২৯ মে ২০১৭
সকাল ৭:৫৯, সোমবার

আতিয়া মহলের দুই মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তর

আতিয়া মহলের দুই মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তর 

14

সিলেট, ১০ মে : বহুল আলোচিত জঙ্গি আস্তানা সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার ও অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, সদর দপ্তরের নির্দেশে মঙ্গলবার মামলা দুটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে মামলা দুটির তদন্ত করছিল মোগলাবাজার থানা পুলিশ।

পিবিআই এর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মামলার নথি ও আলামত বুঝে পেয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে গত ২৪ মার্চ ভোরে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহল ঘিরে ফেলেন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরদিন সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িটি ঘিরে চলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের অপারেশন টুয়াইলাইট।

অভিযানের মধ্যে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিম দিকে পর পর দুইদফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ সাতজন নিহত হন। আর অভিযান শেষে আতিয়া মহলে পাওয়া যায় চার জঙ্গির লাশ।

এ ঘটনায় ২৭ মার্চ মোগলাবাজার থানার এস আই শিপলু দাস অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আর আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এস আই সুহেল আহমদ বাদী হয়ে অপর মামলাটি করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গোলাপগঞ্জে নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত 

0

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট), ২ মে : গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল ও খান বাহাদুর নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপার সুনিল চন্দ্র দাস, সিনিয়র শিক্ষক তারেক জলিলের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আমজাদ আহমদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাংকার মাহবুব কাদির চৌধুরী, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালিক, পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হেলাল উদ্দিন হেলাল, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুহেদুজ্জামান চৌধুরী, পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি রশীদ আহমদ ও মাওলনা আইয়ুব আলী। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্টিত মাহফিলে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশ স্কাউটসের আঞ্চলিক কমডেকা সম্পন্ন 

00

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট), ২ মে : গোলাপগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের ৫ দিন ব্যাপী ২য় আঞ্চলিক সমাজ উন্নয়ন ক্যাম্প (কমডেকা) সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার  কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার বলেছেন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমে উদ্বোদ্ধ হয়ে আগামীদিনের নেতৃত্বের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ, অনৈতিক কার্যক্রম রুখতে স্কাউটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে স্কাউট আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি পরিবেশ বিপর্যয়, বন্যা, খরা ও নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্ঠিতে স্কাউটদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহবান জানান।

গোলাপগঞ্জস্থ আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সহ-সভাপতি, প্রবীণ শিক্ষাবিদ বিরাজ মাধব চক্রবর্ত্তী মানসের সভাপতিত্বে ও উপ-কমিশনার (স্পেশাল ইভেন্ট) প্রমথ সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচীত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সম্পাদক মহিউল ইসলাম মুমিত, বক্তব্য রাখেন স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কমিশনার ও কমডেকা চীফ মুবিন আহমদ জায়গীরদার, আঞ্চলিক স্কাউট পরিচালক উনু চিং মারমা এলটি, সম্মানীত অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সিলেট এর সচিব মোস্তফা কামাল, সিলেট মেট্টোপলিটন চেম্বারের ডাইরেক্টর, আলীম ইন্ড্রাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলীমুস সাদাত চৌধুরী।  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (সমাজ উন্নয়ন) আমীর এ আজম চৌধুরী, এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কোষাধ্যক্ষ স.ব.ম দানিয়েল, আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (প্রোগ্রাম) ডা. সিরাজুল ইসলাম,আঞ্চলিক উপ-কমিশনার ইসমাইল আলী বাচ্চু, ফয়জুল আক্তার চৌধুরী, বিলকিস বেগম, কমডেকা সাব-ক্যাম্প চীফদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহিদ, রিপন চক্রবর্ত্তী, অসীম রঞ্জন তালুকদার, গুলজার আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে জাতীয় পতাকা, কমডেকা পতাকা, আঞ্চলিক স্কাউটস পতাকা ও পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি, কমডেকা চীফ, বিশেষ অতিথি ও জেলা স্কাউটস প্রতিনিধিগন।

কমডেকার ৩য় দিনে আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম, ৪র্থ দিন চেতনায় মুক্তিযোদ্ধ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধ আতাউর রহমান খান, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিষ্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব। রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত মহা তাঁবু জলসা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কমিশনার ও কমডেকা চীফ মুবিন আহমদ জায়গীরদারের সভাপতিত্বে, স্কাউটার রিপন চক্রবর্তী এলটি ও বিলকিস বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সম্পাদক মহিউল ইসলাম মুমিত, আঞ্চলিক স্কাউট পরিচালক উনু চিং মারমা এলটি। ৫দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত (২৭ এপ্রিল থেকে ০১ মে পর্যন্ত) কমডেকায় বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার ৩৮টি ইউনিট অংশ গ্রহণ করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অগ্রগতি নেই আতিয়া মহল মামলার 

83

সিলেট, ৩০ এপ্রিল : আতিয়া মহলে আলোচিত জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও অভিযান চলাকালে অদূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে এক মাস। এ দীর্ঘ সময়েও আতিয়া মহলে অভিযান কিংবা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। এ দুই ঘটনায় পুলিশের হাতে কোন ক্লুও নেই। এমনকি আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইটে’ নিহত চার জঙ্গির পরিচয়ও শনাক্ত হয়নি। বোমা বিস্ফোরণে আহত চার ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। এদিকে, আতিয়া মহল বিধ্বস্ত এক ভবন হিসেবেই এখন দাঁড়িয়ে আছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং অভিযান চলাকালে অদূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করে। গত এক মাসে এসব মামলায় উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। দৃশ্যমান কোন ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। আতিয়া মহলে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চলাকালে প্রায় আড়াইশ’ গজ দূরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে, তাও উদঘাটন করতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আতিয়া মহলে অভিযান শেষ হওয়ার পরই মৌলভীবাজারে দুটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়। তন্মধ্যে মৌলবীবাজার সদরের বড়হাটে অভিযানে নিহত এক ব্যক্তি সিলেটে বোমা হামলায় জড়িত ছিল বলে ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তির সাথে আর কারা জড়িত ছিল, নেপথ্যে কারা কলকাঠি নেড়েছে, কোন উদ্দেশ্যে ওই বোমা হামলা করা হয়- এসব বিষয়ে গত এক মাসেও কোন ক্লু পায়নি পুলিশ।

সূত্র জানায়, আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত চার জঙ্গির পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ চার জঙ্গিকে দাফনের আগে তাদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা। এছাড়া আতিয়া মহলের পাওয়া বিস্ফোরক ও আলামত উদ্ধার করে বিস্ফোরক অধিদফতরে পাঠানো হলেও তার প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, বোমা হামলা মামলার ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। হামলায় আহত চার ব্যক্তি এখনও ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তন্মধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই গ্রামের ফারুক মিয়ার এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের শিরিন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির পাও কেটে ফেলা হতে পারে। এছাড়া গত রবিবার শামীম নামের আহত এক ব্যক্তির পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। আহত এসব ব্যক্তিরা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বিস্ফোরণ আর গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া পাঁচ তলা আতিয়া মহল এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আতিয়া মহলে যেসব ভাড়াটে ছিলেন, তাদের সবাই অভিযান শেষের পর অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, আতিয়া মহলের মামলা দুটি সিআইডি বা পিবিআই তদন্ত করুক, এমনটা চাইছি আমরা। এজন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবেদন করা হয়েছে।

আতিয়া মহল ঘিরে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাত থেকে শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা। ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ওই বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। পরদিন বিকেলে পুলিশ, র‌্যাবের সাথে যোগ দেয় সোয়াট টিমের সদস্যরা। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ভবনে অভিযান শুরু করে সেনা প্যারাকমান্ডোরা। অভিযান চলাকালে ওইদিন সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের প্রায় আড়াইশ’ গজ দূরে প্রচ- শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এর কিছু সময় পর আরেক দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আরো তিন জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। বা.প্র

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রবিবার সুনামগঞ্জ শাল্লায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট, ২৭ এপ্রিল : প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আগমনের খবরে বোরো ফসলহারা লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নতুন করে জেগে উঠার প্রত্যয় ও আশার সঞ্চয় হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ বোরো ফসলী এলাকা পরিদর্শন করতে আগামী রবিবার সুনামগঞ্জের শাল্লায় আসছেন। আগাম বন্যায় বোরো ফসল হানীর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম বারের মত জেলার তাহিরপুর উপজেলা সদরে কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেনও ওখানে কৃষক সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রবিবার শাল্লায় দ্বিতীয়বারের মত সুনামগঞ্জ সফরে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরের কৃষক সমাবেশে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেদিন লাখ লাখ ক্ষত্রিগ্রস্থ ফসলহারা কৃষকদের উরদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন ‘‘আমি গোপালগঞ্জ জেলাকে যে দৃষ্টিতে দেখবো, ঠিক সেই দৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জ জেলাকেও দেখবো”। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সুনামগঞ্জ আগমনের খবরে  বোরো ফসলহারা  লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নতুন করে জেগে উঠার প্রত্যয় ও আশার সঞ্চয় হয়েছে ।

ওপারের পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে চলতি মাসের শুরু থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে পাউবোর অসমাপ্ত বেরীবাঁধ দিয়ে ঢলের পানির তোড়ে তলিয়ে যায় জেলার সব ক’টি উপজেলার কয়েক লাখ হেক্টরের আবাদকৃত বোরো ধান।’ একই সময় সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ , ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলা, ময়মনসিংহ নেত্রকোনা জেলার আবাদকৃত একমাত্র বোরো ফসলী ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়।’বোরো ফসলহারা হাওর এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের খোঁজ খবর নিতে ইতিপর্বে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল টানা তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি  মো. আবদুল হামিদ সরজমিনে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে ১৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বোরো ফসল হারা লাখ লাখ কৃষককের দুভোর্গের চিত্র তুলে ধরে আগামী মৌসুমে বোরো ফসল না উঠা পর্য্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার গুলোকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থীক প্রণোদনা, কৃষি ঋণ আদায় বন্ধ, সুদ মওকুফ, এনজিওদের কিস্থি আদায় বন্ধ করণ, কৃষকদের পুর্ন:বাসন থেকে শুরু সব রকমের সরকারি সহায়তার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সফর কর্মসুচীকে সামনে রেখে বুধবার রাত ৮টায় জেলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমুলক সভায় গণভবনের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  জেলার বোরো ফসলী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলো  সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে লো-ফ্লাই করে রবিবার পরিদর্শন শেষে  ওদিন দুপুরে  শাল্লা  হেলিপ্যাড মাঠে অবতরণ করে  ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেবেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলবেন এবং ওখানে এক কৃষক সমাবেশে কৃষকদের পুর্ন:বাসনে কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক শেখ. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বুধবার রাতের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সংসদ সদস্য  পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত যুগ্ন সচিব (সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক) মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র মো আয়ুব বখ্ত জগলুল ও পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খানঁ,সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ব্যতিক্রমধর্মী হালখাতা উৎসবে ভ্যাট পরিশোধে ব্যাপক সাড়া 

0

আবেগ রহমান, সিলেট, ১৮ এপ্রিল : পুরনো ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রথম বারের মত ঘটা করে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্যদিয়ে সিলেট কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট’র হালখাতা উৎসব পালিত হল। বকেয়া ভ্যাটের টাকা পরিশোধে কাষ্টমসের আহবানে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। এ আহবানে সাড়া দিয়ে হালখাতা উৎসবে যোগ দিতে আসা ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে প্রায় ৭০ লাখ টাকার অধিক বকেয়া ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করেছেন।

জানা গেছে, হালখাতা উৎসব পালনের জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ভুদ্ধ করনে সিলেট কাষ্টমস  এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের উদ্যোগে বৃহওর সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর  সহ প্রতিটি শুল্ক ষ্টেশনে বেশ কিছু দিন ধরেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমন্ত্রনপত্র ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়।

সিলেট কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট’র মেন্দিবাগস্থ কার্যালয়ের হলরুমে ১৪২৪ বাংলার পহেলা বৈশাখে শুক্রবার  সকাল ১০ টায় হালখাতা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনার মো. মো. শফিকুল ইসলাম।  উদ্ভোধনের পর পরই ব্যবসায়ীদের কাষ্টমসের পক্ষ্য থেকে ঐতিহ্যবাহি মাটির পাত্রে মিষ্টি , চিড়া- মুড়ি, দই- রসালো গুড় দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়।

হালখাতা উৎসবে ব্যবসায়ীরাও সাড়া দিয়ে ভ্যাটের বকেয়া পাওনা প্রায় ৭০ লাখ টাকা ওদিনই পরিশোধ করেন। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় রাজস্ব কর্মকর্তা আশীষ রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন   উৎসবের উদ্যোক্তা সিলেট কাষ্টমস  এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এডিশনাল  কমিশনার  মো. রাশেদুল আলম, যুগ্ন কমিশনার মো. নিয়ামুল ইসলাম, সিলেট সদর ডিভিশনের কর্মকর্তা মো. সাজেদুল হক,  বিটিভির অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী সাংবাদিক মঞ্জুরুল আমিন দুয়েল, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি এমদাদ হোসেন, সিলেট চেম্বারর্স অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টির পরিচালক  মো. শিপার আহমদ প্রমুখ।

পহেলা বৈশাখের হালখাতা উৎসবে সিলেট  কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের হলরুমে সিলেটের লোকজ ও  সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বাউল শাহ আবদুল করিম, মরমী কবি ও সাধক পুরুষ হাসন রাজা, দুর্বিন শাহ, রাধা রমন দও, বাউল আরকুম শাহর গান পরিবেশন করেন বেতার টিভির খ্যাতনামা স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পীগণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ড পুত্র 

0

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ১২ এপ্রিল : গোলাপগঞ্জে মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাষন্ড এক পুত্র। বুধবার ভোরে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ বারকোট এলাকায় এ নির্মম ঘটনাটি ঘটে। নিহত মায়ের নাম তহুরুন্নেছা (৭৫)। ঘটনার পর ঘাতক পুত্র পালিয়ে গেলেও পরে স্থানীয়ে জনতার সহযোগীতায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করার পর ময়না তদন্তের জন্য সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

স্থানীয়  ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিন বাদ ফজর নামাজ পড়ে ঘরের বারান্দায় বসেছিলেন তখলিছ আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা তহুরুন্নেছা (৭৫)। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার ঘাতক পুত্র রুবেল আহমদ (২৫) ধারালো বটি দিয়ে উপর্যুপুরী কয়েকটি কুপ দেয়।

এসময় তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘরের লোকজন অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারেননি।এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পরে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। কিন্তু এর আগেই মাকে হত্যা করেই পালিয়ে যায় ঘাতক পুত্র রুবেল।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরী করে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

এর পর বেলা ২ টার দিকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় ঘাতক রুবেল কে উপজেলার হিলাল পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এ ঘটনার পর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এলাকার একটি সূত্র জানাযায়, দীর্ঘ দিন থেকে ঘাতক রুবেল বাড়িতে থাকতো না। মাঝে মধ্যে সে আসা যাওয়া করলেও কারো সাথে তেমন কথাও বলতনা।

আবার কোন কোন সময় মায়ের কাছে টাকাও দাবি করতো। এলাকাবাসীর ধারণা সে সম্ভবত মাদকাসক্তে আসক্ত হয়ে পড়ছিল।

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ থানায় নিয়ে আসে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গি রিপনের ফাঁসির চিঠি সিলেট কারাগারে 

966

সিলেট, ১১ এপ্রিল : জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসির চিঠি সিলেট কারাগারে পৌঁছেছে। তার প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর চিঠি কারাগারে পৌঁছায়।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি কারাগারে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া।

তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমরা আসামিকে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার খবর জানিয়েছি। দণ্ড কার্যকরে আমরা প্রস্তুত আছি। উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও সব প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

এর আগে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান, তার সহযোগী রিপন ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। সেই আবেদন নাকচ হয়েছে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এদিকে রিপনকে এখন সিলেট কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। রোববার রিপনের সঙ্গে তার পরিবারের ১২ সদস্য দেখা করেছেন।

উল্লেখ্য, সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০০৪ সালের ২১ মে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজার নাম প্রথমে বাদ দেওয়া হলেও পরে তাকে যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের নভেম্বরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

৫৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারক শামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন।

আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

পরে আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়েও ওই তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে। আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্ট হয়ে নিম্ন আদালতে যাওয়ার পর বিচারিক আদালত মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। সেখানে তাকে ৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।

অন্যদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হান্নান ও বিপুলকে মৃত্যুপরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদন করে ৩ আসামি। শুনানি শেষে ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে শনিবার রাষ্ট্রপতি তা নাকচ করে দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রিপনের ফাঁসি যেকোন সময় : বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার 

সিলেট, ১০ এপ্রিল : সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের সহয়োগি ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন রিপনের কুলাউড়ার বাড়িতে পুলিশের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিকট করা তার প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর এ নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়।

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে জানান, হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, তার সহযোগি শরীফ শাহেদুল বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সন্ধ্া ৬টার দিকে পুলিশের একটি দল কুলাউড়ার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কোনাগাঁও গ্রামে রিপনের বাড়িতে অবস্থান নেয় পুলিশ।

কুলাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনয় ভূষণ রায় জানান, নিরাপত্তার কারণে পুলিশকে সতর্ক রাখা হয়েছে। রিপনের বাড়িতেও পুলিশ অবস্থান করছে।
এর আগে রোববার দুপুরে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। শিশু, নারী ও পুরুষসহ প্রায় ১২ জন রিপনের সঙ্গে দেখা করে ২৫ মিনিট কথা বলেন। এসময় রাষ্ট্রপতি তার প্রাণ ভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দেয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, রাষ্ট্রপতি জঙ্গি নেতা দেলোয়ার হোসেন রিপনের প্রানভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন বলে আমরাও শুনেছি। কিন্তু এ সংক্রান্ত কোনও কাগজপত্র এখনও আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। কাগজপত্র পেলে কারা বিধি অনুযায়ী ফাঁসি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হবে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, রিপনকে সিলেট কেন্দ্রিয় কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। ফাঁসির আদেশ পাওয়ার পর পরই যাতে তা কার্যকর করা যায়, সেজন্য ফাঁসির মঞ্চ ও কারাগারের ৮-১০ জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রিপনের পাশাপাশি একই মামলায় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও তার সহযোগি শরীফ শাহেদুল বিপুলের প্রাণভিক্ষার আবেদনও নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। ওই দুজন বন্দি আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন পুলিশের এএসআই কামাল উদ্দিন। এছাড়া হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রুবেল আহমেদ ও হাবিল মিয়া নামের আরেক ব্যক্তি। এ ঘটনায় আহত হন আনোয়ার চৌধুরী ও সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অন্তত ৪০ জন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাগীব আলীর ১৪ বছর, ছেলেসহ ৪ জনের ১৬ বছর কারাদণ্ড 

সিলেট, ৬ এপ্রিল : তারাপুর চা বাগানের হাজার কোটি টাকা মূল্যের দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে রাগীব আলীকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তার ছেলে আব্দুল হাইসহ অন্য চার আসামিকে ১৬ বছর করে কারাদণ্ড এবং তারাপুর চা বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলাটির রায় রায় ঘোষণা করেন সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত।

মামলার ৬ আসামির মধ্যে ১৬ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক অন্য তিনজন হলেন- রাগীব আলীর জামাতা আবদুল কাদির, মেয়ে রুজিনা কাদির ও রাগীব আলীর আত্মীয় মৌলভীবাজারের দেওয়ান মোস্তাক মজিদ।

বেলা পৌনে একটার দিকে রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা পরোয়ানা দিয়ে ফের তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হবে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচার শেষে ২৬ ফেব্রুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। কিন্তু মামলায় অভিযুক্ত রাগীব আলীর ছেলে আবদুল হাইয়ের মানসিক স্বাস্থ্যগত কারণ দেখানোয় রায় ঘোষণা পিছিয়ে যায়।

৩০ মার্চের মধ্যে আব্দুল হাইয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দাখিলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসককে নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে প্রতিবেদন না দেওয়ায় ফের ৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। সে প্রেক্ষিতে গত ০২ এপ্রিল আদালতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তাতে স্বাস্থ্যগত মানসিক সমস্যা ধরা পড়েনি।

প্রতিবেদন দাখিলের পর পরই উচ্চ আদালতের নির্দেশে আদালত স্থগিত করা রায় ঘোষণার নতুন দিন ০৬ এপ্রিল ধার্য করেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক আদালতকে জানান, ২৫ মার্চ সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অভিযান চলাকালে বোমা হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন দাখিলে দেরি হয়।

গত ০২ ফেব্রুয়ারি তারাপুর চা বাগানের ভূমি বন্দোবস্তের নামে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি মামলার রায় দেন একই আদালত। রায়ে রাগীব আলী ও তার ছেলেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুর পর পলাতক থাকাবস্থায় পত্রিকা প্রকাশের কারণে রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা অন্য একটি মামলার রায়ে তাদেরকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালত। বর্তমানে এসব মামলায় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই।

দেবোত্তর সম্পত্তির চা বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও চায়ের ভূমিতে বিধি বহির্ভূত স্থাপনা করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দু’টি করেন। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করে দেয় পুলিশ।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিবের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের দু’টি মামলা গত বছরের ১৯ জানুয়ারি পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট।

গত বছরের ১০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে এদিনই রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান। ১২ নভেম্বর দেশে ফেরার পথে জকিগঞ্জ সীমান্তে আবদুল হাই ও ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জে গ্রেফতার হন রাগীব আলী।

গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকে আলোচিত এ মামলায় ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি রাগীব আলীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তারই মালিকানাধীন মালনিছড়া চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার মাহমুদ হোসেন চৌধুরী ও আব্দুল মুনিম।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আতিয়া মহলে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল 

14

সিলেট, ৩ এপ্রিল : সিলেট মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ীর জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে গেছেন র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল বাড়িটির আশপাশ পরিদর্শন করেন।এ সময় বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় আতিয়া মহলের আশপাশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ।

র‌্যাবের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ডগ স্কোয়াড দিয়ে আতিয়া মহলের অভ্যন্তরে তল্লাশি করা হবে। এরপর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিম অভ্যন্তরে প্রবেশ করবেন।

আতিয়া মহলের চারপাশে পুলিশ, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসের ফোর্স ছাড়াও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা অবস্থান করছেন।

জঙ্গি নির্মূলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমোন্ডোর পরিচালিত অপারেশন টোয়ালাইটের শেষ দিন ২৮ মার্চ ২ জঙ্গি নিহত হয়। এর পর থেকে লাশ দুটি সেখানেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ শুক্রবার ভোরে গোপন খবরে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা বাহিনী। পরের দিন সকাল থেকে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোরা। এরই মধ্যে আতিয়া মহলের অদূরে দুটি বোমা বিস্ফোরণে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান, পুলিশসহ ৭ জন নিহত হন।

বোমা হামলার ঘটনায় ২৬ মার্চ মোগলাবাজার থানার সাব ইন্সপেক্টর শিপলু চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ শুরু হচ্ছে কাল 

91

সিলেট, ৩ এপ্রিল : সিলেটের সঙ্গে ঢাকাসহ সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে পাঁচ দিন। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা রেলস্টেশনের কাছে তেলেঙ্গাছড়া রেলব্রিজের পিলার ভেঙে পড়ার পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আজ সোমবার শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ব্রিজটির মেরামত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। তিনি আরো জানান, যাত্রীদের সুবিধার জন্য সিলেট থেকে হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে হবিগঞ্জের মনতলা স্টেশন পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে।

নোয়াপাড়া থেকে মনতলা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার রাস্তা যাত্রীরা নিজ নিজ দায়িত্বে গিয়ে অপর ট্রেনে উঠছেন কিংবা বিকল্প পথে গন্তব্যে যাচ্ছেন। ভারি বৃষ্টিপাত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হবিগঞ্জের তেলেঙ্গাছড়া রেলব্রিজের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে ব্রিজের একটি পিলার ধসে পড়ায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পাঁচ দিন ধরে সিলেটের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ট্রেনযাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সিলেট রুটে সারা দেশ থেকে প্রতিদিন ১০টি ট্রেন উভয় দিকে চলাচল করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বড়হাটে অভিযান শেষ, নারীসহ ৩ জঙ্গি নিহত 

মৌলভীবাজার, ১ এপ্রিল : মৌলভীবাজার শহরের বড়হাটে সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় চালানো ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’র সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে এক নারীসহ তিন জঙ্গি নিহত হয়েছে।

অভিযান শেষে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্রিফিংয়ে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ তথ্য দেন।

এ সময় সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসবি) মো. রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বড়হাটেও আমরা সফলভাবে অভিযান শেষ করতে পেরেছি। বাড়িটির ভেতরে একজন নারী ও দু’জন পুরুষের লাশ রয়েছে।’

তিনি জানান, অভিযানে নিহতের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুরুষ দু’জনের মধ্যে একজন সিলেটে চেকপোস্টে বোমা হামলা করে পুলিশ সদস্য হত্যার নেতৃত্বে ছিল বলে আমরা ধারণা করছি।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু হয়। অভিযানের শুরুতে সোয়াত টিম আস্তানা লক্ষ্য করে চার রাউন্ডের মতো গুলি ছোড়ে।

তবে এ সময় জঙ্গি আস্তানা থেকে কোনো গুলি ছোড়ার শব্দ পাওয়া যায়নি। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আস্তানার ভেতরে প্রবেশ করে কিছু সময় পর বেরিয়ে আসে সোয়াত সদস্যরা।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে সোয়াত, র‌্যাবসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। পরে সকাল ১০টার দিকে সিলেট রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি কামরুল হাসান সেখানে উপস্থিত হন।

এরপর সোয়া ১০টার দিকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে অন্যদের সঙ্গে যোগ দেন।

এই অভিযানে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্ত এবং গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে ধারণা নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার একটি দোতলা বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় আইনশৃংখলা বাহিনী।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গি আস্তানায় সোয়াতের ‘অপরাশেন হিটব্যাক’ শেষ হয়। এতে দুই নারী ও চার শিশুসহ সাতজন নিহত হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিচ্ছে পুলিশ 

325

সিলেট, ১ এপ্রিল : সম্প্রতি সিলেটে শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলে জঙ্গি আস্তানার ঘটনা বড়সড় ধাক্কা দিয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসন, সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে পাঁচ তলা এই ভবনের জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি। আর এ কারণেই সিলেট মহানগরীতে জঙ্গিরা যাতে আবাস গড়তে না পারে, সে জন্য সকল বাসার ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। দ্রুততম সময়ে নিজ নিজ ভাড়াটিয়াদের তথ্য দিয়ে বাসার মালিকদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ফরমও দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সেনা কমান্ডোদের দুঃসাহসিক ‘অপারেশন টোয়াইলাইটে’ শেষ হলেও ‘জঙ্গি আতঙ্ক’ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সিলেটের মানুষকে। পুলিশও এ বিষয়ে চিন্তিত। জঙ্গিরা যাতে বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করতে না পারে, এজন্য পুলিশ ভাড়াটিয়াতের তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, নগরীর কোন বাসায় নতুন কোন ভাড়াটিয়া ওঠছে, কারা বাসা ছেড়ে যাচ্ছে, এসব বিষয়ে তথ্য থাকলে সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া সহজ হবে। এছাড়া পরিচয় লুকিয়ে কোন ভাড়াটিয়া বাসায় ওঠছে কিনা, তাও যাচাই করা যাবে। আতিয়া মহলে পরিচয় লুকিয়ে ওঠেছিল জঙ্গিরা। এজন্য নগরীর আর কোন বাসায় এমন ছদ্মবেশী রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ।

আতিয়া মহলে অভিযান শেষ হওয়ার পরই নগরীর ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে জোর দিয়েছে পুলিশ। এজন্য প্রত্যেক ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে। সিলেটের মহানগরীর অধিভুক্ত প্রত্যেক থানায় রাখা হয়েছে ভাড়াটিয়াদের বিশেষ ফরম। বাড়িওয়ালাদেরকে থানা কিংবা স্থানীয় কাউন্সিলর অফিস থেকে ফরম নিয়ে ভাড়াটিয়াদের তথ্য সরবরাহ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেক বাড়িওয়ালা যাতে প্রশাসনের এই আহবানের কথা জানতে পারেন এবং সে অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করেন, এজন্য নগরীর প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে শুক্রবার জুমআ’র নামাজের পর বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সামগ্রিক বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার বাসু দেব বণিক এবং অতিরিক্ত উপকমিশনার বিভূতিভূষণ ব্যানার্জি বলেন, ‘আমরা ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করছি। থানা ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাড়িওয়ালাদের একটি ফরম দেওয়া হচ্ছে, সে ফরমে ভাড়াটিয়াদের সকল তথ্য সরবরাহ করবেন বাড়িওয়ালা। ’

তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ করছে পুলিশ। অদূরেই সিলেটেও এ ধরনের ডাটাবেজ তৈরীর পরিকল্পনা পুলিশ প্রশাসনের রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বড়হাটের ‘জঙ্গি আস্তানা’র ভেতরে সোয়াট 

মৌলভীবাজার, ১ এপ্রিল : জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা মৌলভীবাজারের বড়হাটের বাড়িটিতে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার সকাল আটটা ৫৫ মিনিটে বিশেষায়িত সোয়াট টিমের সদস্যরা আস্তানাটির ভেতরে প্রবেশ করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশনউজ্জামান বলেন, সকালে সোয়াত টিমের সদস্যরা ডুপ্লেক্স বাড়িটির দোতলায় প্রবেশ করেছেন। দোতলার সব কক্ষে তল্লাশির পর তারা নিচতলার আস্তানাটিতে ঢুকবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আজকের মধ্যেই অভিযান শেষ হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে বৈরি আবহাওয়া ও অন্ধকারের কারণে গতকালের জন্য অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

সন্ধ্যায় ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মনিরুল জানিয়েছেন, ‘বাড়িটিতে অনেকগুলো কামরা রয়েছে এবং আরেকটি ভবন নির্মাণাধীন।  অন্য আস্তানা থেকে এই আস্তানাটি একটু জটিল। এ কারণে অভিযান আজ সমাপ্ত করা যাচ্ছে না। শনিবার সকালে আবহাওয়া ভালো থাকলে পুনরায় অভিযান চলবে।

তার সেই ঘোষণার ঘণ্টা না পেরুতে না পেরুতেই আস্তানাটি থেকে বিকট শব্দে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় সোয়াট ও কাউন্টার টেরেরিজম ইউনিটের সদস্যরা আস্তানাটি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। মুহুর্মুহু গুলিতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক মিনিটেরও বেশি সময় গুলির শব্দ শোনা যায়।

গত বুধবার ভোরে মৌলভীবাজার পৌরসভার বড়হাট এলাকার একটি দোতলা বাড়ি এবং সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের নাসিরপুরের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে নাসিরপুরের আস্তানাটিতে ‘অপরাশেন হিটব্যাক’ শেষ করে সোয়াট। এতে আস্তানাটি থেকে চার শিশুসহ সাত মরদেহের ছিন্নভিন্ন অংশ পাওয়া গেছে বলে মনিরুল ইসলাম জানান। এরপর গতকাল থেকে বড়হাট এলাকার আস্তানাটিতে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর