২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:১৭, শুক্রবার

বাঘায় রিভলবারসহ যুবক গ্রেফতার

বাঘায় রিভলবারসহ যুবক গ্রেফতার 

588

রাজশাহী, ১৫ আগস্ট : রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বিদেশি একটি রিভলবারসহ জিয়ারুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার রাতে উপজেলার চাঁদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জিয়ারুল উপজেলার পলাশি ফতেপুর গ্রামের মৃত করিম মন্ডলের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র‌্যাব-৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেনের নেতৃত্বে একটি অপারেশন দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানে লোহার তৈরি সিলভার রঙের একটি বিদেশি রিভলবারসহ জিয়ারুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল সেট এবং একটি সিম কার্ডও জব্দ করা হয়েছে। জিয়ারুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে বাঘা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ৪ জেএমবি সদস্য গ্রেফতার 

551

রাজশাহী, ৭ জুলাই : রাজশাহীর পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তালিকাভুক্ত চার সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও জিহাদি বই জব্দ করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- দুর্গাপুর থানার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. ইসার ছেলে মো. আসলাম (৩৭), মৃত খোদা বক্সের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০) ও মো. বাবু হুজুর (২৮) জোয়াদ আলীর ছেলে এবং  রাজশাহী পুঠিয়া ধাদাশ গ্রামের আবদুল হামিদের ছেলে আবুল কাশেম রোকন (৩৮)।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, রাতে পুঠিয়া ও দুর্গাপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালিয়ে নিজ নিজ বাসা থেকে তালিকাভুক্ত চার জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও জিহাদি বই জব্দ করা হয়।

তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিস্তারিত পরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে  বলে জানান পুলিশ সুপার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাগমারায় দেওয়ান ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল 

85477

রাজশাহী, ১৮ জুন : পবিত্র মাহে রমজানের একুশতম দিন গতকাল শনিবার জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা ড. জাহিদ দেওয়ান শামীমের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দেওয়ান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল রাজশাহীর বাগমারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার জামালপুর ঈদগাহ মাঠে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সূধীজনের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাগমারা উপজেলা বিএনপি সদস্য এনামুল মাস্টারের পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও দেওয়ান ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোঃ হাবিবুন্নবী দেওয়ান সাকিল।

ইফতার পূর্ব দোয়া মাহফিলে দেশের জনগণ ও মুসলিম উম্মার শান্তির জন্য দোয়া করার পাশাপশি সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশর জন্য দোয়া করেন জামালপুর জামে মসজিদের পেশ ইমাম মওলানা মোঃ মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ মৃধা ও রাকিব হাসান।

ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী দেওয়ান নাজিম উদ্দিন, জামালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলী আসগর মৃধা, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী প্রধান শিক্ষক আহাদ মৃধা, রাজশাহী প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আদনান রাসল, ২নং ওর্যাড বিএনপির সভাপতি সামছুদ্দিন, সাধারন সম্পাদক রমযান আলী, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ইনতাজ, আলমগীর হোসেন মাস্টার, আকবর আলি মাস্টার, কমিউনিটি নেতা আলহাজ আলী আফজাল মৃধা, আল, মোশাররফ মৃধা, মান্নান মৃধা, আফসার আলী, শহিদুজ্জামান মৃধা, জালাল হোসেন, মহির উদ্দিন, মোজামমেল হক, মুনছুর রহমান, আইনুল, সামসুদ্দিন, সিরাজ শেখ, নুর মোহাম্মদ মল্লিক, মিজানুর রহমান, নেতা বিএনপি কামাল, সবুজ, হাকিম, সাহেব বাবু লালমন, আলাউদ্দিন, আকরাম, ইসলাম, তাহের, ময়েজ, হান্নানসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীর জঙ্গি আস্তানা থেকে চার শিশুসহ আটক ১২ 

825

রাজশাহী, ১২ জুন : রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নে দাঙ্গাপাড়া গ্রামে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে চারটি শিশু রয়েছে।

ওই বাড়ি থেকে একটি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ।

বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রোববার রাত ৮টার পর থেকে ওই বাড়ি নজরদারিতে রাখে পুলিশ। রাত ১২টায় ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর তারা বাড়িতে ব্যতিক্রমভাবে ঈদের জামাত পালন করে। গত বছর ঈদের পর থেকে তাদের মাঝে আরও পরিবর্তন আসে। নিজেরা ঈদের আগের দিন বাড়ির উঠানে ঈদের জামাত করতো। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তারা মেলামেশা করতো না।

আটককৃতরা হলো- বাড়ির মালিক রমজান আলী (৫৫) ও তার স্ত্রী আয়েশা বিবি, বড় ছেলে ইব্রাহীম ও তার স্ত্রী মর্জিনা, ছোট ছেলে ইসরাফিল আলম (২৬) ও তার স্ত্রী হারেছা খাতুন, মেয়ে হাওয়া বেগম (২০) ও তার স্বামী রবিউল (২৭)।

এছাড়া বাড়িটি থেকে উদ্ধার করা শিশুদের মধ্যে রয়েছে- ইব্রাহীম ও মর্জিনা দম্পতির তিন মেয়ে তামান্না (৮ বছর), তাসকিরা (৪ বছর), তানশিরা (৭ মাস) এবং রবিউল ও হাওয়া দম্পতির তিন মাসের একটি মেয়ে।

জানা গেছে, রমজান আলী গৌরঙ্গপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, ইব্রাহীম সার ব্যবসায়ী, ইসরাফিল আলম স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক এবং রবিউল পাচন্দর ইউনিয়নের বনকিশোর চকপাড়ায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন।

তানোর থানার এসআই রায়হান আলী বলেন, ওই বাড়িতে সুইসাইডাল ভেস্ট ও বিপুল সংখক বিস্ফোরক দ্রব্য থাকতে পারে। সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তানোরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও 

88

রাজশাহী, ১২ জুন : রাজশাহীর তানোরে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। রোববার গভীর রাতে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া গ্রামের ওই বাড়িটিতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ আটক করা হয় সন্দেহভাজন তিন জঙ্গিকে।

এরা হলেন, ইব্রাহীম হোসেন (২৬), ইসরাফিল হোসেন (২৪) ও রবিউল ইসলাম (২৫)। এদের মধ্যে ইব্রাহীম ও ইসরাফিল দুই সহদর এবং রবিউল তাদের ছোট বোন হাওয়া খাতুনের (২১) স্বামী। ইব্রাহীমের বাবা রমজান আলী উপজেলার গৌরাঙ্গপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

পুলিশের ভাষ্য, ঘিরে রাখা বাড়িটি থেকে দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, একটি ৭.৬২ মডেলের এমএম বিদেশি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশ ইব্রাহীমের বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এসময় ওই বাড়ি থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে বলা হয়। পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই বাড়ি থেকে তিনজন বের হন। পরে বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

সুমিত চৌধুরী আরও বলেন, ওই বাড়িতে একটি শক্তিশালি বোমাসহ কিছু বিস্ফোরক দ্রব্য রয়েছে। বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। ঢাকায় বোমা নিস্ক্রিয় দলকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তারা এলেইে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী জানান, আটক তিনজনই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। বগুড়া জেলা পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটকদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এনিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

এদিকে সোমবার সকালে ওই বাড়ি থেকে চার শিশু ও তিন নারীসহ নয়জনকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এরা হলেন, জঙ্গি ইব্রাহীম ও ইসরাফিলের বাবা রমজান আলী, মা আয়েশা বেগম, মেয়ে হাওয়া খাতুন, ইব্রাহীমের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, ইসরাফিলের স্ত্রী হারেছা খাতুন। আর শিশুদের মধ্যে হাওয়া খাতুনের এক ও মর্জিনা খাতুনের তিন শিশু কন্যা। যাদের বয়স এক মাস থেকে নয় বছর পর্যন্ত।

সবাইকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সকালে পুলিশ দ্বিতীয় দফায় ওই বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে সেখানে আর কিছু পাওয়া যায়নি বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

অপরদিকে পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ১০/১২ বছর ধরে রমজান আলীর পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদের নামাজ পড়ত। চলতি রমজান মাসেও তারা সৌদি আবরের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে। গত বছর রমজান আলী ও তার স্ত্রী আয়শা বেগম হজ করেছেন।

মঞ্জু বলেন, ইব্রাহীম ও ইসরাফিল মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। বর্তমানে ইব্রাহীম বাড়িতে সার কীটনাশকের ব্যবসা করেন। আর ইসরাফিল পেশায় কৃষক। তাদের ভগ্নিপতি রবিউলের বাড়ি পাশের গ্রামের চকপাড়ায়। পেশায় তিনি কাঠমিস্ত্রি। বিয়ের পর থেকে রবিউল শ্বশুর বাড়িতেই থাকতেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফেনসিডিল পাচারে কনডম! 

771

রাজশাহী, ২ জুন : রাজশাহীর বাঘা সীমান্তের পদ্মা নদী দিয়ে ভেসে আসছে ফেনসিডিল। আর এ কাজে চোরাকারবারিরা ব্যবহার করছে কনডম।

বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঘার বড় ছয়ঘটি এলাকা দিয়ে কনডমের মধ্যে প্রবেশ করানো ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করে বাঘা থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, রনি আহাম্মেদ (৩৫) পিতা জয়নুল আবেদিন সাং পাবনা শিবরামপুর এবং অপরজন মাজেদুল হক (৩৬) পিতা শামসুল হক বাচ্চু বাড়ি পাবনার  শিংড়া এলাকায়।

বাঘা সীমান্ত এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে চলতি রমজানে ফেনসিডিল চোরাচালান পূর্বের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। কতিপয় চোরাকারবারি এসব কাজে কখনো মাঝি (জেলেদের) ব্যবহার করছে। আবার কখনোবা বিজিবিকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন কায়দায় ফেন্সিডিল পাচার করছে। আর এই সব পাচার হয়ে আসা ফেনসিডিল  চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শহরে।

অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহামুদ জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ফেনসিডিল গুলোর লেবেল নষ্ট না হওয়া স্বার্থে কনডমের মধ্যে ঢুকিয়ে পদ্মানদী দিয়ে ভাসিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ফেনসিডিল রোধ তাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা সীমান্ত এলাকা। এ জন্য বাংলাদেশ বিজিবিকেও সক্রীয় হওয়ার দাবি জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দ্বিতীয় দিনে ‘অপারেশন সান ডেভিল’, জীবিত কেউ নেই 

68

রাজশাহী, ১২ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বেনিপুরে জঙ্গি আস্তানায় দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান ‘সান ডেভিল’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে বোম ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আসার পর এই অভিযান শুরু হয়।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে প্রথম দিনের মতো অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

দ্বিতীয় দিন অভিযানের আগে বাড়িটির আশপাশের এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়। এক বর্গকিলোমিটার এলাকাতে ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য দ্বিতীয় দিনের অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

এদিকে, দ্বিতীয় দিনের অভিযানের শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি করে।

তবে বিপরীত দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়িটিতে প্রবেশ করে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা।

এদিকে রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী এক খুদেবার্তায় জানিয়েছেন, বাড়িটিতে চারটি ঘর রয়েছে। সেখানে আর কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি।

এখন বাড়িটিতে বিস্ফোরক মজুদ আছে কিনা তা দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার অভিযানে নিহত পাঁচ জঙ্গির লাশ শুক্রবার সকালেও আগের অবস্থানেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অপারেশানস্থলে দুটি অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

এর আগে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে গোদাগাড়ীর বেনিপুরের জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে রাখে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী মতিন পানি স্প্রে করতে গেলে ঘর থেকে বের হয়ে জঙ্গিরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

ওই সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটালে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। মতিনের লাশ ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গোদাগাড়ীতে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণে নিহত ৬ 

3795

রাজশাহী, ১১ মে : জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় একটি জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতি বিস্ফোরণে দমকল বাহিনীর এক কর্মীসহ অন্তত ৬ জঙ্গি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার রাত ৩টা থেকে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের এই টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি এ বাড়িটি ঘিরে রাখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বিস্ফোরণে নিহতরা হলেন- ফায়ার সার্ভিস কর্মী আবদুল মতি, বাড়ির মালিক ও জঙ্গি সাজ্জাদ হোসেন, তার স্ত্রী বেলী বেগম, ছেলে আলামিন, সোয়েব এবং মেয়ে কারিমা বলে ধারণা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তাদের লাশ বাড়ির সামনেই পড়ে আছে। ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে এই দুই শিশুকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে পুলিশ তাদের সরিয়ে নেয়। আরেকজন নারীকেও বাড়ির সামনে সুইসাইড ভেস্ট পরে মাঠের মধ্যে বসে থাকতে দেখা গেছে।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের মাঠের মধ্যে মাস দুই আগে বাঁশ আর টিন দিয়ে ওই ঘর তোলা হয় বলে স্থানীয়রা জানায়।

ধানক্ষেতের মাঝখানে টিনের ওই বাড়িটির আশপাশের আর কোনও ঘরবাড়ি নেই।

আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণের ঘটনায় গোদাগাড়ী থানার উপ-সহকারি পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) উৎপল (৩৫) কনস্টেবল তাজুল ইসলাম (৪০) ও দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন (২৯) আহত হয়েছিলেন। পরে তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দমকল বিভাগের কর্মী আব্দুল মতিন মারা যান।

এদিকে দমকলকর্মীসহ ৬ জঙ্গি নিহতের পর থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। জনসাধারণের জানমালের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এজন্য ওই এলাকাসহ আশেপাশের ২ কিলোমিটার জায়গাজুড়ে এ জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে বলে জানান গোদাগাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুল আলম মুন্সী।

বর্তমানে জঙ্গি আস্তানাটিতে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ সদরদপ্তরের এলআইসি শাখা ও স্থানীয় পুলিশ মিলে এই অভিযান চালাচ্ছেন। রাজশাহী জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বুধবার গভীর রাত থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ঘিরে রাখে পুলিশ। এরপর ভিতরে ৫-৬ জন জঙ্গি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। সকাল ৮টার দিকে আস্তানাটিতে পানি ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এসে পানি ছেটানো শুরু করেন। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ঘরের ভেতর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে আত্মঘাতি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায়।

সতর্ক অবস্থানে থাকা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটসহ সঙ্গে থাকা রাজশাহী জেলা পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এসময় জঙ্গিদের আত্মঘাতি বোমা বিস্ফোরণ আর পুলিশের মুহুর্মুহু গুলির শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হতে থাকে। জঙ্গিদের এ বিস্ফোরণে দমকল বাহিনীর কর্মী আব্দুল মতিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এছাড়া আত্মঘাতি এ বোমা বিস্ফোরণে মারা যান আরো পাঁচ জঙ্গি। বর্তমানে সুইসাইট ভেস্ট পরে আরো দুই-একজন জঙ্গি ভেতরে অবস্থান করে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী সার্কেলের সিনিয়র এএসপি একরামুল হক।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসকর্মীসহ ৬ জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক আর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আস্তানাটির আশেপাশের এলাকায় প্রায় অর্ধকিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

জঙ্গি আস্তানাটির আশেপাশে প্রায় অর্ধকিলোমিটার জায়গাজুড়ে আর কোনো মানুষের বসতি নেই। প্রায় অর্ধকিলোমিটার দূরের ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াকিল নামে এক বাসিন্দা জানান, সকালে আমি বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ দূরে কোথাও বোমা আর মুহুর্মুহু গুলির শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে দেখি মাঠে বোমা আর গুলির শব্দ। দূর থেকে আঁচ করতে পারলাম কিছুদিন আগে টিন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা ওই নতুন বাড়ির চতুর্পাশে বন্দুকধারী পুলিশ আর পুলিশ। আর ভেতরে বোমা আর গুলির শব্দ। আতঙ্কে আমিসহ পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিই।

আরেক বাসিন্দা আয়েশা খানম জানান, বাড়ি থেকে কিছু দূরে এভাবে জঙ্গি ছিল কল্পনাই করতেই ভয় পাচ্ছি। সারাদেশে এভাবে জঙ্গিরা যেভাবে আস্তানা গেঁড়ে বসেছে তাতে জনগণের জানমালেরই তেমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেনের উপস্থিতিতে উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের হাবাসপুরের ওই বাড়িটিতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ। তবে মাটির ওই বাড়ির ভিতর থেকে কোনো শাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভিতরে কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। এরপর থেকে পুলিশ নিরাপদ দূরত্বে থেকে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে থাকে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ অভিযান স্থগিত করে। এরপর ভোর ৫টায় অভিযান আবারো শুরু করে পুলিশ।

সকালে অভিযান শুরুর প্রথমদিকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। দুইটি ইউনিট এসে দমকলকর্মীরা বাড়িটিতে পানি ছিটাতে শুরু করে। এরপরই ভেতর থেকে শুরু হয় জঙ্গিদের অতর্কিত বোমার বিস্ফোরণ। আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসকর্মী আব্দুল মতিনসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন আহত হয়। পরে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানোর পর মারা যান ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মী।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য শফিউল আজম জানান, সকাল ৯টার দিকে ফায়ার সাভিসের এককর্মীসহ পুলিশের তিন সদস্যকে গুরুতর আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য আবদুল মতিন মারা যান।

রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাত ৩টার দিকে ওই বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখে জেলা পুলিশ। তবে রাতের কারণে অভিযান চালানো হয়নি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অভিযান শুরু হয়। অভিযান চলাকালে জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করলে পুলিশের পাল্টা জবাব দেয়।

জঙ্গিদের আত্মঘাতি এ বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকসহ দইজন।

এছাড়া চার জঙ্গি নিহত হয়েছেন। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভেতরে আরো জঙ্গি থাকতে পারে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ত্রিমোহনী শিবনগর গ্রামের একটি জঙ্গি আস্তানায় ২৬ এপ্রিল থেকে দুই দিন ঘিরে রেখে অভিযান শেষে চারজন নিহত হওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশ বলে, আত্মঘাতী বিষ্ফোরণে ওই চারজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন আবু কালাম ওরফে আবু (৩০)। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের জেএমবি) সদস্য।

গত কয়েক মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড, সিলেট, মৌলভীবাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ঝিনাইদহে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালায়। এসব অভিযানে নারী ও শিশুসহ নিহত হয় ২৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চলাকালে নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেই জঙ্গিদের ফেলে রাখা বোমার বিস্ফোরণে নিহত হন র‌্যাবের গোয়েন্দাপ্রধান আবুল কালাম আজাদ, পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ সাতজন। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তিন ঘণ্টা পর সেই নারীর আত্মসমর্পণ 

398

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর ‘জঙ্গি আস্তানা’র সামনে অবস্থান নেয়া সুমাইয়া নামের এক নারী তিন ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন বলে জানান গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি।

এর আগে, সকাল সোয়া ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাড়িটি লক্ষ্য করে পানি ছিটানোর সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেনসহ একই পরিবারের ৫ ‘জঙ্গি’ নিহত হয়। এছাড়া বিস্ফোরণে আব্দুল মতিন নামে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হন। সুমাইয়া বাড়ি মালিক সাজ্জাদ হোসেনেরই মেয়ে।

পুলিশ জানায়, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর সুমাইয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে তার সামনে অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে বেলা ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আত্মসমর্পণে সাড়া দেন।

ওসি হিবজুর আলম মুন্সি জানান, আত্মসমর্পণের পর সুমাইয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গি আস্তানায় অভিযান, আহত ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মৃত্যু 

44777

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বেণীপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় বোমার বিস্ফোরণে আহত ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আবদুল মতিন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন। গোদাগাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিফজুর আলম মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আবদুল মতিনের বাড়ি গোদাগাড়ির মাটিকাটা ইউনিয়নেই। জঙ্গিদের ঘটানো বিস্ফোরণে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গোদাগাড়ি উপজেলার বেণীপুর গ্রামের ধানক্ষেতের মাঝখানে টিনের ওই বাড়িটি ভোর থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই আস্তানা থেকে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ওসি হিফজুর আলম মুন্সী বলেন, ভোর থেকেই ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ওই বাড়ির ভেতর থেকে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এতে আমাদের দুই পুলিশ সদস্য ও এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে দম্পতিসহ চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজশাহীতে অভিযানে নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত 

58

রাজশাহী, ১১ মে : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ পুলিশের অভিযানে এক নারীসহ ৪ জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিবজুর আলম মুন্সি এ তথ্য দেন।

তিনি জানান, ঘিরে রাখা বাড়িতে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি নিক্ষেপ করে। এ সময় একযোগে নারী ও শিশুসহ ৬ জঙ্গি বাড়ি থেকে বের হয়ে দমকল কর্মী আবদুল মতিনকে শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এরপর সেখানে তাদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে জঙ্গিরা আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে নারীসহ ৪ জনের মৃত্যু হয়।

এ সময় বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতে উৎপল নামে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। দমকল কর্মী মতিন এবং তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

ওসি আরো জানান, বাড়িটির সামনে আরেক নারী অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছে।

এর আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার দিনগত রাত পৌনে ২টা থেকে সাজ্জাদ ওরফে মিষ্টুর বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ীর রেলগেট বাইপাস থেকে উত্তরে ৭ কিলোমিটার দূরে বেনীপুরে বাড়িটির মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে মিষ্টু।

আগে তার বাড়ি ছিল একই ইউনিয়নের হাবাসপুরে। তিনি সম্প্রতি বেনীপুরে গিয়ে বাড়িটি করে সেখানে বসবাস করছেন। কৃষক মিষ্টুর বাবার নাম মৃত আব্দুর মাতিন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পদ্মায় নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার 

01

রাজশাহী, ২ মে : রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে পদ্মায় নৌকা ডুবে নিখোঁজ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডুবুরি দল। আজ মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গতকাল সোমবার সকাল থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি ইউনিট।

যাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন, মহানগরীর তালাইমারীর আসাদুল ইসলাম (৩০), দরগাপাড়ার রফিকুল ইসলাম রফিক (৩৫), রাজশাহী জামিয়া মাদরাসার ছাত্র তামীম ইকবাল (৮) ও আব্দ‍ুল আহাদ (১০) এবং পাঠান পাড়া এলাকার রবিন হোসেন (২২)।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকার রকি হোসেনসহ ছয়জন পদ্মা নদীর চরে ফসলের মাঠ পরিদর্শন শেষে রোববার সন্ধ্যায় নৌকায় করে ফিরছিলেন। পথে তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে ডুবে যায়। এ ঘটনায় রকি কোনভাবে সাঁতরে বাঁচলেও অন্যরা ডুবে যান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে দরগাপাড়া থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে জাহাজঘাট এলাকার পদ্মা নদী থেকে রফিকুল, তামিম, আহাদ ও রবিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে চারঘাটের টেঙ্গুন এলাকা থেকে আসাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস বড়কুঠি ঘাটে নিয়ে এসে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিশ লাশগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অফিসার্স কোয়ার্টারে পুলিশের সহকারী কমিশনারের লাশ উদ্ধার 

2584441

রাজশাহী, ২৯ এপ্রিল : রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সহকারী কমিশনার সাব্বির আহমেদ সরফরাজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাজপাড়া থানার তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন।

শনিবার সকালে শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ অফিসার্স মেস থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

সরফরাজের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামে। তার বাবা মো. ওবায়দুল্লাহ রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ছিলেন। নগরীর উপশহরের একটি বাসায় স্ত্রী ও তিন বছরের এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ৩১তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

আরএমপির মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে অবস্থিত আরএমপির অফিসার্স মেসে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতেন পুলিশ কর্মকর্তা সরফরাজ। আজ সকালে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় রশি দেয়া অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লাশ উদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলো পুলিশ।

শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

আরএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আছেন। মেসের ভেতরে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে রাজশাহীতে বাড়ি ঘেরাও 

34

রাজশাহী, ২৫ এপ্রিল : রাজশাহীতে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা।

মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলার কোর্ট স্টেশনের হড়গ্রাম এলাকার বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়িটির আশপাশে র‌্যাব ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাড়িটিতে অভিযান শুরু হয়নি।

ওই এলাকার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাউধার মরদেহ উত্তোলন 

321

রাজশাহী, ২৪ এপ্রিল : পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য মালদ্বীপের মডেলকন্যা ও রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের ছাত্রী রাউধা আতিফের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর হেতেম খাঁ কবরস্থান থেকে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এসময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক আসমাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠীরা রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলে।

রাউধার বাবা ডা. আতিফের অভিযোগ, তার মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  গতকাল রবিবার সকালে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ অভিযোগ করেন। ডা. আতিফের দাবি, তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে ডা. মোহাম্মদ আতিফ বলেন, ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করলে যেসব চিহ্ন চোখে-মুখে ও শরীরের ফুটে ওঠে তার কোনোটিই পাওয়া যায়নি রাউধার শরীরে। আবার শ্বাসরোধ করে হত্যা করলে যেসব আলামত ফুটে ওঠে তার সবগুলোই রয়েছে রাউধার শরীরে।

তিনি বলেন, তার মেয়ে যে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে তার কোনো প্রমাণই নেই। আদৌ তার মেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে ছিল কি না সেটাও পরিষ্কার নয়। কারণ, একজনও দেখেনি যে সে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে। তার মৃত্যুর পর যে ছবি পাওয়া যায়, তা বিছানায় শোয়ানো অবস্থায়। ‘ছবি না থাকলে কীভাবে বাবা হিসেবে আমি বিশ্বাস করবো যে- আমার মেয়ে ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে?’

আতিফ বলেন, ‘আত্মহত্যা করলে স্যালিভা বেরিয়ে আসে। মূত্র বেরিয়ে আসে। হাত-পা ছড়ানো থাকে। কিন্তু রাউধার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল। সাধারণত শ্বাসরোধ করা হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া রাউধার গলায় হাতের আঙ্গুলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। তার গলায় যে দাগ রয়েছে, তা সুতি কাপড়ের ওড়নার নয়। ফলে সুতি কাপড়ের যে ওড়না দিয়ে রাউধা গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে তা মিথ্যা। ’

ডা. আতিফ সংবাদ সম্মেলন থেকে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সাধারণ পুলিশ ও ডিবি তদন্তে গাফিলতি করেছে। তবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। প্রকৃত ঘটনা বের করতে গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর