২২ জুলাই ২০১৭
দুপুর ২:৫০, শনিবার

যৌন হয়রানির দায়ে শাবি ছাত্রলীগের ৪ কর্মী বহিষ্কার

যৌন হয়রানির দায়ে শাবি ছাত্রলীগের ৪ কর্মী বহিষ্কার 

55

সিলেট, ১৬ জুলাই : সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যৌন হয়রানির দায়ে চার ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা হলো সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রুদ্র, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাহাত সিদ্দিকী, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের সুমন সরকার জনি। এদের প্রত্যেককে এক সেমিস্টার করে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি এবং এর প্রতিবাদ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে  এছাড়া ঘটনার সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করার কারণে শাখা ছাত্রলীগের (স্থগিত কমিটি) সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থকে সতর্ক করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রাহাত এবং সুমনকে বহিষ্কারের পাশাপাশি এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ২০৫তম সিন্ডিকেট সভায় ভিসি অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বহিষ্কারের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এ সময় রেজিস্ট্রার জানান, বহিষ্কারাদেশ আজ রবিবার থেকেই কার্যকর হবে। এ সময়টাতে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যাবতীয় নির্দেশনা পাঠানো হবে।

এদিকে এই ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হামলার শিকার সাংবাদিকগণ। এ বিষয়ে সরদার আব্বাস আলী বলেন, “সাংবাদিক নির্যাতন এবং যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বানে ভাসা মানুষের কষ্টের সীমা নেই 

645

সিলেট : সিলেট ও মৌলভীবাজারসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বানভাসি মানুষের মাঝে খাবারের জন্য হাহাকার দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা খুবই অপ্রতুল। অনাহার-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে ওএমএসের চাল বিক্রিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও ফসলহারা কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। চরম অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাদের। বুধবার দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বর্ষণে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। ভৈরবে রেললাইনের মাটি ধসে যাওয়ায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের পরিচালক (ত্রাণ) মো. ইফতেখারুল ইসলাম জানান, সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকার জন্য এ পর্যন্ত এক হাজার ১শ’ টন চাল এবং নগদ ১২ লাখ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ চালের ৭০০ টন সিলেট, ২০০ টন মৌলভীবাজার এবং ১০০ টন করে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট জেলার জন্য ১০ লাখ ও মৌলভীবাজার জেলার জন্য দুই লাখ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশের জন্য বিশেষ থোক বরাদ্দ ছাড় করা হয়েছে ৫ হাজার ৫৫৪ টন চাল ও এক কোটি ৯ লাখ টাকা।

সিলেট, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ : বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের তেরা মিয়ার স্ত্রী সাজু বেগম ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট আইলে হখলেউ লাম্বা মাত মাতইন, আর মাইনষরে লাখ লাখ টেকা দেইন। অতো দিন ধরি পানির মাঝে আছি আর অখন আইছইন ফটো তুলবার লাগি। ফটো তুললে কিতা পেট ভরবোনি।’ একই ইউনিয়নের রাধাকোনা গ্রামের পানিবন্দি হাছনা বেগম বলেন, এক মাস ধরে পানিবন্দি আছি। ঘরে খাওয়ার কিছুই নাই। পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। উপজেলার পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের মিনারা বেগম বলেন, ‘আমরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছি না।’

ওসমানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত দেড় লক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষের জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩৮ টন চাল ও নগদ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ টন চাল ও নগদ ৩৬ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ খাদ্য সংকটে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটালেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ৮টি ইউনিয়নে মাত্র ১৭শ’ জন বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রাণের চাল ও টাকা বিতরণ করা হয়।

তাজপুর ইউপির নটপুর গ্রামের ভূমিহীন বিধবা সামেলা বিবি (১৪০) বলেন, ‘স্বামী নেই এক ছেলে ছিল সেও আমাকে ছেড়ে গেছে। অন্যের বাড়িতে থাকি। সেখানেও পানি উঠে গেছে। কারও কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সাহায্য পাইনি।’

হাকালুকি হাওরের তীরবর্তী গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণপুর গ্রাম। বন্যাকবলিত এ গ্রামের মানুষ বুধবার পর্যন্ত কোনো ত্রাণ পাননি। এ গ্রামের বাসিন্দা সাহেরা বেগমের অভিযোগ, বন্যায় বাড়িঘর ডুবে মানবেতর জীবনযাপন করছি অথচ কোনো ত্রাণ পাইনি। একই গ্রামের ইদ্রিস মিয়া বলেন, বন্যার্তদের ত্রাণ দেয়ার কথা শুনছি কিন্তু আমরা তো কিছুই পেলাম না।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মাইকিং করে ডেকে নেয়ার পরও ত্রাণ দেয়া হয়নি। ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া মঙ্গলবার ফরিদপুর স্কুলে ত্রাণ দেন, তা আমরা পাইনি। অনেক মানুষ ত্রাণ না পেয়ে ফিরে গেছেন।

মৌলভীবাজার, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা : হাকালুকি হাওরপারের বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়ার বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। অধিকাংশ লোক পাচ্ছেন না সরকারি ত্রাণসামগ্রী। আর যা বিতরণ করা হচ্ছে তাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রতিনিধিরা তাদের পছন্দের লোকদের মধ্যে তা বিতরণ করছেন। কিছু লোক একাধিকবার পেলেও অধিকাংশ লোক একবারও পাচ্ছে না। এ নিয়ে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। আবার নৌকা না থাকায় পানিবন্দি অনেক লোক বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কেন্দ্রে যেতে পারছেন না।

ত্রাণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি : ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। আর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেম্বার বিএনপির। ত্রাণ চাইতে গেলে তারা আমাদের উল্টো ধমক দেন। কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের বন্যাকবলিত কাড়েরা গ্রামের ত্রাণবঞ্চিত যগেশ দাস ও প্রণতি দাস এমন অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, মেম্বার-চেয়ারম্যানদের পছন্দের লোকজনই কেবল পাচ্ছে ত্রাণ।

অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও। ২ জুলাই আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসে। এরপর জয়চণ্ডী ইউনিয়নের পুশাইনগর বাজারে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। সেখানে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। এসব মানুষের মাঝে বিএনপি সমর্থিতদের ত্রাণ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

হাকালুকি হাওরপাড়ে ‘ঢেউ’ আতঙ্ক : ‘ঘরের মেঝেতে ২ ফুট পানি। কোনো মতে খাটের ওপর স্ত্রীসহ দিনযাপন করছিলেন। কিন্তু হাওরের বিশাল ঢেউ ঘরের বেড়া আর ভিটার মাটি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটতে হবে।’ হাকালুকি হাওরতীরের জুড়ী উপজেলার জাফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও গ্রামের মাজু মিয়া (৫০) এভাবেই জানলেন নিজের আতঙ্কের কথা।

বেলাগাঁও গ্রামের মহিউদ্দিন, শুকুর মিয়া, তৈমুছ আলী, ফিরোজ মিয়া জানান, তাদেরও একই অবস্থা। বন্যায় যতটা না দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাকালুকি হাওরের এই উত্তাল ঢেউয়ে। বিশেষ করে হাওরের দক্ষিণ তীরের কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নে এই উত্তাল ঢেউ মানুষের বাড়িঘর তছনছ করে দিচ্ছে। ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের সাইফুর রহমান, ভুকশিমইল গ্রামের জাবদ আহমদ, সেজু মিয়া, জেবুল আহমদ, শেখ ইমন, কামাল আহমদ, কাড়েরা গ্রামের জামাল মিয়া জানান, বন্যায় ফসল গেল। রাস্তাঘাট গেল। এবার ঢেউয়ের কবল থেকে বাড়িঘর মনে হয় আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য মানুষ কচুরিপানা দিয়ে বাড়িঘর রক্ষার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে হাওরতীরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ষান্মাসিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

নেত্রকোনা : পহেলা জুলাই থেকে খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম (ওএমএস) বন্ধ থাকায় আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের শত শত কৃষক পরিবারে চরম খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন ওএমএস ডিলারের দোকানে ভিড় করেন কৃষকরা। চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যান। মদন উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, জুন পর্যন্ত ওএমএস কার্যক্রমের বরাদ্দ ছিল। নতুন করে বরাদ্দ না আসায় এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ওএমএস ডিলার নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ঈদুল ফিতরের পর চাল উত্তোলনের চিঠি না আসায় আমরা ডিও করতে পারছি না। প্রতিদিন শত শত ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন চাল নিতে আমাদের দোকানে ভিড় করছেন। আমরা তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বিদায় করছি।

সুনামগঞ্জ : হাওরের ফসলহারা কৃষক ও হতদরিদ্রদের মাঝে ওএমএসের চাল বিক্রি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ফসলহারা কৃষক পরিবারগুলো বিপাকে পড়েছে। এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ সরকারি খাদ্যগুদামের ওসি এলএসডি অসীম কুমার তালুকদার বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক ৩০ জুন থেকে ওএমএসের চাল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কেন বন্ধ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

জামালগঞ্জ উপজেলার পাকনার হাওরপারের কৃষক তাজউদ্দিন বলেন, ফসল হারানোর পর লাজ-লজ্জা ভুলে বাঁচার তাগিদে লাইনে এসে ওএমএসের চাল কিনতাম। এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক আকবর আলী বলেন, ফসলহারা কৃষকদের অবস্থা খুবই নাজুক। এ অবস্থায় ওএমএস বন্ধ থাকলে মানুষের অবস্থা আরও খারাপ হবে।

ভৈরব : বুধবার সকাল ৬টার দিকে প্রবল বর্ষণে ভৈরব রেলস্টেশনের অদূরে সিগন্যাল পয়েন্ট সংলগ্ন ২৯ নম্বর সেতুর কাছে রেললাইনের মাটি ধসে গেছে। এতে তিতাস ট্রেন প্রায় ১ ঘণ্টা আটকা ছিল। পরে রেলওয়ের কর্মচারীরা ধসে যাওয়া মাটি ভরাট করে দিলে সকাল ৭টার দিকে ট্রেন চলাচল ফের স্বাভাবিক হয়। ভৈরব রেলস্টেশন মাস্টার অমৃত লাল দাস বলেন, ওই সময় তিতাস ছাড়া অন্য কোনো ট্রেন না থাকায় চলাচলে তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

চাটমোহর (পাবনা) : চাটমোহরে তিন দিন ধরে টানা বর্ষণের কারণে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) : ধোবাউড়ায় বেতগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানির নিচে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এখন নেতাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে। এখনই রক্ষার উদ্যোগ না নিলে যে কোনো সময় নদীর স্রোতে ভেসে যেতে পারে বিদ্যালয় ভবনটি।

বরিশাল : বুধবার সকাল থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সাধারণ লোকজনের কর্মজীবনে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নগরীর ছিন্নমূল মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষ। এদিকে মৌসুমি এ লঘুচাপের কারণে বরিশাল নদীবন্দরে ১নং সংকেত দেয়া হয়েছে।

বান্দরবান : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শহরে ১০টি এবং লামা উপজেলা সদরে ২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে লামায় ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সরকারিভাবে খোলা ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত ৭০৩ পরিবারের মাঝে খিচুড়ি বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক এবং বান্দরবান পৌর মেয়র ইসলাম বেবী জানান, প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ আশ্রয় কেন্দ্রে পরিবারগুলোর মাঝে খিচুড়ি বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) : চন্দনাইশে ৪ দিনের অবিরাম বর্ষণে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কৃষকের আউশ-আমনের বীজতলা ও রোপণ করা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কাউখালী (পিরোজপুর) : তিন দিন ধরে টানা বর্ষণে উপজেলার নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের রাস্তাঘাটে হাঁটুপানি। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারেনি। দিনমজুররা কাজ না পাচ্ছেন না। ফলে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা।

বগুড়া : সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রৌহাদহ, চন্দনবাইশা ইউনিয়নের শেখপাড়া, চরঘুঘুমারি, কুতুবপুর ইউনিয়নের নিচ কর্ণিবাড়ি, ধলিরকান্দি ও বয়রাকান্দি গ্রামে নতুন করে বন্যার পানি ঢুকেছে। এতে প্রায় ১ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে যমুনার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

কক্সবাজার, টেকনাফ ও চকরিয়া : প্রবল বর্ষণে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার ফলে কক্সবাজারের আকাশে এসেও অবতরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট। এদিকে বুধবার চকরিয়ায় আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মাতামুহুরি নদীর চিরিঙ্গা ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে ৫টি বসতবাড়ি। অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এলাকার প্রায় ৩ লাখ মানুষ তিন দিন ধরে পানিবন্দি।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের প্রধান প্রধান নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ছে দ্রুতগতিতে। পানি বাড়ার ফলে এরই মধ্যে দুই শতাধিক চর ও দ্বীপচরের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেকের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ। ডুবে গেছে পাট, আউশ, সবজিসহ কিছু ফসল। এ ছাড়া ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে শতাধিক পরিবার। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে পানিবন্দী দেড় লাখ মানুষ 

5533

সিলেট, ৪ জুলাই : দেশের বড় অংশজুড়ে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সূত্র মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চল সিলেট-মৌলভীবাজারে বিদ্যমান বন্যার মধ্যেই দেশের উত্তরাঞ্চল এবং ধীরে ধীরে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। আগামী তিনদিন যমুনার পানিও বৃদ্ধি পাবে। এ মাসের শেষের দিকে পানি বাড়বে পদ্মায়ও। তবে ধীরে ধীরে সিলেট অঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য মতে, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে এরই মধ্যে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। কুশিয়ারা নদীতে পানি বাড়ছে। এ ছাড়া দেশের উত্তরাঞ্চলে যমুনা নদীর পানিও বাড়ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। যমুনার পানি বাড়ার কারণে উত্তরের পাঁচ জেলা কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জে এ মাসে বন্যা হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে গতকালের ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবারও ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হবে। কোথাও কোথাও ভারি ও অতিভারি বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে ভারি বর্ষণের পাশাপাশি উজানের ঢলও আসতে শুরু করেছে বেশ কিছুদিন আগ থেকে। গত কয়েক দিনে সিলেট, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট ও শরীয়তপুরে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার কারণে পানিবন্দি হয়েছে অনেক পরিবার। বন্যার সঙ্গে ভাঙনও দেখা দিয়েছে হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারে। উজান থেকে নেমে আসা পানিতে তিস্তার পানি বিপত্সীমার ওপরে উঠে প্লাবিত হয়েছে লালমনিরহাটের কয়েকটি গ্রাম।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেটে গতকাল নতুন করে বন্যার পানি বাড়েনি। কিন্তু কুশিয়ারা নদীর পানি না কমায় জেলার বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, ওসমানীনগর, গোলাপগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। এর বাইরে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলারও ৪৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে ভূমিকম্প 

898

সিলেট, ২ জুলাই : সিলেট অঞ্চলে আজ রবিবার দুপুরের দিকে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, আজ বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৪ দশমিক ৭। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল সিলেট থেকে ২৮৩ কিলোমিটার দূরে, ভারতে।

তবে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

আর্থকোয়েক ট্রাক ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভারতের মণিপুরে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড় ধস: সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ 

36

সিলেট, ১৯ জুন : মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়ায় পাহাড় ধসের কারণে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকাল সোয়া ৮টা থেকে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের স্টেশন মাস্টার ফয়জুর রাহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রেল কর্মীরা লাইন থেকে মাটি সারানোর কাজ শুরু করেছেন। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

এ ঘটনায় কমলগঞ্জের ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেট থেকে ঢাকামুখী ‘কালনী এক্সপ্রেস’ আটকা পড়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সিলেটে স্বজন সমাবেশের ইফতার মাহফিল 

0

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট,  ১২ জুন : সিলেটে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার নগরীর জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমিতে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারে যুগান্তর স্বজন সমাবেশের বিভিন্ন শাখার স্বজনসহ সিলেটের সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মীরা অংশ নেন। ইফতারের পূর্বে রমজানের তাৎপর্য ও ইফতারের গুরুত্ব নিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা স্বজনের সভাপতি প্রভাষক সুমন রায়ের সভাপতিত্বে ও জেলা স্বজনের সহ সভাপতি সুবিনয় আচার্য্য রাজুর পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, যুগান্তর সিলেট ব্যুরো প্রধান সংগ্রাম সিংহ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যুগান্তরের রিপোর্টার আব্দুর রশিদ রেনু, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও যুগান্তরের রিপোর্টার আজমল খান এবং স্বজন সমাবেশের বিভাগীয় সমন্বয়কারী প্রণবকান্তি দেব।

আলোচনা শেষে সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনির পরিচালনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার হাবিব সারোয়ার আজাদ, স্বজন সমাবেশের সাবেক সভাপতি লায়ন মেহেদী কাবুল, সহ সভাপতি কুলসুমা বেগম, সঙ্গিত শিল্পী অন্তরা বিশ্বাস, সংস্কৃতি কর্মী মামুন পারভেজ, জেলা স্বজনের সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক সোহান মিয়া, শাহরিয়ার রাহী, দপ্তর সম্পাদক সুলতান হোসেন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মো. রবিউস সানী, ক্রীড়া সম্পাদক যীশু আচার্য্য, পাঠচক্র সম্পাদক ঈশিতা পুরকায়স্থ, সমাজ সেবা সম্পাদক মীর মিশকাত মৌ, কার্যকরী সদস্য তানিয়া খান শাম্মী, আরাফাত হোসেন ও রুবেল রাজ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১০ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক 

8

সিলেট, ১১ জুন : দশ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ইঞ্জিনসহ দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিক থেকে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার ফয়জুর রহমান জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে আখাউড়া থেকে আসা ডেমু ট্রেনটি লাউয়াছড়া এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় রেললাইনের ওপর একটি গাছ উপড়ে পড়ে। গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ সামনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।

এ ঘটনার পর সিলেট-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট পথে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ স্টেশনে আটকা পড়ে চট্টগ্রামগামী উদয়ন, ঢাকাগামী উপবন, লোকাল ট্রেন সুরমা ও জালালাবাদ। খবর পেয়ে রাত ২টার দিকে কুলাউড়া ও আখাউড়া থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন গিয়ে কাজ শুরু করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আতিয়া মহলের দুই মামলার তদন্ত পিবিআইর কাছে হস্তান্তর 

14

সিলেট, ১০ মে : বহুল আলোচিত জঙ্গি আস্তানা সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার ও অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা জানান, সদর দপ্তরের নির্দেশে মঙ্গলবার মামলা দুটি পিবিআইর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে মামলা দুটির তদন্ত করছিল মোগলাবাজার থানা পুলিশ।

পিবিআই এর বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মামলার নথি ও আলামত বুঝে পেয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

প্রসঙ্গত, জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়ে গত ২৪ মার্চ ভোরে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ির আতিয়া মহল ঘিরে ফেলেন আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরদিন সকাল থেকে ২৮ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িটি ঘিরে চলে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের অপারেশন টুয়াইলাইট।

অভিযানের মধ্যে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ভবন সংলগ্ন পাঠানপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পশ্চিম দিকে পর পর দুইদফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান লেফটেন্ট্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদসহ সাতজন নিহত হন। আর অভিযান শেষে আতিয়া মহলে পাওয়া যায় চার জঙ্গির লাশ।

এ ঘটনায় ২৭ মার্চ মোগলাবাজার থানার এস আই শিপলু দাস অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আর আতিয়া মহল থেকে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এস আই সুহেল আহমদ বাদী হয়ে অপর মামলাটি করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গোলাপগঞ্জে নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল অনুষ্টিত 

0

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট), ২ মে : গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর নাছির উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক মিলাদ মাহফিল ও খান বাহাদুর নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপার সুনিল চন্দ্র দাস, সিনিয়র শিক্ষক তারেক জলিলের উপস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি আমজাদ আহমদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যাংকার মাহবুব কাদির চৌধুরী, প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ ছালিক, পরিচালনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হেলাল উদ্দিন হেলাল, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুহেদুজ্জামান চৌধুরী, পরিচালনা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি রশীদ আহমদ ও মাওলনা আইয়ুব আলী। আলোচনা সভা শেষে অনুষ্টিত মাহফিলে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাংলাদেশ স্কাউটসের আঞ্চলিক কমডেকা সম্পন্ন 

00

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ(সিলেট), ২ মে : গোলাপগঞ্জে বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের ৫ দিন ব্যাপী ২য় আঞ্চলিক সমাজ উন্নয়ন ক্যাম্প (কমডেকা) সম্পন্ন হয়েছে। গত শুক্রবার  কমডেকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর এ.কে এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার বলেছেন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দেশপ্রেমে উদ্বোদ্ধ হয়ে আগামীদিনের নেতৃত্বের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গীবাদ, অনৈতিক কার্যক্রম রুখতে স্কাউটিং কার্যক্রমের বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে স্কাউট আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি পরিবেশ বিপর্যয়, বন্যা, খরা ও নানাবিধ প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্ঠিতে স্কাউটদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহবান জানান।

গোলাপগঞ্জস্থ আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সহ-সভাপতি, প্রবীণ শিক্ষাবিদ বিরাজ মাধব চক্রবর্ত্তী মানসের সভাপতিত্বে ও উপ-কমিশনার (স্পেশাল ইভেন্ট) প্রমথ সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজ নজমুল ইসলাম। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচীত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সম্পাদক মহিউল ইসলাম মুমিত, বক্তব্য রাখেন স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কমিশনার ও কমডেকা চীফ মুবিন আহমদ জায়গীরদার, আঞ্চলিক স্কাউট পরিচালক উনু চিং মারমা এলটি, সম্মানীত অতিথির বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড সিলেট এর সচিব মোস্তফা কামাল, সিলেট মেট্টোপলিটন চেম্বারের ডাইরেক্টর, আলীম ইন্ড্রাষ্ট্রিজের চেয়ারম্যান আলীমুস সাদাত চৌধুরী।  ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (সমাজ উন্নয়ন) আমীর এ আজম চৌধুরী, এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কোষাধ্যক্ষ স.ব.ম দানিয়েল, আঞ্চলিক উপ-কমিশনার (প্রোগ্রাম) ডা. সিরাজুল ইসলাম,আঞ্চলিক উপ-কমিশনার ইসমাইল আলী বাচ্চু, ফয়জুল আক্তার চৌধুরী, বিলকিস বেগম, কমডেকা সাব-ক্যাম্প চীফদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহিদ, রিপন চক্রবর্ত্তী, অসীম রঞ্জন তালুকদার, গুলজার আহমদ চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে জাতীয় পতাকা, কমডেকা পতাকা, আঞ্চলিক স্কাউটস পতাকা ও পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন প্রধান অতিথি, কমডেকা চীফ, বিশেষ অতিথি ও জেলা স্কাউটস প্রতিনিধিগন।

কমডেকার ৩য় দিনে আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মনিরুল ইসলাম, ৪র্থ দিন চেতনায় মুক্তিযোদ্ধ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধ আতাউর রহমান খান, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিষ্ট্রার বদরুল ইসলাম শোয়েব। রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত মহা তাঁবু জলসা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মেয়র সিরাজুল জব্বার চৌধুরী, স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের কমিশনার ও কমডেকা চীফ মুবিন আহমদ জায়গীরদারের সভাপতিত্বে, স্কাউটার রিপন চক্রবর্তী এলটি ও বিলকিস বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের সম্পাদক মহিউল ইসলাম মুমিত, আঞ্চলিক স্কাউট পরিচালক উনু চিং মারমা এলটি। ৫দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত (২৭ এপ্রিল থেকে ০১ মে পর্যন্ত) কমডেকায় বাংলাদেশ স্কাউটস সিলেট অঞ্চলের পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার ৩৮টি ইউনিট অংশ গ্রহণ করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অগ্রগতি নেই আতিয়া মহল মামলার 

83

সিলেট, ৩০ এপ্রিল : আতিয়া মহলে আলোচিত জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও অভিযান চলাকালে অদূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পেরিয়ে গেছে এক মাস। এ দীর্ঘ সময়েও আতিয়া মহলে অভিযান কিংবা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কোন অগ্রগতি হয়নি। এ দুই ঘটনায় পুলিশের হাতে কোন ক্লুও নেই। এমনকি আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের ‘অপারেশন টোয়াইলাইটে’ নিহত চার জঙ্গির পরিচয়ও শনাক্ত হয়নি। বোমা বিস্ফোরণে আহত চার ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। এদিকে, আতিয়া মহল বিধ্বস্ত এক ভবন হিসেবেই এখন দাঁড়িয়ে আছে।

সিলেট মহানগর পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং অভিযান চলাকালে অদূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ দুটি মামলা দায়ের করে। গত এক মাসে এসব মামলায় উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। দৃশ্যমান কোন ক্লু খুঁজে পায়নি পুলিশ। আতিয়া মহলে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চলাকালে প্রায় আড়াইশ’ গজ দূরে দুই দফা বোমা বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে, তাও উদঘাটন করতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আতিয়া মহলে অভিযান শেষ হওয়ার পরই মৌলভীবাজারে দুটি বাড়িতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালানো হয়। তন্মধ্যে মৌলবীবাজার সদরের বড়হাটে অভিযানে নিহত এক ব্যক্তি সিলেটে বোমা হামলায় জড়িত ছিল বলে ওই সময় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তির সাথে আর কারা জড়িত ছিল, নেপথ্যে কারা কলকাঠি নেড়েছে, কোন উদ্দেশ্যে ওই বোমা হামলা করা হয়- এসব বিষয়ে গত এক মাসেও কোন ক্লু পায়নি পুলিশ।

সূত্র জানায়, আতিয়া মহলে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত চার জঙ্গির পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ চার জঙ্গিকে দাফনের আগে তাদের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু এখনও ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা। এছাড়া আতিয়া মহলের পাওয়া বিস্ফোরক ও আলামত উদ্ধার করে বিস্ফোরক অধিদফতরে পাঠানো হলেও তার প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, বোমা হামলা মামলার ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। হামলায় আহত চার ব্যক্তি এখনও ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তন্মধ্যে দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই গ্রামের ফারুক মিয়ার এক পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের শিরিন মিয়া নামের আরেক ব্যক্তির পাও কেটে ফেলা হতে পারে। এছাড়া গত রবিবার শামীম নামের আহত এক ব্যক্তির পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। আহত এসব ব্যক্তিরা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে তাদের বক্তব্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বিস্ফোরণ আর গুলিতে ঝাঁঝরা হওয়া পাঁচ তলা আতিয়া মহল এখন বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আতিয়া মহলে যেসব ভাড়াটে ছিলেন, তাদের সবাই অভিযান শেষের পর অন্যত্র চলে গেছেন। বর্তমানে শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে ভবনটি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জেদান আল মুসা বলেন, আতিয়া মহলের মামলা দুটি সিআইডি বা পিবিআই তদন্ত করুক, এমনটা চাইছি আমরা। এজন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবেদন করা হয়েছে।

আতিয়া মহল ঘিরে গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাত থেকে শুরু হয় পুলিশের তৎপরতা। ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে ওই বাড়ি ঘিরে রাখা হয়। পরদিন বিকেলে পুলিশ, র‌্যাবের সাথে যোগ দেয় সোয়াট টিমের সদস্যরা। ২৫ মার্চ সকাল থেকে ভবনে অভিযান শুরু করে সেনা প্যারাকমান্ডোরা। অভিযান চলাকালে ওইদিন সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের প্রায় আড়াইশ’ গজ দূরে প্রচ- শব্দে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এর কিছু সময় পর আরেক দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে আরো তিন জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। বা.প্র

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রবিবার সুনামগঞ্জ শাল্লায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী 

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট, ২৭ এপ্রিল : প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার আগমনের খবরে বোরো ফসলহারা লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নতুন করে জেগে উঠার প্রত্যয় ও আশার সঞ্চয় হয়েছে । প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ বোরো ফসলী এলাকা পরিদর্শন করতে আগামী রবিবার সুনামগঞ্জের শাল্লায় আসছেন। আগাম বন্যায় বোরো ফসল হানীর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম বারের মত জেলার তাহিরপুর উপজেলা সদরে কৃষকদের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেনও ওখানে কৃষক সমাবেশে  প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী রবিবার শাল্লায় দ্বিতীয়বারের মত সুনামগঞ্জ সফরে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী তাহিরপুরের কৃষক সমাবেশে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেদিন লাখ লাখ ক্ষত্রিগ্রস্থ ফসলহারা কৃষকদের উরদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছিলেন ‘‘আমি গোপালগঞ্জ জেলাকে যে দৃষ্টিতে দেখবো, ঠিক সেই দৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জ জেলাকেও দেখবো”। প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সুনামগঞ্জ আগমনের খবরে  বোরো ফসলহারা  লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নতুন করে জেগে উঠার প্রত্যয় ও আশার সঞ্চয় হয়েছে ।

ওপারের পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পানিতে চলতি মাসের শুরু থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে পাউবোর অসমাপ্ত বেরীবাঁধ দিয়ে ঢলের পানির তোড়ে তলিয়ে যায় জেলার সব ক’টি উপজেলার কয়েক লাখ হেক্টরের আবাদকৃত বোরো ধান।’ একই সময় সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ , ঢাকা বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলা, ময়মনসিংহ নেত্রকোনা জেলার আবাদকৃত একমাত্র বোরো ফসলী ধান ঢলের পানিতে তলিয়ে যায়।’বোরো ফসলহারা হাওর এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের খোঁজ খবর নিতে ইতিপর্বে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল টানা তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি  মো. আবদুল হামিদ সরজমিনে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ হাওর এলাকা পরিদর্শন শেষে ১৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট বোরো ফসল হারা লাখ লাখ কৃষককের দুভোর্গের চিত্র তুলে ধরে আগামী মৌসুমে বোরো ফসল না উঠা পর্য্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবার গুলোকে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থীক প্রণোদনা, কৃষি ঋণ আদায় বন্ধ, সুদ মওকুফ, এনজিওদের কিস্থি আদায় বন্ধ করণ, কৃষকদের পুর্ন:বাসন থেকে শুরু সব রকমের সরকারি সহায়তার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আগামী রবিবার প্রধানমন্ত্রীর সফর কর্মসুচীকে সামনে রেখে বুধবার রাত ৮টায় জেলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমুলক সভায় গণভবনের বরাত দিয়ে জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  জেলার বোরো ফসলী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গুলো  সেনাবাহিনীর বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে লো-ফ্লাই করে রবিবার পরিদর্শন শেষে  ওদিন দুপুরে  শাল্লা  হেলিপ্যাড মাঠে অবতরণ করে  ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেবেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সাথে কথা বলবেন এবং ওখানে এক কৃষক সমাবেশে কৃষকদের পুর্ন:বাসনে কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক শেখ. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে বুধবার রাতের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, সংসদ সদস্য  পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ্, সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত যুগ্ন সচিব (সুনামগঞ্জের সাবেক জেলা প্রশাসক) মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র মো আয়ুব বখ্ত জগলুল ও পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খানঁ,সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ব্যতিক্রমধর্মী হালখাতা উৎসবে ভ্যাট পরিশোধে ব্যাপক সাড়া 

0

আবেগ রহমান, সিলেট, ১৮ এপ্রিল : পুরনো ঐতিহ্যকে সামনে রেখে প্রথম বারের মত ঘটা করে ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্যদিয়ে সিলেট কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট’র হালখাতা উৎসব পালিত হল। বকেয়া ভ্যাটের টাকা পরিশোধে কাষ্টমসের আহবানে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। এ আহবানে সাড়া দিয়ে হালখাতা উৎসবে যোগ দিতে আসা ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখে প্রায় ৭০ লাখ টাকার অধিক বকেয়া ভ্যাটের টাকা পরিশোধ করেছেন।

জানা গেছে, হালখাতা উৎসব পালনের জন্য ব্যবসায়ীদের উদ্ভুদ্ধ করনে সিলেট কাষ্টমস  এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের উদ্যোগে বৃহওর সিলেট বিভাগের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর  সহ প্রতিটি শুল্ক ষ্টেশনে বেশ কিছু দিন ধরেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে আমন্ত্রনপত্র ও প্রচার প্রচারণা চালানো হয়।

সিলেট কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট’র মেন্দিবাগস্থ কার্যালয়ের হলরুমে ১৪২৪ বাংলার পহেলা বৈশাখে শুক্রবার  সকাল ১০ টায় হালখাতা উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনার মো. মো. শফিকুল ইসলাম।  উদ্ভোধনের পর পরই ব্যবসায়ীদের কাষ্টমসের পক্ষ্য থেকে ঐতিহ্যবাহি মাটির পাত্রে মিষ্টি , চিড়া- মুড়ি, দই- রসালো গুড় দিয়ে আপ্যায়ন করানো হয়।

হালখাতা উৎসবে ব্যবসায়ীরাও সাড়া দিয়ে ভ্যাটের বকেয়া পাওনা প্রায় ৭০ লাখ টাকা ওদিনই পরিশোধ করেন। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভায় রাজস্ব কর্মকর্তা আশীষ রায়ের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন   উৎসবের উদ্যোক্তা সিলেট কাষ্টমস  এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এডিশনাল  কমিশনার  মো. রাশেদুল আলম, যুগ্ন কমিশনার মো. নিয়ামুল ইসলাম, সিলেট সদর ডিভিশনের কর্মকর্তা মো. সাজেদুল হক,  বিটিভির অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী সাংবাদিক মঞ্জুরুল আমিন দুয়েল, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি এমদাদ হোসেন, সিলেট চেম্বারর্স অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টির পরিচালক  মো. শিপার আহমদ প্রমুখ।

পহেলা বৈশাখের হালখাতা উৎসবে সিলেট  কাষ্টমস এক্সাইজ এন্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের হলরুমে সিলেটের লোকজ ও  সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে বাউল শাহ আবদুল করিম, মরমী কবি ও সাধক পুরুষ হাসন রাজা, দুর্বিন শাহ, রাধা রমন দও, বাউল আরকুম শাহর গান পরিবেশন করেন বেতার টিভির খ্যাতনামা স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পীগণ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাষণ্ড পুত্র 

0

আজিজ খান, গোলাপগঞ্জ (সিলেট), ১২ এপ্রিল : গোলাপগঞ্জে মাকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে পাষন্ড এক পুত্র। বুধবার ভোরে উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ বারকোট এলাকায় এ নির্মম ঘটনাটি ঘটে। নিহত মায়ের নাম তহুরুন্নেছা (৭৫)। ঘটনার পর ঘাতক পুত্র পালিয়ে গেলেও পরে স্থানীয়ে জনতার সহযোগীতায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতের লাশ উদ্ধার করার পর ময়না তদন্তের জন্য সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

স্থানীয়  ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিন বাদ ফজর নামাজ পড়ে ঘরের বারান্দায় বসেছিলেন তখলিছ আলীর স্ত্রী বৃদ্ধা তহুরুন্নেছা (৭৫)। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই তার ঘাতক পুত্র রুবেল আহমদ (২৫) ধারালো বটি দিয়ে উপর্যুপুরী কয়েকটি কুপ দেয়।

এসময় তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘরের লোকজন অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি বুঝতে পারেননি।এর পর রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ পরে থাকতে দেখে পরিবারের লোকজনের আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন এলাকাবাসী। কিন্তু এর আগেই মাকে হত্যা করেই পালিয়ে যায় ঘাতক পুত্র রুবেল।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতাহাল রিপোর্ট তৈরী করে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

এর পর বেলা ২ টার দিকে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় ঘাতক রুবেল কে উপজেলার হিলাল পুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।এ ঘটনার পর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এলাকার একটি সূত্র জানাযায়, দীর্ঘ দিন থেকে ঘাতক রুবেল বাড়িতে থাকতো না। মাঝে মধ্যে সে আসা যাওয়া করলেও কারো সাথে তেমন কথাও বলতনা।

আবার কোন কোন সময় মায়ের কাছে টাকাও দাবি করতো। এলাকাবাসীর ধারণা সে সম্ভবত মাদকাসক্তে আসক্ত হয়ে পড়ছিল।

এব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ থানায় নিয়ে আসে। মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গি রিপনের ফাঁসির চিঠি সিলেট কারাগারে 

966

সিলেট, ১১ এপ্রিল : জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন রিপনের ফাঁসির চিঠি সিলেট কারাগারে পৌঁছেছে। তার প্রাণভিক্ষার আবেদন রাষ্ট্রপতি নাকচ করার পর চিঠি কারাগারে পৌঁছায়।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি কারাগারে পৌঁছায় বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া।

তিনি বলেন, চিঠি পাওয়ার পর আমরা আসামিকে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার খবর জানিয়েছি। দণ্ড কার্যকরে আমরা প্রস্তুত আছি। উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও সব প্রক্রিয়া শেষ হলেই ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

এর আগে হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান, তার সহযোগী রিপন ও শরীফ শাহেদুল বিপুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। সেই আবেদন নাকচ হয়েছে বলে রোববার সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এদিকে রিপনকে এখন সিলেট কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। রোববার রিপনের সঙ্গে তার পরিবারের ১২ সদস্য দেখা করেছেন।

উল্লেখ্য, সিলেটে হযরত শাহজালালের মাজার প্রাঙ্গণে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০০৪ সালের ২১ মে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৭ জুন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান, তার ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার ওরফে রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

যথাযথ ঠিকানা না থাকায় মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজার নাম প্রথমে বাদ দেওয়া হলেও পরে তাকে যুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। একই বছরের নভেম্বরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

৫৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারক শামীম মো. আফজাল রায় ঘোষণা করেন।

আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের আবেদন) শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

পরে আসামিপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়েও ওই তিন আসামির সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে। আপিল বিভাগের রায় হাইকোর্ট হয়ে নিম্ন আদালতে যাওয়ার পর বিচারিক আদালত মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। সেখানে তাকে ৩ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।

অন্যদিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হান্নান ও বিপুলকে মৃত্যুপরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদন করে ৩ আসামি। শুনানি শেষে ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করলে শনিবার রাষ্ট্রপতি তা নাকচ করে দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর