরা এবং কসমেটিকসহ নানা রকম গিফট সামগ্রী।

Jaflong_5যাবেন যেভাবেঃ

সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। সিলেটে থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা বা লেগুনায় যাওয়া যায় জাফলংয়ে। সিলেট শহরের যেকোনো অটোরিকশা বা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে যাওয়া যাবে জাফলংয়ে। আর জাফলংমুখী বাস ছাড়ে নগরীর শিবগঞ্জ থেকে। প্রতি এক ঘন্টা পরপর পাওয়া যাবে বাস।

থাকা খাওয়া :

জেলা পরিষদের বাংলো ছাড়া জাফলংয়ে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে পর্যটককে থাকতে হবে সিলেট শহরে। আর জাফলং যাওয়ার সময় খাবার সঙ্গে করে নিয়ে গেলেই ভালো হয়। কেননা খাসিয়া আদিবাসী গ্রাম সংগ্রামপুঞ্জিতে একমাত্র ক্যাফে সংগ্রাম ছাড়া জাফলংয়ে নেই কোনো ভালোমানের খাবার রেস্টুরেন্ট। জাফলংয়ের জেলা পরিষদে থাকতে চাইলে সিলেট আসার আগে ফোনে রিসোর্টটি বুকিং নিতে হবে। তবে সিলেটে শহরে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। সকল মানের হোটেলই রয়েছে এখানে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পর্যটকদের হাত ছানি দিচ্ছে জাফলং 

02

ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস : জাফলং, বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকা। জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে[১], ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত।

বিবরণ

বাংলাদেশের সিলেটের সীমান্তবর্তি এলাকায় জাফলং অবস্থিত। এর অপর পাশে ভারতের ডাওকি অঞ্চল। ডাওকি অঞ্চলের পাহাড় থেকে ডাওকি নদী এই জাফলং দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।[২] মূলত পিয়াইন নদীর অববাহিকায় জাফলং অবস্থিত।[১] সিলেট জেলার জাফলং-তামাবিল-লালখান অঞ্চলে রয়েছে পাহাড়ী উত্তলভঙ্গ। এই উত্তলভঙ্গে পাললিক শিলা প্রকটিত হয়ে আছে, তাই ওখানে বেশ কয়েকবার ভূতাত্ত্বিক জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে।[৩]

বাংলাদেশে চার ধরণের কঠিন শিলা পাওয়া যায়, তন্মধ্যে ভোলাগঞ্জ-জাফলং-এ পাওয়া যায় কঠিন শিলার নুড়ি।[৪] এছাড়া বর্ষাকালে ভারতীয় সীমান্তবর্তী শিলং মালভূমির পাহাড়গুলোতে প্রবল বৃষ্টিপাত হলে ঐসব পাহাড় থেকে ডাওকি নদীর প্রবল স্রোত বয়ে আনে বড় বড় গণ্ডশিলাও (boulder)।[২] একারণে সিলেট এলাকার জাফলং-এর নদীতে প্রচুর পরিমাণে পাথর পাওয়া যায়। আর এই এলাকার মানুষের এক বৃহৎ অংশের জীবিকা গড়ে উঠেছে এই পাথর উত্তোলন ও তা প্রক্রিয়াজাতকরণকে ঘিরে।

জাফলং-এ পাথর ছাড়াও পাওয়া গেছে সাদামাটি বা চীনামাটিও, যদিও সেখানে মাটি বা বালি পরিশোধন করার মতো কোনো অবকাঠামো নেই।[৫]

এই এলাকায় যেমন সাধারণ বাঙালিরা বসবাস করেন, তেমনি বাস করেন উপজাতিরাও। জাফলং-এর বল্লা, সংগ্রামপুঞ্জি, নকশিয়াপুঞ্জি, লামাপুঞ্জি ও প্রতাপপুর জুড়ে রয়েছে ৫টি খাসিয়াপুঞ্জী।[৬] আদমশুমারী অনুযায়ী জাফলং-এ ১,৯৫৩ জন খাসিয়া উপজাতি বাস করেন।[৭]
ইতিহাস

ঐতিহাসিকদের মতে বহু হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীনে থাকা এক নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে জমিদারী প্রথার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে খাসিয়া-জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটলেও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা পতিতও পড়েছিল। পরবর্তিতে ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করেন, আর পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকলে একসময় গড়ে ওঠে নতুন জনবসতি।[১]
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণ কবর,তামাবিল, জাফলং

১৯৭১ থ্রিস্টাব্দের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সিলেটে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল জাফলংয়ের সীমান্তের ওপারে ভারতের ডাউকিতে। ১৩ জুলাই ইপিআর ও ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের একটি সশস্ত্র দল জাফলংয়ে ঢোকে। পিয়াইন নদীর ভাটিতে বাংলাদেশ অংশে রাজাকার আজিরউদ্দিনের বাড়িতে ছিল একদল পাকিস্তানি সেনা। উভয় পক্ষের মধ্যে দুই দফা যুদ্ধ শেষে পাকিস্তানী বাহিনীর ৫ সেনা নিহত হলে পাকিস্তানিরা পলিয়ে যায়। একই সময় দুজন মুক্তিযোদ্ধাও আহত হন। এছাড়া জাফলংয়ের পাশে সারি নদীতেও বড় আকারের যুদ্ধ হয়। আর এভাবেই শত্রুমুক্ত হয়ে স্বাধীনতা পায় জাফলং। আর আজ জাফলং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রূপ পরিগ্রহ করেছে।[৮] তামাবিল স্থল বন্দরের শুল্ক অফিসের পাশেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণ কবর।
দর্শনীয় বিষয়
চিত্র:জাফলং – Jaflong.jpeg
বিজিবি ক্যাম্প থেকে পাহাড়ের দৃশ্য
জাফলং-এ নদীর মনোরম দৃশ্য
আখ্‌তা ঝরণা, জাফলং

জাফলং-এর বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়ালে ভারত সীমান্ত-অভ্যন্তরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়শ্রেণী দেখা যায়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরণা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতুও আকর্ষণ করে অনেককে।[৯] এছাড়া সর্পিলাকারে বয়ে চলা ডাওকি নদীও টানে পর্যটকদের। মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের ফলে ভারত সীমান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর স্রোত বেড়ে গলে নদী ফিরে পায় তার প্রাণ, আর হয়ে ওঠে আরো মনোরম। ডাওকি নদীর পানির স্বচ্ছতাও জাফলং-এর অন্যতম আকর্ষণ।[২] পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে জাফলং-এ আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা।[১০] এই মেলাকে ঘিরে উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বর্ষাকাল আর শীতকালে জাফলং-এর আলাদা আলাদা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টিস্নাত গাছগাছালি আর খরস্রোতা নদী হয় দেখার মতো। তাছাড়া পাহাড়ের মাথায় মেঘের দৃশ্যও যথেষ্ট মনোরম।
জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য

জাফলং অঞ্চলের উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে খাটো জাতের মধ্যে পাম গাছ (Licuala species) দেখা যায়।[১১]

জাফলং-এ নারিকেল আর সুপারির গাছকে কেন্দ্র করে বাস করে প্রচুর বাদুড়। এছাড়া জাফলং বাজার কিংবা জাফলং জমিদার বাড়িতে আবাস করেছে বাদুড়। যদিও খাদ্যসংকট, আর মানুষের উৎপাতে, কিংবা অবাধ বৃক্ষনিধনে অনেক বাদুড় জাফলং ছেড়ে চলে যাচ্ছে জৈয়ন্তিয়া আর গোয়াইনঘাটের বেঁচে থাকা বনাঞ্চলে, কিংবা প্রতিবেশী দেশ ভারতে।[১২]
পবিবেশ বিপর্যয়

জাফলং-এর পাথর শিল্প একদিকে যেমন ঐ এলাকাকে সকল অঞ্চলের কাছে পরিচিত করেছে, তেমনি এই পাথর শিল্পের যথেচ্ছ বিস্তারে এলাকার বাতাস হয়ে পড়েছে কলুষিত। যন্ত্রের সহায়তায় উন্মুক্ত উপায়ে পাথর ভাঙার কারণে ভাঙা পাথরের গুঁড়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে আর সাধারণ্যের শ্বাস-প্রশ্বাসকে ব্যাহত করছে। এছাড়া সরকারি বিধিনিষেদের তোয়াক্কা না করে নদী থেকে যথেচ্ছ পাথর উত্তোলন নদীর জীববৈচিত্র্য আর উদ্ভিদবৈচিত্র্যকে করে তুলেছে হুমকির সম্মুখিন। এছাড়া অনুমোদনহীনভাবে ৩০-৩৫ ফুট গর্ত করে পাথর উত্তোলন নদী এবং নদী অববাহিকার ভূমিকে করছে হুমকির সম্মুখিন। এলাকার প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিপুল পরিমাণ গাছ কেটে ফেলার কারণে প্রায়ই সেখানে নানা রোগব্যাধির প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়।[১৩] তাছাড়া উজান থেকে নেমে আসা পাথর আর বালুতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় পিয়াইন নদীর নাব্যতা কমে গেছে। ফলে হঠাৎই উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় নিকটবর্তি অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা; যেমন: ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ডাউকি সীমান্তে এরকমই উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে বিডিআর ক্যাম্পসহ বেশ কিছু এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ মে তারিখেও অনুরূপ ঢলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় চা-বাগানসহ বস্তি।[১৪] এছাড়া নিষিদ্ধ “বোমা মেশিন” (স্থানীয় নাম) দিয়ে নদী থেকে পাথর উত্তোলনের কারণে স্থানীয় পিয়াইন নদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বিপুল সম্পদের অপচয়ও পরিবেশ বিপর্যয়ের অন্যতম একটি উদাহরণ (প্রেক্ষিত জুলাই ২০১২)।[১৫]
যাতায়াত ব্যবস্থা

১৯৮০’র দশকে সিলেটের সাথে জাফলং-এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক তৈরি হওয়ার মাধ্যমে দেশের অন্যান্য সকল অঞ্চল থেকে এই এলাকার সাথে সড়ক-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। সড়কপথে সিলেট সদর থেকে এই স্থানের দূরত্ব ৫৬ কিলোমিটার। [১] জাফলং জিরো পয়েন্টে রয়েছে তামাবিল স্থল বন্দর, এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারতের সাথে পণ্য আমদানি রপ্তানী করা হয়। বিশেষ করে ভারত থেকে কয়লা আমদানি করা হয়।
তথ্যসূত্র

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘আকাশনীলা’ 

45

ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস : আকাশনীলা ইকোট্যুরিজম সেন্টার। এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। তারপরও হাতছানি দিচ্ছে পর্যটকদের। সুন্দরবন সংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিসের আওতায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) গড়ে তোলা হচ্ছে ট্যুরিজম সেন্টারটি।

প্রাথমিক নির্মাণ কাজ শেষে আগামী মাসেই উদ্বোধন করা হবে নন্দিত এই বিনোদন ক্ষেত্রটি। আর এর মাধ্যমেই সাতক্ষীরার পর্যটন শিল্প বিকাশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবন দেখার জন্য এখানে রয়েছে পরিবেশবান্ধব সোলার বোট। প্রকৃতি থেকে পাওয়া সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে কটেজ, রেস্টুরেন্টসহ অন্যান্য স্থাপনা। এখানে পর্যটকদের মাছ ধরার জন্য রয়েছে ফিসিং জোন। নিমার্ণাধীন রয়েছে ফিস মিউজিয়াম, হারবেরিয়াম, সংগ্রহশালা।

আর সংগ্রহশালায় থাকবে স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পণ্য-সামগ্রী। সুন্দরবন দেখার জন্য নির্মাণ করা হবে সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। আর চারপাশে সুন্দরবনের গাছ-গাছালি, মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পর্যটক আবুল কাসেম আকাশনীলার সৌন্দর্যের বর্ণনা করে বলেন, ‘ঐ যে সুন্দরবন। কি চমৎকার পরিবেশ। খুবই ভাল লেগেছে। মনটা ভরে গেছে। আর মাছ ধরার মজাইতো আলাদা। পরিপূর্ণতা পেলে জেলার পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হবে আকাশনীলা।’

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের সুন্দরবন সংলগ্ন কলবাড়িতে জেলা প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ও শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ২শ’৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠেছে আকাশনীলা ইকোট্যুরিজম সেন্টার। অবকাশ কাটাতে এখানে থাকবে রাত্রিযাপনের সুযোগও।

পর্যটক মননজয় মন্ডল বলেন, ‘আকাশনীলায় একবার যে আসবে তার প্রিয় ভ্রমণের তালিকায় স্থান পাবে জায়গাটি। উদ্বোধনের পর সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা করা গেলে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হবে এটি। এজন্য অবশ্যই পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।’

আকাশনীলায় ঘুরতে এসে কৃষ্ণ ব্যানার্জি নামের আরও একজন বলেন, সুন্দরবনের বড় অংশটি সাতক্ষীরায়। কিন্তু সুদীর্ঘ কাল ধরে এখানে কোন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে না ওঠায় পর্যটকরা নানারকম বিড়ম্বনায় পড়তো। ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষা সফরে এসে কোথাও বসারও জায়গা পেত না। এখন থেকে আকাশনীলায় আসতে পারবে। সেখান থেকে যেতে পারবে সুন্দরবনে।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) গড়ে তোলা আকাশনীলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাথে কাজ করছে বেসরকারি সংস্থা জোয়ার ও ক্রেল।

জোয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান আকাশ জানান, সুুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প সম্প্রসারণে আকাশনীলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার সবার মন কাড়বে এই কারণে যে, এখানকার সবকিছু পরিবেশ বান্ধব। প্রকৃতির সাথে একাকার হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এখানে। উদ্বোধন না হলেও পর্যটকরা এখানে আসছে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নাগরিক নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কক্সবাজারসহ অন্যান্য জেলা পর্যটনকে ঘিরে বিকশিত হলেও সাতক্ষীরায় কখনও সেই সুযোগ ছিল না। আমরা আশা করছি, সুন্দরবনের কোল ঘেষে গড়ে ওঠা আকাশনীলার মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হবে। তবে এজন্য জেলার রাস্তা-ঘাট তথা যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে।’

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম জানান, ‘আকাশনীলা ইকো-ট্যুরিজম সেন্টার উপজেলা প্রশাসনের ইনোভেশন ইন পাবলিক সার্ভিসের একটি প্রকল্প। মূলত পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) এটি গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি পর্যটন শিল্পকে আরও বিকশিত করতে আকাশনীলা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ নীলাভূমি মনপুরা 

300

ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস : বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন রূপালী দ্বীপ মনপুরা। রাক্ষুসে মেঘনার কোলে লালিত চতুর্দিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত সবুজ-শ্যামল ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা। সু-বিশাল নদী-নালা, চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ, বিভিন্ন ধরনের ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগনে সমৃদ্ধ।

মনপুরা উপজেলা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশীদের কাছেও। যেসব জেলার বা বিভাগের লোকজন মনপুরা ভ্রমনে বা কাজের জন্য এসেছেন বা অবস্থান করেছেন এখানকার মানুষকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এবং ভালবেসেছেন। এখানে না আসলে বোঝাই যাবেনা সবুজের দ্বীপ মনপুরায় কি সৌন্দর্য লুকায়িত আছে। পর্যটনের কি অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে পুরানো এ দ্বীপে। পর্যটক আর ভ্রমন পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেয়ার বহু উপকরণ রয়েছে এ দ্বীপে। এখানে সকাল বেলার সূর্য যেমন হাসতে হাসতে পুর্বদিকে ডিমের লাল কুসুমের মত উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকেল বেলাতেও আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায়। মনপুরাতে এসেই কেবল সুর্যোদয় ও সুর্যাস্ত প্রত্যক্ষ করা যায়।

ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ’র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পর্তুগীজদের আস্তানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় কেশওয়ালা কুকুর। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচেছ ম্যনগ্রোভ প্রজাতির সারিসারি বাগান। মনপুরায় ছোট বড় ৮ থেকে ১০ টি চর ও বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যাম্পাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। শীত মৌসুমে হাজারো পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এসব চরাঞ্চল। এই চরগুলো হলো চরতাজাম্মুল, চর পাতালিয়া, চর পিয়াল, চরনিজাম, চর সামসুউদ্দিন, ঢালচর, চর বদনা, চর জামশেদ, কলাতলীর চর ইত্যাদি।

মনপুরা সদর থেকে ২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব পাশে গড়ে উঠেছে মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড। প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ২শ’ ১০ একর জমিতে গড়ে উঠা খামার বাড়ীটি গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে। খামার বাড়িতে সারি সারি নারিকেল গাছ ও বিশাল ৪ থেকে ৫টি পুকুর রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন খামার বাড়িটি হতে পারে পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ। খামার বাড়িটির পূর্ব পাশেই বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বাগান। মাঝে মধ্যে এখানে হরিণ দেখা যায়। এখানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই দেখা যায়না, এখানে খাবারের রীতিমত আইটেম ছাড়াও বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার লক্ষ করা যায়। শীতের হাঁস, মহিষের কাচা দধি, টাটকা ইলিশ, বড় কই, মাগুর, কোরাল, বোয়াল ও গলদা চিংড়ি। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ ও চর থেকে আনা কাঁচা দুধের স্বাদই আলাদা।

ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরন নিয়ে লিখেছেন, জনৈক মনগাজি নামের ব্যক্তি সে সময়ের জমিদার থেকে মনপুরায় জমি লিজ নেন অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্য যুগে। তখন তার নামানুষারে এ দ্বীপের নাম করণ হয় মনপুরা। জনৈক ব্যক্তিদের মতে মনগাজি নামের লোকটি বাঘের থাবায় প্রাণ হারালে তখন তার নামানুসারে নাম করণ করা হয় মনপুরা। স্থানীয়দের মতে এখানকার খাটি দুধ খেয়ে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা দেখে মানুষের মন ভরে যেত। এজন্য এর নামকরণ করা হয় মনপুরা। তবে মনপুরার নামকরণ নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে।

১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলা জেলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্ধোবস্ত দেয়া হয়। ১৯৮৩ সালে মনপুরাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। এভাবে এগিয়ে যায় আজকের মনপুরা। আয়তন ৩৭ হাজার ৩শ’ ১৯ বর্গ মিটার। ইউনিয়ন ৪টি, গ্রাম ৩৮ টি, জনসংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষাধিক। কৃষি জমি ৩০ হাজার ৫শ’ ৪ একর, বনায়ন ১১ হাজার ১শ’ ১৯ বর্গমিটার, রাস্তার দু-পাশে বনায়ন ১শ’ কিলোমিটার, সর্ব মোট রাস্তা ৫শ’ ৬৬ কিলোমিটার। প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪০ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৮টি, নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি, মাদ্‌রাসা মোট ১০ টি, কলেজ ২ টি, শিক্ষার হার শতকরা ৬০ ভাগ। মসজিদ ১শ’ ১০টি, মন্দির ১৩টি, সাইক্লোন সেন্টার ২৭টি, হাট বাজার ১১টি, নলকূপ ৫শ’ ৫০টি, আদর্শ গ্রাম ২১টি।

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থাই মনপুরার প্রধান সমস্যা। মন চাইলে যে কেউ মনপুরা আসতে বা যেতে পরবেনা। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্চে রুটিন মাফিক। প্রতিদিন ঢাকা থেকে একটি লঞ্চ বিকাল সাড়ে ৫টার সময় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে মনপুরা হয়ে পরদিন সকাল ৯টায় হাতিয়া পৌছে। ঐ লঞ্চটি আবার হাতিয়া থেকে ছাড়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায়। মনপুরাতে আসে দুপুর ১ টায় এবং ১ ঘন্টা যাত্রা বিরতি থাকে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাটে। মনপুরার মানুষ যে লঞ্চে করে ঢাকা থেকে মনপুরা আসেন আবার ঐ একই লঞ্চে করে ঢাকায় চলে যান। এছাড়া ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে তজুমুদ্দিন সি-ট্রাক ঘাট থেকে মনপুরা যাওয়া যায়। সী-ট্রাকটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০ টায় মনপুরা হাজীর হাট ঘাট থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টায় তজুমদ্দিন সী-ট্রাক ঘাটে পৌছে। আবার ঐ দিন বিকেল ৩ টায় তজুমদ্দিন সী-ট্রাক ঘাট থেকে ছেড়ে বিকেল ৬ টায় মনপুরার হাজীর হাট সী-ট্রাক ঘাটে পৌছে।

অপরদিকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে মনপুরার সাকুচিয়া জনতা বাজার রুটে দৈনিক ২টি লঞ্চ চলাচল করে। এছাড়া প্রতিদিন সাকুচিয়া থেকে রামনেওয়াজ হয়ে আলেকজান্ডারের উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ যাত্রা করে। ঐ রুটে দৈনিক শতশত মানুষ যাতায়াত করে। এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নদী পথটি ভয়ানক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এ সময়ে এই রুটে আরেকটি সী-ট্রাকের দাবী জানিয়েছেন যাত্রীরা। বর্তমানে ব্যক্তি মালিকানায় সীমিত পরিসরে স্পীড বোট চলাচল করছে। উদ্যোগটি মনপুরাকে বহুদুর নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

মনপুরাতে ভালোমানের পর্যটন হোটেল না থাকায় পর্যটকরা যেতে খুব একটা আগ্রহী হননা। সরকারী বা বেসরকারীভাবে তজুমদ্দিন রুটে এবং চরফ্যাশন মনপুরা রুটে স্পীড বোট সার্ভিস চালু করলে পর্যটকরা কম সময়ে মনপুরা আসতে পারবেন। মনপুরায় ভাল মানের হোটেল গড়ে উঠলে পর্যটকদের অগমন বাড়বে, প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করলে মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

মনপুরার মানুষ সহজ সরল প্রকৃতির। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে বসবাস করে। এখানকার মানুষ অতিথি পরায়ন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে যে কাউকে আপন করে নেয়। এখানকার মানুষ কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল। মনপুরার শতকরা ৮০ ভাগ লোক কৃষক ও মৎস্যজীবী।

রুপালী সৌন্দর্যের দ্বীপ মনপুরার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি ও প্রশাসনের সাথে আলাপ হয় মনপুরায় পর্যটন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। মনপুরা উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম শাহজাহান, মনপুরা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন জানান, এখানকার অপার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষ তেমন ভাবছেননা। তাছাড়া শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারণে এ দ্বীপের সম্ভাবনা মূল স্রোত থেকে অনেক দুরে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

মনপুরা শিক্ষক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম জানান, মনপুরাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচাতে পারলে, পাশাপাশি সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগের বদৌলতে মনপুরা হতে পারে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এরশাদ হোসেন খাঁন বলেন, এ দ্বীপটি ভোলা জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও নানা উপকরণ ছড়িয়ে আছে এ দ্বীপে। মনপুরার অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা, ভাল মানের হোটেল, যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়াতে পারলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ নীলাভূমি রুপালী দ্বীপ মনপুরায়।

মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মিসেস সেলিনা আক্তার চৌধূরী জানান, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার একটি স্বপ্ন মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নওগাঁর সোমপুর বৌদ্ধবিহার 

photo-1459863087

নওগাঁ : মন ভরে দেখার মতো বাংলাদেশে যত ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে, সোমপুর বিহার তার অন্যতম। তাই বৌদ্ধবিহার দেখার প্ল্যান করতে করতে সোমপুর বিহারসহ নওগাঁর ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে আসতে পারেন।

ব্যস্ততার কারণে যাওয়া হয় না আপনার অনেক জায়গা। বগুড়া থেকে নওগাঁ এক ঘণ্টার রাস্তা। নওগাঁর মহাদেবপুর পৌঁছে রেকর্ডসংখ্যক টেম্পো, অটো, বাস বদলে যখন সোমপুর বিহারে উপস্থিত হবেন, মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতেই সামনে পাবেন জাদুঘর।

জাদুঘর থেকে মন্দিরে যেতে খানিকটা হাঁটতে হবে। স্থাপনা এলাকায় প্রবেশ করতেই চোখ ধাঁধানো দৃশ্য। সোনালি ইটের ওপর রোদের আলো ঝলমল করছে। প্রবেশমুখ থেকে মূল মন্দিরে যেতে পথের দু’পাশে দেশি ফুলের বাগান মোহিত করে, যা পুরাকীর্তিটির সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

ছবি তুলতে তুলতে মন্দিরের দিকে এগুতে থাকেন। বিশাল এলাকাজুড়ে পুরনো দিনের ছোট ছোট ইট দিয়ে নির্মিত প্রশস্ত দেয়াল। তিন-চার মিনিট হেঁটে পৌঁছতে পারেন মূল মন্দিরে। মন্দিরের গায়ে অসংখ্য প্রাণীর ছবি আঁকা। মনে হতে পারে দেয়ালের প্রত্যেকটি ছবির অর্থ আছে।

প্রাচীন মিসরীয় ভাষা হায়ারোগ্লিফের মতো। মন্দিরটি অনেক পুরনো হওয়ায় ভেতরে প্রবেশের রাস্তাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কেমন ভুতুড়ে পরিবেশ। পুরনো ভাঙা ইটের ফাঁকে পা রেখে মন্দিরের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে পারেন। প্রায় চূড়ায় উঠে গেছেন এমন সময় চারদিক থেকে বিকট শব্দে প্রহরীরা বাঁশির শব্দ শুনতে পারেন।

তার মানে আপনি বিপদসীমায় উঠে পড়েছেন। এখন আপনাকে নেমে যেতে হবে। সেখানকার আনসারের কাছে জানতে পারবেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটেছিল অনেক আগে। সেই থেকে কাউকে ওপরে উঠতে দেওয়া হয় না। পুরো মন্দির এলাকা ঘুরতে দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

মন্দিরের চারপাশে কার্পেটের মতো সবুজ ঘাস। নরম ঘাসে হাঁটার অনুভূতি অসাধারণ। এলাকাটা পুরু দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ভেতর থেকে সে দেয়ালে বসা যায়। হাঁটা যায়।

মন্দিরের দক্ষিণ পাশে সে কালে অতিথিদের বসে গল্পের আসর জমানোর জন্য বসার ব্যবস্থা ছিল। ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এখনও বসা যায়। আপনিও বসতে পারেন। তবে পুরনো ইটের আসন বলে উঠতে হবে সাবধানে।

বিহার ও মন্দির দেখে এবার চলে যেতে পারেন জাদুঘরে। জাদুঘরে দেখতে পাবেন তাম্র শাসনের শিলালিপি, ব্রোঞ্জ ও পাথরের মূর্তি, পোড়ামাটির ফলক, সিলমোহর, রঙিন পাথরের গুটি, ছোট ছোট মাটির প্রদীপ, হাতিয়ার, বুদ্ধের মাথার  মূর্তি, স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা ইত্যাদি।

অবস্থান : পাহাড়পুরের অবস্থান নওগাঁর বদলগাছি থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নে। নওগাঁ মূলত সমতল ভূমি এলাকা। তারপরও এই এলাকার নাম শুনে আপনার মনে কৌতূহল জাগতেই পারে।

পাহাড় ছাড়া কীভাবে হলো পাহাড়পুর। অষ্টম শতাব্দী থেকে দশম শতাব্দী পর্যন্ত বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শাসন ছিল। ১২ শতকের শেষের দিকে বৌদ্ধধর্ম একরকম উঠেই যায়।

আয়তন : পাহাড়পুরের পুরাকীর্তি এলাকাটির আয়তন ৪০ একর। তবে বিহার অঙ্গনের আয়তন ২৭ একর।
কীভাবে যাবেন : পাহাড়পুর নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৩৪ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু ব্রিজ হয়ে বাসে ২৫০ টাকায় জয়পুরহাট যাবেন। জয়পুরহাট হতে বাস বা টেম্পোতে ১০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়পুর বাজারে নেমে পূর্বদিকে ৪০০ মিটার যাবেন।

কোথায় থাকবেন : জয়পুরহাটে থাকলেই ভালো হবে। তবে পাহাড়পুরে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের একটি রেস্টহাউস আছে।
তবে ওখানে থাকতে হলে প্রত্নতত্ত্ব অফিস বগুড়া অথবা ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হবে।

এছাড়া নওগাঁ ও জয়পুরহাটে অবস্থিত অনেক হোটেল আছে, তাতেও থাকতে পারবেন সীমিত খরচে।

কী খাবেন : নওগাঁ জেলার খাবারদাবার দেশের অনন্য জেলার মানুষের মতোই। প্রায় সব হোটেলেই ভাত, ডাল মাছ, মাংস পাওয়া যায়। রুটি, পরোটা, সবজিও পাওয়া যায় সকালের নাশতা হিসেবে।

নওগাঁ জেলা চাল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য বিখ্যাত। পোলাও, পায়েস বা বিরিয়ানির জন্য কম দামে ভালো মানের চাল নিয়ে আসতে পারেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মন কাড়ে মধুপুর গড়ের শালবন 

মন কাড়ে মধুপুর গড়ের শালবন

ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস : বাংলাদেশে ভ্রমণের অনেক স্থান থাকলেও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়ের শালবন একটি ঐতিহাসিক স্থান। বিশেষ করে মে মাসে শালের জীর্ণ পাতা ঝরে নতুন পাতায় সুশোভিত হয়। চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ ও বনের অভ্যন্তরে গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রজাতির চারা ও লতা-গুল্ম মন ভরিয়ে দেয়। তখন বনের মধ্যে এখানে-সেখানে থাকে বেগুনি রঙের জারুল গাছের মনকাড়া ফুলের বাহার। তবে জুন মাস এলেই সে দৃশ্যপট পাল্টে শালবনটি ঘন জঙ্গলে রূপ নেয়।

যা যা দেখবেন
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের প্রধান গেট থেকে দোখলা রেস্ট হাউজ পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। সড়কপথে জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশের প্রধান বাহন গাড়ি। আশেপাশে বনের অন্যান্য স্থানে ঘুরলে আরো খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। আশেপাশের এলাকাগুলো আদিবাসী গ্রাম। টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে ময়মনসিংহ যাবার পথে রসুলপুর মাজার নামক স্থানে গিয়ে বামপাশে মধুপুর জাতীয় উদ্যানের প্রধান ফটক। ফটকের পাশেই মধুপুর জাতীয় উদ্যান রেঞ্জ অফিস ও সহকারী বন সংরক্ষকের অফিস অবস্থিত। সেখানে গাড়ি থামিয়ে গেটে অনুমতি নিয়ে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে হয়। তাছাড়া আরও একটু সামনে ২৫ মাইল নামক স্থানে গিয়ে ডানদিকে প্রায় ৯ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দোখলা রেঞ্জ অফিস এবং দোখলা রেস্ট হাউজের অবস্থান। সেখানেও অনুমতি নিয়ে বনের অভ্যন্তরে ঢুকতে হয়। জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ময়মনসিংহ বন বিভাগের রসুলপুর রেঞ্জ কার্যালয় অবস্থিত। এর পাশেই আছে জলই রেস্ট হাউজ ও মহুয়া কটেজ। মধুপুর বনের অভ্যন্তরের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। সবুজ অরণ্যের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও পরিবেশ নৈসর্গিক। ইট বিছানো রাস্তায় চলতে চলতে দুধারের সবুজ বন-বনানীর দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়।

গাছ ও প্রাণির সান্নিধ্যে
মধুপুর জাতীয় উদ্যানের আয়তন ২০,৮৪০ একর। প্রধান ফটক দিয়ে বনের মধ্যে ঢুকলে চোখে পড়ে শুধু শালবন আর সবুজের সমারোহ। বনের অভ্যন্তরে আছে নানান জাতের, নানা বাহারের গাছ-গাছড়া। যেমন- শাল, বহেড়া, আমলকি, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বথ, বট, সর্পগন্ধা, শতমূলী, জয়না, বিধা, আজুকি/হারগাজা, বেহুলা ইত্যাদি। আছে বিভিন্ন প্রজাতির পাহাড়ি আলু ও শটি। আছে নাম না জানা বিচিত্র ধরনের লতা-গুল্ম। দর্শনীয় প্রাণির মধ্যে আছে অসংখ্য বানর ও হনুমান। আছে নানান জাতের পাখ-পাখালি, হরিণ, বনবিড়াল, বনমোরগ, বাঘডাসা ইত্যাদি। বনের ঠিক মাঝখানে আছে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। লহরিয়া বিট অফিস সংলগ্ন এই কেন্দ্রে দেখতে পাওয়া যায় চোখ জুড়ানো চিত্রা হরিণের বিচরণ। সেখানেও হনুমানের সমারোহ সকলকে মুগ্ধ করবে। পাশেই সুউচ্চ টাওয়ারে উঠলে মধুপুর পার্কের অভ্যন্তরে সবুজ গাছপালা দেখে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মুগ্ধ হতে হয়।

রেস্ট হাউজ
দোখলা নামক স্থানে আছে দোখলা রেস্ট হাউজ, চুনিয়া কটেজ, বকুল কটেজ, দুটি পিকনিক স্পট, জুই ও চামেলী বাগান। আছে একটি ইয়ুথ হোস্টেল ও একটি সুউচ্চ টাওয়ার, খেলার মাঠ, পানীয় জল, টয়লেট, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এর পাশেই আছে একটি ছোট্ট বাজার। মধুপুর বনাঞ্চলের অরনখোলা মৌজার বনভূমিতে অবস্থিত বন বিশ্রামাগারটিই দোখলা রেস্ট হাউজ। টাঙ্গাইল জেলা সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের রসুলপুর নামক স্থান থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এর অবস্থান।

যাতায়াত ব্যবস্থা
মধুপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে ও সড়কপথে যেকোনো যানবাহনে যাতায়াত করা যায়। এতে যাতায়াত খরচ হবে ২০, ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যাতায়াত করা যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘুরে আসুন মুন্সীগঞ্জের বার আউলিয়ার মাজার 

Untitled-1

ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস : ইসলামের প্রথম যুগে বঙ্গের রাজধানী বিক্রমপুরের বেশ কয়েকজন সূফী দরবেশ ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসেন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের বড় কেওয়ার সাতানিখিল গ্রামে একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে। তা থেকে প্রমাণ মিলে প্রাচীন বিক্রমপুর তথা বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলায় হিজরী ৪২১ সনে ৯৭৮ খ্রি: সুদূর আরব দেশ থেকে পবিত্র ইসলাম ধর্ম প্রচার করার জন্য মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আনসার ও মুজাহিদ হিসেবে আওলিয়াগণ বাংলাদেশের এই স্থানে আগমন করেন।

আগে এই স্থানটি কালীদাস সাগর ছিল। পরবর্তীতে জঙ্গলাপূর্ণ পতিত ভূমিতে পরিণত হলে ১২ জন আউলিয়া এই স্থানটিকে দ্বীন ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হিসাবে ইমারত, দীঘি ও এবাদতখানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এখানে তারা ওফাৎ গ্রহণ করেন। ১৯৭৪  সালে কেওয়ার গ্রামের তেতুলতলা নামক মাজারের সংস্কার কাজ চলছিল। ভগ্ন একটি মাজার হাতে এক খন্ড পাথরের আরবী ও ফার্সী ভাষার লিখিত ১২ সূফী দরবেশ বা ইসলাম ধর্ম প্রচারকের নাম পাওয়া যায়।

কলেমা তায়্যিবা খচিত ও ৪২১ হিজরী শিলালিপিতে স্পষ্টক্ষরে লেখা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ জন অলি বা দরবেশের নাম পাথরটিতে উল্লেখ রয়েছে। তৎকালীন শ্রীনাথ গুপ্তের রাজত্বকালে এ অলিরা এখানে এসে ইসলাম প্রচার করেন। অর্থাৎ মুন্সীগঞ্জের কেওয়ার তেতুলতলা গ্রামে এসে তাঁরা বসতী স্থাপন করেন। মাজারের শিলালিপিতে আরো উল্লেখ রয়েছে, আরবের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলাম প্রচারে মুন্সীগঞ্জের কেওয়ার প্রামে এসে তারা বসতী স্থাপন করেন।

মাজারের শিলালিপি অনুসারে ১২ জন অলির নাম এইরূপ : শাহ সুলতান হোসাইনী (রহঃ) মদিনাবাসী, সুলতান সাব্বির হোসাইন (রহঃ), কবীর হাসিমি (রহঃ), আল হাসান (রহঃ), শেখ হোসাইন (রহঃ), আবুল হাসেম হোসাইনী (রহঃ), হাফেজ আবু বক্কর সিদ্দিক (রহঃ), হযরত ইয়াছিন (রহঃ), ওবায়েদ ইবনে মুসলিম আসাদী (রহঃ), আব্দুল হালিম (রহঃ), শাহদাৎ হোসাইনী (রহঃ) এবং আবুল কাহার আল বাগদাদী (রহঃ)। এরা মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরে স্বরস্বতী, কেওয়ার, মহাকালী, বজ্রযোগিনী, চম্পাতলা, রাজবাড়ী, শ্রীপুর, কার্তিকপুরে ইসলাম প্রচার করেন। কেওয়ার এলাকার পানির অভাব দূরীকরণে দীঘি খনন করেন। সেই দিঘী এখনো বিদ্যমান। ১৯৭৪ সাল থেকে কেওয়ারে তেতুলতলা মাজার বার আউলিয়ার মাজার হিসাবে মুন্সীগঞ্জ জেলায় পরিচিতি লাভ  করেছে।

কিভাবে যাওয়া যায়
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জ। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের কেওয়ার গ্রামে বার আউলিয়ার মাজারটি অবস্থিত। সড়কপথে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জের দূরুত্ব মাত্র ২৩ কিলোমিটার। তবে এই মাজারে আসার জন্য আরো প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আসতে হবে। ঢাকা থেকে সকালে এসে মাজার জিয়ারত করে বিকেলেই ঢাকায় ফিরে আসা যাবে। সড়কপথ পিচঢালা। তবে নৌপথে গেলে সময়ও বাচঁবে এবং যানজট এড়িয়ে নদী পথের সৌন্দর্য গ্রহণ করে স্বাচ্ছন্দের সাথে পৌছানো যাবে। সদর ঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জগামী লঞ্চে ২ ঘন্টার মধ্যেই পৌছে যাওয়া যাবে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে। মুন্সীগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট থেকে থেকে কেওয়ার গ্রামে বার আউলিয়ার মাজারের রিক্সায় ভাড়া ৪৫-৫০ টাকা। গাড়ি নিয়েও যাওয়া যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাড়ে ৩শ’ বছরের হাম্মামখানা 

104950Bus-Dhormoghot-(2)

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : যশোর জেলার কেশবপুরের মীর্জানগর হাম্মামখানা ৩শ’ ৬১ বছরের প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে হাম্মামখানার চারপাশ। সুযোগ পেলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন।

অবস্থান
যশোর জেলার কেশবপুর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে কপোতাক্ষ ও বুড়িভদ্রা নদীর মিলনস্থল ত্রিমোহিনীর মীর্জানগর নামক স্থানে অবস্থিত।

নির্মাণের ইতিহাস
সম্রাট আকবরের সময় (১৬৩৯-৬০ খ্রিস্টাব্দ) বাংলার সুবেদার শাহ সুজার শ্যালকপুত্র মীর্জা সাফসি খাঁন ১৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে যশোরের ফৌজদার নিযুক্ত হন। তাঁর নামানুসারে এলাকাটির নাম হয় মীর্জানগর। তিনি মীর্জানগরে অনেক ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর পরেও এখানে অনেক ফৌজদার শাসন ক্ষমতায় আসেন। তাঁরাও এখানে অনেক ভবন নির্মাণ করেন। তাঁদেরই কেউ একজন এখানে সুবিস্তৃত পরিখা খনন করে আট-দশ ফুট উঁচু প্রাচীর তৈরি করে মতিঝিল নামকরণ করেন। এর একাংশে বতকখানা, জোনানাসহ হাম্মামখানা (গোসলখানা) ও দুর্গের পূর্বদিকে সদর তোরণ নির্মাণ করেছিলেন।

বৈশিষ্ট্য
পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা চার কক্ষ বিশিষ্ট এবং একটি কূপসহ হাম্মামখানাটি মোগল স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে নির্মিত। স্থাপনাটি চার গম্বুজ বিশিষ্ট। এর পশ্চিম দিকে পরপর দুটি কক্ষ। পূর্বদিকের কক্ষ দুটি উঁচু চৌবাচ্চা হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর জানালাগুলো এমন উঁচু করে তৈরি যাতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে শরীরের নিম্নাংশ দেখা না যায়। পূর্বপাশে দেয়াল বেষ্টনীর ভেতরে রয়েছে ৯ ফুট ব্যাসের ইটের নির্মিত সুগভীর কূপ। সেই কূপ থেকে পানি টেনে তুলে এর ছাদের দু’টি চৌবাচ্চায় জমা করে রৌদ্রে গরম করে দেয়াল অভ্যন্তরে স্থাপিত পোড়ামাটির নলের মাধ্যমে স্নানকক্ষে সরবরাহ করা হতো। স্থাপনাটির দক্ষিণপাশে একটি চৌবাচ্চা এবং একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যা তোষাখানা ছিল বলে অনুমিত হয়।
1455871085

সংস্কার
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এটিকে পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে এবং সংস্কার করে।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ট্রেন অথবা বাসযোগে যশোর যেতে হবে। সেখান থেকে পৌঁছতে হবে কেশবপুর। পরে কেশবপুর থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে গেলেই পেয়ে যাবেন হাম্মামখানা। ঢাকা ছাড়াও দেশের যেকোনো অঞ্চল থেকে সড়কপথে যাওয়া যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘুরে আসুন নুহাশ পল্লী 

2-5

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ঢাকার অদূরে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রাকৃতিক নৈসর্গ নুহাশ পল্লী। পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র ও শুটিংস্পট হিসেবে এটি বেশ পরিচিত। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হোতাপাড়া বাজার। সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে পিরুজালী গ্রামে অবস্থিত নুহাশপল্লী। ১৯৯৭ সালে হুমায়ূন আহমেদ নুহাশ পল্লী গড়ে তোলেন। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ৪০ বিঘার এ বাগান বাড়িতে ফল, কাঠ ও ভেষজ গুণাবলীর কয়েকশ` প্রজাতির গাছ রয়েছে। নুহাশ পল্লীর মূল ফটক পেরোলেই চোখে পড়বে সবুজ ঘাসের গালিচা। যা দেখলে যে কারো চোখ ও মন দুই জুড়িয়ে যাবে।

হুমায়ূন আহমেদ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে তৈরি করেছেন ‘নুহাশ পাল্লী’। এখানে ২৫০ প্রজাতির দূর্লভ ঔষধি, মসলা জাতীয়, ফলজ ও বনজ গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছের গায়ে সেটে দেয়া আছে পরিচিতি ফলক, যা দেখে গাছ চেনা যাবে সহজেই। সবুজ মাঠের মাঝখানে একটি বড় গাছের উপর ছোট ছোট ঘর তৈরি করা হয়েছে। শুটিং এর জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি ঘরগুলো আবাক করবে আপনাকে।

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত প্রায় সকল নাটক সিনেমার অন্যতম শুটিং স্পট এটি। উদ্যানের পূর্ব দিকে রয়েছে খেজুর বাগান। বাগনের এক পাশে “বৃষ্টি বিলাস” নমে অত্যাধুনিক একটি বাড়ি রয়েছে। নুহাশ পল্লীর আরেক আকর্ষণ “লীলাবতী দীঘি”। দীঘির চারপাশ জুড়ে নানা রকমের গাছ। রয়েছে সানকাধানো ঘাট। পুকুরের মাঝখানে একটি দ্বীপ। সেখানে অনেকগুলো নরিকেল গাছ।
এছাড়া এখানে দেখা মিলবে হুমায়ূন আহমেদের আবক্ষ মূর্তি ও সমাধিস্থল, পদ্মপুকুর, সরোবরে পাথরের মৎসকন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রানীদের অনুকীর্তি, অর্গানিক ফর্মে ডিজাইন করা অ্যাবড়োথেবড়ো সুইমিং পুল, দাবার গুটির প্রতিকৃতি, টি-হাউসসহ নানা রকম দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপত্য।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পানিপথে ঘুরে আসুন কাসালং 

1-1

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার বিস্ময় রাঙ্গামাটি। পার্বত্য এলাকা হিসেবে মন কেড়ে নেয় পর্যটকদের। রাঙ্গামাটির আকর্ষণীয় এক জায়গার নাম কাসালং নদী। পানিপথেই যেতে হয় সেখানে। এখানে জলের সঙ্গে মিতালি গড়ে উঠবে মুহূর্তেই। সময়-সুযোগ হলে ঘুরে আসতে দোষ কী?

অবস্থান : কাসালং উত্তর-পূর্ব পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় কর্ণফুলী নদীর একটি প্রধান উপনদী। ভারতের মিজোরাম রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় পর্বতশ্রেণি থেকে উৎসারিত হয়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র স্রোতধারা রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি এলাকায় একত্রে মিলিত হয়ে কাসালং নদীর সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর প্রবাহিত নদীটি রাঙ্গামাটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে কেদারমারাতে এসে কর্ণফুলী নদীতে পড়েছে। নদীটি ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সারা বছরই খরস্রোতা।

বৈশিষ্ট্য : লঞ্চে যেতে যেতে নদীর দুই পাশের দৃশ্যাবলীও আপনাকে পুলকিত করবে। কাসালংয়ে ছোট-বড় বেশ কয়টি ঝরনা রয়েছে। এসব ঝরনার শব্দ আপনার কানে বৃষ্টির শব্দের মতো অনুভূত হবে। কাসালংয়ে মুরং, বম, বনজোগি, থিয়াং, পাডেনাই উপজাতিদের জীবনধারাও আপনাকে মুগ্ধ করবে। এখানে রয়েছে সারি সারি বন, উপত্যাকা, গিরিচূড়া, হ্রদ ও ঝরনা। কাসালংয়ের একটু পূর্বে সাজেক ভেলি; যেখানে লুসাই উপজাতিদের বসবাস।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে বা দেশের যেকোনো স্থান থেকে সড়ক পথে রাঙ্গামাটি যাওয়া যায়। রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে প্রতিদিন সকাল আটটায় কাসালংয়ের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘুরে আসুন চন্দ্রমহল ইকোপার্ক 

1-1

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : আমাদের দেশে শীতকালেই তুলনামূলক ঘোরাঘুরিটা বেশি হয়। চারিদিকে শীতল একটা পরিবেশ থাকে। তাইতো সবাই যার যার সুবিধামতো বেরিয়ে পড়ে ভ্রমণ করতে। বাংলাদেশে এতটাই দর্শনীয় স্থান যে মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয়- কোনটা রেখে কোনটা দেখব। তবে বলে রাখি- ঘুরতে তো আর মানা নেই। সুযোগ পেলেই তো ঘুরে আসা যায়। এবার না হয় বাগেরহাটের চন্দ্রমহলটাই ঘুরে আসুন। পরের বার অবসরে অন্য কোথাও।

কেন এই চন্দ্রমহল?
বাগেরহাটের সৈয়দ আমানুল হুদা ১৯৭৪ সালের ৩০ মে উচ্চ শিক্ষার জন্য ১৯ বছর বয়সে অস্ট্রিয়ার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। সেখানে প্রথমে ম্যানেজমেন্ট ও তার সঙ্গে ট্যুরিজম ও হোটেল ম্যানেজমেন্টের উপর উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৮৩ সালে অস্ট্রিয়াতে চাকরিরত অবস্থায় দেশে কুষ্টিয়ার নাসিমা হুদা চন্দ্রার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৫ সালে জার্মান আমেরিকান জাহাজে দায়িত্বশীল পদে চাকরি নেন। ১৯৯৭ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন ও গার্মেন্টস শিল্পের সঙ্গে জড়িত হন। ২০০৬ সালে বাগেরহাট সদর উপজেলার রণজিৎপুরে চন্দ্রমহলের স্বপ্ন পূরণের কাজ শুরু করেন। ২০০৯ সালে আংশিক কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করেন।

অনুপ্রেরণা
চন্দ্রমহল তৈরির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার স্ত্রী নাসিমা হুদা চন্দ্রা। আর নির্মাণ প্রক্রিয়ায় তার ছোট মামা সৈয়দ আবু ইউসুফ, শিল্পী ওয়াহিদ, শিমুল, খেলাফত মাস্টার, সুনিল মিস্ত্রি, জাহিদ মিস্ত্রিদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

2-4
চন্দ্রমহল
তাজমহলের আদলে তৈরি; ৪০ ফুট উচ্চতা, ৫০ ফুট প্রশ্বস্ত ও ৪০ ফুট দৈর্ঘের আরসিসি কলাম ও দেশি প্রথায় লিংটন প্রযুক্তিতে তৈরি। বাহির এবং অন্দরে উন্নতমানের টাইলস ও মার্বেল পাথর দ্বারা আবৃত। নিচতলায় ৩টি কক্ষ ও ২টি গোসলখানা রয়েছে। পাতালপুরিতে ১টি কক্ষ ও দোতলায় ৩টি কক্ষ রয়েছে। প্রধান শয়নকক্ষ থেকে ছাদে যাওয়ার সিঁড়ি রয়েছে। ছাদের তিন কোণায় ৩টি গম্বুজের নিচে বসার স্থান ও একপাশে ব্যক্তিগত নামাজের স্থান রয়েছে। মহলের প্রধান গম্বুজ ১০টি ভাগে ভাগ করা ও তার মধ্যে ৫টি অংশ সোনালি আয়না দ্বারা আবৃত।

প্রবেশ মূল্য
জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকার টিকিট কেটে চন্দ্রমহলে প্রবেশ করতে হবে। চার বছরের নিচে শিশুর টিকিটের প্রয়োজন নেই।

আরো যা দেখবেন
পাতাল সুড়ঙ্গ: চারপাশে পানি বেষ্টিত চন্দ্রমহলে প্রবেশের জন্য পাথর ও রড-সিমেন্ট দ্বারা তৈরি একটি পাতাল সুড়ঙ্গ রয়েছে। এটি ৩০ ফুট লম্বা এবং ১৪ ফুট পানির নিচে দিয়ে তৈরি। সুড়ঙ্গে ৪টি কাচের জানালা আছে- যা দ্বারা বাহিরের মাছ দেখা যায়।

মিনার: চন্দ্রমহলের ১৫ ফুট অদূরে প্রেমের সাক্ষীস্বরূপ ৫০ ফুট উচ্চতার একটি মিনার আছে। এর উপরে ওঠার সিঁড়ি আছে কিন্তু বসবাসরত দেশীয় প্রজাতির পাখির জন্য তা বন্ধ রাখা রয়েছে।

2-5

যাদুঘর: চন্দ্রমহলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত একটি যাদুঘর আছে। ডাকটিকিট থেকে শুরু করে প্রাচীন মুদ্রা, পুরাকৃতি, হস্তশিল্প, তলোয়ার, চিত্রশিল্পসহ বিভিন্ন জিনিস রয়েছে।

অন্যান্য স্থাপনা: চন্দ্রমহলে আছে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, নানা স্থানে গান্ধী, তেরেসা, ফেলানী ও একাত্তরের রাজাকারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ভাস্কর্য, গ্রামীণ আবহে তৈরি মূর্তি, গ্রামীণ নারী-কৃষকের প্রতিকৃতি, শ্বেতপাথরের দাবা, ক্ষুদ্রতম কোরআন শরীফ, প্রাচীনতম গ্রামোফোন, জীবিত সাদা ময়ূর এবং ময়ূরপঙ্খী নাও প্রভৃতি।

নারিকেল বাগান: চন্দ্রমহলের সীমানার মধ্যেই ১০টি পুকুরের চারপাশে রয়েছে সুদৃশ্য নারকেল বাগান। বাগানে দলবেঁধে পিকনিক করে আসতে পারেন।

৩

পিকনিক: পিকনিক স্পট ভাড়া ৪শ’ টাকা।

রেস্টহাউজ: এখানে আছে ফ্রেস হওয়ার জন্য ২টি রেস্টহাউজ।

যেভাবে যাবেন
বাসযোগে ঢাকা বা খুলনা থেকে বাগেরহাট জেলার মংলাপোর্টে যেতে রামপাল উপজেলার সোনাতুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। এখান থেকে হাতের বামে ভ্যানে জনপ্রতি ১৫-২০টাকা ভাড়ায় চন্দ্রমহল যেতে হবে। তবে আপনার ব্যক্তিগত কোন যান এ রাস্তায় নিতে পারবেন না। সোনাতুনিয়া বাসস্ট্যান্ডে পার্কিং প্লেস আছে সেখানে নির্ধারিত ফি’র বিনিময়ে পার্কিং করে রাখতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চলে আসুন সাজেক ভ্যালিতে 

8-3

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত সাজেক। এ পাহাড়ের চূড়া থেকে মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য দেখে বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে পড়বে যেকোনো আগন্তুক। নাগরিক জীবনের সব ক্লান্তির অবসানে চলে আসুন সাজেক ভ্যালিতে।

দার্জিলিংয়ের প্রতিচ্ছবি রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি। বাংলাদেশ ও ভারতের মিজোরাম সীমান্তের কূলঘেঁষা অপার সম্ভাবনার জনপদ সাজেক ভ্যালিতে বসে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থেকে একখণ্ড সময় কাটায় প্রকৃতিপ্রেমীরা। তাদের হৃদয় ও মন ছুঁয়ে যায় নৈসর্গিক এ স্থানটির রূপ-লাবণ্যে। মেঘাচ্ছন্ন দিনে সাজেক আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন ও অপরূপ হয়ে ওঠে। সাজেকের সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসু যে কাউকেই মুগ্ধ করবে অনায়াসে।

এক সময় সাজেক যাওয়া স্বপ্ন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুবাদে কয়েক বছর আগে সাজেক পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে বদলে যেতে শুরু করেছে সাজেকবাসীর জীবনচিত্র। সৌন্দর্যের টানে বহু পর্যটক এখন সাজেক আসছেন। দেশের সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন সাজেক।

আয়তন ৬০৭ বর্গমাইল, যা দেশের কোনো কোনো জেলার চেয়েও বড়। এখানকার লোকসংখ্যা মাত্র হাজার দশেক। দীঘিনালা থেকে সাজেক যেতে সময় লাগে মাত্র দেড়-দুই ঘণ্টা।
পথিমধ্যে চোখে পড়বে ঢেউ খেলানো অসংখ্য উঁচু-নিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিরে আপন মনে বয়ে চলেছে কাচালং ও মাচালংসহ নাম না-জানা অসংখ্য নদনদী। নদীতে ভাসছে বাঁশের চালি, যা কাপ্তাই লেক হয়ে কর্ণফুলী পেপার মিলে যাবে।

প্রকৃতির সাথে মিতালি করতে এসে পর্যটকেরা যাতে আরো স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়টি মাথায় রেখে সম্প্রতি সেনাবাহিনী পর্যটনের নানা অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করে। সুদৃশ্য সড়ক, কটেজ, বিশ্রামাগার, সড়কবাতি, ক্লাবঘর, শিবমন্দির, পাবলিক টয়লেট, বিদেশী ঘরের আদলে তৈরি রিসোর্ট ‘রুম্ময়’ ও থ্রিস্টার মানের হোটেলও এ পাহাড়ে তৈরি করা হয়েছে। সাজেকের বাসিন্দাদের বেশির ভাগই ভারতে মিজো এবং বাংলাদেশের লুসাই বা পাংখোয়া নামে পরিচিত।

যেভাবে আসবেন
সাজেক যেতে হলে সর্বপ্রথম আসতে হবে খাগড়াছড়িতে। সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও খাগড়াছড়ি দিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে সহজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে সহজেই এখানে পৌঁছে যাওয়া যায়। তাই প্রথমে ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, কলাবাগান ও ফকিরাপুল থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে বাসে চলে আসুন। আবার ট্রেনে চট্টগ্রাম এসে চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে খাগড়াছড়ির বাস পাওয়া যায়। খাগড়াছড়ি থেকে চাঁদের গাড়ি (জিপ গাড়ি), মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে চড়ে যেতে পারেন সাজেক। তবে এ ক্ষেত্রে চাঁদের গাড়িই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। কারণ স্থানীয় ড্রাইভার এসব চাঁদের গাড়ি চালায়। এ কারণে দুর্ঘটনার ভয় কম থাকে।

যেথায় থাকবেন
একসময় সাজেকে গিয়ে রাত যাপন করা অসম্ভব ব্যাপার হলেও এখন সাজেকে রয়েছে একাধিক কটেজ ও রিসোর্ট। তবে এই সুবিধা চালু হয়েছে মাত্র কয়েক বছর হলো। এর আগে এখানে ঘুরে আসার কথা চিন্তা করাটাই কষ্টকর ছিল।

পর্যটকদের সুবিধার্থে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সাজেকে চলছে নানান অবকাঠামো তৈরির কাজ। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসছেন মায়াভরা সাজেকের সৌন্দর্য অবলোকনে। দার্জিলিংয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় পর্যটকেরা সাজেকের নাম দিয়েছেন বাংলার দার্জিলিং।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেখে আসুন অলৌকিক মসজিদ 

2-2

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : মসজিদের নাম ‘জ্বীনের মসজিদ’। নামকরণের ক্ষেত্রে জ্বীনতাত্ত্বিক কারণও রয়েছে। শোনা যায়, মসজিদটি কোন মানুষের নকশায় শ্রমিকের ঘামে গড়ে ওঠেনি। অলৌকিকভাবে একরাতের মধ্যে গড়ে উঠেছে মসজিদটি। তাই স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছে ‘জ্বীনের মসজিদ’। মন চাইলে দেখে আসতে পারেন মসজিদটি।

তাদের ধারণা, আনুমানিক দুইশ বছর আগে কোন এক রাতে অলৌকিকভাবে গড়ে ওঠে একটি মসজিদ। আগের দিন পর্যন্ত যেখানে ছিল অথৈ পানি। একরাতের মধ্যে পানির ভিতর মাটি ফেলে কারুকার্যখঁচিত একটি মসজিদ নির্মাণ করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। নিশ্চয়ই এটা জ্বীনের কাজ।

স্থানীয় প্রবীণরা দাবি করেন, সম্ভবত দুইশ বছর আগে একরাতে জ্বীনেরা এ মসজিদের কাজ শুরু করে। ভোররাতের দিকে পার্শ্ববর্তী বাড়ির একজন ওজু করতে বের হলে জ্বীনেরা চলে যায়। এজন্য কিছু কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। এখন পর্যন্ত সেভাবেই আছে।

মসজিদটি নির্মিত হওয়ার পর প্রায় ৫০-৬০ বছর কেউ সেখানে নামাজ পড়তে যাননি। কারণ তার আশেপাশে তেমন বসতি ছিল না। যে দু-একটা ঘর ছিল, তারা ভয়ে মসজিদের কাছে যেত না। পরে বসতি বাড়ার সাথে সাথে কিছু মানুষ নামাজ পড়তে যেতে থাকে। তখন নামাজের সময় কিছু অপরিচিত মানুষ অংশগ্রহণ করতো বলে কথিত রয়েছে। প্রায় একশ বছর পর মসজিদের কিছুটা সংস্কার করা হয়। তবে ছাদের ওপর ওঠার সাহস এখনো কেউ দেখাননি।

পাঁচ কাঠা জমির ওপর স্থাপিত চতুর্ভূজ আকৃতির মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট। মসজিদের ভেতরে নামাজের জন্য তিনটি কাতার বা লাইন দাঁড়াতে পারে। প্রতি লাইনে কমপক্ষে দশজন দাঁড়াতে পারে। মসজিদে এখনো নির্দিষ্ট কোন ইমাম নেই। বা কেউ মসজিদের অভ্যন্তরে অবস্থান করে না। একা একা কেউ নামাজও পড়তে আসেন না। বিশেষ করে জোহর ও এশার নামাজ পড়তে এখনো ভয় পান মুসল্লিরা।

প্রাচীন এই মসজিদটি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘুরে আসুন সৌন্দর্যের লীলাভূমি দুর্গাপুর-বিরিশিরি 

8-2

নিউজ৬৯বিডি ডেস্ক : প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি দুর্গাপুর-বিরিশিরি। সোমেশ্বরী নদীর জল শুকিয়েছে শরতের শেষভাগে। হেমন্তে জেগেছে চর। মাঝ নদীতেই এখন গলা পানি। যতদূর চোখ যায় দিগন্তজোড়া মাঠ আর ধু ধু বালি। তারপরও সোমেশ্বরীতে যতটুকু পানির অস্তিত্ব তাতে ছোট ছোট পানসি, ট্রলারও চলছে। আয়নাসদৃশ স্বচ্ছ পানি। তাকালেই নিজের স্পষ্ট প্রতিবিম্ব চোখে পড়ে। মেঘালয়ের গারো পাহাড় থেকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যভাণ্ডার সোমেশ্বরী নদীর উৎপত্তি। দেখে বোঝার উপায় নেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এর বিশাল অংশের বিস্তৃতি। অবশ্য বাংলাদেশেও কম নয়। পুরো নেত্রকোনা জেলা ছাড়িয়ে ময়মনসিংহ- শেরপুরেও এর শাখাপ্রশাখা বিস্তৃত হয়েছে। সোমেশ্বরী নদীই মূলত নেত্রকোনার সুসাং দুর্গাপুর, বিজয়পুর, শিবগঞ্জ, কলমাকান্দাকে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে রাঙিয়েছে। শুধু নদীর টানেই ঘর ছেড়ে চলে আসা যায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর-বিজয়পুরে।

ঢাকা থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব খুব বেশি নয়। বাসযোগে সাড়ে তিন-চার ঘণ্টার পথ। মামুনি এক্সপ্রেস, নিশিতা পরিবহনে খুব অল্প ভাড়ায় মাত্র তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকায় যে কেউ চলে আসতে পারেন নেত্রকোনার দুর্গাপুরের জনপ্রিয় গ্রাম বিরিশিরিতে। ঢাকার মহাখালী থেকে প্রতিদিনই বাস ছেড়ে যায় বিরিশিরির উদ্দেশ্যে। পর্যটকদের থাকার জায়গাও নেহায়েত মন্দ নয়। বিরিশিরিতে নামতেই চোখে পড়বে স্বর্ণা, বিচিত্রা নামের রেস্ট হাউস। তবে থাকার জন্য পর্যটকদের সবচেয়ে উপযুক্ত এবং পছন্দের জায়গা খ্রিস্টান মিশনারির দুটি প্রতিষ্ঠান ওয়াইএমসিএ এবং ওয়াইডব্লিউসিএ। রুম ভাড়াও হাতের নাগালে। ১০০০-১২০০ টাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায়। ভোজন রসিকদের উদরপূর্তির জন্য দুর্গাপুর উপযুক্তস্থান। সোমেশ্বরী নদীতে জাল ফেলে তুলে আনা রুই কাতলা, ছোট মাছের সঙ্গে নানা পদের ভর্তাভাজি, আমিষ খাবারেরও অভাব নেই এখানে। তাছাড়া দুর্গাপুরের দই-মিষ্টান্নও সুস্বাদু।

সোমেশ্বরী নদী আর থাকা-খাওয়ার বর্ণনাতেই দুর্গাপুরের সৌন্দর্য বলে শেষ করা যাবে না। ইতিহাস-ঐতিহ্যেও দারুণ এগিয়ে দুর্গাপুরবাসী। আদিবাসীদের একটি বৃহৎ অংশের বসবাস নেত্রকোনার এ দিকটিতে। গারো-হাজংদের ভিড়ে মুসলমান এখানে সংখ্যালঘু। আছে বেশ কিছু ঘর সনাতনী হিন্দু পরিবারও। এখানে মসজিদ-মাদরাসার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বুঝি মন্দির, গির্জা তৈরি করা হয়েছে। আদিবাসীদের সঙ্গে বাঙালিদের চেহারায় অমিল হলেও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে উভয়ের রয়েছে অমোঘ যোগসূত্র। সংস্কৃতির চর্চাটা এখানে দারুণ।

বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি এখানকার সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। শিক্ষাদীক্ষায়ও পিছিয়ে নেই দুর্গাপুরবাসী। তবে স্কুলের চেয়ে মাদরাসা শিক্ষাটা একটু বেশি। হাজং-গারোদের জন্য তাদের ধর্মীয় চার্চ রয়েছে। গারোদের বেশিরভাগই ব্যাপ্টিস্ট খ্রিস্টান। হাজংরা অধিকাংশ ক্যাথেলিক ধর্মবিশ্বাসী। পর্যটকদের ঘুরে দেখার মতো এখানে রয়েছে সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী। রানীখং নামক জায়গাতে এটির অবস্থান। পাহাড়ের টিলায় আর্চ বিশপ মাইকেলের প্রতিষ্ঠিত সাধু যোসেফের এ ধর্মালয় আদিবাসীদের প্রধান তীর্থস্থান। সোমেশ্বরীর পাড়ঘেঁষা পাহাড়ের টিলায় শুধু সাধু যোসেফেরই নয়, সাধ্বী মারিয়া গোরেট্টির একটি চমৎকার ছাত্রীনিবাসও রয়েছে। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত রানীখংয়ের এই গির্জা দর্শনে যে কারো নয়ন জুড়াবে।

সুসাং দুর্গাপুর-বিরিশিরি গ্রাম থেকে সোমেশ্বরী নদী পার হলেই পার্শ্ববর্তী সীমান্ত অঞ্চল বিজয়পুরের অবস্থান। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বিধাতা যেন অকৃপণ হাতে প্রকৃতিবর দিয়েছে বিজয়পুরকে। ধানকাটার মরসুম চলছে এখন বিজয়পুরের ঘরে ঘরে। সুবিস্তৃত হাইওয়ে রোডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেই কেউ কেউ তাদের হাইজং ধানের মাড়াইয়ের কাজ করছে। ধান শুকাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে সুবিশাল পথটিকেই। বিজয়পুরে সবচেয়ে বড় দর্শনীয় স্থান সাদা-মাটির চেকপোস্ট। রয়েছে বিজিবি ক্যাম্প, কমলাবাগান এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাঘমারা বাজার। প্রতিদিন শত শত মণ চুনা পাথর ট্রাকযোগে বিজয়পুর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। দেশে চীনা মাটির চাহিদার শতকরা আশিভাগই পূরণ করছে বিজয়পুরের সাদা-মাটি।

চীনা মাটিই শুধু নয়, সোমেশ্বরী নদীর বালি আর কয়লার চাহিদাও কম নয়। চীনা মাটির পাড়ঘেঁষাই রয়েছে বেশ কিছু সুউচ্চ পাহাড়, নীল পানির প্রাকৃতিক হ্রদ এবং বিস্তৃর্ণ চারণভূমি। তাছাড়া কমলাবাগান, ওয়াচটাওয়ার, সীমান্ত অঞ্চলের কাঁটাতারের বেড়া বিজয়পুরের খুব কাছ থেকে চোখে পড়ে। বিজিবি ক্যাম্পের সৌন্দর্যও নেহায়েত মন্দ না। একেবারে সোমেশ্বরীর পাড়ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে দেশমাতৃকার সন্তানদের দেশরক্ষা ক্যাম্প। বিজয়পুরের সাদা-মাটি চেকপোস্টে ঢোকার অভিমুখেই চোখে পড়ে হাজংমাতা রাশিমণির স্মৃতিস্তম্ভ। টং ও কৃষক আন্দোলনের পুরোধা এই মহীয়সী নারী ১৯৪৬ সালে তার জীবন উৎসর্গ করেন। একই আন্দোলনে প্রাণ হারান সুরেন্দ্র হাজংও। সকাল সকাল রওনা হলে একদিনেই পুরো বিজয়পুর ঘুরে দেখা যায়। বিরিশিরি ঘাট পার হলে বিজয়পুরে রয়েছে কিছু অটোরিকশা এবং মোটরযান। পর্যটকদের ঘুরে ঘুরে দর্শনীয় স্থান দেখা আর বেড়ানোর জন্য এগুলো ভাড়ায় চালিত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর