২২ জুলাই ২০১৭
দুপুর ২:৫৭, শনিবার

চট্টগ্রামে আবার পাহাড়ধস, ৫ জন নিহত

চট্টগ্রামে আবার পাহাড়ধস, ৫ জন নিহত 

15

চট্টগ্রাম, ২১ জুলাই : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় আবার পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার ভোরে উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুরে এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল ইসলাম ভুঁইয়া।

ইউএনও জানান, জঙ্গল ছলিমপুর এলাকাটি দুর্গম। টানা বৃষ্টির কারণে ভোররাতে সেখানে পাহাড়ধসে একটি বাড়ি ওপর পড়ে। বাড়িতে পাঁচজন ছিলেন। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুজন।

নিহতরা হলেন রাবেয়া, তাঁর মেয়ে সামিয়া ও লামিয়া, বিবি ফাতেমা ও ইউনুছ।

মূলত ছিন্নমূল ও দরিদ্র পরিবারের লোকজনই এখানে ঘর বানিয়ে বসবাস করতেন। বাসিন্দারা সেখানকার এলাকাগুলোকে ‘সমাজ’ নামে অভিহিত করে থাকে। তিন নম্বর সমাজে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সম্ভবত ঘুমের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

সাগরে নিম্নচাপের কারণে গত বুধবার থেকেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে।

এর আগে মধ্য জুনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশসহ কয়েকটি উপজেলায় প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধস ও ঢলে নিহত ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর রাঙ্গুনিয়ায় ৫৮০টি পরিবার, চন্দনাইশে ৫০ পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও এর আশপাশ থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার 

01

চট্টগ্রাম, ১৫ জুলাই : চট্টগ্রামে বেসরকারি ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভারতীয় শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তার আরেক স্বদেশি সহপাঠীকে।

শুক্রবার মধ্যরাতে আসিফ শেঠ (২৬) এবং আহত উইলসন (২৬) দুজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মোহাম্মদ হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা দুজনই ইউএসটিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহত আসিফ শেঠ এবং আহত উইলসন নগরীর আকবর শাহ থানার আব্দুল হামিদ সড়কের একটি বাসায় এক কক্ষে থাকতেন।

আসিফের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে বলে জানান তিনি।

হামিদ আরো জানান, ইউএসটিসির আরেক ভারতীয় ছাত্র নিরাজ গুরু রাত সোয়া ১টার দিকে ওই দুজনকে হাসপাতালে আনেন। নিরাজ তার স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে আসিফ ও উইলসনের পাশের কক্ষে থাকেন।

“নিরাজ বলেছে, আসিফ ও উইলসন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের কক্ষে মদ্যপান করছিল। ১২টার দিকে ওই কক্ষ থেকে শব্দ পেয়ে তিনি কক্ষটি খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। এক পর্যায়ে তিনি বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে উইলসনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে উইলসনকে নিচে নামান। এ সময় আসিফকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।”

পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনেন বলে নিরাজ জানিয়েছেন।

আকবর শাহ থানার এসআই জসিমউদ্দিন জানান, ওই বাসায় যে চারজন থাকতেন তারা সবাই ভারতের মণিপুরের বাসিন্দা। কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে এসআই জসিম জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগ : মৃত শুকরের মাংস থেকে সংক্রমনের আশংকা 

35858

চট্টগ্রাম, ১৪ জুলাই : সীতাকুণ্ডে বার আওলিয়া ত্রিপুরা পাড়ায় অজ্ঞাত রোগে গত চার দিনে ৯ শিশুর মৃত্যুর পর আরো ছয় শিশু আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চার শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বুধবার রাতে আক্রান্ত হওয়ার পর তাদেরকে বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিত্যক্ত মৃত শুকুরের মাংস খাওয়া থেকে এ সংক্রামন ঘটে থাকতে পারে বলে আশংকা করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল করিম রাশেদ। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে নয় শিশুর মৃত্যু ও বিয়াল্লিশ শিশু হাসপাতালে ভর্তির ঘটনায় ত্রিপুরা পাড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরে ঘরে চলছে শোকের মাতম। প্রশাসন ত্রিপুরা পাড়ার পার্শ্ববর্তী তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কপপ্লেক্সের সকল চিকিৎসকের ছুটিও বাতিল করেছেন।

ঘটনাস্থলে কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ নুরুর করিম সাংবাদিকদের জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ত্রিপুরা পাড়ার অধিবাসীরা কিছুদিন আগে পরিত্যাক্ত এক মৃত শুকরের মাংস খেয়েছিল। হয়তো বা ঐ মাংস থেকেই এ সংক্রামন এবং অপুষ্টিহীনতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, বুধবার রাতে আরো ছয় শিশু এ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পাঁচ জনের নাম পওয়া গেছে। তারা হলো, পারুল ত্রিপুরা(৪), গোপাল ত্রিপুরা (৫), সুমন ত্রিপুরা (৬), তপন বাবু ত্রিপুরা (১০) ও রুমি ত্রিপুরা (৬)। তাদেরকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, অজ্ঞাত এ রোগ নির্নয় করতে ঢাকা থেকে আগত রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন, ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর এর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পাঁচ সদস্যের একটি দল ডাঃ ফারুক আহমেদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সীতাকুণ্ডে এসেছেন। তারা গতকাল সকালে উপজেলার ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ত্রিপুরা পাড়ার পার্শ্ববর্তী তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ওইপ্রতিষ্ঠান গুলোর সকল পরীক্ষা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সীতাকুণ্ড সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ের পাদদেশে ত্রিপুরা পাড়ায় ৪ দিনে ৯ শিশুর মৃত্যুরপর গতকাল আরো ৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি সহ এ পর্যন্ত মোট ৪২ জন শিশু চমেক ও ফৌজাদারহাট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহা পরিচালক অধ্যাপক এমএ ফয়েজ সাংবাদিকদের জানান, চার শিশু আশংকাজনক অবস্থায় আছে। একজন পিআইসিউইতে আছে। আরেকজন ওয়ার্ডে আছে। ঢাকা থেকে পরিক্ষার ফলাফল এলে সার্বিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কি সক্রামণ হয়েছে তা জানা যাবে। -নয়া দিগন্ত

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ 

878

চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ত্রিপুরাপাড়ায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছেন ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফৌজদারহাটের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেন চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দলটি।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ঢাকার আইইডিসিআরর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ফৌজদারহাট এসেছেন। এখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তারা চমেক হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ওই শিশুরা অপুষ্টির শিকার এটি চোখে দেখলেই বোঝা যায়। তবে প্রকৃত কারণ জানতে নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুস্থ হয়ে চট্টগ্রাম ফিরলেন আল্লামা শফী 

898

চট্টগ্রাম, ১১ জুলাই : এক মাসের বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা শাহ আহমদ শফী।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সোমবার বিকালে বলেন, হুজুর বিকাল ৪টা ৪৫ এ হাটহাজারীতে এসে পৌঁছেছেন। তিনি এখন মাদ্রাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।

তিনি জানান, তাদের আমিরের  হেলিকপ্টারে করে সকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার কথা থাকলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তিনি রওনা হন বিকালে। ঢাকার ধূপখোলা মাঠ থেকে হেলিকপ্টারে শফীকে নিয়ে বিকাল পৌনে ৫টায় হাটহাজারীর দারুল উলুম মইনুল ইসলামের ছাদে অবতরণ করে।

শারীরিক দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১৮ মে থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রবর্তক মোড়ের সিএসসিআর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন আহমদ শফী। প্রায় ১৫ দিন সেখানে চিকিৎসার পর পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় গত ৬ জুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে। সেখানে মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সরওয়ারে আলম এবং নিউরোলজির অধ্যাপক নূরুল হুদার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন তিনি।

বর্তমানে হেফাজত আমির স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন বলে তার ছোট ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ আনাছ জানিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফের পাহাড় ধস : নিহত ২ 

09

চট্টগ্রাম, ৬ জুলাই : বান্দরবান ও কক্সবাজারে ফের পাহাড় ধসে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২ জন। বুধবার দিবাগত রাতে পাহাড় ধসের এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।

জানা যায়, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে পাহাড় ধসে চমেন খাতুন (৪০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এসময় তার ছোট মেয়ে আমেনা খাতুন আহত হয়। ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকালে প্রবল বর্ষণে ফকির পাড়ার মৃত আবদুল মাজেদের বাড়িতে পাহাড় ধসে পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই মারা যান তার স্ত্রী চমেন খাতুন, আহত হয় তার মেয়ে। এর আগে গত ১৩ জুন ভারি বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত হন নয় জন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে 

55

চট্টগ্রাম, ৩ জুলাই : রবিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে।

নগরীর আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক, শান্তিবাগ, হালিশহর, ছোটপুল, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, দুই নম্বর গেট এলাকার কোথাও হাঁটু পানি, আবার কোথাও কোমর পানি জমে গেছে। এতে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাসুদুল আলম বলেন, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরো কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১৫ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার 

553322

চট্টগ্রাম, ২৪ জুন : চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের বহির্নোঙর এলাকা থেকে মিয়ানমারের পাঁচ নাগরিকসহ ১২ জনকে আটক করেছে র‍্যাব-৭। আটক হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৫ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার ভোররাতে ওই ১২ ব্যক্তিকে আটকের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে একটি ট্রলার জব্দ করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) মো. আমিরুল্লা বলেন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়িসহ ১২ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মিয়ানমারের নাগরিক।

ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে বেলা ১১টায় র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অর্থাভাবে হাসপাতাল ছাড়লেন রমা চৌধুরী 

55

চট্টগ্রাম, ২০ জুন : অর্থের অভাবে লেখিকা রমা চৌধুরী হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। গত ১০ দিন ধরে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন একাত্তরে দুই সন্তান হারানো ৭৭ বছর বয়সী এই লেখিকা।

সোমবার বিকালে তার পরিজনরা তাকে বাসায় নিয়ে আসেন। তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন এ প্রতিবেদককে জানান, গত ১০ জুন তার প্রচণ্ড বুক ও পেটে ব্যথা শুরু হয়, সাথে বমিও হয়। এসময় তাকে নগরীর মেডিক্যাল সেন্টার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। কৃত্রিমভাবে খাবার দেওয়া হচ্ছিলো।

ডাক্তারদের বরাত দিয়ে খোকন জানান, তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিত্সা দরকার; কিন্তু অর্থাভাবে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসতে হয়েছে। গত দশ দিনে দেড় লাখ টাকা বিল হয়েছে।

ষাটের দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে মাস্টার্স পাস করা রমা চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে তার দুই সন্তান ও ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এরপর গত তিন দশক ধরে তিনি খালি পায়ে চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায় বই বিক্রি করছিলেন। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই লেখিকাকে একবার গণভবনে ডেকে নিয়েছিলেন।-ইত্তেফাক

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ধস: এমপিরা নেই দুর্গত এলাকায় 

77

চট্টগ্রাম, ১৮ জুন : টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের পাঁচ দিন পরও দুর্গত এলাকায় যাননি সংসদ সদস্যরা। ঘরবাড়ি হারিয়ে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন, তারা তাদের দেখতেও যাননি। তবে এমপিরা ক্ষতিগ্রস্তদের নানাভাবে সহায়তা করছেন, দিচ্ছেন ত্রাণ।

পাহাড়ধসে মাটিচাপায় রাঙামাটির কাউখালীতে ২১ ও কাপ্তাইয়ে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাননি রাঙামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তবে তিনি রাঙামাটি সদর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে ছিলেন। পাহাড়ধসে চন্দনাইশে চারজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পর সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম সংসদীয় এলাকায় গেলেও পাহাড়ধসের ঘটনাস্থলে যাননি। রাঙ্গুনিয়ায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন। স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ দু’দিন পর সংসদীয় এলাকায় এলেও ঘটনাস্থলে যাননি।

রাঙামাটি সদর থেকে কাপ্তাই উপজেলার .দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। পাহাড়ধসে কাপ্তাই সদর, চন্দ্রঘোনা ও ওয়াগ্গা এলাকায় নিহত হয়েছেন ১৮ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক। বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। উপজেলার তিনটি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৩১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এখনও কোনো ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। গতকাল শনিবার পর্যন্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যাননি বলে জানান চন্দ্রঘোনা, কাপ্তাই ও ওয়াগ্গার ইউপি চেয়ারম্যানরা।

রাঙামাটি সদর থেকে কাউখালী উপজেলার দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। এ উপজেলায় পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন ২১ জন। সেখানেও যাননি সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তিন দিন পর গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনী আক্তার কাউখালীতে যান। কচুখালী এলাকায় কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্তকে এক হাজার টাকা করে তিনি অর্থ সহায়তা দেন।

সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, তিন দিনে রাঙামাটি সদরে অনেক লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক তা তদারকি করতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় অনেক নেতা এখানে এসেছেন। এ কারণে কাউখালী ও কাপ্তাইয়ে যেতে পারিনি। এ ছাড়া সেখানে সড়ক যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে ওইসব এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বান্দরবানে পাহাড়ি ঢল ও ধসের কারণে কয়েকশ’ পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। তাদের দেখতে যাননি স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর। তবে তিনি সদরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছিলেন। এ ছাড়া লামা উপজেলায়ও ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যাননি তিনি। এ ছাড়া পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম ধোপাছড়ি এলাকায় যাননি চন্দনাইশের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম। তবে তিন দিন পর ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি। পাহাড়ধসের দু’দিন পর লালানগর, হোসনাবাদ, রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ।

রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ বলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় ঘটনার পরপর ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। বৃহস্পতিবার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আমার পক্ষ থেকে ৭০ বস্তা চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৩০ বস্তা চাল বিতরণ করা হবে। আজ রোববার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবেন বলেও জানান তিনি।

সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, সংসদে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সাহায্য নিয়ে কথা বলেছি। এ কারণে এলাকায় আসতে তিন দিন দেরি হয়েছে। শুক্রবার কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আমার পক্ষ থেকে ৬০ বস্তা চাল বিতরণেরও নির্দেশ দিয়েছি।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের শোক প্রকাশ 

ctg-map-300x160

অনলাইন ডেস্ক, ১৫ জুন : ভারীবর্ষণে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে ভূমিধ্বসে নিহত ও তাদের উদ্বার কার্যক্রমের সময় নিহত সেনাসদস্য এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত নিহত, আহত এবং ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের প্রতি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট, সিটি ইউনিট ও যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট এর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শেখ শফিউল আযম, জেলা ইউনিটের সেক্রেটারি নুরুল আনোয়ার চৌধুরী বাহার।

চট্টগ্রাম সিটি ইউনিটের পক্ষে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন ইউনিটের  ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের পক্ষে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন  যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের যুব প্রধান ও জেলা ইউনিটের কার্যকরী পর্ষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম চৌধুরী পরাগ।

বিবৃতিতে সকলে মরহুমদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫২ 

45

রাঙ্গামাটি, ১৫ জুন : কয়েক দিনের টানা প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় পাহাড় ধসে ও পানিতে ডুবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫২ জন। খবর চট্টগ্রাম অফিস ও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের।

চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গতকাল বুধবার পর্যন্ত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় নিহতের সংখ্যা ৩৪-এ উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলাতেই ২৫ জনের লাশ উদ্ধারের কথা গতকাল নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম। একই উপজেলায় এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছে। নিহতদের মধ্যে চন্দনাইশে ৪ জন, রাউজানে ২ জন, বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও নগরীতে ১ জন।  জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হক চৌধুরী মায়া গতকাল রাঙ্গুনিয়ায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। মন্ত্রী এরপর রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

সর্বশেষ তথ্য মতে, রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে ১৬ জন, পাহাড়ি পানির ঢলে ৬ জন, চন্দনাইশে পাহাড় ধসে ৪ জন, রাউজানে পাহাড়ি পানির তোড়ে ১ জন এবং আকস্মিক টর্নেডোয় বাঁশখালীতে ঘরের দেয়াল ধসে ১ জন, চট্টগ্রাম মহানগরীর উত্তর হালিশহর ২৬নং ওয়ার্ডে ঘরের দেয়াল ধসে  ১ জনসহ  সর্বমোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, চন্দনাইশে দুইজন, উত্তর হালিশহরের ২৬নং ওয়ার্ডে দেয়াল ধসে  পাঁচজন, বাঁশখালীতে দুইজনসহ মোট নয়জন আহত হয়েছেন এবং রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ চারজনের মধ্যে গতকাল আরো তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

এদিকে প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং ত্রিশ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলার জন্য দশ টন করে ২০ টন, চন্দনাইশ উপজেলার অনুকূলে পাঁচ টন এবং লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার অনুকূলে তিন টন করে ছয় টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধস এবং বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। নিখোঁজ রয়েছে ২ জন। আহত হয়েছে ৬২ জন।  বন্যা কবলিত হয়েছে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম। উপজেলার উত্তরাঞ্চলে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম কাপ্তাই মহাসড়কের বিক্ষিপ্ত এলাকায় পানি উঠেছে। উপজেলার উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।  বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও কোনো প্রকার সরকারি  ত্রাণ সাহায্য পৌঁছানো হয়নি।

হোসনাবাদ ইউনিয়নের কানুরখীল গ্রামে বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়া স্বামী স্ত্রী মেয়ে  ও অপর একজনের লাশ গতকাল গুমাই বিলে বন্যার পানিতে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কানুরখীল গ্রামের সড়কে যাওয়ার সময়ে কন্যা তুষি দে (১২) পানিতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে পিতা আশীষ দে (৪৮) ও  মা অন্জনা দে (৩০) পর পর ঝাঁপিয়ে পড়লে তারা বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল। এ সময় একই গ্রামের  ডাক্তার দিলীপ দে (৫৫) বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হয়।

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, রাতে পাহাড় ধসে ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে ফটিকছড়ির এখনো ৬০ ভাগ এলাকা পানির নিচে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া উত্তর ফটিকছড়ির সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ফটিকছড়ি-হেয়াকো সড়কের বেশ কিছু অংশ এখনো পানির নিচে থাকায় এবং বন্যায় উত্তর ফটিকছড়ির ফেনী-রামগড় সড়ক হেয়াকো এলাকায় ভেঙে যাওয়ায় উক্ত এলাকার মানুষ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটি জেলায় পাহাড় ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০৫ জনে দাঁড়িয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম খেকে বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য জানানো হয়। বুধবার দ্বিতীয় দিনে উদ্ধার কর্মীরা ১০টি মৃত দেহ উদ্ধার করে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

এর মধ্যে রাঙ্গামাটি শহরে ৪ সেনা সদস্যসহ ৫৮ জন, কাউখালী উপজেলায় ২৩ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৮ জন, জুরাছড়ি উপজেলায় ৪ জন ও বিলাইছড়ি উপজেলায় ২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শিশু হচ্ছে ৩৩ জন, মহিলা ৩০ জন পুরুষ ৪২ জন। এর মধ্যে নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০ জন। আহত হয়েছে ৮২ জন। প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে বেশ কয়েকজন চলে গেলেও ৩৯ জন রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এদিকে বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাঙ্গামাটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের জানান, রাঙ্গামাটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও সহায়তায় সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে।

তিনি ত্রাণ মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে রাঙ্গামাটির দুর্গত মানুষের জন্য  ৫০ লক্ষ টাকা নগদ ১০০ মেট্রিক টন চাল, প্রত্যেককে ৫শত বান্ডিন টিন ও ৩ হাজার করে টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন।  তিনি রাঙ্গামাটির চট্টগ্রাম সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনস্থাপনের জন্য এবং রাঙ্গামাটি শহরে বিদ্যুত্ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করতে যা কিছু করার দরকার দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক সুচিত্ কুমার নন্দী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

পরে তারা রাঙ্গামাটি শহরের মানিকছড়ি, শিমুলতলী, ভেদভেদী এলাকায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

দুপুরে  রাঙ্গামাটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে আসেন ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন মায়া। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে তিনি জেলা প্রশাসনে অনুষ্ঠিত সভায় যোগ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সব সকম সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার ৩৩টি স্থানে ছোটবড় পাহাড় ধস হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। পাহাড় ধসের ফলে ১৩ জুন নারী পুরুষ শিশুসহ ১৮ জন নিহত হয়। ইকবাল নামক ১ যুবক কর্ণফুলী নদীতে পানির তোড়ে ভেসে যায়। গত ৪৮ ঘণ্টায়ও তার লাশ পাওয়া যায়নি। এদিকে পাহাড় ধসের ফলে কাপ্তাই ও রাঙ্গামাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার বিরাট অংশ ভেঙে কর্ণফুলী নদীতে পড়েছে। ফলে কাপ্তাইয়ের সাথে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে পাহাড় ধস ও বন্যা দুর্গত এলাকা গতকাল পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন-সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি।

প্রশাসন জানায়, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে পাহাড় ধস ও বন্যায় দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে দুপুর আড়াইটায় হেলিকপ্টারযোগে রাঙ্গামাটি থেকে বান্দরবানে এসে পৌঁছান পরিবহন-সেতু মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি। পরে সড়কপথে মন্ত্রী শহরের কালাঘাটা আগাপাড়াসহ আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

লামা (বান্দরবান) সংবাদদাতা জানান, বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারগুলোর মাঝে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্য ও স্বজন হারানোর বেদনায় পরিবারের জীবিত সদস্যরা বাকরুদ্ধ। বান্দরবান জেলা শহরের লেমুঝিরি আগাপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে বসতঘরে মাটিতে চাঁপা পড়া মা ও মেয়ের লাশ বুধবার দুপুরে উদ্ধার করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুর্গম বর্মাছড়ি ইউনিয়নে পাহাড় ধসে এক নারীসহ ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত ১৩ জুন মঙ্গলবার টানা বর্ষণে বর্মাছড়ি এলাকায় পাহাড় ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। সাবেক লক্ষ্মীছড়ি ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজেন্দ্র চাকমা এ প্রতিনিধিকে বলেন, বর্মাছড়ি ইউনিয়নের ফুত্যাছড়া পাড়ার প্রাণকৃত্য চাকমার ছেলে পরিমল চাকমা (৩০) পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মৃত্যু হয়। একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ আরো ৭ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়।

এদিকে বর্মাছড়ি ও কাউখালী সীমান্তে হলুদ্যা পাড়া বড়ইতলী এলাকার পুতুল্যা চাকমার স্ত্রী কালেন্দ্রী চাকমা (৪৫) মাটি চাপায় মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পতুল্যা চাকমা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এব্যাপারে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল পাহাড় ধসের ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন।

ইউপিডিএফের শোক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনৈতিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানসহ বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে শতাধিক লোকের প্রাণহানি ও শতশত আহত হওয়ার ঘটনাকে স্মরণকালের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। ইউপিডিএফ আজ বৃহস্পতিবার থেকে তিন পার্বত্য জেলায় তিন দিনব্যাপী শোক পালনের কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় ধসে পিতা ও শিশু কন্যা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ২টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়নের পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসে নিহতরা হলেন— আমির হোসেনের পুত্র মো. সেলিম (৪২) এবং তার শিশু কন্যা কিশোমণি (৩)। এদিকে পাহাড় ধসে নিহত পরিবারকে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সংসদের পক্ষে নগদ নব্বই হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসে মৃতের সংখ্যা ১৪৫ 

5852

চট্টগ্রাম, ১৫ জুন : টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় পাহাড় ধস ও ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫ জনে। এর মধ্যে শুধু পাহাড় ধসে মারা গেছে ১৩৮ জন।

নিহতদের মধ্যে রাঙামাটি ১০০ জন, চট্টগ্রাম ২৯ জন, বান্দরবান ৬ জন, কক্সবাজার দুজন এবং খাগড়াছড়ির একজন রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য কারণে বাকি ৭ জন মারা গেছেন।

বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের জন্য ৬১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জি.আর ক্যাশ এবং ৮৫১ টন জিআর চাল বরাদ্দ প্রদান করেছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। আহতরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।

এসব জেলার  আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে  মোট ৬ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৩৭ 

38

চট্টগ্রাম, ১৪ জুন : কয়েকদিনের  টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৩৭ জন হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে।

এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সড়কের ওপর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন দুই কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য।

টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের ওপর মাটি ধসে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার দুপুরে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত পাহাড় ধসের ঘটনায় ১৩৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে ১০১ জন, চট্টগ্রামে ২৭ জন, বান্দরবানে ৬, কক্সবাজারের টেকনাফে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি: ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটিচাপায় রাঙ্গামাটি শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল পর্যন্ত ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ১৪ জনের মরদেহ নেয়া হয় এবং বিকালে ওই দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে মাটিচাপায় ২ জনের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার।

এছাড়া কাপ্তাইয়ের রাইখালীর কারিগরপাড়ায় ৪ জন এবং কাউখালী উপজেলায় সর্বশেষ ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করে স্থানীয় সূত্র। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এদিকে মানিকছড়িতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটি অপসারণের সময় ৪ সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়।

তারা হলেন- মেজর মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, ক্যাপ্টেন মো. তানভীর সালাম শান্ত, কর্পোরাল মোহাম্মদ আজিজুল হক ও সৈনিক মো. শাহীন আলম।

এদিকে আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে জেলার মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে যায়। এতে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে ওই স্থানে পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকর্মীরা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফিট নিচে পড়ে যান। এ ঘটনায় নিহত ওই চারজনসহ ১০ জন সেনা সদস্য আহত হন।

কাপ্তাই রাইখালীর কারিগরপাড়ায় নিহত ৪ জনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে নাম পাওয়া যায়নি।

এছাড়া সিভিল সার্জন ডা. সহীদ তালুকদার বিলাইছড়িতে ২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও তাদের নাম জানাতে পারেননি।

আগের দিন সোমবার রাঙ্গামাটি শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় এক শিশু এবং কাপ্তাইয়ের নতুন বাজারে এক শিশু পাহাড়ের মাটিচাপায় মারা যায়।

জেলা প্রশাসন থেকে শহরসহ জেলায় মোট ৩৫ জনের নিহতের তালিকা পাওয়া গেছে বলে জানান নেজারত ডেপুটি কালেক্টর তাপস দাশ।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দু’টি ইউনিয়নে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে চার পরিবারের ২৭ জন নিহত হয়েছে।

রাজানগর ও ইসলামপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল হোসেন পাহাড় ধসে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ঘুমন্ত অবস্থায় সোমবার মধ্যরাতে রাজানগর ইউনিয়নের ঠাকুরঘোনা মইন্যার টেক এলাকায় পাহাড় ধসে কাঁচাঘর চাপা পড়ে মারা গেছেন নজরুল ইসলাম (৪০), তার স্ত্রী আসমা আকতার (৩৫), তাদের ছেলে ননাইয়া (১৫) ও মেয়ে সাথী আকতার (১৯)। একই ইউনিয়নের বালুখালী এলাকায় মারা গেছেন ইসমাইল (৪২), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩৭), তাদের দুই মেয়ে ইছামিন (৮) ও ইভামনি (৪)। একই উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে মাটিচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন সুজন (২৪) তার স্ত্রী মুন্নি (১৯), মুন্নির অপর তিন বোন জ্যোৎস্না (১৮), শাহনূর আকতার (১৫) ও পালু (১২)। তাদের পিতার নাম মোহাম্মদ সেলিম।

চন্দনাইশ: মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি ইউনিয়নের শামুকছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পৃথক ঘটনায় দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছনবনিয়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত একটি আদিবাসী পরিবারের কাঁচা ঘরের ওপর মাটি চাপা পড়ে। এতে   মেকো ইয়াং খেয়াং (৫০) তার মেয়ে মেমো  ইয়াং খেয়াং (১৩), কেউছা ইয়াং খেয়াং (১০) নিহত হয়। আহত হয় সানুউ ইয়াং খেয়াং ও সোউ খেয়াং। প্রায় একই সময়ে শামুকছড়ি এলাকায় মাটিচাপা পড়ে নিহত হয় আজগর আলীর মেয়ে মাহিয়া (৩)।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান ধোপাছড়ির শামুক ছড়ি ও ছনবনিয়া এলাকায় পাহাড় ধসে দুই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী মঙ্গলবার বিকালে এ প্রতিবেদককে জানান, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাহাড় ধসে আহতদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

বান্দরবান: মঙ্গলবার ভোররাতে প্রবল বর্ষণে বান্দরবান  জেলা শহরের অদূরে লেমুঝিরি ও কালাঘাটা  এলাকায় পাহাড় ধসে  মা-মেয়েসহ তিন পরিবারের ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে লেমুঝিরি এলাকায় নিজের ঘরেই মাটিচাপা পড়ে মারা গেছেন  শ্রমিক নুরুল আলমের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৪০) ও তার মেয়ে সুফিয়া বেগম (৮) । কালাঘাটা এলাকায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় মারা গেছেন রেবা ত্রিপুরা (২২) নামে একজন। একই এলাকায় আরেক পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এরা হচ্ছে মিঠু বড়ুয়া (৫), বোন শুভ বড়ুয়া (৪) এবং লতা বড়ুয়া (৭)। তারা তিন ভাইবোন। পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।  ঘনটাস্থল পরিদর্শন করেন বান্দরবান  জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক জানান,  জেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি অস্থায়ী বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব এলাকায় দুর্গতদের  মাঝে শুকনা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়,  বান্দরবানে পাহাড় ধসে যে তিন পরিবারের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ওই পরিবারগুলো দরিদ্র। ঘরের কর্তারা সবাই শ্রমজীবী মানুষ।

জীবিকার কারণেই তারা পাহাড়ের পাদদেশে ঘর করে বসবাস করে আসছিল। সারা দেশে ভূমিহীনদের মাঝে সরকারি খাসভূমি বন্দোবস্তি দেয়া হলেও তিন পার্বত্য জেলায় স্থানীয় কঠোর আইনের কারণে ভূমি বন্দোবস্তি প্রদান  বন্ধ ২৫ বছর ধরেই। ফলে বাধ্য হয়েই জেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০ হাজার ভূমিহীন পরিবার  মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে  বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে।

টেকনাফ: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে পাহাড়ের মাটি ও গাছ চাপায় বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

তারা হলেন- উপজেলার খারাংখালী পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়া গ্রামের বাবা মোহাম্মদ সেলিম (৪০) ও তার মেয়ে টিসু মনির (৩)।

হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, রাতে ভারী বর্ষণে হঠাৎ একটি গাছসহ পাহাড়ের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এতে চাপা পড়ে  বাবা ও মেয়ের মৃত্যু হয়।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন খান জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছ।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড় ধসে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধসে তিন জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ 

55

চট্টগ্রাম, ১৩ জুন : প্রবল বর্ষণে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ তিন জেলায় পাহাড় ধসে ৪৮ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ৪ জন ও রাঙ্গুনিয়ায় ৬ জন, রাঙ্গামাটির সদরসহ কাপ্তাইয়, লংগদু ও কাউখালীতে ৩২ জন এবং বান্দরবানের সদরে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে মারা যান দুই সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য। এসময় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

তবে এখনো কয়েকজন মাটিচাপায় আটকে আছে বলে জানা গেছে। তাদের উদ্ধার অভিযান চলছে।

পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

চন্দনাইশ : মঙ্গলবার ভোর ৪টায় চন্দনাইশের দুর্গম এলাকা দোপাছড়ি ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের শামুকছড়িতে পাহাড় ধসে ১ শিশু এবং ছনবনিয়ায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- শামুকছড়ির শিশু মাহিয়া(৩), ছনবনিয়ার ২নং ওয়ার্ডের উপজাতি এলাকার সিনসাও কেয়াংয়ের স্ত্রী মোকা ইয়ং কিয়াং (৫০), কেলাও অং কেয়াংয়ের কিশোরী কন্যা মেমো কেয়াং (১৩) ও ফেলাও কেয়াংয়ের শিশু কন্যা কেওচা কেয়াং (১০)।

এসময় আহত হয়েছেন ২ জন। তাদের বান্দরবান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- সানু কেয়াং (২১), শেলাও কেয়াং (২৭)।

জানা গেছে, রোববার থেকে ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে সোমবার রাত ২টার পর প্রচণ্ড ভারী বৃষ্টি ও সঙ্গে বজ্রপাতসহ ঝড়ো হাওয়া হয়। এরপরই এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

প্রায় ২০/৩০টি উপজাতি পরিবার ওই এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বাপ-দাদার আমল থেকে বসবাস করে আসছে।

বাকি পরিবারগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। তারা আতংকে বাড়ি-ঘরে ছেড়ে অন্যত্র সরে গেছে। স্থানীয় লোকজন স্বউদ্যোগে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বেলা পৌনে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেখানে পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো লোক বা উদ্ধারকারী দল পৌঁছেনি।

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জানায়, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর এবং ইসলামপুর ইউনিয়নে পাহাড় ধসে ৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে  রাজানগরে ৪ জন ও ইসলামপুরে ইউনিয়েনে ২ জন মারা যান।

রাজানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আলম তালুকদার জানান, মঙ্গলবার ভোরে পাহাড়ের পাদদেশে মাটির ঘরে বাস করা মোহাম্মদ হোসেন (৪৭) ও তার কিশেরা সন্তান এবং নজরুল ইসলাম  (৫২) ও  স্ত্রী পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে মারা গেছেন।

তবে ইসলামপুর ইউনিয়নে নিহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।

রাঙ্গানিয়া ইউএনও মো. কামাল হোসেন বেলা ১২টার দিকে এ প্রতিবেদককে জানান, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।

আমাদের রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানায়, রাঙ্গামাটি সদর, কাপ্তাই, লংগদু ও কাউখালী, মানিকছড়িতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে ও গাছচাপায় ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পাহাড়ের মাটিচাপা পড়ে ২ সেনা কর্মকর্তাসহ ৪ সেনা সদস্য নিহত হন।

মঙ্গলবার সকালে জেলা শহর থেকে ১১ জন ও কাপ্তাই উপজেলা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এরপর  বেলা সাড়ে ১১টায় কাউখালী থেকে ১৩, লংগুদু থেকে ২ এবং মানিকিছড়িতে পাহাড়ের মাটিচাপায় ৪ সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রাঙ্গামাটির সদরে নিহতরা হলেন- শহরের ভেদভেদি এলাকার রুমা আক্তার, নুড়িয়া আক্তার, হাজেরা বেগম, সোনালী চাকমা, অমিত চাকমা, আইয়ুস মল্লিক, লিটন মল্লিক, চুমকি দাস, ইকবাল হোসেন। কাপ্তাই উপজেলার কারিগরপাড়া এলাকার বাসিন্দা অনুচিং মারমা ও নিকি মারমা।

মানিকছড়ি থেকে ৪ সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- ক্যাপ্টেন তানভীর, সেনা সদস্য কর্পোরাল আজিজ ও সৈনিক শাহিন। তারা রাঙ্গমাটি সেনা রিজিয়নে কর্মরত ছিলেন।

এদিকে বেলা সাড়ে ১১টায় রাঙ্গামাটির কাউখালী থেকে ১৩ ও লংগদু থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের নাম জানা যায়নি।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীতে পড়ে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে সোমবার রাত থেকে রাঙ্গামাটি শহরের অধিকাংশ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটির সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

জেলা শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

বান্দরবান: বান্দরবানে বিভিন্ন এলাকায় অতি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে পাঁচজন।

মঙ্গলবার ভোররাত পৌনের ৪টার দিকে জেলার পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কালাঘাটা এলাকার ত্রিপুরা পাড়াসহ দুর্গম কয়েকটি এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে চার জনের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলো- শহরের আগাপাড়ার একই পরিবারের শুভ বড়ুয়া (৮), মিঠু বড়ুয়া (৬), লতা বড়ুয়া (৫) ও কালাঘাটা কবরস্থান এলাকার রেবি ত্রিপুরা (১৮)।

এ ঘটনায় এখনো জাইল্লাপাড়ায় কামরুন্নাহার ও তার মেয়ে সুফিয়া (২০) নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কাজ করছে।

এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা হলেন- পসান ত্রিপুরা ও বীর বাহাদুর ত্রিপুরা।

সদর থানার ওসি মো. রফিক উল্লাহ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর