২৩ মে ২০১৭
ভোর ৫:০৯, মঙ্গলবার

দুই তরুণী হাত-পা ধরলেও ছাড় দেয়নি সাফাতরা

দুই তরুণী হাত-পা ধরলেও ছাড় দেয়নি সাফাতরা 

24

ঢাকা, ২২ মে : রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিল্লাল জবানবন্দিতে বলেছে, ‘দুই শিক্ষার্থীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের অষ্টম তলার দুই রুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। আর ধর্ষণের পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ। তাদের মধ্যে নাঈম ধর্ষণকাজে প্রধান ভূমিকা রাখে। ধর্ষণের সময় দুই তরুণীই বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করে। এমন কাজে বাধ্য না করতে তারা সাফাত ও নাঈমের হাত-পা ধরে। কিন্তু তারা (সাফাত-নাঈম) কিছুতেই ছাড় দেয়নি।

জবানবন্দিতে বিল্লাল আরও বলেন, সাফাতের কথামতো আজাদ ও আমি (বিল্লাল) পুরো রাতই হোটেলের ওই কক্ষ পাহারা দিই। খাবারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে দিই। ধর্ষণের সময় দুই শিক্ষার্থীর দুই বন্ধুও ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে গভীর রাতে সাফাত তার রুমে আসতে বলে। এরপর তাকে বাথরুমে দাঁড় করিয়ে রাখে সাফাত। ওই সময় এক রুমে সাফাত, অন্য রুমে নাঈম ও সাদমান দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর পাশের রুম থেকে দুই তরুণীর ওই বন্ধুকে ডেকে এনের তাকে মারধর করা হয়। তাদের কথা না শোনায় তাকে ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ধর্ষণের সময়ও আমি দুই বাথরুমে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করি। ’

এদিকে, সাফাত ও সাদমানের কাছ থেকে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা পাঁচটি মোবাইল ও একটি ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের কারণে ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। জব্দ মোবাইল ও ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামি সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এই অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঘটনার শিকার এক ছাত্রী। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদেশি মদ পান করিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ 

23222

ঢাকা, ১৯ মে : রাজধানীর বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে আটকে রেখে বিদেশি মদ পান করিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে সাফাত ও সাকিফ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব ১৬৪ ধারায় সাফাতের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। আর সাকিফের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী। সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হোটেলটির ৭০২ নম্বর স্যুটের (বিলাসবহুল কক্ষ) বেডরুমে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত এক তরুণীকে এবং ড্রয়িংরুমে নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম) অপর তরুণীকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার সময় ওই স্যুটেই অবস্থান করছিলেন তাদের অপর বন্ধু ও মামলার আসামি সাদমান শফিক। তবে তিনি ধর্ষণ করেননি। ধর্ষণের পর সাফাতের নির্দেশে তিনি (সাদমান শফিক) ওই দুই তরুণীকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাফাত ও সাদমান।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আহসান হাবীবের আদালতে আসামি সাফাত এবং ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে আসামি সাদমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার অপর আসামি ধর্ষক নাঈমের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ জামান।

জবানবন্দিতে সাফাত ও সাদমান একই ধরনের তথ্য দিয়ে জবানবন্দিতে বলেন, ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুই তরুণীকে ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে নিয়ে আসা হয়।

উপর্যুপরি মদ খাওয়ানোর পর ওই দুই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তারা। তবে ওই তরুণীদের আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করা হয়নি এবং ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

জবানবন্দিতে সাফাত জানান, ধর্ষণের ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বন্ধু সাদমানের মাধ্যমে রাজধানীর একটি হোটেলে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে আসামিদের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথোপকথন হতো তাদের।

ঘটনার দিন অনুষ্ঠানে ওই দুই তরুণীকে আসতে আমন্ত্রণও জানান সাদমান। অনুষ্ঠানে আসার পর সুইমিংপুলে গোসল করেন তারা (দুই তরুণী)। এরপর দ্য রেইনট্রি হোটেলের সেই বিলাসবহুল রুমে তিনি (সাফাত) ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে নিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর একসঙ্গে পাঁচজন (দুই তরুণী, সাফাত, নাঈম ও সাদমান) মদ পান করেন। তরুণীদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়। এতে তরুণীরা বেসামাল হয়ে পড়লে তাদের একজনকে বেডরুমে ও অপরজনকে ড্রয়িংরুমে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। সেখানে উপস্থিত ধর্ষণ মামলার অপর আসামি সাদমান তা উপভোগ করেন।

ছয় দিনের রিমান্ডের এক দিন বাকি থাকতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁ ভবনের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাকিফ এই জবানবন্দি দেন। পৃথক দুই হাকিম তাদের খাসকামরায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, আসামি সাফাত ও তার বন্ধু সাফিককে ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আসামি সাফাতকে ছয় দিন এবং সাফিককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমাতি দেন আদালত। রিমান্ডে থাকাকালে আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছাত্রী ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার নাঈমের 

21

ঢাকা, ১৮ মে : রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

নাঈম আশরাফকে বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তিনি ধর্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

রিমান্ডে নিলে নাঈম আশরাফের কাছ থেকে এ ঘটনার খুঁটিনাটি আরো অনেক বিষয় জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী।

ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

ইতিমধ্যে আলোচিত এ মামলার আরো চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী।

চার আসামিকেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জনতার হাতে আটক ‘ধর্ষক’কে ছেড়ে দিল পুলিশ 

ijakqbx7-copy

সাভার, ১৭ মে : ধামরাইয়ে লেবু ক্ষেতের ভেতরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) ধর্ষণের সময় হাতে নাতে আটক বখাটেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ধামরাই মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দিপু প্রতিবেদককে বলেন, বখাটে ছেলেটিকে আটক করা হয়েছিল তবে ধর্ষিতার পরিবারের কোন অভিযোগ ও ধর্ষণের বিষয়টি প্রমান না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, মেয়েটি সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনী মহল্লার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিনের মতো গত সোমবার সকালেও সে স্কুলে যায়। এসময় একই এলাকার বুদ্ধ নাথ নামের এক বখাটে যুবক তাকে পেপসির মধ্যে ওষুধ সেবন করিয়ে কৌশলে ধামরাই এলাকায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে ধামরাইয়ে কাওয়ালীপাড়া এলাকার এটি লেবু ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন শুরু করে। এসময় শিশুটির গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবককে আটক করে। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে আটক করে ও ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে ধর্ষককে আটকের পর ওই দিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় ধামরাই থানা পুলিশ। পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে বুধবার সকালে ধামরাই থানা এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে শিশুটির মা  প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে থানায় খবর দেয়। এসময় তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মেয়ের সাথে কথা বলার পর বিষয়টি থানায় জানালেও পুলিশ তাতে কোন সাড়া দেয়নি।

তবে এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দীপু বলেন, স্থানীয়রা ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে ওই সময় ধর্ষিতার পরিবার এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি। এছাড়াও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ার কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানায়।

এদিকে রেডিও কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ছাত্রী স্কুলে ব্যাগ রেখে স্কুলের বাইরে চলে যাওয়ার পর আর স্কুলে ফিরে আসেনি। পরে জানতে পারলাম যে, আমার স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি খবর পেয়ে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে নানা বিষয় জানতে পারি । তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাফাতের প্রতিদিনের হাত খরচ ছিল ২ লাখ টাকা 

821

ঢাকা, ১৪ মে : রাজধানী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদের প্রতিদিনের হাত খরচ ছিল ২ লাখ টাকা। এ টাকার জোগান দিতেন তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।

রিমান্ডের প্রথম দিনেই গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাফাত। তিনি বলেছেন, প্রতি রাতেই তিনি ও তার বন্ধুরা পার্টি করতেন। পাঁচ তারকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবীরা হাজির থাকতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদ আরো জানান, তাদের ২০ থেকে ২২ জন বন্ধুর একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপে তাদের বন্ধুদের মধ্যে দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালীদের সন্তান রয়েছে। তারা রাত হলেই একটি স্থানে জড়ো হন। প্রতিরাতেই তারা পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন পার্টি ছাড়াও রেসিং কার নিয়ে লং ড্রাইভে যেতেন। মাঝে মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশে দল বেঁধে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন।

প্রতিদিন তার হাত খরচের দুই লাখ টাকা তার বাবা দিতেন বলে দাবি করেন সাফাত। কখনো এর বেশি টাকার প্রয়োজন হলে ঢাকা শহরে আপন জুয়েলার্সের ৮টি শোরুমের যে কোনো একটিতে ফোন করে অতিরিক্ত টাকা আনিয়ে নিতেন। কখনো তার বাবা এ টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় এক ডজন বান্ধবীর নাম ফাঁস করেছেন তিনি। এসব বান্ধবীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথাও খোলামেলা স্বীকার করেছেন। বান্ধবীদের মধ্যে উঠতি কয়েকজন মডেলও রয়েছেন।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি স্বীকার করে সাফাত দাবি করছেন, এটিও জোর করে হয়নি। এর সপক্ষে সাফাত কিছু প্রমাণও দেখিয়েছেন গোয়েন্দাদের। এর মধ্যে সাফাত আহমেদ অভিযোগকারী দুই তরুণীর মধ্যে একজনের সঙ্গে ঘটনার রাতে তোলা ঘনিষ্ঠ কিছু ছবিও (সেলফি) দেখান গোয়েন্দাদের।

সূত্র বলছে, ২৮ মার্চ রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনার সময় উপস্থিত দুই ধর্ষিতার বন্ধু শাহরিয়ার আহমেদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। একপর্যায়ে শাহরিয়ার আহমেদকে সাফাতের মুখোমুখি করা হয়। শাহরিয়ার পুলিশকে বলেন, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার দুই ধর্ষিতা বান্ধবীর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ওই দিন সঙ্গে তার গার্লফ্রেন্ডও ছিল। সেদিন তার গার্লফ্রেন্ডকেও নির্যাতন করতে চেয়েছিল ধর্ষক সাফাত ও নাঈম। এ ক্ষেত্রে বেশি আগ্রাসী ছিল নাঈম।

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি ও আমার ধর্ষিতা বান্ধবী সাফাত ও নাঈমের পা জড়িয়ে ধরে তাকে নষ্ট না করতে অনুরোধ করি। সাফাত আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল বলে আমার গার্লফ্রেন্ড ধর্ষিত হয়নি। তবে আমাকে বেধড়ক পিটিয়েছিল সাফাত, সাকিফ ও নাঈম। মাথায় পিস্তল ধরে উল্টাপাল্টা স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। ’

একপর্যায়ে শাহরিয়ারকে সামনে রেখে সাফাত ও সাকিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শাহরিয়ারকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে সাফাত। চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত সহায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন। গত রাতে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ধর্ষণের ভিডিওচিত্রের ব্যাপারে মুখ খুলছে না গ্রেফতার দুজন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত রয়েছে এমন অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সাফাত আহমেদের দেয়া তথ্য তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। তবে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে তাদের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি আপসে হয়েছে- সাফাতের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ ওই ধর্ষণ মামলাটি তদন্ত করছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব তথ্য-প্রমাণ আমলে নেয়া হচ্ছে না। কারণ আপসে হলে মামলা হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। বর্তমানে সাফাত আহমেদ ছয় ও সাদমান সাকিফ পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ মামলার পলাতক আসামি মোহাম্মদ হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ, ড্রাইভার বেলাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের অবস্থান জানতে তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার সাফাত-সাদমানের 

99

ঢাকা, ১২ মে : রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা আছে বলে প্রতীয়মান হয়। তবে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা শুক্রবার ভোরে আসামিদের পেয়েছি। ফলে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। আমরা ১০ দিনের রিমান্ডে এনে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবো।

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছ। এই কমিটিতে আছেন যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ), উপকমিশনার (গুলশান) ও উপকমিশনার উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মামলাটি নিয়ে দেশবাসী উন্মুখ হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আর থাকবে না। দেশবাসীর মনে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা দূর হবে। পুলিশ সব অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করছে এবং করবে।

সেই রাতে কোনো ভিডিও হয়েছিল কিনা বা ভিডিও হলেও সেটি এখনো আসামিদের সংরক্ষণে আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, বনানী থানার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা আছে কিনা সেটি খুঁজতে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভিকটিমরা যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দেবেন।

পুলিশের এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, মামলাটি তদন্তে ডিএমপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মামলাটি ডিএমপির ওয়েমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেন্সটিগেশন ছাড়াও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও গুলশান পুলিশ ছায়া তদন্ত করেছে। পাশাপাশি তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে আইজিপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে বিশেষ টিম সমন্বিত করেছেন। এরই ফলশ্রুতিতে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে গ্রেপ্তার হন সাফাত ও সাদমান। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল রাত নয়টার দিকে জালালাবাদের একটি বাড়ি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচার-বিলম্বে বাড়ছে ধর্ষণ ও নির্যাতন 

883

ঢাকা, ৯ মে : মাসখানেক আগে গাজীপুর-শ্রীপুরের ছিটপাড়া গ্রামে এক প্রভাবশালীর ছেলের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় ৭ বছরের শিশু আয়েশা আক্তার। ঘটনার বিচার চাইতে শিশুটির বাবা হযরত আলী গিয়েছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে। বিচার পাননি। অভিযোগ জানিয়েছিলেন শ্রীপুর থানায়। সেখান থেকেও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েসহ তাকে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ। তাদের কোনো অভিযোগই আমলে নেয়নি প্রশাসন কিংবা সমাজপতিরা। উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তারা। অগত্যা কোথাও মেয়ের নির্যাতনের বিচার না পেয়ে গত ২৯ এপ্রিল শিশু আয়েশাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান বাবা-মেয়ে।

গত শনিবার আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। তাদের অভিযোগ, জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি নামে একটি বিলাসবহুল হোটেলকক্ষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অভিযুক্তরা তাদের ধর্ষণ করেন। শুধু তা-ই নয়, ধর্ষণের ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন তারা।

২৮ এপ্রিল রাতে রাস্তা থেকে ধরে এনে রাজধানীর কদমতলীর জুরাইনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে হাত-মুখ বেঁধে আটজন মিলে গণধর্ষণ করে এক কিশোরীকে। গত বুধবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে একটি মিনি গার্মেন্টস কারখানায় ধর্ষণের শিকার হয় ১৪ বছরের এক শিশুকর্মী। ৪ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাজিরটেক গ্রামে ধর্ষিত হন ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। ২৩ এপ্রিল যশোরের নড়াইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাবু খাবার হোটেলে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় হোটেলের নারী কর্মচারী ছায়া খাতুনকে।

পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৭ নারী ও শিশু। হত্যাকা-ের শিকার হয় ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ১০ জনকে হত্যা করে তাদের মা-বাবা। বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয় ৮১ শিশু। আর ধর্ষিত হয় ৫৮ নারী। গণধর্ষণের শিকার হয় ২৪ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৫ নারীকে। পারিবারিক কলহে আপনজনের হাতে খুন হয় ২৪ নারী। যৌতুকের বলি হয় ২৬ জন, নির্যাতন করা হয় ২৪ নারীকে। অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার হন ১৫ জন। এ ছাড়া আত্মহত্যা করে ১০৮ নারী। শুধু রাজধানীতেই গত ৫ দিনে ধর্ষণের শিকার হয় ১৫ নারী-শিশু। হত্যাকা-ের শিকার হয় ৪ জন।

গত রোববার এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার (বিএমবিএস) মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ফাতেমা ইয়াসমিন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালের তুলনায় চলতি বছর নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে। সামাজিক অস্থিরতা ও বৈষম্য, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও আইনের ফাঁকফোকর গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, স্বল্প সময়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সমতাভিত্তিক আইনি নীতি বাস্তবায়িত হলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে।

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির (সিইপি) প্রধান ফারহানা হাফিজ বলেন, নারী নির্যাতনের ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি এর সহিংসতাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহতা আরও বেশি। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রথাগত সামাজিক মূল্যবোধ ও পরিবারের সম্মান, পুনরায় নির্যাতনের ভয়, উপযোগী পরিবেশ না পাওয়া ইত্যাদি কারণে নারীরা তা প্রকাশ করতে চান না। শুধু গুরুতর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন ছাড়া অন্য নির্যাতনগুলো প্রকাশিত হয় না। ফলে নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা বাস্তব ঘটনার চেয়ে অনেক কম।

বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত খোদ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেনুও। গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, আগের চেয়ে নারী নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে, সংখ্যাটাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক আইন রয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। তারপরও প্রতিদিন যে নারী নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়, তা আমাদের শঙ্কিত করে। নারী নির্যাতন শুধু একা নারীদের সমস্যা নয়, এটা পুরুষদেরও সমস্যা। এখানে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, নারী নির্যাতন রোধে আমাদের ভালো আইন আছে ঠিকই। কিন্তু অনেক নারী আছেন যারা এ ধরনের আইন সম্পর্কে জানেন না। এখন আমাদের আইন সম্পর্কে জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাজ-রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসেনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সহজ হবে আশা প্রকাশ করে সমগ্র রাষ্ট্র, সমাজ, নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর জোর দেন তিনি।

ডেপুটি কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন) ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান ফরিদা ইয়াসমিন জানান, এখনো আমাদের সমাজে প্রতিদিন নিগৃহীত হচ্ছেন নারীরা। আর আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। শুধু আইন দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ অসম্ভব। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঐশীকে আদালতে হাজির 

ঢাকা, ১০ এপ্রিল : পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রীকে হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি শেষ হলেও রায়ের দিন নির্ধারণ করেননি হাইকোর্ট।

আজ সোমবার ওই দম্পতির মেয়ে ও মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি ঐশী রহমানকে হাইকোর্টে হাজির করার পরই রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এরই মধ্যে ঐশীকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।

ঐশীর আইনজীবী তার মানসিক বিকারগ্রস্ততা নিয়ে যুক্তিতর্ক করায় তাকে হাইকোর্টে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। রবিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের শুনানি শেষ করে। এর আগে আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে।

রবিবার শুনানি শেষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির সাংবাদিকদের জানান, ঐশীর মামলায় আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হয়েছে। তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার জন্য সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে। সেদিনই আদালত মামলায় রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করবেন।

এর আগে, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রধান আসামি ঐশী রহমানকে ডাবল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আদালত। অপর দুই আসামি ঐশীর বন্ধু রনিকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও জনিকে খালাস দেওয়া হয়। ১২ মার্চ এই মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নব্য জেএমবির ১৪ জঙ্গির সন্ধানে গোয়েন্দারা 

3652

ঢাকা, ২৯ মার্চ : দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক জঙ্গি তৎপরতার ঘটনায় নব্য জেএমবির অন্তত ১৪ দুর্ধর্ষ জঙ্গির নাম এসেছে গোয়েন্দাদের সামনে। এসব জঙ্গি সংগঠনের পুরনো সদস্য ও তারা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত। গোয়েন্দারা মনে করছেন, পলাতক এ জঙ্গিদের নেতৃত্বেই অনেকটা ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনটি নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন আস্তানা তৈরি করে বিস্ফোরকের মজুদ গড়ে তুলছে। নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নাশকতার কাজে লাগানো হচ্ছে। এই ১৪ জঙ্গিকে ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, নব্য জেএমবির পুরনো সদস্যদের মধ্যে সর্বশেষ মাইনুল ইসলাম ওরফে মুসা সংগঠনটির হাল ধরেছিল। তার মাধ্যমেই নানা স্তরে ওই ১৪ পলাতক জঙ্গি সংগঠনকে শক্তিশালী করার কার্যক্রম চালাচ্ছিল। তাদের তত্ত্বাবধানে আরও বেশ কিছু জঙ্গি নতুন করে অস্ত্র ও বোমার প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার

আবদুল মান্নান এ প্রতিবেদককে জানান, নানা তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছেন, সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলের জঙ্গি আস্তানায় কমান্ডো অভিযানে মাইনুল ইসলাম মুসা নিহত হয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ওই জঙ্গি নিহত হলে পলাতক অন্য ১৪ জঙ্গির মধ্যেই কেউ একজন হয়তো সংগঠনের হাল ধরার চেষ্টা করবে। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, মুসার পর নব্য জেএমবির সবচেয়ে সক্রিয় সংগঠকের নাম বাশারুজ্জামান ওরফে আবুল বাসার ওরফে চকোলেট। এ ছাড়া সাগর, রিপন, সারোয়ার, ইকবাল, শরিফুল ইসলাম খালিদ, মানিক, মামুন, বাদল, জুনায়েদ খান, আজাদুল কবিরাজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, ছোট মিজান ও ডা. রোকনুদ্দীন নব্য জেএমবির নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে বলে তথ্য রয়েছে।

জঙ্গি কার্যক্রম মনিটরিং ও জঙ্গি দমনে যুক্ত পুলিশের এক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেন, টানা অভিযানের মুখে কয়েক মাস আগে রিপন ও খালিদ ভারতে পালিয়ে গেছে। তারা সেখান থেকেই দেশে পলাতক জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করছে। ডা. রোকনের সপরিবারে সিরিয়া চলে যাওয়ার তথ্য থাকলেও দেশে জঙ্গিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের জুলাইয়ে গুলশানে হলি আর্টিসান বেকারিতে হামলার পর দুর্ধর্ষ জঙ্গি চকোলেটের নাম বেরিয়ে আসে। ওই জঙ্গি স্ত্রী ফেরদৌসী আফরিন ওরফে শারমিনকে নিয়ে ঘর ছেড়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে পুরান ঢাকার আজিমপুরের আস্তানা থেকে শারমিনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে চকোলেট এখনও অধরা। সে সংগঠনে আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সূত্র জানায়, নব্য জেএমবিতে মানিক কমান্ডার মানিক, অপারেশন বাস্তবায়নকারী বাদল ওস্তাদ বাদল নামে পরিচিত। সাগর নব্য জেএমবির এক সময়ের ন্যাশনাল অপারেশন কমান্ডার নিহত মারজানের বোনের স্বামী। আজাদুল কবিরাজ সংগঠনের নতুন সদস্যদের মগজধোলাইয়ের কাজ করে থাকে। এ ছাড়া মামুন ও জুনায়েদ খানও সংগঠনে দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের পর এসব জঙ্গির নাম বেরিয়ে আসে। ওই অভিযানের সময় নব্য জেএমবির অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ইকবাল পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আশকোনা ও আশুলিয়ার অভিযানে বেরিয়ে আসে জঙ্গি ছোট মিজান ও সারোয়ারের নাম। রাশেদ ওরফে র‌্যাশ নামের জঙ্গির নাম বেরিয়ে আসে অভিযানে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ছেলে কিশোর জঙ্গি তাহরীম কাদেরীর জবানবন্দিতে।

জঙ্গি কার্যক্রম ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, গত এক বছরে নব্য জেএমবির শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত অন্তত ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিঃসন্দেহে সংগঠনটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যারা পলাতক ছিল তারাই হয়তো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। যার প্রমাণ মেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও সিলেটের শিববাড়ি এলাকায়। তবে সম্প্রতি ঢাকায় র‌্যাবের ব্যারাকে, পুলিশের চেকপোস্টে হামলা এবং কুমিল্লার হামলায় মনে হচ্ছে, নতুন কিছু সদস্যকে প্রশিক্ষণ ছাড়াই নেপথ্যের জঙ্গি নেতারা মাঠে নামিয়েছে। ধর্মের নামে তাদের মূলত মৃত্যুর মুখেই ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। -সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এবার আতিয়া মহলের ‘বাইরের জঙ্গি’ নিয়ে উদ্বেগ 

144

সিলেট, ২৮ মার্চ : সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পাঠানপাড়াস্থ জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের ভেতরে মারা পড়েছে চার জঙ্গি। কিন্তু এখন ভেতরের জঙ্গিদের চাইতে উৎকণ্ঠার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাইরের ‘জঙ্গিরা’।

গত শনিবার রাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি পাঠানপাড়া এলাকায় জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলের কয়েকশ’ গজ দূরে বোমা বিস্ফোরণে ছয়জন নিহত হওয়ার পর এ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

আতিয়া মহলের আশপাশ এলাকা ঘিরে জঙ্গিদের অবস্থান থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালেই অভিযানস্থলের সামান্য দূরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মাধ্যমে জঙ্গিরা তাদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিয়েছে। পরিকল্পিত এই হামলায় হতাহত হয়েছেন র‌্যাব-পুলিশ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজন।

এদিকে, গত শুক্রবারের আগেও শান্তির নগরী ছিল সিলেট। তবে শুক্রবার সকাল থেকে আতিয়া মহলে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই পাল্টে যায় পরিস্থিতি। আতিয়া মহলে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সিলেট মহানগরীজুড়ে। তবে সেসব ছাপিয়ে আতঙ্ক জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসে গত শনিবার সন্ধ্যায় বোমা বিস্ফোরণের পর। বিস্ফোরণে ছয় জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উৎকণ্ঠিত। সেদিন ঘটনার পরেই নগরীর রাস্তাঘাটে কমে যায় যান ও জন চলাচল। আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন নগরবাসী দ্রুত ফিরে যান ঘরে। নগরীর বাইরে থেকে যারা প্রয়োজনীয় কাজ বা বেড়াতে এসেছিলেন, তারাও দ্রুত ফিরে যান।

পরিস্থিতি ক্রমেই হয়ে ওঠে থমথমে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, শিববাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার মধ্যে যেভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা, তাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ।

তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তারা জঙ্গিদের তৎপরতা রুখতে সতর্ক রয়েছেন। কোনোভাবেই নতুন করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। এজন্য সিলেটজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। বাড়ানো হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও তল্লাশিচৌকি। সিলেটের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম রোকন উদ্দিন বলেন, বাইরে জঙ্গি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আমরা এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি।-কালের কণ্ঠ

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নতুন আতঙ্ক আত্মঘাতী জঙ্গি 

933

ঢাকা, ১৯ মার্চ : আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দপ্তরের ক্যাম্পে ‘আত্মঘাতী হামলায় এক জঙ্গি মারা যাওয়ার পর ‘আত্মঘাতী’ জঙ্গি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিন্তিত হয়ে পড়েছে। কখন কোথায় জঙ্গিরা আবার হামলা চালাবে তার তথ্য সংগ্রহ ও হামলা ঠেকাতে এখন গলদঘর্ম অবস্থা পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের। রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন জঙ্গি আস্তানার খোঁজে চালানো হচ্ছে অভিযান। সন্দেহভাজন এলাকায় শুরু করা হয়েছে ব্লকরেইড। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আত্মঘাতী’ জঙ্গি হামলা জঙ্গিবাদের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক। এ হামলা ঠেকানো খুবই কঠিন।

রাজধানীর আশকোনায় র‌্যাবের প্রস্তাবিত সদর দপ্তরে ‘আত্মঘাতী’ হামলার ঘটনায় মামলা হয়। গত শুক্রবার রাতে বিমানবন্দর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে র‌্যাবের এসআই রাশেদুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা করেন (নম্বর-২১)। মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ওসি নূরে আযম মিয়া।

গত শুক্রবার আত্মঘাতী হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে র‌্যাব। তার নাম হানিফ মৃধা। বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। র‌্যাবের একটি সূত্র জানায়, আটকের পর র‌্যাবের গাড়িতে করে কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছিল। পথে হঠাৎ অসুস্থতাবোধ করার কথা জানায় ওই যুবক। তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মারা যায় সে।

এদিকে গতকাল বেলা পৌনে ১২টার দিকে ‘আত্মঘাতী’ হামলাকারীর ময়নাতদন্ত শেষ হয়। ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, এর আগে অন্য জঙ্গিদের লাশেরও ময়নাতদন্ত করেছি। বিস্ফোরণের ধরনের কিছু মিল আছে। তবে এতটা ছিন্নভিন্ন দেহ এর আগে আর দেখিনি।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তির পেটে বেল্ট বাঁধা ছিল। তার পেটে ইলেকট্রিক অয়্যার পাওয়া গেছে। ডিএনএ টেস্টের জন্য ওই ‘আত্মঘাতী’ হামলাকারীর দাঁত, চুল ও ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। তার লিভার ও পাকস্থলীর কিছু অংশ পাওয়া গেছে। একটা কিডনি আছে। হামলার আগে সে শক্তিবর্ধক কিছু খেয়েছিল কিনা জানতে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিস্ফোরণের শব্দে আশকোনা হাজি ক্যাম্প ও আশকোনা বাজারের লোকজন অস্থায়ী ক্যাম্পের গেটে উপস্থিত হয়ে জানায়, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলের কাছে রাস্তার পাশ থেকে ৭-৮ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বিভিন্ন দিকে ছুটে পালিয়ে যেতে দেখেন তারা। র‌্যাবের জঙ্গিবাদবিরোধী তৎপরতার কারণে অজ্ঞাত জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ করার জন্য জনসাধারণের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং র‌্যাবের মনোবল ধ্বংস করার হীন উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রগুলো বলছে, গতবছর জুলাই মাসে গুলশানের হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ায় ঈদের দিন জঙ্গি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টানা অভিযানে নব্য ধারার জেএমবির গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ নেতা নিহত হয়। গ্রেপ্তারও হয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক নেতা। ওই সব ঘটনার লাভ-ক্ষতি বিশ্লেষণ করে নতুন কৌশলে হামলার পথ বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। এরই অংশ হিসেবে তারা ‘আত্মঘাতী’ হামলার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে জঙ্গিদের লক্ষ্য একা মরা নয়। সঙ্গে অনেককে নিয়ে মারা যাওয়া। বুধবার সীতাকু-ের যে আস্তানায় পুলিশ টানা ১৯ ঘণ্টা অভিযান চালায়, সেখানে থাকা জঙ্গিদের ওপর নির্দেশ ছিল পুলিশ যেন তাদের কাউকে জীবিত ধরতে না পারে। আর কৌশলে আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে একসঙ্গে অনেক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা; কিন্তু পুলিশের কৌশলী অভিযানের কাছে পরাস্ত হয় জঙ্গিরা। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে দুজন ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালিয়ে নিজেদের উড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে আশকোনায়ও ‘আত্মঘাতী’ যুবক সুইসাইডাল ভেস্টে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।

কুমিল্লার চান্দিনা ও সীতাকু- থেকে জীবিত গ্রেপ্তার জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় এখন জঙ্গিদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তাদের আত্মঘাতী হামলা চালাতেও মগজ ধোলাই করা হচ্ছে। ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদের ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আশকোনায় র‌্যাবের স্থাপনার পর পরবর্তী ‘আত্মঘাতী’ হামলা কোথায়, তা ভাবিয়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এখনো বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অর্ধশতাধিক জঙ্গি রয়েছে। যাদের ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালানোরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এখন বেশিরভাগ প্রশিক্ষণ চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে গোপন জঙ্গি আস্তানায় দেওয়া হচ্ছে বলে তথ্য পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর ইশফাক ইলাহী আমাদের সময়কে বলেন, সারা বিশ্বে জঙ্গিরা এখন চাপের মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পেরে যে যেখানে আছে, সেখান থেকেই অভিযান চালানোর নির্দেশ হয়তো তারা পেয়েছে। আমাদের এখানে তো আগে থেকেই তারা সক্রিয় ছিল। বাহিনীগুলো যেভাবে তাদের আঘাত করছে তারাও চাইবে এদের আঘাত করতে। আমাদের সবার সাবধান হতে হবে। তাদের রিক্রুট বন্ধ করতে হবে সবার আগে। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাবেক স্বামী’র ছুরিকাঘাতে ব্যাংককর্মী নিহত 

552

ঢাকা, ১৬ মার্চ : রাজধানীর ধানমণ্ডির সেন্ট্রাল রোডে সাবেক স্বামীর ছুরিকাঘাতে এক নারী ব্যাংককর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত আরিফুল নেছা আরিফা (২৭) যমুনা ব্যাংকের পুরানা পল্টন শাখায় কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট্রাল রোডে বাসার সামনে হামলার শিকার হন ওই নারী। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

আরিফার ভাই বুলবুল  জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে রবিনের সঙ্গে আরিফার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদের পর আরিফাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিলেন রবিন। বৃহস্পতিবার সকালে বাসার সামনে আরিফার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পালিয়ে যান রবিন। আরিফাকে উদ্ধার করে প্রথমে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফার মৃত্যু হয়।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, সকাল ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়। দুপুরে সোয়া ১২টার দিকে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আরিফার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে।

নিহত নারীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, বাসায় বাইরে সাবেক স্বামী তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মিথ্যা তথ্যে পাসপোর্ট পেয়ে যাচ্ছে জঙ্গিরা 

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি : ভুয়া নাম-ঠিকানা ও তথ্য দিয়ে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সংগ্রহ করছে দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা। কেউ নাম-ঠিকানার পুরোটাই ভুল দিচ্ছে; কেউ নিজের নাম ঠিক রেখে বাকি যেসব তথ্য দিচ্ছে, তা পুরোপুরি বানোয়াট। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে জঙ্গিরা পাসপোর্টের মালিক হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তৈরি করা এমআরপি জঙ্গিদের হাতে যাওয়া ঠেকানো না গেলে দেশের নিরাপত্তা নানা দিক থেকে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত সোমবার ব্লগার আহমেদ রাজীব হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর জানা যায়, গাজীপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এমআরপি তৈরি করে ২০১৪ সালে রানা মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যায়। তারও আগে নব্য জেএমবির নেতা শায়খ আবদুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহানও প্রকৃত নাম-পরিচয় গোপন করে এমআরপি তৈরি করেছিল। গত বছরের ৮ অক্টোবর আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানের পর পাঁচতলা বাসা থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায় সারোয়ার। ২১ অক্টোবর তার দুই

সহযোগী নাফিস আহমেদ নয়ন ও হাসিবুল হাসানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া পাসপোর্টের পাশাপাশি বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করেও একাধিক জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে দেশ ছেড়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, নব্য জেএমবির নেতা আবদুর রহমান ভুল তথ্য দিয়ে এমআরপি নিয়েছিল। জঙ্গিদের হাতে ভুয়া তথ্য সংবলিত পাসপোর্ট গেলে তা দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। যে কোনো সময় অপরাধ ঘটিয়ে তারা দেশ ত্যাগ করতে পারে। তাই এ ব্যাপারে নজরদারি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস_ভেরিফিকেশন) ফরিদা ইয়াসমিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুল তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে তারা (জঙ্গিরা) পাসপোর্ট পেল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তবে পাসপোর্ট দেওয়ার আগে তদন্তের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার চেষ্টা করি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি এ প্রতিবেদককে বলেন, নকল পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন চক্রের অনেক সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো চক্রকেই আইনের আওতায় আনা হবে। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ভুয়া এমআরপির ঘটনায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কারও কোনো যোগসাজশ আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ভুয়া তথ্য দিয়ে জঙ্গিরা পাসপোর্ট পেয়ে গেলে সেটা অবশ্যই নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পাসপোর্ট ইস্যু করার আগে যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও মনোযোগী হতে হবে। তবে এটা করতে গিয়ে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

গত বছর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভুক্তভোগীরা পাসপোর্ট পেতে নানা হয়রানির কথা তুলে ধরেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উঠে আসে দালালদের দৌরাত্ম্য আর পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে হয়রানির কথা।

জানা গেছে, নব্য জেএমবির নেতা আবদুর রহমান ভুয়া নাম-পরিচয় দিয়ে পাসপোর্ট ছাড়াও ড্রাইভিং লাইসেন্স করেছিল। সেখানে তার বাবার নাম লেখা ছিল ‘আবদুল্লাহ’ ও মা ‘রাজিয়া খাতুন’। তার গ্রামের ঠিকানা ‘সাতক্ষীরা’ উল্লেখ করা হয়। পরে জানা যায়, রহমানের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের মুসরিভুজায়। অন্তত ২৪টি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। সে নব্য জেএমবির অর্থের সমন্বয়কারী ছিল।

এ ছাড়া দেশে ব্লগার হত্যার সূচনাকারী ফেনীর বাসিন্দা ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র রেদোয়ানুল আজাদ রানা ও তার কয়েক সহযোগী মিলে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার পলাশনগরে বাড়ির সামনে রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করে। ওই ঘটনার মোস্ট ওয়ান্টেড এ জঙ্গিকে গ্রেফতারে দেশের একাধিক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছিল। ঠিক ওই সময় রানা নিজের ও বাবা-মায়ের নাম ঠিক রেখে গাজীপুরের একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে নতুন এমআরপি নিয়ে স্টুডেন্ট ভিসায় দেশ ছাড়ে। এর আগে রানার নামে ইস্যু করা পুরনো পাসপোর্টটি ব্লক করেছিল পুলিশ। এমন একজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি কীভাবে ভুল তথ্য দিয়ে এমআরপি পেয়ে গেল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে? মনে করা হচ্ছে, তাকে কি কেউ সচেতনভাবেই ভুয়া তথ্য দিয়ে এমআরপি পেতে সাহায্য করেছে? তার পাসপোর্ট ইস্যুর আগে যে পুলিশ সদস্য ভেরিফিকেশন করেছেন সেটা কেন যথার্থ ছিল না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মামনুর রশিদ রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালিদ নামে নব্য জেএমবির দুই নেতা দেশের বাইরে পালিয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার পর পরই একই দিনে তারা দেশ ছাড়ে। রেজাউল হত্যায় খালিদ মূল সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল। রিপন সম্পৃক্ত ছিল হত্যাকাণ্ডে। সে জেএমবির উত্তরাঞ্চলের একজন শীর্ষ নেতা। খালিদ ও রিপনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় উত্তরাঞ্চলে একাধিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। তারা দু’জনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে একটি স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশ থেকে পালিয়েছিল। অবশ্য এ দু’জনের ব্যবহৃত পাসপোর্ট বৈধই ছিল। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষক রেজাউল হত্যার পর তারা জানতে পারে এ ঘটনায় রিপন ও খালিদ নামে দুই জঙ্গির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিন্তু তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জানা না থাকার কারণেই সম্ভবত তারা বৈধভাবে দেশ থেকে পালাতে সক্ষম হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, ভুল তথ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট তৈরির একাধিক চক্র রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। তারা অন্য দেশের নকল এমআরপিও তৈরি করছে। এসব এমআরপি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতারকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভুয়া এমআরপি তৈরিসহ নানা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওমর ফারুক নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় ওমর ফারুকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে_ শামসুল, মিজান, সবুজ, মজিবুর, আবেদ, নাসির, মাহবুব ও সুমন।-সমকাল

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শ্বাসনালী কেটে হত্যা করা হয় ২ শিশুকে 

23111

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি : রাজধানীর দারুসসালামে নিহত দুই শিশুর শ্বাসনালী কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক প্রদীপ বিশ্বাস। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে দুই শিশুসহ তাদের মায়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, শিশু দুটির গলার শ্বাসনালী কাটা ছিলো। তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার করা হয়েছে।

নিহত ওই দুই শিশুর মায়ের গলায়ও একটি দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা জন্য ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের আগে তিনটির মরদেহের সুরতহালের প্রতিবেদন তৈরি করেন দারুল সালাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নেওশের আলী।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর দারুসসালাম থানার ছোট দিয়াবাড়ি এলাকার টিনশেড বাড়িতে শিশু মেয়ে শামীমা (৫) ও ছেলে আব্দুল্লাহকে (৩) হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা আনিকার (২০)।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ 

lstclpzu-copy

ঢাকা, ৭ জানুয়ারি : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নাজিমউদ্দিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিল্পী আক্তার বলেন, যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার উত্তরপাড়ার একটি বাসায় ওই শিশুর বাবা-মা ভাড়া থাকতেন।

আজ শনিবার সকাল নয়টার দিকে ওই বাড়ির পাশের একটি মাঠে শিশুটি খেলা করছিল। এ সময় নাজিমউদ্দিন শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকার শুনে রক্তাক্ত অবস্থায় আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে। পরে পুলিশ নাজিমউদ্দিনকে আটক করে।

শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করবেন বলে জানান এসআই শিল্পী আক্তার।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর