২৮ মার্চ ২০১৭
রাত ১২:২৫, মঙ্গলবার

নতুন আতঙ্ক আত্মঘাতী জঙ্গি

নতুন আতঙ্ক আত্মঘাতী জঙ্গি 

933

ঢাকা, ১৯ মার্চ : আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দপ্তরের ক্যাম্পে ‘আত্মঘাতী হামলায় এক জঙ্গি মারা যাওয়ার পর ‘আত্মঘাতী’ জঙ্গি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিন্তিত হয়ে পড়েছে। কখন কোথায় জঙ্গিরা আবার হামলা চালাবে তার তথ্য সংগ্রহ ও হামলা ঠেকাতে এখন গলদঘর্ম অবস্থা পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন জঙ্গি আস্তানার খোঁজে চালানো হচ্ছে অভিযান। সন্দেহভাজন এলাকায় শুরু করা হয়েছে ব্লকরেইড। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আত্মঘাতী’ জঙ্গি হামলা জঙ্গিবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক। এ হামলা ঠেকানো খুবই কঠিন।

রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দপ্তরে ‘আত্মঘাতী’ হামলার ঘটনায় মামলা হয়। গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে র‌্যাবের এসআই রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা করেন (নম্বর-২১)। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি নূরে আযম মিয়া।

গত শুক্রবার আত্মঘাতী হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে র‌্যাব। তার নাম হানিফ মৃধা। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, আটকের পর র‌্যাবের গাড়িতে করে কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পথে হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করার কথা জানায় ওই যুবক। তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মারা যায় সে।

এদিকে গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে ‘আত্মঘাতী’ হামলাকারীর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, এর আগে অন্য জঙ্গিদের লাশেরও ময়নাতদন্ত করেছি। বিস্ফোরণের ধরনের কিছু মিল আছে। তবে এতটা ছিন্নভিন্ন দেহ এর আগে আর দেখিনি।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির পেটে বেল্ট বাঁধা ছিল। তার পেটে ইলেকট্রিক অয়্যার পাওয়া গেছে। ডিএনএ টেস্টের জন্য ওই ‘আত্মঘাতী’ হামলাকারীর দাঁত, চুল ও ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার লিভার ও পাকস্থলীর কিছু অংশ পাওয়া গেছে। একটা কিডনি আছে। হামলার আগে সে শক্তিবর্ধক কিছু খেয়েছিল কিনা জানতে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিস্ফোরণের শব্দে আশকোনা হাজি ক্যাম্প ও আশকোনা বাজারের লোকজন অস্থায়ী ক্যাম্পের গেটে উপস্থিত হয়ে জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলের কাছে রাস্তার পাশ থেকে ৭-৮ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিভিন্ন দিকে ছুটে পালিয়ে যেতে দেখেন তারা। র‌্যাবের জঙ্গিবাদবিরোধী তৎপরতার কারণে অজ্ঞাত জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং র‌্যাবের মনোবল ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, গতবছর জুলাই মাসে গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় ঈদের দিন জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টানা অভিযানে নব্য ধারার জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ নেতা নিহত হয়। গ্রেপ্তারও হয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা। ওই সব ঘটনার লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করে নতুন কৌশলে হামলার পথ বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে তারা ‘আত্মঘাতী’ হামলার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে জঙ্গিদের লক্ষ্য একা মরা নয়। সঙ্গে অনেককে নিয়ে মারা যাওয়া। বুধবার সীতাকু-ের যে আস্তানায় পুলিশ টানা ১৯ ঘণ্টা অভিযান চালায়, সেখানে থাকা জঙ্গিদের ওপর নির্দেশ ছিল পুলিশ যেন তাদের কাউকে জীবিত ধরতে না পারে। আর কৌশলে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে একসঙ্গে অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা; কিন্তু পুলিশের কৌশলী অভিযানের কাছে পরাস্ত হয় জঙ্গিরা। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে দুজন ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে আশকোনায়ও ‘আত্মঘাতী’ যুবক সুইসাইডাল ভেস্টে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।

কুমিল্লার চান্দিনা ও সীতাকু- থেকে জীবিত গ্রেপ্তার জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় এখন জঙ্গিদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাদের আত্মঘাতী হামলা চালাতেও মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আশকোনায় র‌্যাবের স্থাপনার পর পরবর্তী ‘আত্মঘাতী’ হামলা কোথায়, তা ভাবিয়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এখনো বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অর্ধশতাধিক জঙ্গি রয়েছে। যাদের ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালানোরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন বেশিরভাগ প্রশিক্ষণ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে গোপন জঙ্গি আস্তানায় দেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক ইলাহী আমাদের সময়কে বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গিরা এখন চাপের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পেরে যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই অভিযান চালানোর নির্দেশ হয়তো তারা পেয়েছে। আমাদের এখানে তো আগে থেকেই তারা সক্রিয় ছিল। বাহিনীগুলো যেভাবে তাদের আঘাত করছে তারাও চাইবে এদের আঘাত করতে। আমাদের সবার সাবধান হতে হবে। তাদের রিক্রুট বন্ধ করতে হবে সবার আগে। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাবেক স্বামী’র ছুরিকাঘাতে ব্যাংককর্মী নিহত 

552

ঢাকা, ১৬ মার্চ : রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক নারী ব্যাংককর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আরিফুল নেছা আরিফা (২৭) যমুনা ব্যাংকের পুরানা পল্টন শাখায় কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট্রাল রোডে বাসার সামনে হামলার শিকার হন ওই নারী। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আরিফার ভাই বুলবুল  জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে রবিনের সঙ্গে আরিফার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর আরিফাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন রবিন। বৃহস্পতিবার সকালে বাসার সামনে আরিফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পালিয়ে যান রবিন। আরিফাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফার মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। দুপুরে সোয়া ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আরিফার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে।

নিহত নারীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাসায় বাইরে সাবেক স্বামী তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিথ্যা তথ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে জঙ্গিরা 

377

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি : ভুয়া নাম-ঠিকানা ও তথ্য দিয়ে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সংগ্রহ করছে দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা। কেউ নাম-ঠিকানার পুরোটাই ভুল দিচ্ছে; কেউ নিজের নাম ঠিক রেখে বাকি যেসব তথ্য দিচ্ছে, তা পুরোপুরি বানোয়াট। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে জঙ্গিরা পাসপোর্টের মালিক হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি করা এমআরপি জঙ্গিদের হাতে যাওয়া ঠেকানো না গেলে দেশের নিরাপত্তা নানা দিক থেকে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত সোমবার ব্লগার আহমেদ রাজীব হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, গাজীপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এমআরপি তৈরি করে ২০১৪ সালে রানা মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়। তারও আগে নব্য জেএমবির নেতা শায়খ আবদুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহানও প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন করে এমআরপি তৈরি করেছিল। গত বছরের ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানের পর পাঁচতলা বাসা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায় সারোয়ার। ২১ অক্টোবর তার দুই

সহযোগী নাফিস আহমেদ নয়ন ও হাসিবুল হাসানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া পাসপোর্টের পাশাপাশি বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করেও একাধিক জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে দেশ ছেড়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, নব্য জেএমবির নেতা আবদুর রহমান ভুল তথ্য দিয়ে এমআরপি নিয়েছিল। জঙ্গিদের হাতে ভুয়া তথ্য সংবলিত পাসপোর্ট গেলে তা দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। যে কোনো সময় অপরাধ ঘটিয়ে তারা দেশ ত্যাগ করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস_ভেরিফিকেশন) ফরিদা ইয়াসমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে তারা (জঙ্গিরা) পাসপোর্ট পেল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে পাসপোর্ট দেওয়ার আগে তদন্তের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি এ প্রতিবেদককে বলেন, নকল পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন চক্রের অনেক সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো চক্রকেই আইনের আওতায় আনা হবে। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ভুয়া এমআরপির ঘটনায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কারও কোনো যোগসাজশ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে জঙ্গিরা পাসপোর্ট পেয়ে গেলে সেটা অবশ্যই নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পাসপোর্ট ইস্যু করার আগে যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও মনোযোগী হতে হবে। তবে এটা করতে গিয়ে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

গত বছর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভুক্তভোগীরা পাসপোর্ট পেতে নানা হয়রানির কথা তুলে ধরেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উঠে আসে দালালদের দৌরাত্ম্য আর পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে হয়রানির কথা।

জানা গেছে, নব্য জেএমবির নেতা আবদুর রহমান ভুয়া নাম-পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট ছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স করেছিল। সেখানে তার বাবার নাম লেখা ছিল ‘আবদুল্লাহ’ ও মা ‘রাজিয়া খাতুন’। তার গ্রামের ঠিকানা ‘সাতক্ষীরা’ উল্লেখ করা হয়। পরে জানা যায়, রহমানের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের মুসরিভুজায়। অন্তত ২৪টি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। সে নব্য জেএমবির অর্থের সমন্বয়কারী ছিল।

এ ছাড়া দেশে ব্লগার হত্যার সূচনাকারী ফেনীর বাসিন্দা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও তার কয়েক সহযোগী মিলে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার পলাশনগরে বাড়ির সামনে রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনার মোস্ট ওয়ান্টেড এ জঙ্গিকে গ্রেফতারে দেশের একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ঠিক ওই সময় রানা নিজের ও বাবা-মায়ের নাম ঠিক রেখে গাজীপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নতুন এমআরপি নিয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় দেশ ছাড়ে। এর আগে রানার নামে ইস্যু করা পুরনো পাসপোর্টটি ব্লক করেছিল পুলিশ। এমন একজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি কীভাবে ভুল তথ্য দিয়ে এমআরপি পেয়ে গেল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে? মনে করা হচ্ছে, তাকে কি কেউ সচেতনভাবেই ভুয়া তথ্য দিয়ে এমআরপি পেতে সাহায্য করেছে? তার পাসপোর্ট ইস্যুর আগে যে পুলিশ সদস্য ভেরিফিকেশন করেছেন সেটা কেন যথার্থ ছিল না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামনুর রশিদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালিদ নামে নব্য জেএমবির দুই নেতা দেশের বাইরে পালিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার পর পরই একই দিনে তারা দেশ ছাড়ে। রেজাউল হত্যায় খালিদ মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল। রিপন সম্পৃক্ত ছিল হত্যাকাণ্ডে। সে জেএমবির উত্তরাঞ্চলের একজন শীর্ষ নেতা। খালিদ ও রিপনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় উত্তরাঞ্চলে একাধিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তারা দু’জনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে একটি স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশ থেকে পালিয়েছিল। অবশ্য এ দু’জনের ব্যবহৃত পাসপোর্ট বৈধই ছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক রেজাউল হত্যার পর তারা জানতে পারে এ ঘটনায় রিপন ও খালিদ নামে দুই জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জানা না থাকার কারণেই সম্ভবত তারা বৈধভাবে দেশ থেকে পালাতে সক্ষম হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ভুল তথ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট তৈরির একাধিক চক্র রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা অন্য দেশের নকল এমআরপিও তৈরি করছে। এসব এমআরপি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভুয়া এমআরপি তৈরিসহ নানা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় ওমর ফারুকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে_ শামসুল, মিজান, সবুজ, মজিবুর, আবেদ, নাসির, মাহবুব ও সুমন।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শ্বাসনালী কেটে হত্যা করা হয় ২ শিশুকে 

23111

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি : রাজধানীর দারুসসালামে নিহত দুই শিশুর শ্বাসনালী কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে দুই শিশুসহ তাদের মায়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, শিশু দুটির গলার শ্বাসনালী কাটা ছিলো। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার করা হয়েছে।

নিহত ওই দুই শিশুর মায়ের গলায়ও একটি দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আগে তিনটির মরদেহের সুরতহালের প্রতিবেদন তৈরি করেন দারুল সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেওশের আলী।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর দারুসসালাম থানার ছোট দিয়াবাড়ি এলাকার টিনশেড বাড়িতে শিশু মেয়ে শামীমা (৫) ও ছেলে আব্দুল্লাহকে (৩) হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা আনিকার (২০)।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ 

lstclpzu-copy

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নাজিমউদ্দিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিল্পী আক্তার বলেন, যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার উত্তরপাড়ার একটি বাসায় ওই শিশুর বাবা-মা ভাড়া থাকতেন।

আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে ওই বাড়ির পাশের একটি মাঠে শিশুটি খেলা করছিল। এ সময় নাজিমউদ্দিন শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকার শুনে রক্তাক্ত অবস্থায় আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে। পরে পুলিশ নাজিমউদ্দিনকে আটক করে।

শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করবেন বলে জানান এসআই শিল্পী আক্তার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

থার্টি ফার্স্ট নাইটে অতিরিক্ত মদপানে যুবকের মৃত্যু 

222

ঢাকা, ১ জানুয়ারি : রাজধানীর লালবাগে থার্টি ফার্স্ট নাইটের উৎসবে অতিরিক্ত মদ পানে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ওয়াহেদুল মুরাদ (৩৪)। তার বাবার নাম গোলাম শরীফ। তারা লালবাগ ভাট মসজিদ এলাকায় থাকেন।

মুরাদের ভাই শাহেদ জানায়, শনিবার রাতে লালবাগ ভাট মসজিদ এলাকায় থার্টি ফার্স্টের উৎসবে বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদ পান করে তার ভাই। এরপর খুবই অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ফেরে সে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ভোর ৫টার দিকে সেখানে মুরাদের মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানায়, অতিরিক্ত মদপানে ওয়াহেল মুরাদ নামে এক যুবক অসুস্থ হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢামেকে ভর্তির পর তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্তেরর জন্য লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মর্গে জঙ্গি শাকিরার লাশ শনাক্ত করলেন বাবা 

06

ঢাকা, ৩০ ডিসেম্বর : রাজধানীর আশকোনায় সূর্যভিলার জঙ্গি আস্তানায় আত্মঘাতী জঙ্গি নারী শাকিরার লাশ শনাক্ত করলেন তার বাবা শাহে আলম চৌকিদার। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে। ফ্রিজের ডালা খুলে তাকে দেখানো হয় জঙ্গি শাকিরার লাশ। তিনি লাশটি তার মেয়ে শাকিরার বলেই শনাক্ত করেছেন- মর্গ সূত্র জানিয়েছে।

এরপর তাকে নিয়ে আসা হয় হাসপাতালের দ্বিতীয়তলায় ২০৬ নম্বর শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশু সাবিনার কাছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়ের লাশ দেখে নিস্তব্ধ থাকলেও নাতনিকে দেখে ডুকরে কেঁদে ওঠেন শাহে আলম।

ঢামেক হাসপাতাল মর্গের ইনচার্জ মো. সেকান্দর এ প্রতিবেদককে জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে নিয়ে মর্গে আসে। আমাকে আত্মঘাতী ওই জঙ্গি নারীর লাশ দেখাতে বলে। আমি ফ্রিজের ডালা খুলে লাশ দেখাই। এ সময় ওই ব্যক্তি কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। এরপর বলেন, চিনতে পেরেছি। সে আমার মেয়ে শাকিরাই। পরে তাকে নিয়ে মর্গ থেকে বেরিয়ে যায় পুলিশ। বৃস্পতিবার বেলা ১টার দিকে পুলিশ শিশু সাবিনার কাছে এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে। তিনি শিশুটিকে দেখে কেঁদে ফেলেন আর বলেন, আমার মেয়ের ভুলে চাঁদের মতো সুন্দর নাতনিটা আজ এতিম হল। তিনি পুলিশ সদস্যদের কাছে সাবিনা সুস্থ হবে কিনা জানতে চান। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং নার্সরা তাকে সান্ত্বনা দেন এবং শিশু সাবিনা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। এরপর তিনি সাবিনার কাছে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। শিশু সাবিনাও তার নানাকে চিনতে পারে। সে তাকে বলে নানা, আমার মা কোথায়? তখন শাহে আলম নীরব ছিলেন। তার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রুধারা। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থানের পর পুলিশ শাহে আলমকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।

জানা গেছে, শাহে আলমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার অ্যাওয়াজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম অ্যাওয়াজপুর গ্রামে। তিনি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার চার মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে শাকিরা তৃতীয়।

ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় কয়েক বছর আগে শাকিরার সঙ্গে বিয়ে হয় ইকবালের। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন ইকবাল। বিয়ের বছরখানেকের মাথায় তার মেয়ে সাবিনার জন্ম হয়। তখন ইকবাল ছিলেন ক্যান্সারে আক্রান্ত। মেয়ের জন্মের কয়েক মাসের মাথায় মারা যান ইকবাল। স্বামীর মৃত্যুর পর শাকিরা মেয়েকে নিয়ে ভোলায় ফিরে যাননি। পরিবারের সদস্যদের জানান, মোহাম্মদপুরের একটি ক্লিনিকে কাজ করেন তিনি। গত কোরবানির ঈদের পর ভোলায় বাবার বাড়িতে সাবিনাকে বেড়াতে গিয়েছিলেন শাকিরা। তখনও কাউকে জানাননি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আর যোগাযোগ রাখেননি শাকিরা।

পুলিশ বলেছে, শাকিরার দ্বিতীয় স্বামীর নাম রাশেদুর রহমান ওরফে সুমন। সে নিউ জেএমবির সদস্য। ২১ নভেম্বর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে রাশেদুর রহমান সুমনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম (সিটি) ইউনিট। তারা ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ করত। আর সেই অর্থ ব্যয় হতো সাংগঠনিক কাজে। সুমন এখন কারাগারে। সুমনই শাকিরাকে বিপথগামী করেছে।

তবে শাকিরার বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, সুমন নামে কাউকে তিনি চেনেন না। এদিকে মেয়ে জঙ্গি হওয়ার ঘটনায় হেনস্তা হওয়ার ভয়ে আত্মগোপনে ছিলেন শাহে আলম। পুলিশ তাকে অভয় দিয়ে বুধবার তাকে নিয়ে ঢাকায় আসে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেয়া হয়। এরপর বৃহস্পতিবার তাকে শাকিরার লাশ শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়।

এর আগে বুধবার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের প্রধান মনিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন শেষে আশকোনায় আত্মঘাতী নারী শাকিরার নাম প্রকাশ করেন। আশকোনায় ২৪ ডিসেম্বর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময় জঙ্গি নারী শাকিরা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সে নিহত হয় ও তার শিশু মেয়ে সাবিনা আহত হয়।-যুগান্তর

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিরপুর থেকে পাঁচ ‘জেএমবি সদস্য’ আটক 

3263

ঢাকা, ২৮ ডিসেম্বর : রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ৫ জেএমবি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুলিশের কাউন্টার টেরিরিজম ইউনিটের একটি টিম মঙ্গলবার রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ ‘জেএমবি সদস্যকে’ আটক করেছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তবে মিরপুর এলাকার কোথায় থেকে তাদের আটক করা হয়েছে তা নিশ্চিত করা হয়নি এবং আটকদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গি কিশোর আফিফ কাদরীর মৃত্যু গুলিতে 

1455

ঢাকা, ২৬ ডিসেম্বর : আশকোনার পূর্বপাড়ার সূর্য ভিলায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত আফিফ কাদরীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। আজ সোমবার বেলা দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত কিশোরের লাশ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়। গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আশকোনার পূর্বপাড়ার সূর্য ভিলায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ।

চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ বলেন, আফিফ কাদরীর চুল ও দাঁতের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে আফিফ কাদরী কোনো উত্তেজক কিছু বা কোনো ওষুধ সেবন করেছে কি না, তা জানতে তার রক্ত ও মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর আজিমপুরে আত্মঘাতী সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা তানভীর কাদরী ও তার যমজ ছেলে আফিফ কাদরীর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আফিফ কাদরী রাজধানীর আশকোনায় সূর্য ভিলায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে। তার বাবা তানভীর কাদরী রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের অভিযানের সময় আত্মঘাতী হন।

তানভীর কাদরীর স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা (আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত) এখন কারাগারে। তানভীর-ফাতেমা দম্পতির অপর যমজ ছেলে আজিমপুরে ওই অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

আশকোনার ঘটনায় মামলা, আসামি ৮ 

276

বিনোদন ডেস্ক, ২৬ ডিসেম্বর : ঢাকার দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে ৮ জনকে।

রবিার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ মামলা করা হয়।

দক্ষিণখান থানা ওসি তপন কুমার সাহা জানান, ওই অভিযান চলাকালে আত্মসমর্পণকারী ২ নারী, আত্মঘাতী ২ জন এবং পলাতক ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার ভোররাতে পূর্বআশকোনার একটি তিনতলা ভবন ঘিরে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে দুই শিশুকে নিয়ে বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেন নিহত নব্য জেএমবির নেতা সাবেক মেজর জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা এবং পলাতক জঙ্গিনেতা মাইনুল ইসলাম মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা। এছাড়া ২ জন আত্মহত্যা করেন ও ৪ জন পালিয়ে যান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীর আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় ক্রাইম সিন ইউনিট 

02

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর : রাজধানীর দক্ষিণখান থানার পূর্ব আশকোনায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ওই জঙ্গি আস্তানায় প্রবেশ করেছে পুলিশের ক্রাইম সিন ইউনিট।

রবিবার সকাল বেলা পৌনে ১১টায় হাজী ক্যাম্পের অদূরে ‘সূর্য ভিলা’ নামের । সেখান থেকে তারা ঘটনার আলামত সংগ্রহ করবে। বেলা ১১টার দিকে নিহত জঙ্গি আদরের লাশ ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের কথা রয়েছে। সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার রাজধানীর পূর্ব আশকোনার জঙ্গি আস্তানায় পুলিশি অভিযানের সময় আত্মঘাতী গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলিতে দু’জন নিহত হয়।

শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৭ ঘণ্টার এ অভিযানে আত্মসমর্পণ করে দুই শিশু সন্তানসহ দুই নারী। তারা হচ্ছে- সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জাহিদ ওরফে মুরাদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও তার সন্তান (নাম অজ্ঞাত)। আরেকজন হচ্ছে জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা ও তার সন্তান (নাম অজ্ঞাত)।

১৭ ঘণ্টা অভিযানের পর শনিবার বিকাল ৫টায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সন্ধ্যায় নিহত নারী জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে ঢামেক মর্গে পাঠানো হলেও ভবনের ভেতরে বিস্ফোরক থাকায় আদরের লাশ উদ্ধার করা হয়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে ‌‘জেএমবি’র দুই সদস্য গ্রেফতার 

25

ঢাকা, ২০ ডিসেম্বর : রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও জিহাদি বইসহ নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-আতিকুর রহমান মিলন (২৮) ও খাদেমুল ইসলাম গাজোয়াতুল (২১)।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি লুৎফুল কবির জানান, গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িত কানাডা প্রবাসী তামিম আহমেদ চৌধুরী ও সারোয়ার জাহান ওরফে আবদুর রহমানের যোগাযোগ ছিল। এই তথ্যের সূত্র ধরে সোমবার রাতে পল্লবী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্য, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অপারেশন কামান্ডার তামিম আহমেদ চৌধুরী গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইপাড়ায় পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন। ৩০ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ায় র‌্যাবের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সারোয়ার জাহান নিহত হন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

টাঙ্গাইলে বাসার মালিকের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ 

6yov5vau

টাঙ্গাইল, ১১ ডিসেম্বর : টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাসার মালিকের বিরুদ্ধে ধষর্ণের অভিযোগ তুলেছে ওই বাসার ভারাটিয়া এক গৃহবধূ। উপজেলার হতেয়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার রাতে ওই গৃহবধূ বাসার মালিক ইয়ারত খান (৪০) এর বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে গৃহবধূ প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে গেলে বাসার মালিক ইয়ারত খান ওই গৃহবধূকে জোড় পূর্বক ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় গৃহবধূ চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। রাতে গৃহবধূর স্বামী কাঠমিস্ত্রী রুবেল বাসায় আসলে সব কিছু জানতে পারেন। এরপর তিনি তার ফার্নিচারের মালিক মো. মল্লিকের কাছে বিচার দেন। বিষয়টি তিনি মীমাংসা না করতে পারায় বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেন ওই গৃহবধূ।

সখীপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাকছুদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় গৃহবধূকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে অভিযুক্ত ইয়ারত খান জানান, ওই মহিলা ও তার স্বামী ৮-৯ মাস ধরে আমার বাসায় ভাড়া থাকে। আমি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানি না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জাবির ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারীকে পুলিশে সোপর্দ 

333

জাবি, ৬ ডিসেম্বর : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি সহায়তা নিয়ে ২য়, ৩য়, ১৭৭ তম উত্তীর্ণ হয়ে ধরা পড়া ৩ শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

সোমবার বিভিন্ন অনুষদের মৌখিক পরীক্ষার সময় তাদের অসংলগ্নতা প্রকাশ পেলে আটক করা হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এসময় মেধাতালিকায় ৫ম স্থান অধিকারী এক শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে কতৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলা ও মানবিকী অনুষদের (সি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় যথাক্রমে ২য় ও ৩য় হন রাকিবুল ইসলাম  (রোল- ৩৩১১০৯) ও তপু সাহা (রোল- ৩১৪৮৭১) নামের দুই পরীক্ষার্থী। আর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে (ই ইউনিট) ১৭৭ তম হন রকিবুল হাসান (রোল- ৫১০৯৩৬) নামের আরেক পরীক্ষার্থী।

সোমবার তাদেরকে সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর ডীন অফিসে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তরপত্রে বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি পৃথক বাক্য লিখতে হয় পরীক্ষার্থীকে। কোনো পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে সাক্ষাৎকারের সময় উত্তরপত্রের হাতের লেখা যাচাই-বাচাই করেন শিক্ষকরা।

কিন্তু ওই তিন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী উত্তরপত্রের স্বাক্ষর ও হাতের লেখা মেলাতে পারেননি। পরে শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রক্সির সহায়তা নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করেন তারা।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলের ছেলে রাজুর মাধ্যমে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রক্সি নেওয়ার কথা জানায় তপু সাহা। তার বাবা রনজিৎ কুমার সাহাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

রাকিবুল ইসলাম নাটোরের বড়াইগ্রাম, তপু টাঙ্গাইল সদরের বাজিতপুর এবং রকিবুল হাসান কুমিল্লার বুড়িচং এর ছাত্র।

এদিকে, রোববার আইআইটির (এইচ ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় ৫ম হওয়া মো. হাসনাত হাসান শরিয়া প্রাচুর্য (রোল-৮২১৩৭২) সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে আসলে তিনিও একই অভিযোগে সন্দেহভাজন হন। এছাড়া উত্তরপত্রে দেওয়া ফোন নাম্বারে ফোন করে সেটিও বন্ধ পান শিক্ষকরা।

পরে ওই পরিক্ষার্থী শিক্ষকদের চ্যালেঞ্জ করলে তাকে সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী সোমবার সে এক ঘণ্টার একটি একক লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেয়। সেখানে সন্তোসজনক ফল দেখাতে না পারায় ভর্তির জন্য সাময়িক অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয় আইআইটি। অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য তার ফল কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির কাছে পাঠানো হয়।

কিন্তু তার আগেই ওই শিক্ষার্থীর পালিয়ে গেছে বলে দাবি করে আইআইটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আক্কাছ আলী জানান, আমরা তাকে রেখে অফিসের ভেতরের কক্ষে গিয়েছিলাম। এর মধ্যে সে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কলা ও মানবিকী অনুষদের ডীন মোজাম্মেল হক বলেন, ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রের সঙ্গে রাকিবুল ও তপুর কথা-বার্তার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদেরকে ভর্তির অযোগ্য ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাকি সিদ্ধান্ত নেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, অভিযুক্ত তিনজনকে আমারা পুলিশে দিয়েছি। ডিন অফিসের সুপারিশ অনুযায়ী তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অনুষদে কখনোই ভর্তি হতে পারবে না। তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। পরবর্তী ব্যবস্থা রাষ্ট্রের আইন দ্বারা পরিচালিত হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ইন্টারপোলের হুলিয়ায় ১৪৮ আসামির ৬০ জনই বাংলাদেশি 

37

ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর : ইন্টারপোলের রেড নোটিশ (হুলিয়া) মাথায় নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশি ৬০ আসামি। ওই আসামিরা হুলিয়া মাথায় নিয়েই প্রতিবেশী দেশ ভারত ছাড়াও যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সুইডেন, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ নানা দেশে আত্মগোপন করে আছেন। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ, বঙ্গবন্ধু হত্যামামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান মামলা, আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যামামলাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলার ৬০ আসামি পলাতক। বাংলাদেশ পুলিশের খাতায় তারা মোস্ট ওয়ান্টেড। তাদের দেশে ফেরত আনতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তাদের দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না। ফলে বিচার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের ১৪৮ জনকে ধরতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইস্যু রয়েছে।

সূত্র জানায়, হুলিয়া জারি করা ৬০ বাংলাদেশির কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন, এলাকাভিত্তিক গডফাদার, রাজনীতিক, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নেতা কেউবা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত। পলাতক আসামিদের কেউ কেউ বসবাসরত দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে জীবন-যাপন করছেন। আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মারপ্যাঁচে আটকে আছে পলাতক এসব বাংলাদেশির কারো কারো দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া। সর্বশেষ ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের রাজাকার সৈয়দ মো. হুসাইনের বিরুদ্ধে।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক এই যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এই যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে গত মাসে ইন্টারপোল রেড নোটিশ ইস্যু করে। তার আগে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট ইস্যু করা হয় যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বিএনপি নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। পরে অবশ্য ইন্টারপোল কর্তৃপক্ষ সে নোটিশ প্রত্যাহার করে নেয়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ বহাল রাখতে পুলিশ সদরদপ্তরের পক্ষ থেকে ইন্টারপোল কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র বলেছে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের বহিঃসমর্পণ চুক্তি বলবত রয়েছে। তারপরও তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার বিষয়টি নির্ভর করছে যুক্তরাজ্য সরকারের ওপর। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন আসামিকে ফেরত নিয়ে গেছে, কিন্তু বাংলাদেশি কোনো পলাতক আসামিকে হস্তান্তর করেনি।

গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে গ্রেপ্তার হয় ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত আসামি ঢাকার শীর্ষসন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। তার দেশে ফেরত আনাও আটকে আছে। মোল্লা মাসুদ ভারতে আটক হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তাকে দেশে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। কিন্তু কিছুদিন পরই পুলিশের সেই উদ্যোগ থেমে গেছে।

সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি এমএ জাহিদ ওরফে খোকন ওরফে খোকন মাতুব্বর। সেদেশে সন্তানদের কাছে দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর সম্প্রতি তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে সুইডেন সরকারের কাছে আবেদন করেছেন বলে পুলিশ সদরদপ্তরের কাছে রিপোর্ট রয়েছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধেও ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট রয়েছে। ফাঁসির দ- হওয়ার আগেই ২০১২ সালে গোয়েন্দা নজর এড়িয়ে তিনি পালিয়ে যান। ওই বছরের ৩০ মার্চ ঢাকা ছাড়েন বাচ্চু রাজাকার। এরপর পাকিস্তানে যাওয়ার উদ্দেশ্য ২ এপ্রিল তিনি উত্তরাঞ্চলের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়। বর্তমানে বাচ্চু রাজাকার ভারত হয়ে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ৬০ বাংলাদেশির মধ্যে সর্বশেষ নামটি হলো বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি কখনো থাইল্যান্ড, কখনো দুবাই বা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন। বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী লন্ডনে পলাতক। মাঝে মধ্যে তিনি ভারতে আসেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে পলাতক যে কোনো আসামিকে দেশে ফেরত আনতে আমরা ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে থাকি। তখন ইন্টারপোল সংশ্লিষ্ট আসামির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আমাদের জানায়। এরপর আমরা সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আলোচনা করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পলাতক আসামিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া গ্রহণ করে থাকি। রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তারের এখতিয়ার ইন্টারপোলের নেই। এক্ষেত্রে যে রাষ্ট্রে আসামি পলাতক সেই রাষ্ট্র এবং যে রাষ্ট্র গ্রহণ করবে সে রাষ্ট্রের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর অনেকটা নির্ভর করছে দেশে ফেরানো বা হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

বিদেশে পলাতক ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর ৬ খুনির মধ্যে এএম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে, নূর চৌধুরী কানাডায় এবং আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেহউদ্দিন ভারতে আছে বলে তথ্য রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। কিছু দিন আগে মোসলেহউদ্দিনের নতুন একটি ছবি পায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। যে ছবি এখন ঝুলছে ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে। সঙ্গে পুরনো ছবিরও লিংক জুড়ে দিয়েছে ইন্টারপোল কর্তৃপক্ষ। আর শরিফুল হক ডালিম এবং খন্দকার আবদুর রশিদ পাকিস্তানে আছে বলে ধারণা বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের। রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে ৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কূটনৈতিক ব্যর্থতার কারণে এই খুনিকে ফেরত আনা যাচ্ছে না। আইনি মারপ্যাঁচে আটকা পড়ে এখনো ফেরত আনা যায়নি কানাডায় থাকা নূর চৌধুরীকেও।

আলোচিত মডেলকন্যা তিন্নি হত্যা মামলার আসামি, আশির দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা ও সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভির মাথার ওপরেও ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট ঝুলছে। তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনা যাচ্ছে না।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনকে ধরতে ২০০৭ সালে ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্ট ইস্যু করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরেও তাকে দেশে ফেরত আনা যায়নি। বর্তমানে তাজউদ্দিন দক্ষিণ আফ্রিকায় পলাতক জীবনযাপন করছেন। সেখানে তাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রেখেছে ইন্টারপোলের দক্ষিণ আফ্রিকা শাখা।

ইন্টারপোলের রেড অ্যালার্টপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শীর্ষসন্ত্রাসীদের বেশিরভাগই পলাতক পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। এদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন ওরফে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ এবং সুব্রত বাইন ভারতের কারাগারে বন্দি। অন্যরা রয়েছেন প্রকাশ্যে। এদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষসন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়, মোল্লা মাসুদ, সালাউদ্দিন মিন্টু, আবদুল জব্বার ওরফে মুন্না, নবীর হোসেন ওরফে নবী, শীর্ষসন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাসের ভাই প্রকাশ কুমার বিশ্বাস, হারুন শেখ, সুজিত সুলতান, তৌফিক আলম, নাসিরউদ্দিন রতন, হারিস আহমেদ, খোরশেদ আলম, শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, শাহাদাত হোসেন ওরফে শাহাদত, চাঁন মিয়া, মিন্টু, স্বপন মালাকার, আমিনুর রহমান, ওমর ফারুক ওরফে কচি, রফিকুল ইসলাম ওরফে কাজল, দীপু ওরফে নুরুল, আহমেদ মঞ্জু এবং মকবুল হোসেন অন্যতম। দুই পুলিশ কর্মকর্তা হত্যামামলার আসামি শীর্ষসন্ত্রাসী জিসান বর্তমানে দুবাই রয়েছেন। আমিন রসুল ওরফে টোকাই সাগর আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। এদের কাউকেই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায়নি।

একাত্তরে ১৮ বুদ্ধিজীবীকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত দুই আলবদর নেতা আশরাফুজ্জামান খান ও চৌধুরী মঈনুদ্দীনের ওপর ইন্টারপোলের হুলিয়া রয়েছে। এই দুই খুনির মধ্যে চৌধুরী মঈনুদ্দীন যুক্তরাজ্যে এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক। যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক থাকা মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি মো. আশরাফুজ্জামানের বসবাসের ঠিকানা শনাক্ত হয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ছোট ভাটরায় (চেলেরপাড়া) জন্ম নেওয়া আশরাফুজ্জামান খান ১৬২-১৫ হাইল্যান্ড অ্যাভিনিউ, এপিটি ৩-সি, জ্যামাইকা নিউইয়র্ক-১১৮৩২তে অবস্থান করছেন। সেখানে অবস্থান নেওয়া জামায়াত-শিবির কর্তৃক বাংলাদেশ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তিনি যোগদান করে আসছেন।

চৌধুরী মঈনুদ্দীনের অবস্থান সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকার জানে। কিন্তু দেশটি তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরে আগ্রহী নয়। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর