২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৪, সোমবার

দ্বিতীয় দিনে ‘অপারেশন সান ডেভিল’, জীবিত কেউ নেই

দ্বিতীয় দিনে ‘অপারেশন সান ডেভিল’, জীবিত কেউ নেই 

68

রাজশাহী, ১২ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনিপুরে জঙ্গি আস্তানায় দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান ‘সান ডেভিল’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে বোম ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আসার পর এই অভিযান শুরু হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রথম দিনের মতো অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয় দিন অভিযানের আগে বাড়িটির আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। এক বর্গকিলোমিটার এলাকাতে ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য দ্বিতীয় দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, দ্বিতীয় দিনের অভিযানের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি করে।

তবে বিপরীত দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা।

এদিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী এক খুদেবার্তায় জানিয়েছেন, বাড়িটিতে চারটি ঘর রয়েছে। সেখানে আর কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।

এখন বাড়িটিতে বিস্ফোরক মজুদ আছে কিনা তা দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ শুক্রবার সকালেও আগের অবস্থানেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অপারেশানস্থলে দুটি অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

এর আগে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে গোদাগাড়ীর বেনিপুরের জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রাখে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মতিন পানি স্প্রে করতে গেলে ঘর থেকে বের হয়ে জঙ্গিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

ওই সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। মতিনের লাশ ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণে নিহত ৬ 

3795

রাজশাহী, ১১ মে : জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় একটি জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতি বিস্ফোরণে দমকল বাহিনীর এক কর্মীসহ অন্তত ৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার রাত ৩টা থেকে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের এই টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি এ বাড়িটি ঘিরে রাখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- ফায়ার সার্ভিস কর্মী আবদুল মতি, বাড়ির মালিক ও জঙ্গি সাজ্জাদ হোসেন, তার স্ত্রী বেলী বেগম, ছেলে আলামিন, সোয়েব এবং মেয়ে কারিমা বলে ধারণা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তাদের লাশ বাড়ির সামনেই পড়ে আছে। ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে এই দুই শিশুকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে নেয়। আরেকজন নারীকেও বাড়ির সামনে সুইসাইড ভেস্ট পরে মাঠের মধ্যে বসে থাকতে দেখা গেছে।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের মাঠের মধ্যে মাস দুই আগে বাঁশ আর টিন দিয়ে ওই ঘর তোলা হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।

ধানক্ষেতের মাঝখানে টিনের ওই বাড়িটির আশপাশের আর কোনও ঘরবাড়ি নেই।

আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণের ঘটনায় গোদাগাড়ী থানার উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) উৎপল (৩৫) কনস্টেবল তাজুল ইসলাম (৪০) ও দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন (২৯) আহত হয়েছিলেন। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন মারা যান।

এদিকে দমকলকর্মীসহ ৬ জঙ্গি নিহতের পর থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জনসাধারণের জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এজন্য ওই এলাকাসহ আশেপাশের ২ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে জানান গোদাগাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুল আলম মুন্সী।

বর্তমানে জঙ্গি আস্তানাটিতে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ সদরদপ্তরের এলআইসি শাখা ও স্থানীয় পুলিশ মিলে এই অভিযান চালাচ্ছেন। রাজশাহী জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার গভীর রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। এরপর ভিতরে ৫-৬ জন জঙ্গি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। সকাল ৮টার দিকে আস্তানাটিতে পানি ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে পানি ছেটানো শুরু করেন। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘরের ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে আত্মঘাতি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়।

সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ সঙ্গে থাকা রাজশাহী জেলা পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এসময় জঙ্গিদের আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ আর পুলিশের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে। জঙ্গিদের এ বিস্ফোরণে দমকল বাহিনীর কর্মী আব্দুল মতিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এছাড়া আত্মঘাতি এ বোমা বিস্ফোরণে মারা যান আরো পাঁচ জঙ্গি। বর্তমানে সুইসাইট ভেস্ট পরে আরো দুই-একজন জঙ্গি ভেতরে অবস্থান করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি একরামুল হক।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ ৬ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক আর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আস্তানাটির আশেপাশের এলাকায় প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

জঙ্গি আস্তানাটির আশেপাশে প্রায় অর্ধকিলোমিটার জায়গাজুড়ে আর কোনো মানুষের বসতি নেই। প্রায় অর্ধকিলোমিটার দূরের ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াকিল নামে এক বাসিন্দা জানান, সকালে আমি বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দূরে কোথাও বোমা আর মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে দেখি মাঠে বোমা আর গুলির শব্দ। দূর থেকে আঁচ করতে পারলাম কিছুদিন আগে টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ওই নতুন বাড়ির চতুর্পাশে বন্দুকধারী পুলিশ আর পুলিশ। আর ভেতরে বোমা আর গুলির শব্দ। আতঙ্কে আমিসহ পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই।

আরেক বাসিন্দা আয়েশা খানম জানান, বাড়ি থেকে কিছু দূরে এভাবে জঙ্গি ছিল কল্পনাই করতেই ভয় পাচ্ছি। সারাদেশে এভাবে জঙ্গিরা যেভাবে আস্তানা গেঁড়ে বসেছে তাতে জনগণের জানমালেরই তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেনের উপস্থিতিতে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুরের ওই বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে মাটির ওই বাড়ির ভিতর থেকে কোনো শাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিতরে কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এরপর থেকে পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে থেকে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে থাকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ অভিযান স্থগিত করে। এরপর ভোর ৫টায় অভিযান আবারো শুরু করে পুলিশ।

সকালে অভিযান শুরুর প্রথমদিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। দুইটি ইউনিট এসে দমকলকর্মীরা বাড়িটিতে পানি ছিটাতে শুরু করে। এরপরই ভেতর থেকে শুরু হয় জঙ্গিদের অতর্কিত বোমার বিস্ফোরণ। আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসকর্মী আব্দুল মতিনসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানোর পর মারা যান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মী।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য শফিউল আজম জানান, সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সাভিসের এককর্মীসহ পুলিশের তিন সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আবদুল মতিন মারা যান।

রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ৩টার দিকে ওই বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে জেলা পুলিশ। তবে রাতের কারণে অভিযান চালানো হয়নি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশের পাল্টা জবাব দেয়।

জঙ্গিদের আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ দইজন।

এছাড়া চার জঙ্গি নিহত হয়েছেন। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভেতরে আরো জঙ্গি থাকতে পারে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ত্রিমোহনী শিবনগর গ্রামের একটি জঙ্গি আস্তানায় ২৬ এপ্রিল থেকে দুই দিন ঘিরে রেখে অভিযান শেষে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশ বলে, আত্মঘাতী বিষ্ফোরণে ওই চারজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আবু কালাম ওরফে আবু (৩০)। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের জেএমবি) সদস্য।

গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সিলেট, মৌলভীবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসব অভিযানে নারী ও শিশুসহ নিহত হয় ২৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই জঙ্গিদের ফেলে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান আবুল কালাম আজাদ, পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ সাতজন। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিন ঘণ্টা পর সেই নারীর আত্মসমর্পণ 

398

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ‘জঙ্গি আস্তানা’র সামনে অবস্থান নেয়া সুমাইয়া নামের এক নারী তিন ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন বলে জানান গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি।

এর আগে, সকাল সোয়া ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাড়িটি লক্ষ্য করে পানি ছিটানোর সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেনসহ একই পরিবারের ৫ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়। এছাড়া বিস্ফোরণে আব্দুল মতিন নামে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হন। সুমাইয়া বাড়ি মালিক সাজ্জাদ হোসেনেরই মেয়ে।

পুলিশ জানায়, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে তার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আত্মসমর্পণে সাড়া দেন।

ওসি হিবজুর আলম মুন্সি জানান, আত্মসমর্পণের পর সুমাইয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু 

44777

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বেণীপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় বোমার বিস্ফোরণে আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। গোদাগাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিফজুর আলম মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আবদুল মতিনের বাড়ি গোদাগাড়ির মাটিকাটা ইউনিয়নেই। জঙ্গিদের ঘটানো বিস্ফোরণে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গোদাগাড়ি উপজেলার বেণীপুর গ্রামের ধানক্ষেতের মাঝখানে টিনের ওই বাড়িটি ভোর থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই আস্তানা থেকে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ওসি হিফজুর আলম মুন্সী বলেন, ভোর থেকেই ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ওই বাড়ির ভেতর থেকে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে আমাদের দুই পুলিশ সদস্য ও এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে দম্পতিসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে অভিযানে নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত 

58

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের অভিযানে এক নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি এ তথ্য দেন।

তিনি জানান, ঘিরে রাখা বাড়িতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি নিক্ষেপ করে। এ সময় একযোগে নারী ও শিশুসহ ৬ জঙ্গি বাড়ি থেকে বের হয়ে দমকল কর্মী আবদুল মতিনকে শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এরপর সেখানে তাদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়।

এ সময় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে উৎপল নামে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। দমকল কর্মী মতিন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ওসি আরো জানান, বাড়িটির সামনে আরেক নারী অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে।

এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু।

আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার 

01

রাজশাহী, ২ মে : রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে পদ্মায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি ইউনিট।

যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন, মহানগরীর তালাইমারীর আসাদুল ইসলাম (৩০), দরগাপাড়ার রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), রাজশাহী জামিয়া মাদরাসার ছাত্র তামীম ইকবাল (৮) ও আব্দ‍ুল আহাদ (১০) এবং পাঠান পাড়া এলাকার রবিন হোসেন (২২)।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার রকি হোসেনসহ ছয়জন পদ্মা নদীর চরে ফসলের মাঠ পরিদর্শন শেষে রোববার সন্ধ্যায় নৌকায় করে ফিরছিলেন। পথে তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় রকি কোনভাবে সাঁতরে বাঁচলেও অন্যরা ডুবে যান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে দরগাপাড়া থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জাহাজঘাট এলাকার পদ্মা নদী থেকে রফিকুল, তামিম, আহাদ ও রবিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চারঘাটের টেঙ্গুন এলাকা থেকে আসাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস বড়কুঠি ঘাটে নিয়ে এসে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ লাশগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অফিসার্স কোয়ার্টারে পুলিশের সহকারী কমিশনারের লাশ উদ্ধার 

2584441

রাজশাহী, ২৯ এপ্রিল : রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সহকারী কমিশনার সাব্বির আহমেদ সরফরাজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাজপাড়া থানার তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন।

শনিবার সকালে শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ অফিসার্স মেস থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সরফরাজের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে। তার বাবা মো. ওবায়দুল্লাহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছিলেন। নগরীর উপশহরের একটি বাসায় স্ত্রী ও তিন বছরের এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ৩১তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

আরএমপির মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে অবস্থিত আরএমপির অফিসার্স মেসে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতেন পুলিশ কর্মকর্তা সরফরাজ। আজ সকালে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় রশি দেয়া অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো পুলিশ।

শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আরএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। মেসের ভেতরে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে রাজশাহীতে বাড়ি ঘেরাও 

34

রাজশাহী, ২৫ এপ্রিল : রাজশাহীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা।

মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলার কোর্ট স্টেশনের হড়গ্রাম এলাকার বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়িটির আশপাশে র‌্যাব ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয়নি।

ওই এলাকার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাউধার মরদেহ উত্তোলন 

321

রাজশাহী, ২৪ এপ্রিল : পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মালদ্বীপের মডেলকন্যা ও রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাউধা আতিফের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে।

রাউধার বাবা ডা. আতিফের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  গতকাল রবিবার সকালে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। ডা. আতিফের দাবি, তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ডা. মোহাম্মদ আতিফ বলেন, ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে যেসব চিহ্ন চোখে-মুখে ও শরীরের ফুটে ওঠে তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি রাউধার শরীরে। আবার শ্বাসরোধ করে হত্যা করলে যেসব আলামত ফুটে ওঠে তার সবগুলোই রয়েছে রাউধার শরীরে।

তিনি বলেন, তার মেয়ে যে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে তার কোনো প্রমাণই নেই। আদৌ তার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল কি না সেটাও পরিষ্কার নয়। কারণ, একজনও দেখেনি যে সে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তার মৃত্যুর পর যে ছবি পাওয়া যায়, তা বিছানায় শোয়ানো অবস্থায়। ‘ছবি না থাকলে কীভাবে বাবা হিসেবে আমি বিশ্বাস করবো যে- আমার মেয়ে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে?’

আতিফ বলেন, ‘আত্মহত্যা করলে স্যালিভা বেরিয়ে আসে। মূত্র বেরিয়ে আসে। হাত-পা ছড়ানো থাকে। কিন্তু রাউধার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল। সাধারণত শ্বাসরোধ করা হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাউধার গলায় হাতের আঙ্গুলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। তার গলায় যে দাগ রয়েছে, তা সুতি কাপড়ের ওড়নার নয়। ফলে সুতি কাপড়ের যে ওড়না দিয়ে রাউধা গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে তা মিথ্যা। ’

ডা. আতিফ সংবাদ সম্মেলন থেকে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সাধারণ পুলিশ ও ডিবি তদন্তে গাফিলতি করেছে। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। প্রকৃত ঘটনা বের করতে গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আগামীকাল কবর থেকে তোলা হবে রাউধার লাশ 

398

রাজশাহী, ১৯ এপ্রিল : মালদ্বীপ থেকে পড়তে আসা রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক মডেল কন্যা রাউধা আতিফের লাশ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার কবর থেকে তোলা হবে।

আজ বুধবাবর দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. রক্তিম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, লাশ তোলার সময় তাকে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুব্রত পাল। বুধবার দুপুরেই তিনি এ সংক্রান্ত কাগজপত্র হাতে পেয়েছেন। তাই বৃহস্পতিবার সকালে তিনি লাশ তোলার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডা. রক্তিম চৌধুরী জানিয়েছেন, লাশ তোলার সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকেও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তিনিই লাশ তোলার সব আয়োজন করছেন। তবে রাউধার লাশের কোথায় ময়নাতদন্ত করা হবে তা জানাতে পারেননি তিনি।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর মুখ্য হাকিম আদালত-১ এর বিচারক মাহবুবুর রহমান মালদ্বীপের এই মডেল কন্যার মরদেহ পুন:ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলার আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়েছিল, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ মরদেহ তুলতে হবে। তবে কবে মরদেহ তোলা হবে তা ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঠিক করবেন।

গত সোমবার (১৭ এপ্রিল) বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজশাহী সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হক মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মরদেহে উত্তোলনের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতের আদেশে বৃহস্পতিবার তার লাশ কবর থেকে তোলার সিদ্ধান্ত হলো।

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ রাজশাহীর নওদাপাড়ায় অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেল থেকে রাউধা আতিফের মরদেহ উদ্ধার করে শাহ মখদুম থানা পুলিশ। রাউধা ওই কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, রাউধা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

এ ঘটনায় ওইদিনই কলেজ কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে নগরীর শাহ মখদুম থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। রাউধার মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে রাজশাহীতে দাফন করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এরপর মালদ্বীপের দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজশাহীতে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করেন। দেশে ফিরে গিয়ে তারা জানান, রাউধাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাননি।

এদিকে, রাউধার মত্যুর ঘটনায় কলেজের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটিও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে গত ১০ এপ্রিল তার বাবা ডা. মোহাম্মদ আতিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, রাউধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

মামলায় রাউধার বান্ধবী সিরাত পারভীন মাহমুদকে (২১) একমাত্র আসামি করা হয়েছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। তবে সিরাতের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তাকে সোমবার পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হবে কী-না সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে ১২ লাখ টাকাসহ সন্দেহভাজন জঙ্গি আটক 

রাজশাহী, ১৩ এপ্রিল : রাজশাহী মহানগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকাসহ সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে আটক করেছে পুলিশ

বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে টাকাসহ তাকে আটক করে পুলিশ।

এর আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আট তলা ওই ভবনটি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভবনের সামনের সড়কে একটি অ্যাম্বুলেন্সও এনে রাখা হয়। তবে সেখানে কোনো গোলাগুলি বা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করার পর সব ফ্ল্যাটের আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। এরপর ভবনটির সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ সন্দেহভাজন ওই জঙ্গিকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে বাড়িটি ঘিরে রাখার পর সেখানে গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। ভবনটির পাশের আরেকটি ভবনেই থাকেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিন। তিনিও ভবনটির সামনে দাঁড়িয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে রাত পৌনে দুইটার দিকে আটক ব্যক্তিকে ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের করে আনে পুলিশ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-কমিশনার একেএম নাহিদুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় জানা যাবে। তবে জঙ্গিদের আস্তানায় যে ধরনের আলামত পাওয়া যায়, তা সেখানে পাওয়া যায়নি।

বাড়িওয়ালা অহিদুল ইসলাম বাচ্চুর বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় চার মাস আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তিনি আউটসোর্সিংয়ের কাজ করেন বলে জানিয়েছিলেন। বাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় তিনি তথ্য ফরমও পূরণ করেননি। ফ্ল্যাটে তিনি তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে থাকতেন।

নাহিদুল ইসলাম আরও জানান, আটক ব্যক্তির স্ত্রী-সন্তানকে বাড়িওয়ালার জিম্মায় রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে জেএমবি সদস্য গ্রেফতার 

374

রাজশাহী, ১৫ মার্চ : রাজশাহীর বাগামারায় আবদুর রাজ্জাক (৩৮) নামে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার জুগিপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আবদুর রাজ্জাক ওই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি তালিকাভুক্ত জেএমবি সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগমারা থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জেএমবি সদস্য আবদুর রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে আগে থেকেই থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা আছে।

ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে বলেও জানান ওসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুলিশের গুলিতে কথিত মাদক বিক্রেতা নিহত 

23

রাজশাহী,  ১৩ মার্চ : রাজশাহীর ডাশমারি এলাকায় পুলিশের গুলিতে কথিত এক মাদক বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে।

মতিহার থানার ওসি হুমায়ন কবির জানান, রবিবার রাত সোয়া ২টার দিকে ডাশমারির সাতবাড়িয়া পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আফজাল হোসেন (৩২) ওই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। ওসি হুমায়ন বলেন, গোপন খবর পেয়ে সোয়া ২টার দিকে সহকারী কমিশনার সুশান্ত কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী আফজাল হোসেনের বাড়ি অভিযান চালায়।

আফজাল বাড়ি থেকে বের হয়ে হাঁসুয়া নিয়ে হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে আফজাল আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি হাসুয়া জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, এ ঘটনায় সহকারী পুলিশ কমিশনার সুশান্ত কুমার, কনস্টেবল নাইম, সুজন ও ফাতেমা আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে হিযবুত তাহ্‌রীরের ২ ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার 

777

রাজশাহী, ১২ মার্চ : রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্‌রীরের সন্দেহভাজন দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই দুই ব্যক্তিকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আরিফুল ইসলাম ও আনিসুর রহমান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল কুমার চক্রবর্তী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের নামে মামলা আছে। তাদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চুরির অভিযোগে ২ কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন 

রাজশাহী, ৯ মার্চ : ছাগল চুরির অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছেন আব্দুল মোতালেব নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তার সহযোগীরা।

বুধবার দুপুরে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আন্দুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতিত ওই দুই কিশোর হল- উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৫) ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন আলী (১৪)। তারা উপজেলার আমগাছী সাহারবাণু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয়রা জানান, চুরির অভিযোগে কথিত গ্রাম্য সালিশে আন্দুয়া গ্রামের ওই ইউপি সদস্য দুই কিশোরকে পিটিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, তাদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করেছেন নগদ ১৬ হাজার টাকা।

জরিমানার এ টাকা তিনি নিজের পকেটেই পুরেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই সালিশ বৈঠকে ঝালুকা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিফও উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার রাতে সালিশে ওই দুই কিশোরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাতে জার্জিস ও রতন আন্দুয়া গ্রামের রেজাউল করিমের বাড়ি থেকে একটি ছাগল চুরি করে বলে অভিযোগ করেন ছাগলের মালিক।

ভোরে মতিহারের হরিয়ান বাজার দিয়ে যাওয়ার সময় বাজারের নৈশপ্রহরীরা ছাগলসহ যেতে দেখে সন্দেহ হলে ওই দুই কিশোরকে আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে আন্দুয়া গ্রামে খবর দিলে সকালে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন।

এরপর বুধবার দুপুরে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশে সালিশ বসানো হয়। সালিশ বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়।

পরে তাদের পরিবারের লোকজনকে ডেকে পাঠানো হয়। তারা এলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

জরিমানার এ টাকার মধ্যে আড়াই হাজার টাকা ছাগল মালিককে দেয়া হয়। বাকি টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব।

এরপর ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নির্যাতিত ওই দুই কিশোরের পরিবার জানায়, অল্প বয়সী ওই কিশোরেরা ভুল করতেই পারে। তাই বলে তাদের গাছে বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো ঠিক হয়নি।

এ ব্যাপারে ওই কিশোরদের পরিবার আইনের আশ্রয় নেবে বলেও জানিয়েছে।

নির্যাতনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব বলেন, ছাগল চুরির কথা প্রথমে তারা স্বীকার না করায় গাছে বেঁধে রাখা হয়।

তবে তাদের নির্যাতন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

জরিমানার ১৬ হাজার টাকা কার কাছে আছে জানতে চাইলে আব্দুল মোতালেব বলেন, আড়াই হাজার টাকা ছাগল মালিককে দেয়া হয়েছে। আর বাকি টাকার মধ্যে কিছু টাকা দুই চোরকে ধরতে সাহায্যকারীরা পেয়েছেন। আর বাকি টাকা গ্রামের মসজিদে দান করা হয়েছে।

সালিশে উপস্থিত ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলের সঙ্গে পরামর্শ করেই এসব করা হয়েছে বলেও জানান আব্দুল মোতালেব।

যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। এ ব্যাপারে কথা বলতে পারবেন না।

দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিয়োগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর