২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:২৩, শুক্রবার

অমর একুশে বইমেলা

অমর একুশে বইমেলা 

আবার এসেছে ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের এই মাসে মায়ের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাঙালি। সেই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা এবং পরিণতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। ফেব্রুয়ারি তাই আমাদের জাতীয় চেতনার উন্মেষের স্মারক একটি মাস। এই মাসটি এলে আমরা অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হই, ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি আবেগে আপ্লুত হই এবং অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, উদার চেতনায় নতুন করে উজ্জীবিত হই। এ মাসে নানা উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তা ফুটিয়ে তোলারও চেষ্টা করি। ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে বইমেলা আমাদের তেমনি একটি জাতীয় কৃত্যের অংশ হয়ে গেছে। বলা যায়, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের চাঞ্চল্য অনেকটাই একুশে বইমেলা কেন্দ্রিক। আজ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিনে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ফেব্রুয়ারির এই এক মাস রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও তৎসংলগ্ন মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে পাঠক-লেখক, ক্রেতা-দর্শক নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের পদচারণায় মুখর। ২০১৩ সালে একুশে বইমেলাকে ঘোষণা করা হয়েছে শুধু বাংলাদেশি প্রকাশক ও লেখকদের বইমেলা হিসেবে। অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশকরা কেবল বাংলাদেশে মুদ্রিত ও প্রকাশিত বাংলাদেশের লেখকদের মৌলিক/অনূদিত/সম্পাদিত/সংকলিত বই বিক্রি করতে পারবেন। তবে বিদেশী লেখকের বইয়ের কপিরাইট কিনে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশকের বাংলাদেশে প্রকাশিত বইমেলায় বিক্রি করা যাবে। এবারও সে নীতিই বহাল আছে। একটি উদ্বেগের ব্যাপার যে, একুশে বই মেলায় প্রতি বছরই নতুন বই আসার হার বাড়ছে, কিন্তু মানসম্মত বইয়ের সংখ্যা তেমন বাড়ছে না। যেনতেনভাবে নতুন বই মেলায় আনার প্রবণতায় মানহীন বই, তথ্য ও মুদ্রণত্রুটিযুক্ত বইয়ে বাজার ভরে যাচ্ছে। তাই মেলাকেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে বছরজুড়ে নতুন বই প্রকাশ অব্যাহত রাখলে লেখক-প্রকাশকরা মেলার সময়ের বাড়তি চাপ থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন এবং প্রকাশনার প্রতি যথাযথ মনোযোগী ও যত্নশীল হওয়ার সুযোগ পাবেন।

২০১৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বাইরে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত হয়েছে বইমেলা। একাডেমি প্রাঙ্গণের বাইরে মেলায় স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দাবি করছে। এ ছাড়া টিএসসি-সংলগ্ন এলাকায় গত বছর লেখক-ব্লুগার অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড, পহেলা বৈশাখে নারী লাঞ্ছনার ঘটনার প্রেক্ষিতে এবার মেলা চলাকালীন সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। স্মরণ করতে হয় ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার সময় মৌলবাদী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছিলেন বরেণ্য শিক্ষক লেখক হুমায়ুন আজাদ। গত বছর মেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসি সংলগ্ন এলাকায়ই দুর্বৃত্তদের সশস্ত্র হামলায় নিহত হন লেখক-ব্লুগার অভিজিৎ রায়, আহত হন তার স্ত্রী লেখক বন্যা আহমেদ। আমরা লক্ষ্য করছি আবারো দেশে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্র। তাদের হাতে একের পর এক খুন হচ্ছেন মুক্তচিন্তার লেখক, প্রকাশক। শুধু তাই নয়, যাত্রা-মেলার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন-অনুষ্ঠানাদিও তাদের লক্ষ্যবস্তু। কাজেই অমর একুশে বইমেলা তাদের নাশকতার টার্গেট হওয়া অস্বাভাবিক নয়। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছর মেলা-সংলগ্ন এলাকায় আলোক স্বল্পতা ও নিরাপত্তা জনিত ঘাটতি ছিল, আর পহেলা বৈশাখে লাঞ্ছনার ঘটনাটি ঘটেছে উৎসব স্থলে প্রবেশ ও বহির্গমন পথের কিছুটা অব্যবস্থাপনার কারণে। এবারে অমর একুশে বইমেলা চলাকালীন সংলগ্ন এলাকায় কোনো রকম নিরাপত্তা ঘাটতি ও ব্যবস্থাপনাজনিত দুর্বলতা যাতে না থাকে সেটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধু পর্যাপ্ত র‌্যাব-পুলিশ মোতায়েনই যথেষ্ট নয়, তাদের সার্বক্ষণিক ও ত্বরিৎ তৎপরতা নিশ্চিত করতে হবে। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক থাকবে- উৎসবমুখর হবে বইমেলা, এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গিবাদ দমনে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি 

শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম। গত কয়েক মাসের কয়েকটি ঘটনায় প্রতীয়মান হচ্ছে, জঙ্গিবাদ যেন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ সব ঘটনা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রীতিমতো উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বাগমারার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নামাজের প্রথম রাকাত শেষ হওয়ার পরই এক যুবক আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটান। এতে ওই যুবকের মৃত্যু হয় এবং আহত হয় বেশ কয়েকজন মুসল্লি। এ ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজধানীর মিরপুর-১ এর একটি ছয়তলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে ১৬টি হাতে তৈরি গ্রেনেড ও দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া  গ্রেনেড তৈরির প্রচুর উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। আবার ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির সুরক্ষিত এলাকার দুটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা রীতিমতো বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক।

কারণ, সামরিক বাহিনীর আওতাধীন কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা এটাই প্রথম। আবার এ ঘটনায় যে দুজনকে আটক করা হয়েছে তারা নৌবাহিনীতেই কাজ করতেন। এদের একজন আবার নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার ভূয়া তথ্য দিয়েছিল। গত নভেম্বরে বগুড়ায় মসজিদে ঢুকে গুলি চালানো, রংপুরে মাজারের খাদেমকে হত্যা, দিনাজপুরের মির্জাপুরে সুইহারী ক্যাথলিক মিশন চার্চের ফাদার ও ইতালীয় নাগরিক পিয়েরো পারোলারিকে গুলি, চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে ইসকন নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা, ডিসেম্বরে দিনাজপুরে কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গণে হামলা, কাহারোলে ইস্কন মন্দিরে হামলা, এরও আগে রাজধানীর পুরান ঢাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে হামলা সবই যেন একই সূত্রে গাঁথা। এসব ঘটনার বেশ কয়েকটির দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। আবার মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক ঘটনার রহস্য উন্মোচন বা জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ ইউনিট জানিয়েছে, মিরপুর থেকে যে গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলো তৈরির মূল তিনটি উপকরণই দেশে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ বিদেশ থেকে আনতে হয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বোমা তৈরির মতো স্পর্শকাতর বস্তু সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখ এড়িয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলো ? শুধু তাই নয়, নিরাপত্তা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে এগুলো রাজধানীতেও প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আমাদের আশঙ্কা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে আইএসের হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, এ ধরণের হামলা ঠেকানোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে । তিনি দাবি করেছিলেন, হামলা ঠেকাতে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী সব সময় প্রস্তুত আছে। আবার শুক্রবার কাদিয়ানী মসজিদে হামলার পর বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক  ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে , যদি নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুতই থাকে তাহলে এ ধরণের ঘটনা ঘটে কী করে? আমরা মন্ত্রীদের বাকচাতুরতা শুনতে চাই না। ধর্ম পালন ও নিরাপত্তা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকারের সুরক্ষায় আমরা চাই রাষ্ট্র আরো যত্নবান হোক। সেই সঙ্গে জঙ্গিবাদের উত্থান রোধে জরুরিভিত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হোক। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। সেই সঙ্গে দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করে অপরাধীদের দমনে মনোযোগী হতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দায় মোচনের আরেক ধাপ 

চারদিনের রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে একই সময়ে এ দুই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ দণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে কলঙ্কমোচনের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের পথে যাত্রা শুরু করল বাঙালি জাতি। এতে করে আরেকবার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নজির স্থাপন করল বাংলাদেশ।

আপিল বিভাগে এই পর্যন্ত মোট ৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সাকা-মুজাহিদের আগে কাদের মোল্লা ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। পরে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সে সময়কার আলবদর বাহিনীর নেতা মুজাহিদকে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মুজাহিদ। চলতি বছরের ১৬ জুন ট্রাইব্যুনালের দেয়া ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ। ৩০ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মুজাহিদের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন মুজাহিদ। আপিলের রায়ে দুজনেরই মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজনীতির নানা চড়াই-উৎরাইয়ে ব্যাপক ক্ষমতাধর হয়ে যাওয়া সাকা-মুজাহিদ স্বাভাবিকভাবেই দিনযাপন করছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ইতিহাস ক্ষমা করেনি তাদের। শত হুঙ্কার আর ষড়যন্ত্রের পরও ফাঁসির মঞ্চে তাদের ঝুলতে হলো। ‘বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই’ বলে দাম্ভিকতা দেখিয়েছিলেন মুজাহিদ। বলেছিলেন, একাত্তরে কী করেছেন তা তিনি ভুলে গেছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে পরাজিত শক্তির অন্যতম এই নায়ক ক্ষমতার জোরে ভুলতে চেয়েছিলেন একাত্তরকে। ভুলতে চেয়েছিলেন সব অন্যায়, অপকর্ম। তবে মুজাহিদ ভুলে গেলেও জাতি ভুলতে পারেনি। আর ভুলতে পারেনি বলেই মুক্তিযুদ্ধের সুদীর্ঘ ৪৪ বছর পর কুখ্যাত খুনির ফাঁসির দণ্ড চূড়ান্ত হয়েছে। আর সাকা চৌধুরী একাত্তরে তার ভূমিকার জন্য অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ তো দূর হওয়া বিভিন্ন সময় এ সম্পর্কে অশ্লীল দাম্ভিক উক্তি করেই তিনি আলোচনায় থেকেছেন। এমনকি বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচার সম্পর্কে কটূক্তি এমনকি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদেরও হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন। চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় এখনো ত্রাসের রাজত্ব বহাল রেখেছে তার লোকজন। দেরিতে হলেও এসব ঘৃণ্য অপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ দণ্ড ফাঁসি কার্যকর হয়েছে- এটা পুরো জাতির জন্য স্বস্তির।

একাত্তরে যেসব নরপশু বাঙালির সংগ্রাম-ত্যাগ-তিতিক্ষার বিপক্ষে গিয়ে দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, গণহত্যায় পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে, এমনকি নিজেরা দলগতভাবে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনের মতো মানবতাবিরোধী সব অপরাধকর্মে নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশ নিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ দণ্ডই প্রত্যাশিত। ঘাতক যতই শক্তিশালী হোক না কেন অপরাধ করে পার পাবে না তা প্রমাণিত হলো। আমরা দেখেছি এই দুই যুদ্ধাপরাধী বাঁচাতে বাঁচাতে মানবাধিকার লংঘনের দোহাই দিয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বারবার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থানে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। আশার কথা, দেশি-বিদেশি চাপের পরও এই প্রত্যয় ধরে রাখবে বাংলাদেশ। দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের অবস্থান দেখে আশাবাদী সবাই। বাকি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় দ্রুত কার্যকর করে দেশ কলঙ্কমুক্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছাত্রলীগের হানাহানি 

দেশে একদিকে চাপাতির কোপে লেখকেরা নিহত হচ্ছেন, অন্যদিকে ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরাও রামদা সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সপ্তাহজুড়েই চট্টগ্রাম মহানগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান পক্ষের সংঘর্ষ চলেছে। এতে চবিতে পুলিশের চার সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন এবং নগরে নয়জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রলীগের এই পরিণতির পেছনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশ্রয় ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির দায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানোর নামে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই। পুলিশ ৭৯টি ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৩৫ জন নেতা-কর্মীকে আটক এবং একটি এলজি, একটি কাটাবন্দুক, প্রায় ৭০টি রামদাসহ কয়েক বস্তা লাঠিসোঁটা ও পাথর উদ্ধার করা হয়।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরে তিন সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার সংঘর্ষে জড়ালেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতার অনুসারীরা। রাবার বুলেট, ইটের আঘাত ও দায়ের কোপে আহত হন নয়জন। ২০১৩ সালের ২৪ জুন এই সিআরবি এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শিশুসহ দুজন খুন হন। তখন কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান। উল্লেখ্য, এই দুই পক্ষের নেতারাই বহিষ্কৃত। অর্থাৎ বহিষ্কৃত হলেও দলীয় খুঁটির জোর বহালই থাকে। ছাত্রলীগে এখন ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় দশা৷

ছাত্রলীগ নিয়মিতভাবে অপকর্মের জন্য খবরের শিরোনাম হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রলীগের কাজ উন্নয়ন ও নিয়োগ-বাণিজ্যের বখরা আদায়৷ এই অবস্থায় ছাত্রলীগ কীভাবে ছাত্রদের অধিকার রক্ষা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করবে? এভাবে চলতে থাকলে তাদের দ্বারা কল্যাণকর আর কিছু করা সম্ভব কি না, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন৷

এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে ছাত্ররাজনীতি তো বটেই, জাতীয় রাজনীতিকেও মূল্য দিতে হচ্ছে। এসব অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জনসাধারণকে সচেতন করার বিকল্প নেই 

গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে অসুস্থ হয়ে মেহেরপুর সদর উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধশতাধিক ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বিদ্যালয়ের পাঠদান চলার সময় রবিবার বেলা ১১টার দিকে আকস্মিক এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের পাঠদান চলাকালে সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাকে চিকিৎসকের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার দেখাদেখি বিভিন্ন শ্রেণীর ৪৮ জন ছাত্রী অসুস্থ ও অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ডাক্তারদের মতে, এই রোগে একজন অসুস্থ হলে তার দেখাদেখি অন্যরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে এতে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

কিছুদিন আগেও এ ধরনের একটি গণহিস্টিরিয়ার ঘটনা ঘটেছিল একটি স্কুলে। তাতে শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, শিক্ষকরাও আক্রান্ত হয়ে পড়ে। গণহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর নতুন কিছু নয়। আবার এটা যে শুধু আমাদের এই অঞ্চল বা দেশে ঘটে তাও নয়। তবে এ রোগে সাধারণভাবে মেয়েদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি হয়ে থাকে। শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই যে এটা ঘটে তাও নয়। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেহেতু এক সঙ্গে বেশি সংখ্যায় শিক্ষার্থী থাকে এবং আক্রান্ত হয়, সেহেতু সংবাদ মাধ্যমে তা গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এই রোগ তেমন মারাত্মক নয় বলে এ নিয়ে চিকিৎসক বা জনসাধারণের মধ্যে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

ধরে নেওয়া যায় দুর্বল চিত্তের কারণে মানুষ সহসাই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে আমাদের ধারণা চিত্তের দুর্বলতার সঙ্গে শারীরিক দুর্বলতার সম্পর্ক রয়েছে। যার সঙ্গে রয়েছে আক্রান্তের পারিবারিক অর্থনৈতিক সামর্থ্যেরে প্রশ্ন। অন্যান্য সামাজিক ও পারিবারিক সংকটও ওইসব অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের মানসিক দুর্বলতার কারণ হতে পারে না তা নয়। ঘটনার জন্য কারণ যাই হোক না কেন এ সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে ধারণা আরও পরিষ্কার থাকা দরকার। সচেতন করা দরকার। তাহলে বিপদে মানুষ যেমন তার করণীয় স্থির করতে পারে। আবার এ ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনতে কিছু করণীয় থাকলে তাও নির্ধারণ করতে পারে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কম দামের সুবিধা জনগণ পাবে না কেন 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত এক বছরে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে; কিন্তু বাংলাদেশে তেলের দাম কমেনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গেল এক বছরে লাভ করেছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সাধারণ মানুষকে জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি তেলের বেশি দামের ভোগান্তি বহন করতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম কমায় দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও কমেছে। কিন্তু গোদের ওপর বিষফোঁড়ের মতো এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে।

একদিকে সরকার সরাসরি তেলের দাম কমাচ্ছে না, অন্যদিকে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আয়োজন চলছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, রাষ্ট্র কি মুনাফা তৈরির যন্ত্র না জনগণের রক্ষক? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তত বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত জ্বালনি তেলের দাম কমানো হলে দেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন হবে না। অথচ সে পথে না হেঁটে সংশ্লিষ্টরা উল্টো বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পথে এগোচ্ছেন।

সম্প্রতি ইরানের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং শক্তিধর দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ফলে তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে দুনিয়ার তৃতীয় সর্বোচ্চ দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একদিকে তেলের দাম কমানো হচ্ছে না, অন্যদিকে এরই মধ্যে যদি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি হয়, তাহলে অবশ্যই তা সব স্তরের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সরকারের জনপ্রিয়তার জন্য এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

সরকারের জনপ্রিয়তা জনসেবার ওপরই প্রধানত নির্ভর করে। দুনিয়ার বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসকে কাজে লাগিয়ে সরকার দেশের বিদ্যুতের দামে লাগাম টানতে পারে। এতে সরকার এবং সাধারণ মানুষ সবাই উপকৃত হবে। তাই বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি না করে কীভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের সুযোগ দেশের জন্য কাজে লাগানো যায়, সংশ্লিষ্টরা সেটা বিবেচনা করে দেখবেন- এমনটাই প্রত্যাশা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি 

একের পর এক ভয়ঙ্কর ও নৃশংস শিশুহত্যা আমাদের ইতিহাসে আর কখনও সংঘটিত হয়েছিল কিনা জানা নেই। সামাজিক সুদৃঢ় বন্ধনে আবৃত এ অঞ্চলের মানুষের বিবেকের এমন করুণ মৃত্যুও আমরা অতীতে প্রত্যক্ষ করেছি বলে মনে হয় না। পিটিয়ে মেরে ফেলা কিশোর, গ্যারেজের মালিকের হাতে খুন হওয়া শিশুর লাশ, রাজপথে বাক্সবন্দি নির্যাতিত শিশুর লাশ, মেরে পানিতে ডুবিয়ে রাখা কিশোরী, মায়ের হাতে বিষপানে মৃত্যুবরণকারী শিশু, পিটিয়ে-চোখ তুলে শিশু হত্যা, তথাকথিত জিন তাড়াতে বাবা-মা কর্তৃক সন্তানের মৃত্যু- এমন করুণ, বিকৃত ও বীভৎসতা আমাদের সমাজের এক অভিনব ক্ষত হিসেবে অহরহ ঘটছে। সিলেটে শিশু রাজনকে হত্যা করে দুষ্কৃতকারীদের তৃপ্তি মেটেনি, সেটি আবার মোবাইলে ধারণ করে। এ বর্বরতাকে ছাপিয়ে খুলনায় রাকিবকে কমপ্রেসার মেশিন দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হলো। আমাদের সামাজিক স্তরের ইতিহাসে বিকারগ্রস্ততার এমন নজির খুঁজে পাওয়া ভার। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, কেন এমন হচ্ছে?

ওয়াকিবহাল মহলের সঙ্গে আমরাও মনে করি, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি উসকে দিচ্ছে নৃশংসতা। ক্ষমতার লোভ বিবেককে করছে অন্ধ। মানবিকতার সঙ্কটকালে সমাজের একাংশ ধরাকে সরা জ্ঞান করে চলছে। জবাবদিহির দুর্বলতায় প্রকাশ্যে স্বেচ্ছাচার ও দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। সর্বত্র দুর্বৃত্তায়ন মহামারী আকারে সংক্রমিত হচ্ছে। এ থেকে কোমলমতি শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। সহযোগী একটি পত্রিকার মতে, গত সাড়ে ৩ বছরে দেশে ৭৭৭ শিশু নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হলেও একটি ঘটনারও আজ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের সাজা না হওয়ায় অপরাধের প্রবণতা আজ এ পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বললে অত্যুক্তি হবে না। নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা নিয়ে কর্তৃপক্ষ সোচ্চারকণ্ঠ হলেও মামলা ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। সময় বেঁধে দেয়া থাকলেও বিচার শেষ হয় না।

যেখানে শিশুরা নিরাপদ নয়, সেখানে কেউই নিরাপদ থাকতে পারে না। তাহলে কি আমাদের সমাজ বসবাসের অনুপযোগী হয়েই থাকবে? অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকবে না। তাই শিশু হত্যা প্রতিরোধে দায়িত্বশীলদের এগিয়ে আসতে হবে। সময় ক্ষেপণ না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নিয়োগে অনিয়ম 

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য এখন আর রাখঢাকের কোনো বিষয় নয়। সংবাদপত্রে এ নিয়ে হরহামেশা খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্ত রিপোর্টে অনিয়ম করে শিক্ষক নিয়োগের যে বিস্তর প্রমাণ মিলেছে, তা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই অশনিসঙ্কেত। জাল সনদ, যোগ্যতা না থাকা এবং তথ্য গোপনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নিয়োগ পেয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বেতন হিসেবে তুলে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি এ তদন্তকারী সংস্থাটির বরাতে সহযোগী একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, সব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত তদন্ত করা গেলে শিক্ষকদের আত্মসাতের পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ন্যূনতম যোগ্যতাহীনরা যখন শিক্ষা প্রদানের মহতী কর্মে নিয়োজিত হন, তখন কিছুতেই মানসম্পন্ন শিক্ষা আশা করা যায় না। বাস্তবে হচ্ছেও তা-ই।

দৃশ্যমান ঔজ্জ্বল্যের তলে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতগুলো ক্রমেই উন্মোচিত হয়ে আমাদের আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলছে। নিত্যনতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, কারিকুলাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, প্রতি বছর ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফল পেয়ে উত্তীর্ণ হচ্ছে- এসব সুসংবাদের অপর পিঠে রয়েছে হতাশা ও দুঃসংবাদ। নিয়মিত প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষার খাতা নিরীক্ষা প্রক্রিয়া, অধিকন্তু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা প্রদানের নিম্নমুখীণতা নিয়ে এন্তার অভিযোগ রয়েছে। এগুলোর মূলে অবশ্যই অযোগ্য শিক্ষকদের দায় রয়েছে, তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং স্কুল পরিচালনা পরিষদের সদস্যরাও দায় এড়াতে পারেন না। এক্ষেত্রে জড়িত সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জরুরি।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার হেন কোনো বিষয় নেই যা প্রশ্নবিদ্ধের ঊর্ধ্বে। এখানে সর্বস্তরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা এমনভাবে সংক্রমিত হয়ে পড়েছে যে, আরোগ্য লাভ এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ঠেকাতে পিএসসির ধাঁচে প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন। সেটি একটি শুভ উদ্যোগ, তবে সরষের মধ্যে ভূত থাকলে অবস্থার উন্নতি হবে না। শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি ও সুশাসন সবার আগে আবশ্যক।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শিশু নিপীড়ন 

ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) নামে পরিচিত সরকারের আটটি কেন্দ্রের হিসাবে, ১৫ বছরে বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে সরকারি সেবা কেন্দ্রে আসা নারী ও শিশুর সংখ্যা ২১ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ শিশু। তাদের ৮০ শতাংশই ধর্ষণের শিকার, বাকি শিশু গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সংখ্যার ভিত্তিতে উপরোক্ত পরিস্থিতি কিছুতেই স্বাভাবিক হিসেবে গণ্য হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে সংশ্লিষ্টদের হিসাব মতে, বছরওয়ারি শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনা বেড়েই চলছে- একটি সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক সমাজের জন্য যা খুবই পীড়াদায়ক।

অধিকন্তু এসব কেন্দ্রে শিশুর চিকিৎসাসেবার বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হলেও দায়ের করা মামলাগুলো ঠিকমতো নিষ্পত্তি না হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই ছাড় পেয়ে যাচ্ছে। মোদ্দা কথায়, বারবার যে সত্যটি ঘুরেফিরে আসছে তা হলো, দেশে বিরাজমান বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির কালো থাবা থেকে কোমলমতি শিশুও নিরাপদ নয়। এখনই প্রতিকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠা আগামী প্রজন্মের জন্য উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

বলা হয়ে থাকে, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুরই অন্তরে।’ শিশুর জন্য প্রয়োজন উচ্ছল ও মুক্ত পরিবেশ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শিশুর জন্য নিরাপত্তা ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম বলছে, চলতি বছরের জুলাই মাসেই ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৬৭ শিশু। আর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ধর্ষণ, উত্ত্যক্তসহ যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছে ৩৪৭ শিশু। সংবাদপত্রের ভিত্তিতে এ হিসাব কষা হয়েছে, তবে প্রকৃত হিসাবে সংখ্যাটি আরও বেশি হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, শিশু নিপীড়নের সংখ্যাই শুধু বাড়েনি, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নির্মমতা। নৃশংসভাবে শিশু খুন, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার পর শিশুর ওপর যে ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়ে, তা সহজেই বিস্মৃত হওয়ার নয়। জীবনভর বীভৎস স্মৃতি নিয়ে তাদের অসহনীয়ভাবে জীবন পার করতে হয়। এক্ষেত্রে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকার ও ভুক্তভোগী পরিবারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি আইনি সহযোগিতাও নিশ্চিত করতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আইএসে যোগ দিতে সন্তান ফেলে সিরিয়ায় অস্ট্রেলীয় নারী 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৬ মে : জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অধীনে নতুন জীবন শুরু করতে দুই সন্তান ফেলে সিরিয়া গেছেন এক অস্ট্রেলীয় নারী। ওই জিহাদিদের দলে ইতোমধ্যে শতাধিক অস্ট্রেলীয় যোগ দিয়েছে বলে খবর রয়েছে।

অস্ট্রেলীয় সরকার বলেছে, এই খবর খুবই বিব্রতকর এবং পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সিডনি ডেইলি টেলিগ্রাফ জানায়, অন্য ধর্ম থেকে মুসলমান হওয়া ২৬ বছর বয়সী নারী জেসমিনা মিলোভানভ চলতি মাসের শুরুতে তার ৫ ও ৭ বছর বয়সী দুই সন্তানকে বেবিসিটারে রেখে চলে যান। এরপর তিনি আর ফেরেননি।

তার সাবেক স্বামীর উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, জেসমিনা তাকে এক ক্ষুদে বার্তায় জানিয়েছে, সে এখন সিরিয়া আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার স্বামী বলেন, ‘আমি এখন কেবল আমার সন্তানদের কথা ভাবছি। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না, সে ফুলের মত দুটি শিশুকে রেখে চলে গেছে। কয়েকদিন পরে আমার ছেলে বলে, আমি আশা করি মা ভাল আছে।’

তিনি বলেন, ‘সিরিয়া যাওয়ার আগে সে তার ফেসবুকে কয়েকটি চরমপন্থী কথাবার্তা পোস্ট করে। এ ব্যাপারে আমি তার সাথে কথাও বলেছি। আমি বলেছি, এগুলো চরমপন্থী কথাবার্তা, নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। সে যা ভাবছে আমি সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করেছিলাম।’

ফেসবুকে মিলোভানভের বন্ধুত্ব হয় জারা দুমান নামের এক নারীর সঙ্গে। জারা দুমান অস্ট্রেলিয়ায় ‘জিহাদিদের জন্য স্ত্রী নিয়োগকারী’ এবং আইএসে যোগ দেয়ার জন্য নারীদের ফুসলাতে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত।

দুমানের স্বামী মাহমুদ আব্দুল্লাহ চলতি বছরের শুরুতে আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছে।

মিলোভানভের বন্ধুদের উদ্ধৃতি দিয়ে টেলিগ্রাফ জানায়, সে প্রায়ই একজন জিহাদি যোদ্ধাকে বিয়ে করার কথা বলতো।

নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য পুলিশ বলেছে, তাদের সন্ত্রাস দমন ইউনিট ঘটনাটি তদন্ত করছে।
অস্ট্রেলীয় সরকার জানায়, ইরাক ও সিরিয়ায় জিহাদিদের হয়ে লড়তে শতাধিক অস্ট্রেলীয় সেখানে পালিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩০ জনের বেশি অস্ট্রেলীয় নিহতও হয়েছে।-বিবিসি

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এমন জঙ্গী বউ আমার চাই : এস.এ.সুমন 

এস.এ.সুমন : সে পোগ্রামে যাবে। আমি বলি, দেশের এই পরিস্থিতিতে তুমি পোগ্রামে যাবানা। আমি, আমার ছোট ভাই অথবা আমার বাবা বা আমরা ৬ মাস জেলে বন্দী থাকলেও কিছু হবে না, কিন্তু তুমি অথবা আম্মা ১ ঘন্টার জন্য এরেষ্টে হলেও সেটা মেনে নিতে পারবনা। বলা বাহুল্য, আমি, ছোট ভাই এবং আব্বু আমরা তিনজন কোন রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক পযায়ের সদস্যও নই তবে আমরা তিনজনই বিএনপির সমর্থক, আমার বাবা জিয়াউর রহমানের প্রচন্ড ভক্ত।

ছাত্রী সংস্থা করতো এবং বিয়ের পরে সে আমার বাবা-মাকে মন জয় করে। সে ছাত্রী সংস্থায় যাওয়া বন্ধ করে এলাকার আন্টিদের সাথে বিকালে ১ঘন্টা করে কুরআন হাদিসের আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। তার কাছে কিছু জঙ্গি বই আছে, যেমনঃ দিনে নামাজ কত ওয়াক্ত সঠিক সময়ে পড়েছে, কতটুকু কুরআন তেলওয়াত করেছে, কত জন মহিলাকে কুরআন হাদিস শুনাইছে এসবের লিষ্ট রাখে।

আরও কিছু জঙ্গি বই আছে, যেমন সঠিক নিয়মে নামাজ শিক্ষা, রাসূলের জীবনী, রাসূলের স্ত্রীদের জীবনী সহ এই ঘরনার বহু জঙ্গি বই। সেও সন্ত্রাসীও বটে! বড় হবার পর বাবা-মায়ের শাসনের আয়ত্বের বাইরে এসে কখনো ফজর সঠিক সময়ে পড়তে পারিনি, বিদেশে এসেতো সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘুমাই, কিন্তু দেশে গেলে সে সন্ত্রাসী কায়দায় আমাকে সূর্য উঠার আগে টেনে তুলে, নামাজের পরে সন্ত্রাসী কায়দায় কুরআন সামনে দিয়ে বলে দুই পৃষ্ঠা না পড়লে নাস্তা পাবেন না। সে সেকেলেও বটে! বিয়ের ৪ বছর হতে চললো, কিন্তু একমাত্র দেবরের সাথে এখনো দেখা দেয়নি, কিন্তু তাতে ছোট ভাইয়ের কোন ক্ষোভ নেই।পর্দার ভিতর থেকে তার খোঁজ খবরের কমতি নেই।

বড় ভাই ৪ বছর হলো বিয়ে করছে, বিয়ের পর সাধারণত যে পরিবর্তন চলে আসে অনেকের, (ভাই, বোনের প্রতি টান কমে যাওয়া), তার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পায়নি। আর এই পর্দার কারণে আমি দেশের বাইরে থেকেও স্ত্রীকেও নিয়ে কখনো ১ ফোঁটা চিন্তা করতে হয়নি। বিবাহের পর সংসারের যেসব জটিলতা আসে, স্ত্রী’র সাথে মায়ের কিংবা শশুরের অথবা ননদের ঝামেলা, মিটমাট করা এটা প্রায় প্রবাসীদের মূল মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়ায়।

Capture

কিন্তু আজ পর্যন্ত এসবের ছিটেফোঁটাও পাইনি। মনে হয়, সে যেন জন্ম থেকেই আমাদের বাসায় বড় হয়েছে। শ্বশুর-শাশুড়ীর প্রতি কর্তব্য, দেবর ননদের প্রতি কর্তব্য, ইসালামে যেসব নির্দেশনা দেওয়া আছে, এসবে কিছুটা জানে বলেই সেভাবে চলার চেষ্টা করে। নিজের হাত খরচ থেকে আমার ভাগিনা, ভাগনিদের জন্য জামা কাপড় কিনে নিয়ে আসে, দেবরের জন্য শার্ট কিনে নিয়ে আসে।

একদিন দুষ্টামি করে বলেছিলাম, চলো আমরা দুইজন আলাদা হয়ে যাই!
তৎক্ষনাত বলে বসলো কোনদিন আব্বু আম্মুকে ছেড়ে একা থাকতে বললে আপনাকেই আমি একা করে চলে যাব। স্ত্রীর কাছে প্রায় ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা দলবেঁধে আসতো, একসাথে ৭, ৮ জনও। কিন্তু কোনদিন আমাকে সালাম দেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় কোন কথা বলেনি, ভাইয়া ভাইয়া করে লটর পটর করাতো দূরের কথা। মেয়েরা আসলে আমি পাশের রুমে চলে যাই, এক রুমে যে ৭-৮টা মেয়ে বসা আছে বাইরে থেকে বুঝার উপায় থাকতোনা।

পরিশেষে, আমার সন্ত্রাসী স্ত্রীকে নিয়ে বড় টেনশানে আছি। এই সন্ত্রাসী কখন জঙ্গি বই রাখার অপরাধে গ্রেফতার হয় আর আমি আধা পাগল হই, আল্লাহ জানে।

যখনই কোন মেয়ে গ্রেফতার হওয়ার খবর পাই, সাথে সাথে ফোন করি ওপাশ থেকে হেলো বলার আগ পর্যন্ত আর নিজের হার্টবিট চলেনা।

বি: দি: লেখাটি আমার এক বন্ধুকে নিয়ে লেখা। কিছু কাল্পনিক এবং কিছু বর্তমান সরকারের পরিস্থিতি নিয়ে লেখা – তবে সত্যি বলতে কি আমি ঠিক এমন একটা বউ আল্লাহ্‘র কাছে রোজ নামাজ শেষে দু‘হাত তুলে বলি হে আল্লাহ্ তুমি ঠিক এমন একজন জীবন সঙ্গিনী আমার জীবনে এনে দাও।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদেশীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও বিদেশীদের ভূমিকা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা সফরে আগত মার্কিন দুই মন্ত্রী ওয়েন্ডি শারমেন ও নিশা বিসওয়ালের পাশাপশি এর কারণ তৈরি করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন।

বাংলাদেশের সঙ্গে অংশিদারিত্ব সংলাপ উপলক্ষে আগত ওয়েন্ডি শারমেন ১ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বৈঠকের সময় তারা সদ্য সমাপ্ত সিটি নির্বাচনের নানা অনিয়মের ব্যাপারে ‘স্বচ্ছ তদন্তের’ জন্য তাগিদ দিয়েছেন, যাতে পরবর্তী সব নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। গণতন্ত্রের জন্যও ‘স্বচ্ছ তদন্ত’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ওদিকে জাতিসংঘের মহাসচিবও সিটি নির্বাচনসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানিয়েছেন, সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোকে বাংলাদেশের ব্যাপারে দায়িত্ব দেয়া আছে এবং তিনি অচিরেই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন। এভাবেই নতুন পর্যায়ে বিদেশীদের তৎপরতা লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশয়েরও সৃষ্টি করেছেন তারা। কারণ, সাম্প্রতিক  বছরগুলোতে প্রতিটি সংকটের সময় সবচেয়ে বেশি তৎপর দেখা গেছে বিদেশী ক’টনীতিকদের। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো তো ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ঘুরে বেড়িয়েছিলেন বেশ কয়েকবার। কিন্তু তার সে তৎপরতার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। একই কথা অন্য সব কূটনীতিকের তৎপরতা সস্পর্কেও সমান সত্য। মাঝখান দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার একদিকে তার পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ভোটারবিহীন ও একতরফা হিসেবে চিহ্নিত নির্বাচন করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে, অন্যদিকে বিদেশীদের ওপর নির্ভর করে বিএনপির নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো কোনো ফলপ্রাপ্তি ছাড়াই নির্বাচন বর্জন করেছে। সিটি নির্বাচনের সময়ও একই অবস্থা দেখা গেছে। অর্থাৎ জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কোনো দেশ বা সংস্থাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করেনি। তেমন ইচ্ছা বা পরিকল্পনা আদৌ তাদের ছিল কি না কিংবা এখনো রয়েছে কি না সে প্রশ্নে তাই সংশয় দেখা দিয়েছে।

এটাই স্বাভাবিক। কারণ, কোনো উপলক্ষেই সরকার তাদের কথায় কান দেয়নি- বাস্তবে কোনো কথাই শোনেনি। তা সত্ত্বেও একদিকে সরকারকে তারা তাগিদ দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপিকে ধরে রেখেছে আশ্বাস শুনিয়ে। এজন্যই রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় বলা হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে বিদেশীদের উদ্যোগ ও তৎপরতার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতিই বরং মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কথাটার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ রয়েছে কি না তা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই ভেবে দেখা দরকার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শুভ নববর্ষ- ১৪২২ 

hqdefault

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল : পুরনো জরা ও গ্লানি ঝেড়ে ফেলে বাঙালি আজ বরণ করে নেবে নতুন বছরকে। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে চলবে নানা উৎসব-আয়োজন। তাতে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রয়াস থাকবে। দোকানিরা সারা বছরের হিসাব মিলিয়ে খুলবেন হালখাতা। বিভিন্ন স্থানে বসবে বৈশাখী মেলা। বাঙালির জীবনে বছরে একবারই আসে এমন দিন, যা একান্তই আমাদের জাতিসত্তার অংশ। আমাদের বর্ষবরণের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার উৎসব। তবে বর্তমানে এ উৎসব হয়ে উঠেছে কিছুটা শহরকেন্দ্রিক। অথচ গ্রামই এ দেশের প্রাণ। গ্রামের মানুষ, মূলত কৃষকরাই বাংলা দিনপঞ্জি অনুসরণ করে থাকেন। বাংলা ঋতুচক্র মেনে করেন চাষাবাদ। সারা দেশে নববর্ষের আনন্দ-উদযাপন ছড়িয়ে দিতে তাই গ্রামীণ জীবনেও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হবে। বর্ষবরণের আয়োজন তাতে হয়ে উঠবে আরও সর্বজনীন।

পহেলা বৈশাখ ভোরবেলায় রাজধানীতে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান বর্ষবরণ উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটিও আমাদের এক ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। ছায়ানট ছাড়াও বর্তমানে অন্য কিছু সংগঠনের উদ্যোগেও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বর্ষবরণের নানা উৎসব-আয়োজন করা হয়ে থাকে। আজকাল কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসছে এ ধরনের অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায়। তবে বর্ষবরণের মূল উৎসবটি হয়ে থাকে রমনা বটমূলের অনুষ্ঠান ঘিরেই। ১৪ বছর আগে এই দিনে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় প্রাণ হারায় নয়জন। আহত হয় অনেকে। পহেলা বৈশাখের মতো অসাম্প্রদায়িক উৎসবের প্রতি ধর্মান্ধ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর রুদ্ররোষ থাকা স্বাভাবিক। আশার কথা, ওই নৃশংস ঘটনা বাঙালিকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এখনও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বিপুল লোকের সমাগমই তার প্রমাণ। তবে বন্ধ হয়নি অপশক্তির তৎপরতাও। প্রতিক্রিয়াশীলরা গণতন্ত্র, প্রগতি, বাঙালি সংস্কৃতি- সবকিছুরই বিরুদ্ধে। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জোরদার করে, প্রগতির পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরে, বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চরিত্রকে আরও বিকশিত করেই অপশক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে।

বাংলা নববর্ষের হাত ধরে প্রায় একই সময়ে উদযাপিত হয় আদিবাসী গোষ্ঠীর বৈসাবি উৎসব। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার ১৪টি ক্ষুদ্র আদিবাসী পাহাড়ি জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব- বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু ও বিহু। উৎসবটি উচ্চারণগতভাবে বিভিন্ন নামে পালিত হলেও এক শব্দে একে বলা হয় বৈসাবি। চৈত্রসংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখের নানা আয়োজন চলে বিভিন্ন পাহাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে। উপমহাদেশের অন্যান্য জাতির নববর্ষও আসে প্রায় অভিন্ন সময়ে। নিজেদের বর্ষবরণ উৎসবে অংশ নেয়ার পাশাপাশি আমরা যদি অন্যদের এ ধরনের উৎসবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই এবং তাতে অংশ নিই, তাহলে তা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

নববর্ষের অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। বাংলা সনের প্রবর্তন হয় খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। নববর্ষে দোকানে দোকানে হালখাতা খোলার রীতি আজও প্রচলিত। বৈশাখী মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের প্রাণসঞ্চার হয় প্রতিবছর। হস্তশিল্পের প্রসারে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলা নববর্ষ সামনে রেখে শহরাঞ্চলে বুটিক ও ফ্যাশন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ার খবরও উৎসাহব্যঞ্জক। ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে এ শিল্প। এসব কর্মকাণ্ড আমাদের সংস্কৃতিতে যুক্ত করছে নতুন মাত্রা। বিদেশে বাংলাদেশের কিছু মিশন নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে বহির্বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিতে ভূমিকা রাখছে। এ প্রয়াস আরও জোরদার হলে বাংলা নববর্ষের পরিচিতি আরও বাড়বে। আজ পহেলা বৈশাখ আপন শিল্প-সংস্কৃতির ধারাকে ঋদ্ধ ও বেগবান করার শপথ নেয়ার দিন। নতুন বছর দেশবাসীর জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির বার্তা বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা। শুভ নববর্ষ- ১৪২২ সন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আচরণবিধি লঙ্ঘন : ইসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন 

2000px-বাংলাদেশ_নির্বাচন_কমিশনের_লোগো.svg

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিরপেক্ষ করার তাকিদ যখন বিভিন্ন মহল থেকে উচ্চারিত হচ্ছে তখন নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবোধক ভূমিকার কোন অবসান হচ্ছে না। প্রকাশিত খবরাদিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তাদের সামনেই একের পর এক ঘটছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। রঙিন পোস্টার শোভা পাচ্ছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের অলিগলিতে। চলছে মিছিল, শোডাউন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও। এসব নিয়ে নির্বিকার নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উপর সব ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলে তারাই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। এদিকে মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তারা এ ব্যাপারে করণীয় জানতে চেয়ে ইসি’র কাছে চিঠি পাঠালেও ইসি নিশ্চুপ। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। চিঠির একটি খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছিল। এই চিঠি দেয়ার বিষয়ে কমিশনের সায় মেলেনি। একজন কমিশনার একটি দৈনিককে জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে সব দায় কমিশনের ঘাড়ে চাপালে চলবে না। সবাই আইন অমান্য শুরু করলে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হতে বাধ্য। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গত বছরের সেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী প্রহসনে যেমন ফরমায়েশি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রেখেছে, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও তেমনটি করছে। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বৈধ অস্ত্র আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে একাধিক খবরে বলা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রেও অনেক প্রার্থী আগ্নেয়াস্ত্রের প্রদর্শন করছেন বলে বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সঙ্গে থাকা লোকজনের কাছেও থাকছে আগ্নেয়াস্ত্র। এসব দেখে রীতিমত ভীত-সন্ত্রস্ত নিরীহ ভোটাররা। ইতোমধ্যে অনেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অভিযোগ করে এর প্রতিকার চেয়েছেন।

গেয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগর এলাকায় ৬ সহস্রাধিক বৈধ ও সোয়া লক্ষাধিক গুলি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এসব অস্ত্র-গুলি ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। এরই মধ্যে বৈধ অস্ত্র দিয়ে সিটি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের অনাগ্রহের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। দেশে যে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে তা মূলতঃ এ নিয়েই। একটি গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণভিত্তিক নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে দেশে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি, এখনো তার কোন অবসান হয়নি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সকল মহলই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে জনাকাক্সক্ষার অনুবর্তী করা গেছে এখনো সেরকম আলামত স্পষ্ট নয়। যে বিশেষ বাস্তবতায় এবারে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনারগণ বিশেষকরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। নির্বাচনের আগেই তিনি ৫ জানুয়ারির উদাহরণ টেনেছিলেন। ঐ নির্বাচনে মনোনয়নকে নির্বাচিত বলে ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রকৃত অর্থে যে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করা হয় তাতে তার ভূমিকা নিছক কম নয়। এবারেও ইতোমধ্যেই সরকারের দায়িত্বশীল মহল মন্ত্রী-এমপিরা যখন শুরু থেকেই আচরণবিধির তোয়াক্কা করছেন না, তখন কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কোন হুমকি-ধামকি বা কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না। যেন মনে করা হচ্ছে এমনটা হতেই পারে বা হওয়াটাই যেন স্বাভাবিক। সরকারের মন্ত্রীদের নিবৃত্ত করতে গৃহীত উদ্যোগে ভাটা পড়ার মধ্য দিয়ে একটি গোপন আঁতাতের গন্ধ পাওয়া যায়। একজন নির্বাচন কমিশনার পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে যে বক্তব্য প্রদান করেছেন তাতেও প্রকারান্তরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অনুপস্থিতির আলামতই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা নির্বাচনী বিধি জানেন না এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই। বাস্তবতঃ তারা এক ধরনের ড্যাম কেয়ার ভাব দেখাচ্ছেন।

এই প্রবণতা নিঃসন্দেহে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য হুমকিস্বরূপ। অবশ্যই এব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ অথবা তার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। বৈধ অস্ত্র নিয়ে কেন এবং কী কারণে সরকারী দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বের হচ্ছেন সে বিষয়টিও অবোধগম্য। এর সাথে যদি কোন ধরনের ব্যক্তিগত ভয়-ভীতির প্রসঙ্গ থেকে থাকে তাহলে একথা বলা অনুচিত নয় যে, নির্বাচনের আগেই ভীত সন্ত্রস্ত থাকলে নির্বাচনে গিয়ে লাভ কি? আর ক্ষমতার দাপট দেখানো কিংবা ভোটারদের ভয় দেখানো যদি উদ্দেশ্য হয়, তবে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও ভবিষ্যত কি হতে পারে। তা সহজেই অনুমেয়। এ ধরনের প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা কীভাবে নির্বাচনের মাঠে থাকছে তা দেখা যদি নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে না পড়ে তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কীভাবে তৈরি হবে? নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন বিএনপিসহ তার মিত্ররা কার্যতঃ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়ার উপর রয়েছে। তার উপর যদি সরকারের বিভিন্ন মহল নির্বাচনী আচরণবিধি ভেঙে প্রচার-প্রপাগান্ডায় অংশ নেয় তাহলে নির্বাচন যে প্রকৃত অর্থে ৫ জানুয়ারির পথেই যাবে বা যেতে পারে একথা বলাই নিরর্থক। সেক্ষেত্রে নির্বাচন প্রকৃত অর্থে প্রহসনেই পরিণত হবে বা হতে বাধ্য। প্রকৃত নির্বাচন না হলে নগরবাসী তাদের সঠিক প্রতিনিধি পাবে না। সেক্ষেত্রে সিটি নির্বাচনের মৌলিক চেতনাই বাধাগ্রস্ত হবে বা হতে পারে। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনের পক্ষে কথা বলেছে সেটিও সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিএনপির পক্ষে নির্বাচনের মাঠে থাকা সম্ভব হবে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন। নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মহল পর্যবেক্ষক পাঠাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদি নির্বাচনে প্রকৃতই কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকে তাহলে তারাও মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। সুতরাং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে নির্বাচন কমিশন একচোখা ভূমিকার পরিবর্তে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে, এটাই দেশবাসী প্রত্যাশা করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অবৈধ রক্ত ব্যবসা 

অবৈধ ব্লাড ব্যাংক দমনে প্রশাসনের ব্যর্থতার পুরনো চিত্রই আবার ফুটে উঠেছে। গত শনিবার র‌্যাব-২ এর পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অদূরে বকসিবাজারে একটি দো’তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে বিপজ্জনক রক্ত বিক্রয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, অভিযানের সময় পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকসেবীদের কাছ থেকে রক্ত নিতে দেখা গেছে। পরীক্ষা ছাড়াই ডাক্তারের জাল রিপোর্ট তৈরী করে রক্ত বিক্রয়ে অভিযুক্তদের হাতে নাতে ধরা হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, রক্তের ৫টি পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও শুধু গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়। অন্যদিকে রক্ত পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করার ফলে এ সব রক্ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাতে নাতে ধরা পড়া গ্রেফতারকৃত ঐ ব্লাড ব্যাংকের মালিক স্বীকার করেছে, সে তার টেকনিশিয়ানকে দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর করিয়েছে। টেকনিশিয়ান স্বীকার করেছে, পরীক্ষা ছাড়াই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি করেছে এবং মালিকের নির্দেশে ডাক্তারের স্বাক্ষর জাল করেছে। যে রক্ত বিক্রি করেছে, সেটির রক্তদাতার (মাদকসেবীর) সঠিক পরিচয় জানা থাকে না বলে ইচ্ছামত নাম লাগিয়ে দেয়। এক ব্যাগ রক্তে স্যালাইন মিশিয়ে দুই ব্যাগ তৈরি করা হয় বলেও সে স্বীকার করেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, আগেও একই অপরাধে ২৭টি অভিযান চালিয়ে ৫১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও জরিমানা করা হয়েছে। সিলগালা করা হয়েছে এসব ব্লাড ব্যাংক। কিন্তু ক’দিন পরেই আবার শুরু হয় পুরনো ব্যবসা।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে যখন রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন তা জরুরি ভিত্তিতেই সরবরাহ করতে হয়। জীবন মরণ সঙ্কট হিসেবে কখনো কখনো রক্তের সমস্যা বিবেচিত হয় বিধায় এই ব্যবসার বৈধতা মেনে নেয়া হয়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বৈধ-অবৈধ সব ধরনের ব্লাড ব্যাংকের রক্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি এবং কোন কোন ক্ষেত্র রোগীর প্রাণ সংশয় পর্যন্ত ঘটায়। মাদকাসক্ত ও পেশাদার রক্তাদাতাদের রক্ত সংগ্রহের ফলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এসব ব্যাংকে রক্ত পরীক্ষার জন্য নেই কোন চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান এবং আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি। অনুসন্ধানী রিপোর্টে বলা হয়েছে, আবাসিক ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলো পরিচালিত হচ্ছে। লিভার, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, পেশাদার রক্তাদাতা ও মাদকাসক্তদের রক্তে এইডস, হেপাইটিস-বি ও সি ভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধির জীবাণু রয়েছে। এই রক্ত রোগীকে দেয়ার পর তার ঐ সকল মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অনেক রোগীর এভাবে এইডসও হতে পারে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন, সারাদেশে ৭৭টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন রয়েছে। বৈধ-অবৈধ যাই থাক না কেন, কার্যত যথাযথ তদারকির অভাবে ব্লাড ব্যাংকগুলোর রক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাধারণভাবে রক্তদানের ভীতি এবং অনীহার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই ব্যবসায় দু’পাইস কামাই করে নিচ্ছে। পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বলা যায়, অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে বারবার অভিযান পরিচালনা করার পরেও কেন তা বন্ধ করা যাচ্ছে না, সেটি অবশ্যই ভাববার বিষয়। এই রহস্য ভেদ করতে না পারলে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। গ্রেফতারে যারা ধরা পরে তারাই মূল নয়, তাদের পিছনে যে জাল রয়েছে সেটি সংঘবদ্ধ। এই সংঘবদ্ধ চক্রের খপ্পরে যারা পড়ছে তারা মূলত সাধারণ এবং নিম্নবিত্ত মানুষ। কম পয়সায় বা বিনে পয়সায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে এসে প্রকৃতপক্ষে তারা হাসপাতালের এক শ্রেণীর কায়েমি স্বার্থবাদীর খপ্পরে পড়ছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের জানাও নেই আদৌ রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন হবে কি না। ভুক্তভোগিরা জানিয়েছেন, রক্তের প্রয়োজনীতার কথা বলে সংশ্লিষ্টরাই প্রাপ্তিস্থানের ঠিকানা বলে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই মহল কি করে, কিভাবে, কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে হাসপাতালে থাকতে পারছে, এটিই এখন খতিয়ে দেখার বিষয়। স্বাস্থ’্য অধিদপ্তরের পরিচালক অবৈধ ব্লাড ব্যাংক বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বলেছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে এইসব ব্লাড ব্যাংকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

কোন অস্বাভাবিক বাস্তবতায় না পড়লে চিকিৎসকরা সাধাণত সংরক্ষিত রক্ত গ্রহণের পক্ষে অভিমত দেন না। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেও সংরক্ষিত রক্ত রোগীর জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। অথচ কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ভেজাল এবং দূষিত রক্ত সরবরাহের যে রমরমা ব্যবসা চলছে, তা রোধ করে সুস্থ ও সবলদের রক্তদানে উৎসাহিত করার কোন বিকল্প নেই। কোন কোন সংগঠনের প্রচারণার ফলে এখন দেশে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার গ্রুপ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত পরিবর্তিত হয় বিধান ডাক্তারী মতে রক্তাদান স্বাস্থ্যের জন্য কোন ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যয় নির্বাহ করতে না পারার কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষই স্বাভাবিক এবং সাধারণভাবে রক্তের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিরত থাকে। সরকারি উদ্যোগে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা নির্দিষ্ট করা গেলে নাগরিকদের রক্তের আপটু’ডেট বিবরণ সংগ্রহ করা সম্ভব হত। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটস্থ এলাকা থেকে রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহ কোন কঠিন ব্যাপার হতো না। যাহোক বাস্তব অবস্থা হল, ব্লাড ব্যাংকগুলো যাতে দূষিত অবৈধ রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং সরবরাহ করতে না পারে, তার জন্য মাঝে মধ্যে অভিযান নয়, বরং সার্বক্ষণিক মনিটরিং প্রয়োজন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর