২০ আগস্ট ২০১৭
সন্ধ্যা ৭:৪৭, রবিবার

আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি : প্রধান বিচারপতি

আমরা যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি : প্রধান বিচারপতি 

1589

ঢাকা, ২০ আগস্ট : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ঝড় তো আপনারাই উঠাচ্ছেন। আমরা, বিচার বিভাগ যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি। শুধু বলব, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে সুপ্রিম কোর্টের কারণে সরে যেতে হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে আলোচনা-সমালোচনা বা প্রতিক্রিয়া হয়নি। আমাদের আরো পরিপক্কতার পরিচয় দিতে হবে।

আজ রবিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বেঞ্চে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির গেজেট প্রকাশে অ্যাটর্নি জেনারেল সময় চাইলে এ নিয়ে শুনানিকালে আদালত এসব মন্তব্য করেন।

এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ছাড়াও প্রধান আইনজীবী এম আমির-উল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আচরণবিধির গেজেট ৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের সময় দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে দেড় মাস সময় 

588

ঢাকা, ২০ আগস্ট : নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশে সরকারকে প্রায় দেড় মাস সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে।

আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

শৃঙ্খলাবিধি মালার খসড়া প্রধান বিচারপতির কাছে হস্তান্তর করার পর গেজেট আকারে প্রকাশ করা সংক্রান্ত বিষয়ে গত ৫ আগস্ট সর্বশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তারপর সেটা আবারও পরবর্তী শুনানির জন্য রবিবার দিন ঠিক করেন আদালত।

এর আগে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি গেজেট আকারে প্রকাশ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য গত ৩ আগস্ট বিকেলে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনমন্ত্রী অসুস্থ থাকার কারণে ওই নির্ধারিত দিনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘উনি (আইনমন্ত্রী) অসুস্থ হয়ে কোন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন জানলে তো দেখতে যেতে পারতাম।’

তার আগে ২৩ জুলাই শুনানিতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালার খসড়া গ্রহণ করেননি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওইদিন খসড়ার বিভিন্ন ধারার অসংগতি তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলোচনা করে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, সব অসঙ্গতি দূর হবে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের প্রণীত এই খসড়ায় সেটার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।’

শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কেন আপনারা পুরোপুরি ইউটার্ন নিয়ে এ ধরনের একটা খসড়া প্রণয়ন করলেন।’

এরপর ২৭ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই খসড়া হস্তান্তর করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। ১২ দফার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। এজন্য বারবার আদেশ দিতে হয়েছে আপিল বিভাগকে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাইরে কঠোর, ভেতরে রিভিউ-প্রস্তুতি 

5822

ঢাকা : ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের রায় নিয়ে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায়ে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে রাষ্ট্রের দুটি প্রধান স্তম্ভ নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মধ্যে। প্রকাশ্যে বিচার বিভাগ ও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ। ইতোমধ্যে সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসকে রিভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এমনটিই নিশ্চিত করেছে।

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকবে কি থাকবে না; এ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলেও এখন এটি বড় আকার ধারণ করেছে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কৌশলী পদক্ষেপে এগোতে চায় সরকার। কৌশলের অংশ হিসেবে রায়ের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে সরকার। রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হার্ডলাইনের প্রতিফলন বলেই ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে ভেতরে ভেতরে রিভিউয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এটিও সরকারের আরেকটি কৌশল।

সূত্র জানিয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা ধরেই নিয়েছিলেনÑ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে উচ্চ আদালতে করা মামলায় আপিল বিভাগের রায় সরকারি দলের বিপক্ষে যাবে না। এ ক্ষেত্রে রায় বিপক্ষে গেলেও এর পর্যবেক্ষণে যেসব রাজনৈতিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা সরকারি দলের নেতারা কখনো ভাবতেই পারেননি। সরকারের জন্য এ ধরনের আপত্তিকর, রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি উচ্চ আদালত সৃষ্টি করতে পারে তা কেউ কখনো ধারণাও করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা জানি এ রায়ের ড্রাফট কোথা থেকে এসেছে। একটি ইংলিশ পত্রিকার সম্পাদক ড্রাফট করে দিয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের সূত্র থেকে জানা যায়, এ রায়ের কিছু অংশ পেনড্রাইভে করে পৌঁছানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। রায়ের নেপথ্যে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর হাত রয়েছে বলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের আইনজীবী নেতারা।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের ওই সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের জন্য খুবই অস্বস্তিজনক ও বিব্রতকর। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা ধীরগতিতে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে রায়ের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষের সামনে এখন একটিই রাস্তা, তা হলোÑ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ। রিভিউয়ে ইতিবাচক ফল পেতে সে জন্য দফায় দফায় বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই সরকারের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রথমে আওয়ামী লীগের তিন আইনজীবী নেতা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একান্ত বৈঠক করেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সঙ্গে। পরে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা আলোচনা করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে। ওই দিনই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আবার কথা বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দফায় দফায় এ বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারের এক মন্ত্রী নাম প্রকাশে অনীহা জানিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, প্রধান বিচারপতির প্রতি আমরা আর আস্থা রাখতে পারছি না। কারণ আমরা কখনো ভাবতেই পারিনি, এমন একটি রায় তিনি লিখতে পারেন! সে কারণে বিষয়টি নিয়ে শুরুতে দলের প্রথম সারির নেতারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলোচনা শুরু করলেও এখন সর্বোচ্চপর্যায়ে থেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশমতো রিভিউয়ের জন্য ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করেছেন সাবেক দুই আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জরিহুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই তিনজনকেই রিভিউয়ের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বলে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নষ্ট না করে ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে বলা হয়েছে ওই তিনজনকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার সফিক আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করতে পারে। আবার রিভিউ আবেদনেই রায়ের পর্যবেক্ষণে উল্লিখিত ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বিষয়গুলো ‘এক্সপাঞ্জ’ করার আবেদনও করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া রিভিউয়ের দায়িত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমি এখনো জানি না। তবে আপাতত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়, যা প্রকাশিত হয়েছে সেটি পড়ছি।

একই বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, আমি এখন ব্যস্ত। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

অন্যদিকে কৌশলের অংশ হিসেবে রায়ের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে সরকার। রায়ের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক ‘হার্ডলাইনের প্রতিফলন’ বলেই ভাবা হচ্ছে। এ বৈঠকের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার এবং দলীয় অবস্থান রাষ্ট্রপতিকে জানানো সরকারপ্রধান ও দলীয়প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ব। তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন সরকারি দলের নেতারা। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রায়ের সমালোচনা করছেন। গতকালও রায় নিয়ে কথা বলার সময় প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এস কে সিনহা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। এর আগে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম আগামী সেপ্টেম্বরের আগেই প্রধান বিচারপতির স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।

এ ছাড়া রায়ের প্রতিবাদে সারা দেশের সব আইনজীবী সমিতিতে টানা তিন দিন প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। এ ফোরামের পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় কোনো কিছু জানাতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। আইন সম্পাদক বলেন, এখনো পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঠিক করা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে শিগগিরই। সূত্র : আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রায় নিয়ে যা বলার কোর্টে বলব : প্রধান বিচারপতি 

555

ঢাকা, ১৫ আগস্ট : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। আজ মঙ্গলবার ১৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া কি না জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রায় নিয়ে প্রকাশ্যে বা গণমাধ্যমে কিছু বলব না। তবে যা বলার কোর্টে বলব।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার করতে গিয়ে আমি দেখেছি এর সঙ্গে অনেক রাঘব বোয়ালরা জড়িত। এ মামলার তদন্ত দুর্বলতার কারণে সেই রাঘব বোয়ালদের আমরা কিছু করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা ছিল একটি ফৌজদারি ষড়যন্ত্র। আজ মঙ্গলবার আমরা রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছি। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে যে রক্ত ঝরানো হয়েছে, তার প্রতিদানে রক্তদান কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা গরিব-অসহায়দের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করছি।

উল্লেখ্য, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত বছর থেকেই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার তত্ত্বাবধানে সুপ্রিম কোর্টে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আয়োজিত হয়ে আসছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

খাইরুল হককে বক্তব্য প্রত্যাহারে সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল নোটিশ 

56555

ঢাকা, ১৩ আগস্ট : ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খাইরুল হকের বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রবিবার (১৩ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বি এম সুলতান মাহমুদ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ বি এম খাইরুল হককে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, এ বি এম খাইরুল হক ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগ নিয়ে ‘আপত্তিকর’ বক্তব্য দিয়েছেন। তাই তাকে লিগ্যাল নোটিশে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বি এম খাইরুল হক তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হজ অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট 

8636

ঢাকা : হজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসা জটিলতা দূর করণে সৌদি সরকারের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে যোগাযোগের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া রিটে একটি তদন্ত কমিশন গঠনেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

হজের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রেক্ষিতে রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ এই রিট আবেদনটি করেন।

বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে বেলা ২টায় শুনানির কথা রয়েছে।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।

হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রার প্রথম ফ্লাইট পৌঁছে ২৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ২৮ আগস্ট। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৬ সেপ্টেম্বর ও শেষ ফিরতি ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। এ বছর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে হজ অনুষ্ঠিত হবে ১ সেপ্টেম্বর।

তবে, ভিসা জটিলতার কারণে এ বছর বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি হাজির হজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে সূত্র জানায়।

অবশ্য হজ অফিসের অভিযোগ, ভিসা জটিলতা নয় বিমান সংকটের কারণে হজ ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আজহার-কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর 

88

ঢাকা, ১৩ আগস্ট : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানির জন্য ১০ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছে আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ২৪ আগস্টের মধ্যে এ দুই মামলার সারসংক্ষেপ জমা দেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানির পর এই দিন ধার্য করা হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্যরা হলেন, বিচারপতি মো. সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

আসামিপক্ষে শুনানি করেন এসএম শাহজাহান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আপিল বিভাগে এই মামলা দুটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে রোববারের কার্যতালিকায় ক্রম ২ ও ৩ নম্বরে ছিল। ১৬ মাস আগে আপিল বিভাগে সর্বশেষ মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর এ দুটি আপিল একই সঙ্গে তালিকায় আসে।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল দায়ের করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা এ আপিল দায়ের করেন। আপিল আবেদনে এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস চাওয়া হয়েছে। মোট আপিল ৯০ পৃষ্ঠার এবং আপিলে খালাসের পক্ষে ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।

এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রংপুর অঞ্চলের আলবদর কমান্ডার এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে এ সাজা দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১।

অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেয়ার আবেদন জানানো হয়। সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন আপিল করেছেন। এ মামলার শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

আপিলে খালাসের আর্জিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে। ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন পর্যন্ত সাতটি আপিলের রায় ঘোষণার পর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয়েছে আপিল বিভাগে। প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার রিভিউ-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি হয়। এরপর একে একে মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মীর কাসেম আলীর পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রিভিউ আবেদনেরও নিষ্পত্তি হয় আদালতে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রায়ের প্রতিবাদে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের কর্মসূচি 

666

ঢাকা, ১২ আগস্ট : ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। আগামী ১৩, ১৬ ও ১৭ আগস্ট এই তিনদিন বেলা ১টায় সারাদেশে আইনজীবী সমিতিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের সদস্য সচিব শেখ ফজলে নূর তাপস।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সারাদেশের আইনজীবীদের সংক্ষুব্ধ করেছে।

রায়ে যে সমস্ত ‘আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক’ পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবিও জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা বাতিল করে দেওয়া আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশের পর থেকে তা নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। আওয়ামী লীগ এই রায়ের সমালোচনা করলেও বিএনপি এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যায়িত করেছে।

আলোচিত এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন ডাকার পর সেখানে দুই পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল হট্টগোল বাঁধে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আইনাঙ্গনে তোলপাড় ও নানা প্রশ্ন 

9889

ঢাকা : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় সম্পর্কে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমান আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হকের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্য নিয়ে আইনাঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তার কিছু মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ দেশের একাধিক শীর্ষ আইনজীবী। তারা বলেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং সংঘাতময় পরিস্থিতির জন্য বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকই দায়ী। প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় একটি পক্ষকে খুশি করতে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা (ত্রয়োদশ সংশোধনী) বাতিল করেছেন। অথচ এ ব্যবস্থা ছিল দেশের সাধারণ মানুষের আন্দোলনের ফসল।

আশা-আকাক্সক্ষা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রবিন্দু। অথচ একটি পক্ষকে খুশি করতে গিয়ে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ শীর্ষস্থানীয় একাধিক আইনজীবী এসব কথা বলেন। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতি আপিল বিভাগের রায় নিয়ে অতীতে কখনও মন্তব্য করেছেন বলে আমাদের জানা নেই। তিনি অতি উৎসাহী হয়ে এ কাজটি করেছেন, যা দুঃখজনক।

বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক হয়তো বলবেন, তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটি তার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে কথা বলার জন্য তিনিই যথার্থ এবং উপযুক্ত ব্যক্তি। আইন কমিশনের কাজই হচ্ছে আদালতের দেয়া রায় মূল্যায়ন করা, রায় পর্যালোচনা করা, রায়ের ভালো-মন্দ, ত্রুটি-বিচ্যুতি উভয় দিক দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে এবিএম খায়রুল হক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সঠিক কাজটিই করেছেন।’

উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭  সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত। এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট গত বছর ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করলে ৩ জুলাই আপিলের রায়েও তা বহাল থাকে। ১ আগস্ট আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে জানা যায়, ৯৬ অনুচ্ছেদের ছয়টি ধারা পুনর্বহাল করার মধ্য দিয়ে সামরিক সরকারের করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

মোট ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায়ের পর্যবেক্ষণে রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনামূলক বেশ কিছু বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রথমদিকে এ ইস্যুতে কথা না বললেও রায়ের এক সপ্তাহ পর মুখ খোলেন সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান। এর আগেই বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক।

ওই রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায়কে ‘পূর্বধারণাপ্রসূত’ এবং সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণকে এবিএম খায়রুল হকের কাছে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ মনে হয়েছে। এছাড়া শব্দচয়নে তিনি দেখতে পাচ্ছেন ‘অপরিপক্বতা’।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করা এবিএম খায়রুল হক সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, বাংলাদেশ যেহেতু প্রজাতন্ত্র, সেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদের কাছে বিচারকদেরও জবাবদিহিতা থাকার কথা। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের ফলে তা আর থাকল না। তিনি বলেন, ‘আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।’

বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের এ মন্তব্যের পরপরই শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। বিশেষ করে আইনাঙ্গনে দেখা দেয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। আদালতের বিষয় তাই এ নিয়ে এ প্রতিবেদকের কাছে রাজনীতিবিদরা মতামত প্রকাশ করতে না চাইলেও একাধিক শীর্ষ আইনজীবী এবিএম খায়রুল হকের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘যে কোনো রায় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-পর্যালোচনা হবে। কিন্তু এ কাজটি আইন কমিশনের নয়। এটি আইন কমিশনের কাজের মধ্যে পড়েও না। বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক হয়তো বলবেন, ব্যক্তি হিসেবে রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটিও কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

তিনি রায় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের অবস্থান, আইন কমিশন এবং বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। যা সত্যিই দুঃখজনক। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে মানুষ এমনটা আশা করেন না।’
ড. শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘রায় আগে থেকেই লিখে রাখা হয়েছে’, ‘বিচার বিভাগ অপরিপক্ব’- এ ধরনের কথাবার্তা তার (এবিএম খায়রুল হক) মুখ থেকে শোভা পায় না। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ ধরনের কথা কোনো অবস্থাতেই বলতে পারেন না। কারণ, তিনি নিজেও কর্মজীবনে অনেক রায় দিয়েছেন। কেউ যদি তার দেয়া সেসব রায় নিয়ে এখন প্রশ্ন উত্থাপন করেন- জবাবে কি বলবেন?’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য এবিএম খায়রুল হককে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ে তিনি (এবিএম খায়রুল হক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন।

এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের স্থিতিশীলতা ধ্বংস করেছেন। দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এ অস্থিতিশীলতার শেষ কোথায় আমরা কেউ জানি না।’ ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশের মানুষের আশা-ভরসার জায়গা ছিল। এ ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দেশের গণতন্ত্রের জন্য সর্বোচ্চ খারাপ নজির স্থাপন করে গেছেন।’

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এ প্রসঙ্গে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে এবিএম খায়রুল হক দেশকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এ ব্যবস্থা বাতিল করার পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন। ভবিষ্যতে হয়তো আরও বড় কোনো পুরস্কারের আশায় ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে তিনি মনগড়া কথা বলেছেন। ভবিষ্যতে তিনি হয়তো আরও বড় ধরনের পুরস্কারের আশা করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখেন, যা জিয়াউর রহমানের সময়েই করা। তখন তিনি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখার পক্ষে মত দিলেন, এখন কেন এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে তো সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলই বহাল রাখা হয়েছে। এতে তার-ই তো খুশি হওয়ার কথা।’

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী আরও বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক একজন স্ববিরোধী মানুষ। আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের যোগ্যতা নিয়েই প্রকারান্তরে প্রশ্ন উত্থাপন করলেন। বিচার বিভাগের সম্মান এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। যা তিনি কোনোভাবেই করতে পারেন না। আদালতের রায় বিশ্লেষণ করার জন্য আইন কমিশনে তাকে বসানো হয়নি। তার কাজ আইন প্রণয়নে সহায়তা করা। কাউকে খুশি করে বক্তব্য দেয়া তার কাজ নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় যখন আদালতে প্রকাশ্যে পড়ে শোনান তখন তিনি বলেছিলেন আরও দুই মেয়াদের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। অথচ এর ১৬ মাস পর যখন তিনি পূর্ণাঙ্গ রায় লিখিতভাবে প্রকাশ করলেন তাতে এ কথাটাই বাদ দিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একটি পক্ষকে খুশি করতেই তিনি এ কাজটি করেছেন। পরে এর পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হয়ে।’

এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে এবিএম খায়রুল হক যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এবিএম খায়রুল হক মুন সিনেমা হলের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার রায় দিতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলক পূর্বপরিকল্পিত অপ্রাসঙ্গিকভাবে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছেন। তিনি পঞ্চম ও ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়কেও বিতর্কিত করেছেন। এ কারণে বিচারপতি খায়রুল হক ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলে পূর্ব পরিকল্পনার গন্ধ পাচ্ছেন।’-যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সরকার বা বিরোধী দল কারো ফাঁদেই পা দেব না 

735

ঢাকা, ১০ আগস্ট : সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তবে কেউ যদি গঠনমূলকের বাইরে গিয়ে সমালোচনা করে তাহলে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিচার বিভাগ সরকার বা বিরোধী দল কারো ফাঁদে পড়বে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি রায় নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার সকালে ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সমালোচনামূলক প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনার পর প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা হতে পারে। তবে এ রায় নিয়ে আমরা সরকার বা বিরোধী দল কারো ফাঁদেই পা দেব না।’

এর আগে বুধবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যেকোনো রায় প্রকাশিত হওয়ার পর যে কেউ সে রায় নিয়ে সমালোচনা করতে পারবেন।’

বুধবার বিচার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জাতীয় আইন কমিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বি এম খায়রুল হক এ কথা বলেন।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ষোড়শ সংশোধনীর রায় পড়ে দেখেছি যে, এই রায়ে অনেক অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য রয়েছে। যেসব কথার কোনো প্রয়োজনই এই রায়ে ছিল না। ওই রায়ে পার্লামেন্ট মেম্বারদের ইমম্যাচিউর বলা হয়েছে। যেটা এখানে বলার কোনো দরকার ছিল না।’

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল প্রসঙ্গে এ বি এম খায়রুল হক বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনতে হলে আবারো সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধানে যেহেতু সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না সেহেতু এটা রাখা সংবিধান পরিপন্থি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রথম কোনো রায়ে দেখলাম যেখানে অরিজিনালকে বাদ দিয়ে মার্শাল ল এর প্রভিশনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা ভুল করলে সুপ্রিম কোর্ট দেখে সংশোধন করবেন। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট (বিচারপতিরা) ভুল করলে আমরা যাব কোথায়?’ এই রায়ে সংসদ সদস্যদের হেয় করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে ৭৯৯ পৃষ্ঠার ওই রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড 

28

টাঙ্গাইল, ৮ আগস্ট : টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র রাজন মিয়া হত্যা মামলায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার এ রায় দেন।

মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সাইদুল, আব্দুল মজিদ-১, আব্দুল মজিদ-২, মজনু, আবদুল মোমিন, নিজাম প্রামাণিক, আবু বকর সিদ্দিক, হানু, নূরুল ইসলাম, বাবু, মিরাজ প্রামাণিক ও আব্দুল ওয়াহাব।

এদের মধ্যে আব্দুল মজিদ-১, আব্দুল মজিদ-২, মজনু ও নূরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

কোর্ট পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভূঞাপুরে কলেজছাত্র রাজনকে মারধর করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ওই দিনই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রাজনের বাবা লাল মিয়া সরকার বাদী হয়ে

১৭ জনকে আসামি করে ভূঞাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, পরে পুলিশ তদন্ত করে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। সাক্ষ্য শেষে আদালত আজ এ রায় দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারবিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না 

05

ঢাকা : অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, “বিচারবিভাগকে কোণঠাসা করে দেশের মঙ্গল হয় না।”

মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানিকালে তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবে আলমের উদ্দেশে প্রধান বিাচরপতি বলেন, “একদিন আপনি থাকবেন না, আমি থাকব না। বিচার বিভাগ থাকবে। এই কোর্টকে রাখতে হলে সবার দায়িত্ব আছে। জুডিশিয়ারিকে কর্নাড (কোণঠাসা) করে দেশের মঙ্গল হয় না।”

শুনানিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা-সম্পর্কিত হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আজ মঙ্গলবার আরও দুই সপ্তাহ বাড়িয়েছেন আপিল বিভাগ।

এদিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহ বাড়িয়ে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বনানীর ধর্ষণ: অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আদালতে ৫ আসামি 

55

ঢাকা, ১৩ জুলাই : বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মামলার পাঁচ আসামিকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে তাদের আদালতের এজলাসে নেয়া হয়।

এর আগে ৯ জুলাই আলোচিত এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের সময়ের আবদনে প্রেক্ষিতে ১৩ জুলাই নতুন তারিখ ধার্য্য করেন ঢাকার দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ সফিউল আজম।

এর আগে গত ১৯ জুন এ মামলায় পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্র আমলে নেন বিচারক।

মামলার আসামিরা হলেন- আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ‘ই-মেকার্স’ এর কর্মকর্তা নাঈম আশরাফ, ঢাকার পিকাসো রেস্তারাঁর অন্যতম মালিক রেগনাম গ্রুপের এমডি মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও দেহরক্ষী রহমত আলী।

এদিন আরেক আসামি সাদমান সাকিফ ১৬৪ ধারার ম্যাজ্রিস্ট্রেট আদালতে দেয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ওই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

গত ২৮ মার্চ ঝালকাঠির (রাজাপুর) আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি বজলুল হক হারুনের ছেলে আদনান হারুনের মালিকাধীন ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। এ ঘটনায় এক তরুণী ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সাফাত আপন জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দিলদার আহমেদের ছেলে। আর সাদমান সাকিফ রেগনাম গ্রুপের মালিকের ছেলে এবং ওই গ্রুপের পরিচালক।

সাফাতের বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের নগরগ্রামে।

সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের হালিম নাম ঢাকায় এসে নাঈম আশরাফ নাম ধারণ করে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান খুলে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন বলে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রকাশ পায়।

এই ধর্ষণ মামলার আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান শাফিক গত ১১ মে গ্রেপ্তার হন।

এর চার দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার হন মামলার আরও দুই আসামি সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী এবং গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দেড় হাজার আনসার সদস্যকে পুনর্বহালের নির্দেশ 

5688

ঢাকা, ১০ জুলাই : ১৯৯৪ সালের আনসার বিদ্রোহের ঘটনায় চাকরিচ্যুত দেড় হাজারের মতো আনসার সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে, তারা যতদিন চাকরিতে ছিলেন ততদিনের পেনশন সুবিধা দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চাকরিচ্যুতদের করা পৃথক কয়েকটি রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বদরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে আনসার সদস্যদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাহাবুদ্দিন খান লার্জ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সূচীরা হোসাইন ও প্রতিকার চাকমা। রিটকারীদের আইনজীবী সৈয়দ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে অথবা যারা চাকরি করতে অক্ষম, তাদেরকে পেনশন সুবিধা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে আনসার বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আদায় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়, যা পরে বিদ্রোহে রূপ নেয়। পরে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে বিদ্রোহে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪৯৬ জন আনসার সদস্যকে অ-অঙ্গীভূত(চাকরিচ্যুত) করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে মামলার অভিযোগ থেকে আনসার সদস্যরা খালাস পান।

২৪৯৬ আনসার সদস্যর মধ্যে আব্দুল করিম, ড্রাইভার শফিকসহ ১৪৪৭ জন চাকরিতে পুনর্বহাল ও প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল আনসার সদস্যদের চাকরিচ্যুতি কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে আজ (সোমবার) হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় ঘোষণা করেন। রিটকারীদের আইনজীবী সৈয়দ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, হাইকোর্টের এই আদেশ শুধু রিটকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

হানিফ ফ্লাইওভারের সিঁড়ি সরাতেই হবে 

583

ঢাকা, ১০ জুলাই : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি অপসারণের জন্য নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে অবিলম্বে ফ্লাইওভারের মাঝপথ দিয়ে ওঠার সিঁড়ি অপসারণ করতেই হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ওরিয়ন কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে সোমবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৩ বিচারপতির আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো দেশে মাঝপথ থেকে ফ্লাইওভারে ওঠার সিঁড়ি নেই।’

আদালতে ওরিয়ন গ্রুপের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে গত ৩১ মে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুল দেওয়ার পাশাপাশি দুই সপ্তাহের মধ্যে সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানিয়ে ২ জুলাই আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

সড়ক ও সেতু সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকার পুলিশ কমিশনার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ ও হানিফ ফ্লাইওভার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়। পরে এই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন ওরিয়ন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ৬ থেকে ৭টি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন ব্যারিস্টার সাইফুল ইসলাম উজ্জল।

যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে ওঠার জন্য ৬ থেকে ৭টি সিঁড়ি ও বাসস্টেশন আছে। এসব স্টেশনে বাস ও লেগুনা থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামার কারণে প্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। গত ৩-৪ মাসে ফ্লাইওভারের ওপরে ১০ জনের বেশি লোক মারা গেছে। এ ছাড়া বাসস্টেশন থাকার কারণে প্রায়ই যানজট থাকে। বাংলাদেশের অন্যান্য ফ্লাইওভারে সিঁড়ি ও বাসস্টেশন নেই। এসব যুক্তি উল্লেখ করে ফ্লাইওভারে বাসস্টেশন ও সিঁড়ি অপসারণ চেয়ে রিটটি করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর