২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৯, মঙ্গলবার

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের সতর্কতা বৃদ্ধি

সিলেট সীমান্তে বিএসএফের সতর্কতা বৃদ্ধি 

সিলেট, ২৭ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় এক জঙ্গি বাড়ি ঘিরে সেনাবাহিনীর অপারেশন টুয়াইলাইট চলতে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ তাদের নজরদারি বাড়িয়েছে।

শিলংয়ে বিএসএফ এর আসাম-মেঘালয় কমান্ড বেইজের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সিলেটের ওই অভিযানের কারণে জঙ্গিরা পালিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে বলে তারা মনে করছেন। বাংলাদেশে যখন তারা চাপে থাকে তখন ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে আমরা আগের অভিজ্ঞতায় দেখেছি। এটা একটা সাধারণ প্রবণতা। এ কারণেই আসাম-মেঘালয় সীমান্তে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

আসাম গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান পল্লব ভট্টাচার্যও সীমান্ত ও তার রাজ্যে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলছেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করা ৭০ জনের বেশি জঙ্গিকে আটক করেছে আসাম পুলিশ। আমাদের কেবল সীমান্তে সতর্কতা বাড়ালে চলবে না। অবৈধ অভিবাসীদের কিছু আখড়ায় নজরদারি বাড়াতে হবে, যেখানে জঙ্গিরা আশ্রয় পায়।

ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীকে প্রিমত খিশা নামের এক অস্ত্র চোরাকারবারির বিষয়েও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি ডাউকি-তামাবিল সীমান্তে সক্রিয় বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। উলফার মত ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জেএমবির মত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে প্রিমত খিশার বিরুদ্ধে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ওদের কাছে জীবনের চেয়ে দায়িত্ব বড় 

সিলেট, ২৭ মার্চ : সিলেটের শিববাড়ীতে জঙ্গিদের ফেলে রাখা বোমায় প্রাণ গেলো পুলিশের দুই কর্মকর্তার। এরা হলেন জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও সিলেট সিটি পুলিশের বিশেষ শাখার কোর্ট পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়ছর। এই দুই কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় পুলিশ বাহিনীতে শোকের ছায়া বইছে। গতকাল সিলেট পুলিশ লাইন মাঠে তাদের জানাজা সম্পন্ন হয়।

জানাজায় সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কামরুল আহসান, সিএমপি কমিশনার গোলাম কিবরিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলামের নিহত হবার খবর শুনে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। মনিরুল নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেজ ছেলে। নোয়াখালী প্রতিনিধি আলমগীর ইউসুফ জানান, মৃত্যুর সংবাদে তার   বৃদ্ধ মা ফিরোজা খাতুন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। মনিরুল ইসলামের স্ত্রী পারভিন আক্তার স্বামীকে হারিয়ে তাদের দেড় বছরের শিশুপুত্র ফারাবিকে জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

মনিরুল ইসলামের মামাতো ভাই সাংবাদিক মোহাম্মদ সোহেল জানান, মনিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার তার এক ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরিভিত্তিতে নিজ কর্মস্থলে ডেকে পাঠান। তিনি শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরিফ জানান, আজ সোমবার সকাল ৯টায় পুলিশি সম্মাননায় মনিরুল ইসলামকে দাফন সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পুলিশ কর্মকর্তা চৌধুরী মো. আবু কায়ছরের মরদেহ তার জন্মস্থান সুনামগঞ্জের জামাইপাড়ার বাসায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে।  সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ জানান, রাত ৮টায় পুলিশের পক্ষ থেকে তার মরদেহে সালাম নিবেদন ও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

পুলিশ ইন্সপেক্টর চৌধুরী মো. আবু কয়ছরের ডাক নাম দিপু। সুনামগঞ্জ শহরের জামাইপাড়া এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মৃত মোক্তার আছদ্দর আলীর চৌধুরীর ছেলে। সাত ভাই এক বোনের মধ্যে দিপু তৃতীয়। এক সময় সুনামগঞ্জে তিনি জনপ্রিয় ক্রিকেট খেলোয়াড় ছিলেন। এই পুলিশ কর্মকর্তার কোনো সন্তান নেই।

দিপুর ছোট ভাই চৌধুরী আবু জাবেদ নিপু বলেন, ২০০৭ সালে ডিভি লটারিতে বিজয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। দেশের সেবা করার জন্য আমেরিকা থেকে ফেরত আসেন তার ভাই। এরপর পুলিশে যোগ দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আহত র‌্যাব কর্মকর্তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে 

সিলেট, ২৬ মার্চ : সিলেটে বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আবুল কালাম আজাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের কয়েকশ’ গজ দূরে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে পুলিশের একটি চেকপোস্টের কাছে দুই দফায় বোমা বিস্ফোরণে তিনি আহত হন। ওই বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয় জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সিলেটে পরে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।

রোববার দুপুরে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে আবুল কালাম আজাদকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে রোববারও সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকায় জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহল ঘিরে অভিযান চলছে।

ভোর থেকে থেমে থেমে গুলি ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। দুপুর ২টার দিকে বিকট শব্দে পরপর সাতটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

শনিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়।

সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ শুরুর নয় ঘণ্টা পর শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের অভিযানে থাকা সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান জানান, অভিযান চলবে।

এদিকে গত রাতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইএসের মুখপত্র ‘আমাক’-এর বরাত দিয়ে সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ এ তথ্য জানায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে জঙ্গি আস্তানার চারপাশে ১৪৪ ধারা 

সিলেট, ২৮ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার আতিয়া মহলের নিচ তলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’র আশপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

রবিবার সকাল ৭টার দিকে এই ধারা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন সিলেটের গোয়ালাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ফজল। তিনি জানান, সকাল ৭টার দিকে আতিয়া মহলের আশপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

ওই এলাকার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বাহন ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এ ছাড়া একসঙ্গে তিনজনের বেশি লোকজন চলাচল করা যাবে না।

এদিকে ১৪৪ ধারা জারি করার পর বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে ‘বোমা হামলার’ দায় স্বীকার আইএসের 

সিলেট, ২৬ মার্চ : সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের মধ্যেই বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

আইএসের কথিত বার্তা সংস্থা ‘আমাক’ এর বরাতে এ খবর দিয়েছে অনলাইনে জঙ্গিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

আরবিতে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের মাধ্যমে আইএস জানিয়েছে, ইম্প্রুভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইডির মাধ্যমে চালানো এই হামলায় বহু হতাহত হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় দু’দফা বোমা হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত এবং পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় বিমানবন্দর সড়কে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর একইভাবে আইএস সেটিকে ‘আত্মঘাতী হামলা’ দাবি করে দায় স্বীকার করেছিল।

জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে সিলেটের শিববাড়ির ‘আতিয়া মহলে’ অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। পরে শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী।

অভিযান যেখানে হচ্ছে তার কাছেই সেনাবাহিনীর ব্রিফিং স্থলের কাছেই শনিবার সন্ধ্যায় ও রাতে দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে থেমে থেমে সংঘর্ষ, গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে 

সিলেট, ২৬ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় আতিয়া মহলকে ঘিরে চলছে জঙ্গিবিরোধী অভিযান। রবিবার (২৬ মার্চ) ভোর থেকে সকাল সোয়া ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। ওই ভবনের ভেতর থেকে জঙ্গিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ছে।

অভিযানস্থল এবং এর আশপাশের এলাকা পুরোপুরি কর্ডন করে রেখেছে সেনাসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া শনিবার রাতে বোমা বিস্ফোরণস্থল সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ফিতা টানিয়ে সুরক্ষিত করে রেখেছে।

শনিবার (২৫ মার্চ) রাতের বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দু’দফা বিস্ফোরণে নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- জালালাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ও আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী মো. আবু কয়সার। তারা দু’জনই পুলিশের বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলের সদস্য ছিলেন বলে জানান জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার হোসেন।

অপর নিহতরা হলেন- দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের উপ পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফাহিম, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা ওয়াহিদুল ইসলাম অপু ও নগরীর দাঁড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম। অপর একজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটনের পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ২ পুলিশসহ ৬ জন নিহত হওয়ার খবর আমরা নিশ্চিত হয়েছি। গুরুতর আহত ২জনকে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) গভীর রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়িতে ওই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তা ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর প্রায় ৩০ ঘণ্টা সেখানে পাহারা বসিয়ে শনিবার (২৫ মার্চ) সকালে পুলিশের সহায়তায় অভিযান শুরু করেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরা। বাড়িটিতে জিম্মি দশায় থাকা ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হলেও অভিযান এখনো শেষ হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের অদূরে অন্য একটি বাড়িতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা। এরপর সাংবাদিকসহ অন্যরা বের হয়ে সামনে এগোনোর সময় বোমা বিস্ফোরণের খবর আসে। দু’দফা বোমা বিস্ফোরণে রোববার (২৬ মার্চ) সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২ পুলিশসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাংবাদিক, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যসহ ৩২ জন। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আতিয়া মহল থেকে ৩০০ গজ উত্তরের রাস্তায় এ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক আজমল হোসেন (৩০), দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশিদ এবং উৎসুক জনতার মধ্যে রিমন, নাজিম, রাসেল, ওহেদুল, ইসলাম আহমেদ, নুরুল আলম, বিপ্লব, হোসেন আবদুর রহিম, ফখরউদ্দিন, মামুন, রহীম, মোস্তাক, ফারুক মিয়া, সালাহউদ্দীনসহ ও কয়েকজন পথচারী রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, যৌথ বাহিনীর ব্রিফিং শেষে সবাই ওই রাস্তা ধরে ফেরার সময় প্রথম বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। সে সময় র‌্যাব-পুলিশ সদস্যরা অন্য একটি অবিস্ফোরিত বোমা দেখতে পান। নিরাপদ দূরত্বে সরানোর সময় ওই বোমাটিও বিস্ফোরিত হওয়ায় আহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

শনিবার সকালে লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে ‘অপারেশন টোয়ালাইট’ নামে অভিযানটি শুরু হয়। এরপর ৭৮ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে উদ্ধারের খবর জানিয়ে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান ব্রিফিংয়ে জানান, তারা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন।

পুলিশের ধারণা, ‘মর্জিনা’ নামে কোড ব্যবহার করে ওই বাড়িটিতে অবস্থান নিয়েছেন জঙ্গিরা। ভেতরে নব্য জেএমবি নেতা মুছা থাকতে পারেন বলেও ধারণা করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে বোমা বিস্ফোরণে পুলিশ পরিদর্শকসহ নিহত ৪ 

58

সিলেট, ২৬ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আধঘণ্টার ব্যবধানে জঙ্গিদের দু’টি বোমায় পুলিশের এক কর্মকর্তাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজনকে আত্মঘাতী বলে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া পুলিশের এক পরিদর্শক, ওসি ও এক র‌্যাব কর্মকর্তাসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা ও ৭টায় দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর দাখিল মাদ্রাসার সামনে বোমা দুইটির বিস্ফোরণ ঘটে। এর প্রায় আড়াইশত গজ দূরে শিববাড়িস্থ আতিয়া মহল নামক ভবনে অবস্থান করছে জঙ্গি সদস্যরা। তাদেরকে আটক করতে শনিবার দিনভর সেখানে অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডোর সদস্যরা। তবে ভবনটিতে আটকা পড়া ৭৮ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

নিহত পুলিশ কর্মকর্তরা হলেন সিলেট মহানগর পুলিশের পরিদর্শক আবু কাওসার। অন্য নিহতরা হলেন- নগরীর দক্ষিণ সুরমার চাঁদনীঘাটের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম আওলাদ হোসেনের ছেলে ও ছাত্রলীগ কর্মী ওয়াহিদুল ইসলাম অপু এবং দাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। দুইদফা বিস্ফোরণে চারজন নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জেদান আল মূসা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর পুলিশের পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি হারুনুর রশীদ, র‌্যাব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ও স্থানীয় দৈনিক সিলেটের মানচিত্রের আলোকচিত্রি আজমল আলী। এর মধ্যে শনিবার রাতেই র‌্যাব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে আতিয়া মহলে অভিযান নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সেনাবাহিনী। আধঘণ্টার মধ্যে শেষ হয় ব্রিফিং। এর কয়েক মিনিট পর পার্শ্ববর্তী গোটাটিকর দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ১৫ জন। নিহতদের  একজন আত্মঘাতী হতে পারে এমন ধারণার কথা জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জেদান আল মূসা। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা এই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে বোমা হামলাটি চালানো হয়ে থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সিলেট আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী আবু কাওসার, পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও দক্ষিণ সুরমার ওসি হারুনুর রশীদসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল। এসময় ওই স্থানে অবিস্ফোরিত একটি বোমার বিস্ফোরণে মারা যান আদালত পুলিশের পরিদর্শক চৌধুরী আবু কাওসার ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। গুরুতর আহত হন পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, দক্ষিণ সুরমার ওসি হারুনুর রশীদ ও র‌্যাব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ। এদের মধ্যে মনিরুল ও আবুল কালামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়াও ওই বিস্ফোরণে আরও অন্তত ৫ জন আহত হন। এর আগে আতিয়া ভবনে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চলাকালে ভবনের পেছনের মন্দির এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন শিবলু মালাকার নামের স্থানীয় এক যুবক। ধারণা করা হচ্ছে পাঁচতলা ভবনটি থেকে গুলি ছোঁড়া হয়েছে।

এদিকে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা শিববাড়ি পাঠানপাড়াস্থ ‘আতিয়া মহলে’ জঙ্গিদের সাথে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোদের লড়াই চলছে। কমান্ডো ও সাধারণ মানুষদের লক্ষ্য করে দফায় দফায় বোমা ও গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ ব্যক্তি। শনিবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অভিযানে জঙ্গিদের অবস্থান করা পাঁচতলা ওই ভবনের ২৯টি ফ্ল্যাট  থেকে ৭৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে কমান্ডোরা। আতিয়া মহল নামের ওই ভবনের নীচতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকা জঙ্গিরা শক্তিশালী ও সংগঠিত বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এদিকে, দু’দফায় পুলিশসহ তিন জন নিহত হওয়ার পর এবং একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনায় সিলেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। বোমা বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার আগে আতিয়া মহল ঘিরে ছিল সাধারণ মানুষের ভিড়। তবে এ ঘটনার পরই আতিয়া মহলের চারপাশ একেবারেই ফাঁকা হয়ে পড়ে। এছাড়া পুরো নগরীও দ্রুত ফাঁকা হয়ে যায়। তড়িগড়ি করে ঘরে ফিরেন নগরবাসী। এদিকে, এ ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আতিয়া মহলের আশপাশে কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডোরা। এছাড়া সোয়াত, পুলিশ, র‌্যাব, এসবি, পিবিআইসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আছেন সতর্কবস্থানে। বোমা হামলার ঘটনাস্থল গোটাটিকর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা এলাকায় সার্চ লাইট লাগানো হয়েছে। এ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জোরদার করা হয়েছে টহল। তবে পরিস্থিতি এখন থমথমে। উদ্বেগ আর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার মানুষ।

সেনাবাহিনীর ব্রিফিং: শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে প্রেস ব্রিফিং করে সেনাবাহিনী। ব্রিফিংয়ে সেনা সদর দপ্তরের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, ‘আতিয়া মহলে অভিযান এখনও চলছে। গত পরশু রাতে পুলিশের কাছে তথ্য আসে, এ ভবনে জঙ্গি আছে। এরপরই ভবনটি কর্ডন করে রাখে পুলিশ। ভেতরে যেসব জঙ্গি আছে, তারা সংগঠিত ও শক্তিশালী। এ জন্য পুলিশ সোয়াতের সাহায্য চায়। সোয়াত নিজেদের পদ্ধতিতে অভিযান চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ভেতরে থাকা জঙ্গিরা শক্তিশালী ও ভবনে অনেক লোক আটকা পড়া অবস্থায় থাকায় তারা অভিযান না করে সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়। অভিযানের ডাক পেয়ে শুক্রবার রাতে একটি টিম পর্যবেক্ষণে আসে। শনিবার সকাল ৮টার দিকে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো টিম অভিযান শুরু করে। বেলা ২টা পর্যন্ত অভিযানে ২৯টি ফ্ল্যাট থেকে ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৩০ জন পুরুষ, ২৭ জন নারী ও ২১ জন শিশু ছিল। ভবনের প্রায় দেড়শ রুম ছিল সার্চ করে নিরাপদে তাদের উদ্ধার করা হয়। ’

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল যাতে ভবনে আটকা পড়া লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। অভিযানকারী দল সে নির্দেশ সফলতার সাথে পালন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভবনের ছাদের ঘর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক ছড়িয়ে রাখে জঙ্গিরা। এজন্য উদ্ধারে সময় বেশি লাগে। জঙ্গিরা ভেতরে আছে, তবে কয়জন আছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত ১০-১২টি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তারা। ’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জিম্মি উদ্ধার শেষ, এবার শুরু জঙ্গি ফ্ল্যাটে অভিযান 

66

সিলেট, ২৫ মার্চ : এবার জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যরা। আজ শনিবার ১১টা ৪৫ মিনিটে জঙ্গিদের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন তারা। এর আগে সকাল সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে সিলেটে জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে অপারেশন টোয়াইলাইট শুরু হয়। লে. কর্নেল ইমরুল কায়েসের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযানে সম্মুখভাগে অংশ নিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যরা। অভিযানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে আছেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন। বাইরে রয়েছেন সোয়াট, র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা এ খবর নিশ্চিত করেন। জঙ্গিরা পুলিশের আহ্বানের পরও আত্মসমর্পণে সাড়া না দেওয়ায় সোয়াটের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিট। শুক্রবার সারারাত সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিট ও সোয়াট সদস্যরা বাসাটি ও তার আশপাশের এলাকা ঘিরে রেখে অভিযান চালাতে প্রস্তুতি নেয়। ওই এলাকায় ও তার আশপাশে বাড়ানো হয় পুলিশের সংখ্যা। বাসার চারদিক হ্যাজাক লাইট দিয়ে আলোকিত করে রাখা হয়।

অভিযানে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপের রক্ত ও রক্তদাতাদেরও ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। শুক্রবার ভোর থেকে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি ‌এলাকার উস্তার মিয়ার বাড়ি আতিয়া মহল ঘেরাও করে রাখে পুলিশ।

সকাল সোয়া ৭টায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গিরা আল্লাহ আকবার বলে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে সকাল ৯টা থেকে পুলিশ ভবন লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছুড়ছে। পুলিশের ধারণা মর্জিনা নামে কোড ব্যবহার করে জঙ্গিরা ওই বাসায় অবস্থান নিয়েছে। বাসায় নব্য জেএমবি নেতা মুছা থাকতে পারে, এমন ধারণাও পোষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ থেকে ‘আতিয়া মহল’ 

11

সিলেট, ২৫ মার্চ : আরও একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মুখে সিলেটবাসী। ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল। দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলা হলেও এই ১১ বছরে সিলেটে তেমন জঙ্গি তৎপরতা চোখে পড়েনি। জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমানকে টিলাগড়ের শাপলাবাগের সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে গ্রেফতারের পর সিলেটে এটি দ্বিতীয় অভিযান। এবার জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে অভিযান চালানো হয় দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি ‘আতিয়া মহল’ নামক একটি বাড়িতে। সূর্যদীঘল বাড়ি অপারেশনের সময় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নেওয়া হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আতঙ্কে ছিলেন পুরো এলাকার লোকজন। এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন একটি ভবনের ২৭টি পরিবারের সদস্যরা।

শিববাড়ির পাঠানপাড়ায় পাঁচতলা ভবন আতিয়া মহলের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে ‘জঙ্গিরা’ অবস্থান করছে_ এমন সন্দেহে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ। ওই বাড়িসহ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে ভবনের ২৯টি ফ্ল্যাটে থাকা ২৭টি পরিবারের বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে মধ্যে। শিশু-নারীসহ আটকা পড়া বাসিন্দারা মোবাইল ফোনে তাদের উৎকণ্ঠিত স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ইতিমধ্যে সোয়াট সদস্যরা ঘটনাস্থলে পেঁৗছে অভিযানের অপেক্ষায় রয়েছেন। সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পেঁৗছায়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের আরামবাগের এক আস্তানা থেকে গ্রেফতার দুই জঙ্গির তথ্যের ভিত্তিতেই সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ির জঙ্গি আস্তানার খবর পান গোয়েন্দারা। পরে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্যে বাড়িটি চিহ্নিত করা হয়। ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা (সিটিটিসি) এই জঙ্গি আস্তানার বিষয়টি সিলেটের পুলিশকে অবহিত করে। সিটিটিসির ডিসি মহিবুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন সমকালকে বলেন, আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছি। এখন অভিযানের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সকাল ৮টার দিকে আতিয়া মহল নামে পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গুলি ছোড়া হয়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। বার বার আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হলেও কোনো সাড়া দেয়নি জঙ্গিরা।

একইভাবে ২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোয়েন্দারা খবর পান নগরীর টিলাগড় সূর্যদীঘল বাড়ি নামে একটি ভবনে শায়খ আবদুর রহমান ও তার সঙ্গীরা লুকিয়ে আছে। জঙ্গিনেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জীবিত গ্রেফতার করে অভিযান সফল করতে প্রায় দু’দিন লেগে যায়। রীতিমতো শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এই সময় কাটে। র‌্যাবের কমান্ডো দল দফায় দফায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় সূর্যদীঘল বাড়ি ঘিরে অভিযান শুরু হয়। শায়খের সঙ্গে ওই বাড়িটিতে মোট ১২ জন ছিল। পরের দিন সকালে গ্যাস প্রয়োগ করার পর বাড়ির ভেতরে শিশুদের কান্নার শব্দ শোনা যায়। প্রাণহানি রুখতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর নারী ও শিশুরা বেরিয়ে আসে।

এর আগে বাড়ির দেয়াল ও ছাদ ফুটো করে ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভেতরের চারটি ঘরে কাউকে দেখা যায়নি। এরপর ওই বাড়ির দেয়ালের ফুটো দিয়ে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা ভিডিও ছবি তুলতে হান্টার লুকিং ডিভাইস ব্যবহার করেন। রাতেই অনুমান করা হয়, তেমন বিধ্বংসী কিছু বাড়িতে নেই। শায়খ রহমানের কাছে বোমা ছিল। যাতে সে আত্মঘাতী কিছু না করতে পারে, সেজন্য তার ওপর বল প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযান চলার সময় যাতে শায়খকে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে না হয়, সেজন্য বারবার তাকে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২ মার্চ সকাল সোয়া ৭টায় দেশের মোস্ট ওয়ানটেড শীর্ষ জঙ্গিনেতা শায়খ আবদুর রহমান সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। এভাবেই অবসান ঘটে দু’দিনের শ্বাসরুদ্ধকর রক্তপাতহীন অভিযানের। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ জেএমবিপ্রধান শায়খ আবদুর রহমানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। কিন্তু এখনও তাকে সিলেটে কারা এনেছিল, কার মাধ্যমে শায়খ রহমান সূর্যদীঘল বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিল, সেটি রয়েছে অজানা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আতিয়া মহল থেকে ৬টি পরিবারকে উদ্ধার 

333

সিলেট, ২৫ মার্চ : সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ থেকে ছয়টি পরিবারকে উদ্ধার করা হয়েছে।

সেনা বাহিনীর প্যারা কমান্ডো বাহিনীর নেতৃত্ব অভিযান শুরুর পর সকাল পৌনে ১১টার দিকে ভবনটির চার ও পাঁচতলা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা গেছে, ছয়টি পরিবারের ২০/২৫ জন সদস্যকে সেনা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

ওই বাড়িটিতে অবরুদ্ধ আছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী-সন্তানসহ ১৬টি পরিবার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাঘায় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান 

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ২৪ মার্চ : গোলাপগঞ্জের বাঘায় অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব বলেছেন, শিক্ষকরা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শিক্ষা দানে ব্যয় করে শুধু নিজেরা সম্মানিত হননি, আলোকিত সমাজ গঠনে মাইল ফলক হিসেবে কাজ করেছেন। অবসরে গেলেও সমাজে তারা অবদান রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সমাজ থেকে অবসর নেয়ার কোন সুযোগ নেই।  তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, প্রতিযোগীতার এ যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির বিষয়ে গুরুত্বসহকারে জ্ঞান লাভ করতে হবে। পাঠ্য পুস্তক থেকে জ্ঞান লাভের পাশাপাশি নৈতিকতার জ্ঞানে শিক্ষার্থীরা নিজেদেরকে গড়ে তুলতে না পারলে সমাজে ভাল মানুষ হিসাবে পরিচিতি পাওয়া যাবে না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীরা শিক্ষা লাভের সঙ্গে অন্যায়, অপকর্ম, ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে গুরুজনদেরকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান।

বাঘা হাজী আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রাঙ্গনে হিলফুল ফুযুল হেল্পিং ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বাঘা ইউনিয়নের অবসর প্রাপ্ত ১২ জন শিক্ষকের সম্মানে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি ফারুক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে  ও সেক্রেটারী এম সাইদুল হাসান ও কামরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় এবং আবু সুফিয়ানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন সিলেট সরকারি কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর আতাউর রহমান। এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন গোলাপগঞ্জের গর্বিত সন্তানদের জন্য আমরা দেশবাসী গর্ববোধ করি। ত্রিশটি বছর শাহজালালের পূন্য ভূমিতে শিক্ষকতার পেশায় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়ায় নিজেকে ধন্য মনে করছি। অবসর প্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মান জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষিত সুধী জনকে সম্মান জানালে শিক্ষিত সমাজ গড়ে উঠবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কাজিরবাজার মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক, প্রখ্যাত আলেম মাওলানা শাহ মমসাদ আহমদ, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সচিব সাংবাদিক আব্দুল আহাদ, সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য স্যায়িদ আহমদ সুহেদ, সিলেট সরকারি কলেজের প্রভাষক অরবিন্দ কুমার দত্ত, হাজী আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল আব্দুল কুদ্দুস, সালাম মকবুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃপাময় চন্দ্র চন্দ, হাজী আব্দুল আহাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ গভরনিং বডির সদস্য ফারুক আহমদ, বিশিষ্ট সমাজসেবী আশরাফ উদ্দিন ফরহাদ, সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল বাছিত, শিক্ষিকা আফছানা বেগম, করিম উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হিলাল আহমদ, শিক্ষক কুতুব আলী, তরুণ সমাজসেবী জুয়েল আহমদ, তরুণ শিক্ষক কুতুব আলী, সংবর্ধিত শিক্ষকদের মধ্যে ফখর উদ্দিন, হারুনুর রশিদ, ফয়জুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরগনা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম কলিম, বিশিষ্ট সমাজসেবী লুৎফুর রহমান লুতি, তরুণ সমাজকর্মী হাবিবুর রহমান, প্রবীন শিক্ষক আব্দুস সুবহান, আব্দুল হক, নিজাম উদ্দিন, আব্দুল রাজ্জাক, সমাজসেবী নুরুল হক, ডা. মখন আলী, জাহাঙ্গীর হোসেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী ফয়ছল মালিক লন্ডন থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জানুয়ারিতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা 

সিলেট, ২৪ মার্চ : সিলেটের ওই বাড়িতে গত জানুয়ারিতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে জঙ্গিরা। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে দুই জন আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা ওই বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তাদের নাম কাওসার আলী ও মর্জিনা বেগম। বাড়ির মালিক উস্তার মিয়া এই তথ্য জানান। উস্তার মিয়া জানান, ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমে ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের তথ্য রয়েছে। পুলিশ সব তথ্য সংগ্রহ করে নিয়েছে।

তিনি আরো জানান, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে আতিয়া মহল ঘেরাও করার পর শুক্রবার ভোর থেকেই আশপাশের বাড়িগুলো খালি করছিল পুলিশ। তবে আতিয়া মহলের নিচ তলায় জঙ্গিরা থাকায় এই বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি পুলিশ নিচ্ছিলো না। পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির বিভিন্ন ফ্ল্যাটের ৩০ থেকে ৪০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পাঠান পাড়ায় জহির তাহির উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের রাখা হয়েছে।

এর আগে সকালে পুলিশ জানায়, অভিযান শুরু হবে এই বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই বাড়ির ভেতর থেকে জঙ্গিরা আল্লাহু আকবর আওয়াজ তোলে। সকাল ৮টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেডও ছুড়ে মারা হয়। জঙ্গিরা তাদের ঘরের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন শিববাড়ি এলাকায় এই জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশন এলাকার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়িটির অবস্থান। সকাল নাগাদ বাড়ির আশপাশের ৫০ থেকে ৬০ গজ পর্যন্ত এলাকার ঘরবাড়ি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। ঢাকা থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একটি দল সিলেটে রওনা হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে বাড়ি ঘিরে অভিযানে পুলিশ 

সিলেট, ২৪ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে একটি বাড়ি ঘিরে রেখে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার ভোর থেকে এ অভিযান শুরু হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শিববাড়ির ৫তলা একটি বাড়ি ঘিরে রাখে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঢাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা যাবার পর শুক্রবার ভোরে ওই বাড়িসহ আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করা হয়।

এ সময় বাড়িটির দ্বিতীয়তলা থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়। সকাল সোয়া ৮টার দিকে দ্বিতীয় দফায় আরেকটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এরপর সকাল পৌনে ৯টা থেকে থেমে থেমে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ইতিমধ্যে ভবনটি থেকে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয়া হয়।

আইনশৃংখলা রক্ষাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা থেকে সোয়াতের একটি দল হেলিকপ্টারে রওনা হয়েছে। তারা পৌঁছানোর পরই মূল অভিযান শুরু হবে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্তি কমিশনার রোকনউদ্দিন জানান, পাঁচতলা ওই বাড়িটিতে জঙ্গিরা অবস্থান নিয়েছে- এমন গোপন সংবাদে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে অভিযান চলমান থাকায় এ ব্ষিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ৩৬৫তম মাসিক বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত 

0000

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ২৩ মার্চ : সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ৩৬৫তম মাসিক বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সিলেট গোটাটিকরস্থ সমিতি বোর্ডের সদর দপ্তরে বোর্ডের সভাপতি বিয়ানীবাজার এলাকা পরিচালক হানিফ আহমদের সভাপতিত্বে, সেক্রেটারী (সচিব) গোলাপগঞ্জ এলাকা পরিচালক সাংবাদিক আব্দুল আহাদের পরিচালনায় ও দক্ষিণ সুরমা এলাকা পরিচালক মাহবুব আহমদের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় বক্তব্য রাখেন বিয়ানীবাজার এলাকা পরিচালক শফিউর রহমান শফি, বালাগঞ্জ এলাকা পরিচালক মাহমুদ হোসেন মাসুম, কামরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, জকিগঞ্জ এলাকা পরিচালক আক্তার হোসেন রাজু, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মাহবুব আলম, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী জগলুল হায়দার প্রমুখ।

এ সময় গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, বালাগঞ্জ, বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের ডিজিএম, ফেঞ্চুগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড সভায় বিভিন্ন উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম সহ গ্রাহকদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেবা দানের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আগামী ঝড় ও দুর্যোগপূর্ণ সময়ের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে পূর্ব প্রস্তুতি নেয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিলেট-এর সমন্বয়ে চলতি বছরেই দক্ষিণ সুরমা, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও বিশ্বনাথ উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গোলাপগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে জরুরি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 

0000

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ২০ মার্চ : গোলাপগঞ্জের আমুড়া ইউপির ধারাবহর গ্রামবাসীর উদ্যোগে আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে জরুরি মতবিনিময় সভা সোমবার বিকাল ৪টায় উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আমুড়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মইন উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ব্যবসায়ী সামছুল হুদার পরিচালনায় প্রধান অতিথি বক্তব্য দেন গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্য একেএম ফজলুল হক শিবলী। মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নের জন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে যুব সমাজসহ সর্বস্তরের জনগণ সোচ্চার হতে হবে।

ধারাবহর গ্রামবাসীর উদ্যোগে ব্যতিক্রম উদ্যোগ গ্রহণ করায় তিনি গোলাপগঞ্জ মডেল থানার প থেকে সকলকে ধন্যবান জানান। তিনি বলেন বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা তারপরও অনেক সময় আইনের ফাঁকে আসামীরা কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বের হয়ে এসে সমাজে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড করতে থাকে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ওই সব অপরাধীরা যাতে বের হয়ে না আসতে পারে।

সভায় বক্তারা বলেন যে কোন অপরাধ দমনে ও অপরাধের মুলোৎপাটন করতে গ্রামবাসী সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ আছেন। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে গ্রামে আর কোন অপরাধ কর্মকান্ড চলতে দেয়া হবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম, ফখর উদ্দিন সফই, মো. খলিলুর রহমান, মো. আব্দুল খালিক, গোলাপগঞ্জ প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি অজামিল চন্দ্র নাথ, আমুড়া ইউপি আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক নাজিমুল হক লস্কর, স্থানীয় মুরব্বি শাহাব উদ্দিন ছওয়াব, ছালেহ আহমদ চৌধুরী ফয়েজ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ধারাবহর গ্রামের ব্যবসায়ী শাহরিয়ার পারভেজ লস্কর শিপু, আতিকুর রহমান দুবুল, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার উপ পরিদর্শক মঞ্জুরুল ইসলাম, মৃদুল কুমার ভৌমিক, সহকারী উপ পরিদর্শক শংকর চন্দ্র দেব, আনোয়ার, সুমন, বিপ্রেশ, গোলাপগঞ্জ প্রেসকাবের সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল হক এনাম, সহসভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ, কোষাধ্য রতন মনি চন্দ, নির্বাহী সদস্য জাহেদুর রহমান জাহেদ, দৈনিক যুগান্তর গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হারিছ আলী, গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার ডাকের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল আহাদ, দৈনিক কাজিরবাজার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি সেলিম হাসান কাওসার, দৈনিক মানচিত্র গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান বাচ্চু, দৈনিক যুগভেরী গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি অনুপম চন্দ্র নাথ, চ্যানেল এস প্রতিনিধি হোসাইন আহমদ, বাংলাভিশন ক্যামেরা পার্সন পাপ্পু তালুকদার প্রমুখ।

এদিকে সম্প্রতি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার জসিম উদ্দিনকে গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী থেকে অস্ত্র, ইয়াবা ও মানুষ হত্যার বিষাক্ত পাউডারসহ গ্রেফতার করায় ধারাবহর গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্য একেএম ফজলুল হক শিবলীকে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর