২৪ জুন ২০১৭
বিকাল ৪:৩০, শনিবার

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স জট

হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স জট 

888

ঢাকা, ২৪ জুন : হাইকোর্টে বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) মামলার জট। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৮৫টি ডেথ রেফারেন্স মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এসব ডেথ রেফারেন্সের বিপরীতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নিয়মিত জেল আপিলও রয়েছে শুনানির অপেক্ষায়।

আইনজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টে অধস্তন বেঞ্চ ও দক্ষ বিচারপতি সংকটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ বিচারপতির সংখ্যা বড়ানো প্রয়োজন।

হাইকোর্টের তিনটি ডিভিশন বেঞ্চ বর্তমানে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি করে থাকে। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এসব মামলার শুনানির জন্য বেঞ্চের সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এসব বেঞ্চে ২০১০ সালে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের মামলাও রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩১(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ আইনে অনুমোদিত যে কোনো দণ্ড দিতে পারেন; তবে এরূপ কোনো জজ মৃত্যুদণ্ড প্রদান করলে তা হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে হতে হবে। ফলে দায়রা আদালতে দেয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন নিতে হয়।’ আইনের এই বিধানটিই ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হিসেবে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালে মোট ডেথ রেফারেন্স মামলা ছিল ৪৩৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১০১টি। আর বিচারাধীন থাকে ৩৩৮টি। পরের বছর ২০০৫ সালে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৫১৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৪৯টি; বিচারাধীন থাকে ৪৬৪টি। ২০০৬ সালে ৫৭৬টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৬৫টি; বিচারাধীন থাকে ৫১১টি।

২০০৭ সালে মামলা বেড়ে দাঁড়ায় ৬১৩টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৪৮টি; বিচারাধীন থাকে ৪৬৫টি। ২০০৮ সালে ৬০২টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় ১২৮টি। বিচারাধীন থাকে ৪৭৪টি। ২০০৯ সালে ৫৫৭টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় ৪৮টি; বিচারাধীন থাকে ৫০৯টি। ২০১০ সালে ৫৮৫টি মামলা থেকে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৩টি; বিচারাধীন থাকে ৫৪২টি।

২০১১ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০৯টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ৭৪টি; বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। ২০১২ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯৫টি। নিষ্পত্তি হয় ১৪৫টি; বিচারাধীন থাকে ৪৫০টি। ২০১৩ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৫১৩টি। নিষ্পত্তি হয় ১১১টি; বিচারাধীন থাকে ৪০২টি। ২০১৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৯৮টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১৩৫টি; বিচারাধীন থাকে ৩৬৩টি।

২০১৫ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৭৭টি। নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৫৮টি; বিচারাধীন থাকে ৪১৯টি। ২০১৬ সালে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় মাত্র ৪৫টি। বিচারাধীন থাকে ৫৩৫টি। চলতি বছরের ১৫ জুন পর্যন্ত মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৭টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২টি। বিচারাধীন আছে ৫৮৫টি।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছর যে সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, দায়ের হয়েছে তার তিনগুণেরও বেশি। আর এ কারণে নিষ্পত্তি হতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে একদিকে যেমন দোষী ব্যক্তির শাস্তি বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি দোষ প্রমাণ না হলে নির্দোষ ব্যক্তিকেও দীর্ঘদিন বিনা বিচারে কারাবরণ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হাইকোর্টে ডেথ  রেফারেন্সের শুনানিতে অনেক বিলম্ব হয়। অনেক সময় হাইকোর্টে শুনানি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস পান আবার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনও দেয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আপিল বিভাগে আপিল করে। আপিল করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। আবার আপিল মঞ্জুর হলে আপিলের নিষ্পত্তি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। আসামিকে ৮ থেকে ১০ বছর হয়তো কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতে ঢালাওভাবে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। মামলা বৃদ্ধির এটিও একটি অন্যতম কারণ। এ পরিস্থিতি উত্তরণে হাইকোর্টে পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ বাড়ানোর পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির জন্য দক্ষ বিচারক নিয়োগের পক্ষে মত দেন তিনি।

জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে শুধু বেঞ্চ বাড়ালে চলবে না, দক্ষ বিচারপতিরও প্রয়োজন। কারণ এখানে মানুষের জীবন-মরণের বিষয় জড়িত। তিনি আমেরিকার উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের দেশে মামলা নিষ্পত্তিতে ৫-৭ বছর সময় লাগে আর আমেরিকায় একটা মামলা নিষ্পত্তি করতে আরও বেশি সময় লেগে যায়।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ যথানিয়মেই কাজ করে যাচ্ছে।’

এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘বিগত দিনে চাঞ্চল্যকর ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলা শুনানিতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। আর এ কারণে ডেথ রেফারেন্স মামলাজটের অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি। এসব মামলা নিষ্পত্তি করতে হলে দক্ষ বিচারপতিদের সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা জরুরি। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাঁচ আইনজীবীর বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল 

58

ঢাকা, ২০ জুন : আদালত কক্ষে চিৎকার ও কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে পাঁচ আইনজীবীর বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আগামী ২ জুলাই পাঁচ আইনজীবীকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত অবমাননার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয়।

পাঁচ আইনজীবী হলেন নূরে-ই আলম উজ্জ্বল, বিল্লাহ হোসেন লিজেন পাটোয়ারী, মাহমুদ, মতি লাল ব্যাপারী ও মোহাম্মদ আলী।

আদেশে বলা হয়েছে, বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বাধীন অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চের আদালতে কিছুসংখ্যক আইনজীবী হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এতে আদালতের কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হয়।

ঘটনার এক পর্যায়ে আইনজীবী নূরে ই আলম উজ্জ্বল, বিল্লাল হোসেন লিজেন পাটোয়ারী, মাহমুদ, মতি লাল ব্যাপারী এজলাসের সামনে এসে রফিকুল ইসলাম নামের এক বেঞ্চ কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি মামলার নথিপত্র তছনছ করেন।

তালিকাভুক্ত না হওয়া মোশন (আবেদন) শুনানি হয়নি বলে ওই আইনজীবীরা অজুহাত হিসেবে দাবি করেন।

এছাড়া উক্ত বেঞ্চ কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করতে ওই আইনজীবীদের উৎসাহ দেন মোহাম্মদ আলীসহ কয়েকজন আইনজীবী। তখন আদালত ক সংলগ্ন খাস কামরায় থাকা বিচারকরা আইনজীবীদের এ হট্টগোলের শব্দ শুনতে পান। আদালতে আইনজীবীদের এহেন আচরণ আদালতের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে খাটো করেছে। যা আদালত অবমাননার শামিল। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারিক কর্মকর্তাদের অভিযোগ তদন্তে অনুমোদন লাগবে 

95

ঢাকা, ১৬ জুন : সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ না করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আসাদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনও অভিযোগ তদন্ত করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার বিকালে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে সুপ্রীম কোর্ট প্রশাসন।

এটি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সদর দফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন সাক্ষরিত ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল- নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃংখলা বিধান মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপর ন্যাস্ত এবং সুপ্রীম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে তা প্রযুক্ত হয়। ফলে কোন বিচারবিভাগীয় কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি, নিয়ন্ত্রণ, শৃংখলা বিধান, বিদেশ গমন ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী ইত্যাদি সকল বিষয় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করা বাধ্যতামূলক।’

জারিকৃত সার্কুলারে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টিতে এসেছে কোন কোন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচারণ, দুর্নীতি বা অন্য কোন অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই আইন ও বিচার বিভাগের নির্দেশে প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরণের প্রাথমিক তদন্ত বা যে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা করা অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত, অগ্রহণযোগ্য এবং তা কোনভাবেই কাম্য নয়। এমনকি সংবিধানের ১০৯, ১১৬ ও ১১৬(ক) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লংঘন।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট থেকে ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। যেখানে বলা হয়, কোন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উথ্থাপিত হলে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা যাবে না।

কোনো বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে অসদাচারণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া কোন অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত, অনুসন্ধান বা যে কোন কার্যক্রম পরিচালনা না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে সার্কুলারে। -যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

২৩ সহকারী অ্যাটর্নিকে অব্যাহতি দিয়ে ২৭ জনকে নিয়োগ 

55

ঢাকা, ১২ জুন : সুপ্রিম কোর্টে সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে ২৩ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদে ২৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির এক আদেশ মোতাবেক আইন মন্ত্রণালয় এমন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ভ্রাম্যমাণ আদালত : হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ 

6888

ঢাকা, ৭ জুন : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রায় প্রদানকারী বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশিষ রঞ্জন দাসের সাক্ষরের পর বুধবার এ রায় প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের এই রায় জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আপিল বিভাগে স্থগিত রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল কোর্ট) আদালতে সাজাপ্রাপ্ত পৃথক তিন ব্যক্তির দায়ের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়।

আদালত ওই তিন ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দেওয়া সাজা বাতিল ও তাদের একজনের কাছ থেকে নেওয়া ১০ লাখ জরিমানা রায়ের কপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ফেরত দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর কামরুজ্জামান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান খান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়।

এ ছাড়া ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর টয়েনবি সার্কুলার রোডে অবস্থিত এক বাড়ির মালিক মো. মজিবুর রহমানকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। আইনের বিধান সংশোধন ও অর্থ ফেরতের নির্দেশনা চেয়ে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর রিট করেন মজিবুর রহমান। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিন হাইকোর্ট রুলসহ সাজার আদেশ স্থগিত করেন।

পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের কয়েকটি বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১২ সালে ২ মে দিনাজপুরের বেকারি মালিকদের পক্ষে মো. সাইফুল্লাহসহ ১৭ জন আরেকটি রিট করেন। এতে বেকারিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি সঙ্গে রেখে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি নিয়ে ওই বছরের ৮ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এই তিনটি রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত উক্ত রায় দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান আর নেই 

9125

ঢাকা, ৬ জুন : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজেউন)। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর সমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্টার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মওদুদকে বাড়িটি ছাড়তেই হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল 

95

ঢাকা, ৪ জুন : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দখলে থাকা গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বর প্লটের বাড়িটি ছাড়তেই হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে, রবিবার সকালে বাড়িটি নিয়ে মওদুদ আহমদের রায় পুর্নবিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

রায়ের পর সরকার পক্ষ বলছে বাড়িটি ছাড়তে হবে। তবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলছেন, তিনি বাড়িটি ছাড়বেন না।

রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গনেই বিএনপির এই নেতা বলেন, আদালত কোথাও বলেননি বাড়িটি সরকারের। আর সরকারের পক্ষ থেকেও কোনও শর্ত দেওয়া হয়নি, ফলে বাড়িটি ছাড়ার প্রশ্ন ওঠে না। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তার বোঝাপড়া হবে এর মালিক অস্ট্রিয় নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের সঙ্গে। সরকারের সঙ্গে নয়।

এদিকে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, মওদুদ আহমদকে অবশ্যই বাড়িটি ছাড়তে হবে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মওদুদ আহমদ বাড়ি না ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তার মতো রাজনৈতিক নেতার এমন কথা বলা রীতিমতো ধৃষ্ঠতা। ’

মাহবুবে আলম আরও বলেন, বাড়িটি কারো অবৈধ দখলে থাকলে তা অবশ্যই সরকার দেখবে ও দখলমুক্ত করবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের যে বাড়িটিতে মওদুদ আহমদ ও তার পরিবার থাকছেন, তার প্রকৃত মালিক ছিলেন পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসান। ১৯৬০ সালে তৎকালীন ডিআইটির কাছ থেকে এই বাড়ির মালিকানা এহসান পান। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ত্যাগ করেন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। ওই বছরই মওদুদ ওই বাড়ির দখল নেন। এরপর ১৯৭৩ সালের ২ অগাস্ট তারিখে তিনি ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে একটি ‘ভুয়া’ আমমোক্তারনামা তৈরি করান এবং নিজেকে তার ভাড়াটিয়া হিসেবে দেখিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

১০ম দিনের শুনানিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের আপিল 

34

ঢাকা, ৩০ মে : বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে করা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১০ম দিনের আপিল  শুনানি শুরু হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতির বেঞ্চে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি অসমাপ্ত মতামত দেওয়া শুরু করেছেন। এর আগে কয়েকদিনে অ্যামিকাস কিউরির মতামত দিয়েছেন জ্যেষ্ঠতম আইনজীবী টিএইচ খানের পক্ষে তার ছেলে আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিনমাহমুদ এবং ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এ এফ হাসান আরিফ।

গত ০৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া ১২ জন অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে মতামত দেওয়া বাকি রয়েছে রফিক-উল হক, এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল ও শফিক আহমেদের। গত ০৮ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত আপিল শুনানির ৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন আপিল আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নিজেনারেল মুরাদ রেজা এবং রিট আবেদনের পক্ষে মনজিল মোরসেদ।

শুরুতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় পড়ে শোনান মুরাদ রেজা। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়।

সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ০৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ০৯ নভেম্বর রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এ রুলের শুনানি শেষে গত বছরের ০৫ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচার বিভাগকে বিক্ষুব্ধ করবেন না: প্রধান বিচারপতি 

8

ঢাকা, ২৯ মে : নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট জারি করতে মাসদার হোসেন মামলার শুনানিতে আবার রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা বিচার বিভাগকে বিক্ষুব্ধ করবেন না।’

সোমবার আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরি ও শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে অ্যাটর্নি জেনারেল আবারও সময় আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে সরকারকে আরো দুই সপ্তাহের সময় দেয় আপিল বিভাগ।

তবে অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ের আবেদন করার পরই বিচারকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘কারণটা কী?’।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রসেস চলছে।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা হাসবো না কাঁদবো? হাসার জন্যতো মনের একটা কষ্ট হয়। অ্যানিওয়ে, আমি কিছু বলছি না। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে, কিছু ত্রুটি রয়ে গেছে, কিছু অনিয়ম আছে। এগুলো নিয়ে সারাজীবন নয়, আমরা চাচ্ছি একটা সিস্টেমে চলে আসতে। প্রধান বিচারপতি অনিয়ম থেকে নিয়মে আসতে গেলেই বলে গেলো গেলো।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পত্রিকায় বলা হয়, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব। আপনার মিনিস্ট্রিকে বলবেন, জেনারেল ক্লজ অ্যক্টের ২১ পড়তে।’

বিচার বিভাগের যেসব কর্মকর্তা প্রেষণে সরকারের অন্য বিভাগে কাজ করছেন সেই বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘সরকারকে বলবেন, যেসব বিচারক প্রেষণে আছে তারা সরকারি কর্মচারী না। আমরা, সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীরা কে কোথায় যায় কি করে সব দেখি। তেমন তাদের (প্রেষণে থাকা কর্মকর্তা) ক্ষেত্রেও। সুপ্রিম কোর্ট জানতে চেয়েছিলো প্রেষণে কারা বিদেশে যায় তাদের নাম।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ডেপুটেশনে দিয়েছি, যদি তাদের প্রত্যাহার করি তাহলে কারো কিছু করার নেই। বিচারকদের ডেপুটেশনে দিয়ে নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে কাজ করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। ১৮৯৭ সালের সেকশন ২১ দেখেন। যদি না হয় এটা ডিলিট করে দেন। এটা এতো দিন ধরে চলে আসছে।’

শুনানির এক পর্যায়ে সিনহা বলেন, ‘আপনারা বিচার বিভাগকে বিক্ষুব্ধ করবেন না, রাষ্ট্রপতির অনুশাসন বলে এমন কিছু করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতির কাছে কোনো ফাইল পাঠিয়ে যদি বলা হয় করবেন, তখন তিনি হ্যাঁ বলেন, না বললে না বলেন। তাই বলছি, ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। ভুল বুঝাবুঝি যত কম হয় ততই ভাল।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘তারা মনে করলে সুপ্রিম কোর্টের ওপর আদেশ করবে। এটা ভুল করবে। রাষ্ট্র এ রকম করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের প্রত্যকটা সিদ্ধান্ত সিনিয়র বিচারকগণ চিন্তা করে নেয়। তারা যদি মনে করে যে, আইনের একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে দেবে তাহলে খুব ভুল করবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়, ‘আপনারা যদি আইন না জানেন, তাহলে আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবেন। বিডিআরের মামলা কোন আইনে চলবে সেটা আমাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, আমরা বলে দিয়েছি। সংবিধান অনুসারে ব্যাখ্যা আমরা দিব, নির্বাহী নয়। এগুলো মনে করে চলবেন।’

মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘মিস্টার অ্যাটর্নি জেনারেল, আপনি তো বুঝতেছেন, আপনার হাসি হয় না। আপনার হাসিটা আমরাও বুঝি। এটা বিচার বিভাগের জন্য মঙ্গলজনক নয়। অল্প বিদ্যা ভয়ংকর। মারাত্মক হয়ে যাবে। তারা যদি (আইনমন্ত্রণালয়) আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলে এটাই কারেক্ট, খুব ভুল হয়ে যাবে ‘

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিমকোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগষ্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ। যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ওই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মধ্যরাতেই সরানো হলো সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের ভাস্কর্য 

02

ঢাকা, ২৬ মে : হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের অব্যাহত দাবির মুখে সুপ্রিম কোর্ট চত্বর থেকে ভাস্কর্য সরানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শুরু হয় ভাস্কর্য সরানোর কাজ। রাত চারটার দিকে ভাস্কর্যটি সরানোর কাজ শেষ হয়।

পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই ভাস্কর্যটি না সরালে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছিল ধর্মভিত্তিক দলগুলো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ওই সব দল। তবে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রগতিশীল ব্যক্তিরা ভাস্কর্যটি অপসারণের বিরোধিতা করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সরেজমিন দেখা যায়, ভাস্কর্যটির নির্মাতা মৃণাল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এটি যত্ন করে সরানোর কাজ তত্ত্বাবধান করেন। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও এর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাত সাড়ে ১২টার পর গিয়ে দেখা যায়, সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের চারদিকের ফটক লাগানো। গণমাধ্যমকর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের পূর্ব দিকের ফটকের বাইরে অবস্থান করছেন। ভেতরে তিন-চারজন শ্রমিক ভাস্কর্যের নিচের দিকে হাতুড়ি-শাবল দিয়ে কাজ করছেন। ১০-১২ জন তা তত্ত্বাবধান করছেন। সেখানে একজনকে মুঠোফোনে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি ভাস্কর্যটির স্থপতি মৃণাল হক।

যোগাযোগ করা হলে মৃণাল হক এ প্রতিবেদক বলেন, সেখানে থাকা ভাস্কর্যটি সরানোর জন্য বিকেলে তাঁকে বলা হয়েছে। রাত সাড়ে ১১টা থেকে তা সরানোর কাজ শুরু হয়। ভাস্কর্যটি সরাতে গিয়ে যেন নষ্ট না হয়, তিনি তা দেখছেন। এটি সরিয়ে কোথায় রাখা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি শুনেছেন এখান থেকে সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের আশপাশে কোথাও রাখা হবে। এখন রাখা হবে সুপ্রিম কোর্টের পেছনে।

রাত সোয়া একটার দিকে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের মৃণাল হক বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। আমাকে চাপ দিয়ে ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা কী করে গ্রিক ভাস্কর্য হলো, যার পরনে শাড়ি। এটি বাঙালি মেয়ে। এরপর নির্দেশ আসবে অপরাজেয় বাংলা ভাঙা হোক। অন্যান্য ভাস্কর্য সরানো হোক। তিনি বলেন, দেশের শান্তি রক্ষার স্বার্থে যত্ন করে ভাস্কর্যটি সরাচ্ছেন তিনি।

রাত দুইটার দিকে বেশ কিছু তরুণকে সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের বাইরে স্লোগান দিতে দেখা যায়। আড়াইটার দিকে তাঁরা ফটক ধাক্কাধাক্কি করেন। সেখানে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

যোগাযোগ করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রাতে এ প্রতিবেদক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ডেকেছিলেন এবং ভাস্কর্য বিষয়ে মতামত নিয়েছিলেন। এ সময় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য ভাস্কর্যটি এখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মত দিয়েছিলেন। আমরা বলেছি ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট অ্যানেক্স ভবনসংলগ্ন জাদুঘরের সামনে স্থাপন করা যেতে পারে।’ তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের নির্দেশে ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্যটি অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান। বিবৃতিতে ভাস্কর্যটিকে মূর্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর থেকে ভাস্কর্যটি সরানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সংগঠনটি। এই ‘মূর্তি’ সরানো না হলে আবারও শাপলা চত্বর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেবেন বলে জানান সংগঠনটির নেতারা। এর আগে ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও সহিংসতা হয়েছিল।

গত ১১ এপ্রিল রাতে গণভবনে কওমি মাদ্রাসার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এক সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তিনি উচ্চ আদালত প্রাঙ্গণের সামনে স্থাপিত গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য সরানোর পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা এখানে থাকা উচিত নয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাইকোর্টের সামনে গ্রিক থেমিসের এক মূর্তি লাগানো হয়েছে। সত্য কথা বলতে কি, আমি নিজেও এটা পছন্দ করিনি। কারণ, গ্রিক থেমিসের মূর্তি আমাদের এখানে কেন আসবে।’

গত বছরের শেষ দিকে এ ভাস্কর্যটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বসানো হয়। -প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শূন্যতা ভাবিয়ে তুলছে প্রধান বিচারপতিকে 

878

ঢাকা, ২৫ মে : ষোড়শ সংশোধনী অনুসারে কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে এ বিষয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে তখন কী হবে বলে প্রশ্ন রেখেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এই শূন্যতা তাকে ভাবিয়ে তুলছে বলেও জানান তিনি।

বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে আজ সপ্তম দিনের মতো শুনানি হচ্ছে। এ সময় আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম উপস্থিত ছিলেন।

আজকের শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ তার লিখিত বক্তব্য দেন। শুনানির একপর্যায়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার প্রসঙ্গ ওঠে।

শুনানিকালে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, শাসনতন্ত্রের সবচেয়ে পবিত্র আইন তারা সংরক্ষণ করেন। এখানে এমন কিছু সন্নিবেশিত করা হলো, যাতে শূন্যতা সৃষ্টির সুযোগ আছে! কারও (বিচারক) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সংসদে) না থাকলে তখন কী হবে (বিচার বিভাগের)! এটি ভাবিয়ে তুলেছে।

অ্যামিকাস কিউরি রোকন উদ্দিন মাহমুদও তার লিখিত বক্তব্যে এই ধরনের শূন্যতার প্রসঙ্গ তোলেন।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে সংবিধানের এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের ওপর ৮ মে শুনানি শুরু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সুপ্রিমকোর্টও কব্জায় নিতে চায় সরকার: প্রধান বিচারপতি 

02

ঢাকা, ২৩ মে : নিম্ন আদালতের মতো সুপ্রিমকোর্টও সরকার কব্জায় নিতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আজ মঙ্গলবার সংবিধানের ষোড়শ সংশধনী মামলার শুনানিতে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিমকোর্টকে পঙ্গু করা হচ্ছে।

আজ শুনানিতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর আগে গত রোববার শুনানি শেষে সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।

এর আগে গেলো ৯ মে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষে ২১ মে পরবর্তী দিন ঠিক করেন। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে নিয়োগ দেওয়া অ্যামিকাস কিউরিরাও উপস্থিত ছিলেন।

গত ১২ মার্চ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করেছিলেন আদালত। একইসঙ্গে নিয়োগ দেয়া ১২ অ্যামিকাস কিউরিকে এ সময়ের মধ্যে লিখিত বক্তব্য দিতে বলেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ষোড়শ সংশোধনীর আপিল শুনানিতে ১২ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।

এই ১২ বিশিষ্ট আইনজীবী হলেন- বিচারপতি টি এইচ খান, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, এম আই ফরুকী, ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী, এ এফ হাসান আরিফ ও  আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

গত বছর ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

গত বছর ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম ২ জুলাই পর্যন্ত চলবে 

205

ঢাকা, ২১ মে : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।

রোববার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতের এই আদেশের ফলে আপাতত মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত)কার্যক্রম চলতে কোনো বাধা রইলো না।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনের ১টি ধারা ও উপধারাকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে গত ১১ মে রায় দেন হাইকোর্ট।

আদেশে এই আইনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাও অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

এরপর রাষ্ট্রপক্ষ গত ১৫ মে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল আবেদন করেন। আবেদনটি শুনানির জন্য পরে আপিলের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি।

সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ আপিল বিভাগ ২ জুলাই পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করলেন।

দালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এইচএসসি ভর্তির নীতিমালা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট 

111

ঢাকা, ১৬ মে :  ২০১৭ সালের এইচএসসি ভর্তির নীতিমালা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

এ ছাড়া রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নিজস্ব পদ্ধতিতে এইচএসসি ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউনূস আলী আকন্দ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচারকদের চাকরিবিধি: গেজেট প্রকাশের আরও সময় পেল সরকার 

3562

ঢাকা, ১৫ মে : অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে আরও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সোমবার এ আদেশ দেন।

সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় আবেদন করলে তা মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ।

এর আগে গেজেট প্রকাশের জন্য একাধিকবার সময় দেন আপিল বিভাগ। সর্বশেষে ৮ মে গেজেট প্রকাশের জন্য ১৫ মে পর্যন্ত সময় দেন আপিল বিভাগ।

প্রায় এক বছর ধরে অধস্তন আদালতে চাকরিবিধি-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এর মধ্যে কয়েকবার সময় দেওয়ার পরও সরকার গেজেট প্রকাশ না করায় গত বছরের ৮ ডিসেম্বর দুই সচিবকে তলবও করেছিলেন আপিল বিভাগ। এ প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট বলছেন, রাষ্ট্রপতিকে ভুল বোঝানো হয়েছে। গেজেট প্রকাশ করতেই হবে।

প্রেক্ষাপট:  মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করা সংক্রান্ত মাসদার হোসেন বনাম সরকার মামলার যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আপিল বিভাগ বিসিএস (বিচার) ক্যাডারকে সংবিধান পরিপন্থী ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জুডিসিয়াল সার্ভিসকে স্বতন্ত্র সার্ভিস ঘোষণা করে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা হয়ে বিচার বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধিমালা এখনও প্রণীত হয়নি। এ নিয়েই সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর