১৭ অক্টোবর ২০১৭
দুপুর ১২:১৩, মঙ্গলবার

৩০ বিস্ফোরকসহ ‘নব্য জেএমবির’ দুই সদস্য গ্রেপ্তার

৩০ বিস্ফোরকসহ ‘নব্য জেএমবির’ দুই সদস্য গ্রেপ্তার 

36636

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর : রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকা থেকে নব্য জেএমবির দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৩০টি বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে।

আজ শনিবার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বেলা ১১টার দিকে মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানাবে ডিএমপি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে পুলিশি অভিযানে মাদকসহ আটক ৪৬ 

1425

ঢাকা, ২৬ আগস্ট : ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৪৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মো. ইউসূফ আলী জানান, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের কাছ থেকে ২০ হাজার ৬৬২ পিস ইয়াবা, দুই কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩০০ বোতল ফেনসিডিল ও ২০ পিস নেশাজাতীয় ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

এছাড়া, আটককৃতরা মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবনের সাথে জড়িত বলেও জানানো হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বখাটে ইভানের যত কাহিনী 

9955

ঢাকা : রাজধানীর বনানীতে বাসায় ডেকে তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বাহাউদ্দিন ইভান। ধর্ষণের সময় তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসায়ই ছিলেন। তবে গত বুধবার পুলিশ ন্যাম ভিলেজের বাসায় অভিযানে গেলে গ্রেফতার এড়াতে তিনি ছাদে আত্মগোপন করেন। পুলিশ চলে যাওয়ার পর পোশাক পাল্টে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইভান এ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বেরিয়ে এসেছে আরও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কাহিনীও। আদালত গতকাল তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে বনানীর ২ নম্বর রোডে ‘৫/এ ন্যাম ভিলেজ’ দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসায় এক তরুণী অভিনেত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ইভানের বিরুদ্ধে। পরদিনই বনানী থানায় মামলা করেন ওই অভিনেত্রী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এদিন বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় খালার বাড়ি থেকে ইভানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে গতকাল ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইভান ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ২০০৫ সাল থেকেই তিনি মাদকাসক্ত। পরিবার দুইবার তাকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করে। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে তিনি আবারও মাদকে ঝুঁকে পড়েন। মাদক সেবনের পাশাপাশি তিনি নারী সংক্রান্ত অপকর্মে জড়ান। এ কারণে ২০০৮ সালে অল্প বয়সেই পরিবার তাকে বিয়ে দিলেও বখাটে স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি। তার ৫ ও ২ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। এরপরও তিনি ধর্ষণের মতো ঘটনায় জড়িয়েছেন। ইভান নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। তার কাছে ধর্ষণের একাধিক ভিডিও রয়েছে। এগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে র‌্যাব।

মামলায় ওই অভিনেত্রী অভিযোগ করেন, ‘১১ মাস আগে ফেসবুকে তাদের বন্ধুত্ব হয়। মঙ্গলবার রাতে তাকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসায় ডেকে নেন ইভান। কিন্তু সেখানে অনুষ্ঠানের কোনো নমুনা ছিল না। পরে ইভান তাকে জোর করে নেশাজাতীয় পানীয় পান করিয়ে রাত দেড়টা থেকে তিনটার মধ্যে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে তিনটার দিকে ইভান তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। ওই অ্যাপার্টমেন্টে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী, দুই সন্তান, মা-বাবা ও ভাইদের সঙ্গে থাকেন। ’ বনানী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইভানকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলাম চার দিনের মঞ্জুর করেন। ধর্ষনের শিকার অভিনেত্রী সম্পর্কে জানা গেছে, ২০১১ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৩ সালে তার একটি সন্তান হয়। ২০১৪ সালে স্বামীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এরপর তিনি পরিবারের সঙ্গেই থাকেন।

ইভানের যত অনৈতিক কর্মকাণ্ড : ইভান সম্পর্কে পুলিশ ও র‌্যাব প্রাথমকি তদন্তে জানতে পেরেছে, তার বাবা বোরহান উদ্দিন বেলাল একজন ব্যবসায়ী। টিভি অভিনেত্রীকে ধর্ষণের ছয় মাস আগে আরও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ইভান। এর আগে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক তরুণীকে বনানীর চেয়ারম্যান মাঠের পাশে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় ইভান ও তার সহযোগীরা। স্থানীয় লোকজন তাদের ধরে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। পরে ইভানের বাবা স্থানীয় কাউন্সিলর ও প্রভাবশালীদের সহায়তায় সন্তানকে সে যাত্রায় রক্ষা করেন। এরপরও নিজেকে শোধরায়নি ইভান। তার দুই স্ত্রী। বিভিন্ন সময়ে বনানী এলাকার রাস্তায় বখাটেপনার পাশাপাশি অসংখ্য তরুণীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইভান নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেছেন। পরিচয় দিয়েছেন আরজে ইভান নামে। লেখাপড়ায় উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে না পারলেও কখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবার কখনো নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয় ব্যবহার করেই বিভিন্ন সময়ে তরুণীদের মিথ্যা প্রলোভেন ফাঁদে ফেলতেন। এর মধ্যে শুধু এই টিভি অভিনেত্রীই থানায় অভিযোগ দিলেন।

কয়েকদিন আগেই বনানীতে একটি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই আবার এ ধর্ষণের ঘটনা।-বা.প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ব্রিটিশ জঙ্গিদের তালিকায় ১১ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত 

83

ঢাকা : জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে জড়িয়ে ৮৫০ জন বিভিন্ন সময় যুক্তরাজ্য ছেড়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ২৬৯ জনকে শনাক্ত করতে পেরেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। তাদের প্রতিবেদন এবং তথ্যভান্ডারে এদের তথ্য রয়েছে। এই ২৬৯ জনের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। তারা আইএস ভূখণ্ডে হামলায় মারা গেছে কিংবা নিখোঁজ রয়েছে।

বিবিসির তথ্যমতে, ২৬৯ জনের মধ্যে দেড় শর মতো সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে মারা পড়েছে বা হদিস পাওয়া যায়নি। আর শ খানেক যুক্তরাজ্যে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হয়েছে। আত্মঘাতী হামলায়ও জড়িত কেউ কেউ।

মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের পরিবার

যুক্তরাজ্যবাসী বাংলাদেশি আবদুল মান্নান ১২ সদস্যের পরিবারের প্রধান। পরিবারে রয়েছে তাঁর তিন নাতি-নাতনি। তাদের বয়স ১ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে মান্নানের পরিবার বাংলাদেশে ছুটি কাটানোর কথা বলে যুক্তরাজ্যের লুটন শহর ছাড়ে। মে মাসে তারা যুক্তরাজ্যে ফেরার জন্য রওনা হয় বাংলাদেশ থেকে। মাঝখানে নামে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। সেখান থেকে নিখোঁজ হয় তিন শিশুসহ ১২ জনের পুরো পরিবার। এর দুই মাস পর আইএসের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ওই পরিবার আইএসনিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে আছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আইএস বিবৃতি দিয়ে জানায়, তারা আইএস ভূখণ্ডে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অধিক নিরাপদে আছে। বিবিসি অবশ্য তখন ওই বিবৃতির সত্যতা খতিয়ে দেখতে পারেনি।

নিখোঁজ নয়জন হলেন মুহাম্মদ আবদুল মান্নান (৭৫), তাঁর স্ত্রী মিনেরা খানম (৫৩), মেয়ে রাজিয়া খানম (২১), ছেলে মোহাম্মদ জায়েদ হুসাইন (২৫), মোহাম্মদ তৌফিক হুসাইন (১৯), মোহাম্মদ আবুল কাসেম সরকার (৩১), মোহাম্মদ সালেহ হুসাইন (২৬), পুত্রবধূ সায়েদা খানম (২৭) এবং রওশনারা বেগম (২৪)। তিনটি শিশুর নাম-পরিচয় বলা হয়নি প্রতিবেদনে।

সাইফুল হক

যুক্তরাজ্যের কার্ডিফে থাকতেন সাইফুল হক। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে পড়াশোনা করে কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার রাকা প্রদেশের কাছে জঙ্গিদের ওপর বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। এতে সাইফুলসহ ১০ জনের মৃত্যু হয় বলে ওয়াশিংটন জানায়। তিনি আইএসের প্রযুক্তি বিভাগে সম্পৃক্ত ছিলেন। জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে হ্যাকিং করতেন। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা তখন জানিয়েছিলেন, সাইফুল বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করতেন।

বিবিসি শুধু সাইফুলের আইএস এলাকায় চলে যাওয়ার কথা বললেও ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, কম্পিউটার প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তা সাইফুল কেবল নিজেই আইএসে যোগ দেননি, সঙ্গে নিয়েছেন স্ত্রী, নিজের এক সন্তান এবং ভাইয়ের শিশুসন্তানকে। সাইফুল তাঁর বাবা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও একই মতবাদে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।

অজ্ঞাত এক বাংলাদেশি

প্রকৃত নাম জানা যায়নি। তবে তিনি আবু সাইফ আল-ব্রিটেনি নামে পরিচিত ছিলেন। সিরিয়ার আলেপ্পোতে আইএসের ওপর মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ২০১৪ সালের আগস্টে তিনি নিহত হন। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র‍্যাডিকালাইজেশন জানায়, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। তিনি সৌদি আরবে ইংরেজি শেখাতেন।-প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কারও মাথাব্যথা নেই 

55

ঢাকা : ৮১৫৫। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ‘জ্ঞান জিজ্ঞাসা ও ইসলামী তথ্য’ সেবা সার্ভিসের মোবাইল নম্বর। ফোন করলেই রবি ও বাংলালিংক গ্রাহকেরা সরাসরি আলেমদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। তাঁরা জঙ্গিবাদ দমন ও প্রতিরোধে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা পাবেন। গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর জঙ্গিবাদ থেকে তরুণদের ফেরানোর জন্য সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ বা ‘পাল্টা ভাষ্য’ প্রচার।

গত ২৯ জুন বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে ৮১৫৫ কল সেন্টারে ফোন করে ‘শিয়া’ সম্প্রদায় সম্পর্কে জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে ‘শিয়া’রা ‘গোমরাহি’র (বিভ্রান্তি) মধ্যে আছেন বলে জানান সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত এক আলেম। তিনি তাঁর নাম বলতে রাজি হননি। তাঁর এই বক্তব্য অসহিষ্ণু তরুণদের উসকে দিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মোটেই না। আমি ব্যক্তিগত মত দিতে পারি।’ সিদ্ধান্ত দিতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি অবশ্যই জবাব দিতে পারেন বলে ওই আলেম ফোন রেখে দেন।

বিশ্বজুড়ে আইএসের হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু শিয়া ধর্মাবলম্বীরা। বাংলাদেশেও হোসেনি দালানে শিয়া ধর্মাবলম্বীদের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হামলায় তিনজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। বগুড়ায় শিয়া ধর্মাবলম্বীদের মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি করে জঙ্গিরা। তাতে মুয়াজ্জিন নিহত হন। দুটি ঘটনার সঙ্গেই আইএস মতাদর্শ অনুসরণকারী নব্য জেএমবি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আবদুর রশীদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘শিয়াদের সঙ্গে সুন্নিদের বিশ্বাসের জায়গায় মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। দুটি পক্ষই আল্লাহ এক, হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী বলে মানে। দুই পক্ষই পবিত্র কোরআন মানে, রোজা রাখে, হজ করে। তাদের সম্পর্কে মূর্খতা থেকে এখন অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে কোনো কোনো পক্ষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো বার্তা যাওয়া উচিত নয়, যা উসকানিমূলক।’

জানতে চাইলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, এ ধরনের কোনো ‘সেবা’ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আছে বলে তাঁর জানা নেই। তাঁর কোনো কর্মকর্তা জানতে পারেন। তবে শিয়াদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য দেওয়া ঠিক নয়। এটা জামায়াতের একটা চাল হতে পারে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের এটি একটি খণ্ডচিত্র।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অবশ্য গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পুলিশি তৎপরতার বাইরেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক লাখ মুফতির স্বাক্ষরসংবলিত ফতোয়া প্রচার, জুমার নামাজের আগে জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য প্রদান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তথ্যচিত্র, শর্টফিল্ম, বিজ্ঞাপনচিত্র, ভিডিও ক্লিপ তৈরি ও প্রচার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জেলায় জেলায় সমাবেশ করার কথা বলেন।

জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার কী, কেন; সমস্যা কোথায়?

গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর ধারাবাহিক পুলিশি অভিযানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কমপক্ষে ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবারও কুষ্টিয়ায় জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান চলেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশ্লেষক এবং জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এমন দুজন তরুণ এ প্রতিবেদককেবলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি তরুণেরা যেন জঙ্গিবাদে না জড়ান, সে জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সৃষ্টিশীল কাজে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাউন্টার টেররিজম কমিটি বলেছে, দমন-পীড়ন দিয়ে কাজ হবে না। জঙ্গিবাদ উসকে দেয় এমন কর্মকাণ্ড থেকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের দুঃখ-কষ্টের জায়গাগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে না পারলে ঝুঁকি থেকেই যাবে। ২০১৪ সালে কমিটি এসব ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ এখানেই পিছিয়ে থাকছে। বাংলাদেশে এখনো জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান ‘নজরদারি’ ও ‘নির্দেশনামূলক’ কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ। সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি করা হচ্ছে এবং প্রশাসনে থাকা কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয় থেকে দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এর ফল কী হচ্ছে, কেউ তা জানে না।

জঙ্গিবাদ দমনে যে তৎপরতা আছে, জঙ্গিবাদ থেকে ফেরানো বা উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ঢিলেঢালা ভাব আছে। ২০০৭ সালে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়। এর দুই বছরের মাথায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজের উদ্যোগে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি হয়। ‘ন্যাশনাল কমিটি অন মিলিট্যান্সি রেজিসট্যান্স অ্যান্ড প্রিভেনশন’ নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা ঠিক করে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে জঙ্গিবাদের উপস্থিতি নেই এ কথা বলা যাবে না।

গত ২১ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (সুরক্ষা) যুগ্ম ও অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার কাছে ওই কমিটি এবং কমিটির নেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁরা কোনো তথ্য দিতে পারেননি। একজন কর্মকর্তা বলেন, ফাইল ঘেঁটে এ-সংক্রান্ত নথি বের করতে হবে।

ওই কমিটি করার প্রায় আট বছর পর এসে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে বলেছেন, ২০০৭ সালের আগে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের আমলে উত্তরবঙ্গের যেসব জেলায় জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছিল, সেই জেলাগুলোতে পরিস্থিতি এখনো আগের মতো রয়ে গেছে।

জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কী উদ্যোগ আছে, কী নেই

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. কামালউদ্দীন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন স্তরে তাঁরা বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই কাজগুলো চলছে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় অংশীদার ধর্ম মন্ত্রণালয়, মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদ জামাতের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদের নেতৃত্বে এক লাখ আলেমের স্বাক্ষরসংবলিত একটি ফতোয়া প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি পরে আর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ফরিদউদ্দীন মাসউদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ফতোয়া নিয়ে গেছেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারের তেমন কোনো উদ্যোগ আছে বলে তিনি জানেন না।

হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরামর্শে ইসলামিক ফাউন্ডেশন খুতবা প্রস্তুত করে বিভিন্ন মসজিদে পাঠিয়েছিল। সেই কার্যক্রম এক মাসের মাথায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনলাইনেও ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আইসিটি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

ভারতের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাট গেটওয়ে হাউসের পরিচালক সমীর পাতিল সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ আয়োজিত কর্মশালায় একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রধান শক্তি হলো অনলাইনে ২৪ ঘণ্টা উপস্থিতি। ইন্দোনেশীয় সরকার একই রকম শক্তি নিয়ে অনলাইনে কাউন্টার ন্যারেটিভ বা পাল্টা ভাষ্য প্রচার করছে।

জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে কাজ, সেটি প্রধানত নজরদারিমূলক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কেউ অনুপস্থিত থাকলে মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদের ঝুঁকিতে আছে এমন ৭০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে। তা ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদুল ইসলাম সারা দেশের ক্লাবগুলো নিবন্ধনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তবে কিশোর বা তরুণদের সম্পৃক্ত করে কোনো সুনির্দিষ্ট গঠনমূলক কাজ চলছে না। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী এক তরুণের মা এ প্রতিবেদককে বলেন, তাঁদের দিয়ে মেডিকেল ক্যাম্প করানো যেতে পারত, বৃক্ষরোপণ করানো যেত, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার বিকাশ ঘটানো যেত। সেটা হয়নি।

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে প্রশাসন যা করছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জঙ্গিবিরোধী কাজ নিয়মিত নজরদারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণের সময় জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য রাখা এবং পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে তারা কী করছে, সে সম্পর্কেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনে জেলা প্রশাসকেরা জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদন পাঠান। সেই বক্তব্যে কী থাকছে, সাধারণত তার কোনো উল্লেখ থাকে না।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকার একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, জঙ্গিবাদবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসলে জঙ্গিবাদ কতটা ঠেকানো যাচ্ছে, বলা যাচ্ছে না। কাউন্টার ভায়োলেন্ট এক্সট্রিমিজম বা ডি-র‍্যাডিক্যালাইজেশনের ব্যাপারে সব কর্মকর্তার ভালো ধারণা নেই। জঙ্গিবাদে তরুণেরা কেন জড়াচ্ছেন, সেই কারণ অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর এলাকায় জামায়াত-শিবির ও আহলে হাদিসদের বেশ প্রভাব আছে। তাদের অর্থায়নে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফল অন্য স্কুলের চেয়ে ভালো। যাঁরা উগ্রবাদী নন, তাঁরাও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ওই সব স্কুলে ছেলেমেয়েদের ভর্তি করাচ্ছেন। জেলায় সংস্কৃতির চর্চাও তেমন নেই।

কারাগারে কর্মসূচি নেই

পুলিশপ্রধানদের নিয়ে গত মার্চে ঢাকায় আয়োজিত সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ সিঙ্গাপুরের রোহান গুণারত্নে বলেন, কারাগারে থাকা জঙ্গিরা যেন সাজা খেটে গিয়ে আবার জঙ্গিবাদে না জড়ায়, সে জন্য কারাগারের ভেতরে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারাগারের ভেতরে বৃত্তিমূলক কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। জেল খেটে বেরিয়ে তাঁরা যদি বেকার থাকেন বা সমাজে একঘরে হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের আবারও জঙ্গিবাদে জড়ানোর আশঙ্কা দেখা যাবে।

উল্লেখ্য, নব্য জেএমবির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও হোলি আর্টিজানে হামলার একজন পরিকল্পনাকারী সারওয়ার জাহান ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে বোমা হামলার পর গ্রেপ্তার হন। ওই একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হন খিজির হায়াৎ খান হত্যার আসামি তরিকুল ইসলাম। দুজনেই জেল খেটে বেরিয়ে আবার জঙ্গিবাদে জড়ান।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘জঙ্গি’ হিসেবে যাঁরা সাজা খেটেছেন, তাঁদের জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারে যুক্ত করার রেওয়াজ আছে। যাঁদের হামলায় কেউ মৃত্যুবরণ করেছে, তাঁদের ওই সব পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। তাঁরা স্বজনহারা মানুষের কষ্ট তখন অনুভব করেন। তাঁদের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, যাঁরা বিভিন্ন সময়ে পুলিশি অভিযানে নিহত হয়েছেন বা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের স্বজনদের জঙ্গিবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে।

তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ও পরে জামিনে মুক্ত একজন তরুণ এ প্রতিবেদককে বলেন, সরকার যদি সত্যিই জঙ্গিবাদে জড়ানো তরুণদের দিয়ে জঙ্গিবাদবিরোধী কাজ করাতে চায়, তাহলে তাঁদের আস্থায় আনতে হবে। তিনি বলছিলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে আটক করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লম্বা সময় গুম করে রাখছে, তারপর এজাহারে বলা হচ্ছে, গোপন বৈঠক করার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কখনো কখনো অভিযানে গ্রেপ্তার বলেও দেখানো হচ্ছে। বিচারের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে কখনোই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।

পরিবার ও সমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির সঙ্গে সম্প্রতি এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের একজন দেড় বছর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর পেছনে পরিবারের ভূমিকা বেশি। সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ বেশ কিছু তরুণই এসেছেন এমন পরিবার থেকে, যাঁদের বাবা-মা আলাদা থাকেন বা তাঁদের সুসম্পর্ক নেই। তরুণদের একটা বড় অংশের মামাতো-চাচাতো ভাই-বোন বা দাদাবাড়ি-নানাবাড়ির সঙ্গেও যোগাযোগ নেই। তাঁদের সঙ্গী ও পরামর্শদাতারা সমবয়সী বন্ধু ও ইন্টারনেট। তাঁরা বাড়ি ছাড়ার সময় সেই অর্থে পরিবারের প্রতি কোনো টান অনুভব করেননি। তিনি এক তরুণকে চেনেন, যিনি ইন্টারনেটে স্বপ্নের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে জঙ্গিবাদে জড়ান। স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে একজন বক্তার বক্তব্য তাঁর ভালো লাগে। নিয়মিত সেই বক্তব্য শুনতে শুনতে তিনি তথাকথিত জিহাদের নামে ঘর ছাড়েন।

দেড় বছর কারাবাস শেষে ফেরা ওই তরুণ একটি বড় প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক টাকা বেতনে চাকরি করতেন। এখন কোনো রকমে জীবন যাপন করছেন। তিনি চান তাঁর ছেলেরা পরমতসহিষ্ণু হোক। তিনি বলছিলেন, একই দিনে ছেলেদের নিয়ে তিনি মসজিদ ও আর্মেনীয় গির্জায় যান। তিনি দেশটাকে ঘুরে ঘুরে দেখাতে চান সন্তানদের। তাঁর মতে, সরকারিভাবে স্কুলে এক দিন করে জাতীয় দিবস পালনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ হবে না। কারণ, দেশাত্মবোধ একটা চর্চা, যা সব সময় অব্যাহত রাখতে হয়।

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে কী করা উচিত জানতে চাইলে সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবুল মোমেন গতকাল শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, সমাজে শিক্ষা ও সংস্কৃতি—দুয়েরই বিকাশ দরকার। সংস্কৃতি বিযুক্ত শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। জঙ্গিবাদে না জড়াতে মুক্ত মন দরকার। শিল্পকলা ও ক্রীড়া মানুষের মুক্ত মন তৈরি করে। আর কৈশোরে মানুষ স্বপ্ন দেখে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। যেকোনো মহৎ কাজের জন্য আত্মোৎসর্গ করতে চায়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থায় মহত্তর কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। সেটা স্কাউটিং হতে পারে, রেড ক্রিসেন্টে স্বেচ্ছাসেবী হওয়ার মতো বা অন্যান্য সামাজিক কাজও হতে পারে। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

রাজধানীতে জেএমবির ৩ সদস্য গ্রেপ্তার : র‍্যাব 

5888

ঢাকা, ৩১ মে : রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকা থেকে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার সকালে র‍্যাবের পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও জঙ্গিবাদী বই উদ্ধার করা হয়েছে বলেও র‌্যাবের বার্তায় জানানো হয়।

দুপুরে র‍্যাব-২-এর আগারগাঁও দপ্তরে এ ব্যাপারে ব্রিফিং করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তেজগাঁও থেকে জঙ্গি সন্দেহে আটক ৩ 

47

ঢাকা, ৩১ মে : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব।

মঙ্গলবার রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বুধবার সকালে র‌্যাবের সদর দফতর থেকে মোবাইল ফোনে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাবের খুদে বার্তা দাবি করা হয়, আটকরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। এসময় তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য জব্ধ করা হয়েছে।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে আটকদের নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।

র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেন র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জেএমবির চার সদস্য গ্রেপ্তার 

732

ঢাকা, ২৫ মে : অস্ত্র বিস্ফোরক ও জিহাদি বইসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির চার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই সারোয়ার তামিম গ্রুপের সদস্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নারায়নগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সদর দপ্তরের মিডিয়া উইন এর সিনিয়র এএসপি মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দুই তরুণী হাত-পা ধরলেও ছাড় দেয়নি সাফাতরা 

24

ঢাকা, ২২ মে : রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের খাসকামরায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিল্লাল জবানবন্দিতে বলেছে, ‘দুই শিক্ষার্থীকে বনানীর রেইনট্রি হোটেলের অষ্টম তলার দুই রুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সাফাত ও নাঈম। আর ধর্ষণের পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ। তাদের মধ্যে নাঈম ধর্ষণকাজে প্রধান ভূমিকা রাখে। ধর্ষণের সময় দুই তরুণীই বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করে। এমন কাজে বাধ্য না করতে তারা সাফাত ও নাঈমের হাত-পা ধরে। কিন্তু তারা (সাফাত-নাঈম) কিছুতেই ছাড় দেয়নি।

জবানবন্দিতে বিল্লাল আরও বলেন, সাফাতের কথামতো আজাদ ও আমি (বিল্লাল) পুরো রাতই হোটেলের ওই কক্ষ পাহারা দিই। খাবারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এনে দিই। ধর্ষণের সময় দুই শিক্ষার্থীর দুই বন্ধুও ছিল। তাদের মধ্যে একজনকে গভীর রাতে সাফাত তার রুমে আসতে বলে। এরপর তাকে বাথরুমে দাঁড় করিয়ে রাখে সাফাত। ওই সময় এক রুমে সাফাত, অন্য রুমে নাঈম ও সাদমান দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে। এরপর পাশের রুম থেকে দুই তরুণীর ওই বন্ধুকে ডেকে এনের তাকে মারধর করা হয়। তাদের কথা না শোনায় তাকে ইয়াবা দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। ধর্ষণের সময়ও আমি দুই বাথরুমে দাঁড়িয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করি। ’

এদিকে, সাফাত ও সাদমানের কাছ থেকে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা পাঁচটি মোবাইল ও একটি ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের কারণে ঢাকার মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। জব্দ মোবাইল ও ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এর আগে মামলার দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ গত বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অন্য আসামি সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (আবদুল হালিম) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি রিমান্ডে আছেন। এ ছাড়া সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এই অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঘটনার শিকার এক ছাত্রী। -বাংলাদেশ প্রতিদিন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিদেশি মদ পান করিয়ে দুই তরুণীকে ধর্ষণ 

23222

ঢাকা, ১৯ মে : রাজধানীর বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে আটকে রেখে বিদেশি মদ পান করিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছে সাফাত ও সাকিফ।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব ১৬৪ ধারায় সাফাতের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। আর সাকিফের জবানবন্দি রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী। সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, হোটেলটির ৭০২ নম্বর স্যুটের (বিলাসবহুল কক্ষ) বেডরুমে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত এক তরুণীকে এবং ড্রয়িংরুমে নাঈম আশরাফ (প্রকৃত নাম আবদুল হালিম) অপর তরুণীকে ধর্ষণ করেন।

ঘটনার সময় ওই স্যুটেই অবস্থান করছিলেন তাদের অপর বন্ধু ও মামলার আসামি সাদমান শফিক। তবে তিনি ধর্ষণ করেননি। ধর্ষণের পর সাফাতের নির্দেশে তিনি (সাদমান শফিক) ওই দুই তরুণীকে জোর করে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়ান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সাফাত ও সাদমান।

ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আহসান হাবীবের আদালতে আসামি সাফাত এবং ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে আসামি সাদমান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এদিকে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার অপর আসামি ধর্ষক নাঈমের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ জামান।

জবানবন্দিতে সাফাত ও সাদমান একই ধরনের তথ্য দিয়ে জবানবন্দিতে বলেন, ২৮ মার্চ জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ওই দুই তরুণীকে ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে নিয়ে আসা হয়।

উপর্যুপরি মদ খাওয়ানোর পর ওই দুই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তারা। তবে ওই তরুণীদের আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ করা হয়নি এবং ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়নি বলেও জানান তারা।

জবানবন্দিতে সাফাত জানান, ধর্ষণের ঘটনার প্রায় দু’সপ্তাহ আগে বন্ধু সাদমানের মাধ্যমে রাজধানীর একটি হোটেলে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে আসামিদের পরিচয় হয়। সেই সুবাদে মাঝেমধ্যে মোবাইলে কথোপকথন হতো তাদের।

ঘটনার দিন অনুষ্ঠানে ওই দুই তরুণীকে আসতে আমন্ত্রণও জানান সাদমান। অনুষ্ঠানে আসার পর সুইমিংপুলে গোসল করেন তারা (দুই তরুণী)। এরপর দ্য রেইনট্রি হোটেলের সেই বিলাসবহুল রুমে তিনি (সাফাত) ও নাঈম ওই দুই তরুণীকে নিয়ে যান।

কিছুক্ষণ পর একসঙ্গে পাঁচজন (দুই তরুণী, সাফাত, নাঈম ও সাদমান) মদ পান করেন। তরুণীদের জোর করে মদ খাওয়ানো হয়। এতে তরুণীরা বেসামাল হয়ে পড়লে তাদের একজনকে বেডরুমে ও অপরজনকে ড্রয়িংরুমে ধর্ষণ করেন সাফাত ও নাঈম। সেখানে উপস্থিত ধর্ষণ মামলার অপর আসামি সাদমান তা উপভোগ করেন।

ছয় দিনের রিমান্ডের এক দিন বাকি থাকতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাতকে এবং পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রেগনাম গ্রুপ ও পিকাসো রেস্তোরাঁ ভবনের মালিক মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে সাকিফ এই জবানবন্দি দেন। পৃথক দুই হাকিম তাদের খাসকামরায় এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, আসামি সাফাত ও তার বন্ধু সাফিককে ১১ মে সিলেট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে আসামি সাফাতকে ছয় দিন এবং সাফিককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমাতি দেন আদালত। রিমান্ডে থাকাকালে আসামিরা ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছাত্রী ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার নাঈমের 

21

ঢাকা, ১৮ মে : রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি আবদুল হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

নাঈম আশরাফকে বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে তিনি ধর্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।’

রিমান্ডে নিলে নাঈম আশরাফের কাছ থেকে এ ঘটনার খুঁটিনাটি আরো অনেক বিষয় জানা যাবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী।

ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় সাফাত আহমেদ, তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীরা।

ইতিমধ্যে আলোচিত এ মামলার আরো চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন, আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী রহমত আলী।

চার আসামিকেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

জনতার হাতে আটক ‘ধর্ষক’কে ছেড়ে দিল পুলিশ 

ijakqbx7-copy

সাভার, ১৭ মে : ধামরাইয়ে লেবু ক্ষেতের ভেতরে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১২) ধর্ষণের সময় হাতে নাতে আটক বখাটেকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ধামরাই মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দিপু প্রতিবেদককে বলেন, বখাটে ছেলেটিকে আটক করা হয়েছিল তবে ধর্ষিতার পরিবারের কোন অভিযোগ ও ধর্ষণের বিষয়টি প্রমান না হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষিতার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, মেয়েটি সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনী মহল্লার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিনের মতো গত সোমবার সকালেও সে স্কুলে যায়। এসময় একই এলাকার বুদ্ধ নাথ নামের এক বখাটে যুবক তাকে পেপসির মধ্যে ওষুধ সেবন করিয়ে কৌশলে ধামরাই এলাকায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাকে ধামরাইয়ে কাওয়ালীপাড়া এলাকার এটি লেবু ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন শুরু করে। এসময় শিশুটির গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বখাটে যুবককে আটক করে। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ওই যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে ধামরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে আটক করে ও ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এদিকে ধর্ষককে আটকের পর ওই দিন রাতেই তাকে ছেড়ে দেয় ধামরাই থানা পুলিশ। পরে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে বুধবার সকালে ধামরাই থানা এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে শিশুটির মা  প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে থানায় খবর দেয়। এসময় তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মেয়ের সাথে কথা বলার পর বিষয়টি থানায় জানালেও পুলিশ তাতে কোন সাড়া দেয়নি।

তবে এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দীপু বলেন, স্থানীয়রা ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে ওই সময় ধর্ষিতার পরিবার এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি। এছাড়াও ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ার কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানায়।

এদিকে রেডিও কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী এই প্রতিবেদককে বলেন, এই ছাত্রী স্কুলে ব্যাগ রেখে স্কুলের বাইরে চলে যাওয়ার পর আর স্কুলে ফিরে আসেনি। পরে জানতে পারলাম যে, আমার স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আমি খবর পেয়ে  ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে নানা বিষয় জানতে পারি । তিনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ধর্ষককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সাফাতের প্রতিদিনের হাত খরচ ছিল ২ লাখ টাকা 

821

ঢাকা, ১৪ মে : রাজধানী বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদের প্রতিদিনের হাত খরচ ছিল ২ লাখ টাকা। এ টাকার জোগান দিতেন তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ।

রিমান্ডের প্রথম দিনেই গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাফাত। তিনি বলেছেন, প্রতি রাতেই তিনি ও তার বন্ধুরা পার্টি করতেন। পাঁচ তারকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবীরা হাজির থাকতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত আহমেদ আরো জানান, তাদের ২০ থেকে ২২ জন বন্ধুর একটি গ্রুপ আছে। এ গ্রুপে তাদের বন্ধুদের মধ্যে দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালীদের সন্তান রয়েছে। তারা রাত হলেই একটি স্থানে জড়ো হন। প্রতিরাতেই তারা পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন পার্টি ছাড়াও রেসিং কার নিয়ে লং ড্রাইভে যেতেন। মাঝে মধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশে দল বেঁধে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন।

প্রতিদিন তার হাত খরচের দুই লাখ টাকা তার বাবা দিতেন বলে দাবি করেন সাফাত। কখনো এর বেশি টাকার প্রয়োজন হলে ঢাকা শহরে আপন জুয়েলার্সের ৮টি শোরুমের যে কোনো একটিতে ফোন করে অতিরিক্ত টাকা আনিয়ে নিতেন। কখনো তার বাবা এ টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি।

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রায় এক ডজন বান্ধবীর নাম ফাঁস করেছেন তিনি। এসব বান্ধবীর সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথাও খোলামেলা স্বীকার করেছেন। বান্ধবীদের মধ্যে উঠতি কয়েকজন মডেলও রয়েছেন।

বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই তরুণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি স্বীকার করে সাফাত দাবি করছেন, এটিও জোর করে হয়নি। এর সপক্ষে সাফাত কিছু প্রমাণও দেখিয়েছেন গোয়েন্দাদের। এর মধ্যে সাফাত আহমেদ অভিযোগকারী দুই তরুণীর মধ্যে একজনের সঙ্গে ঘটনার রাতে তোলা ঘনিষ্ঠ কিছু ছবিও (সেলফি) দেখান গোয়েন্দাদের।

সূত্র বলছে, ২৮ মার্চ রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের ঘটনার সময় উপস্থিত দুই ধর্ষিতার বন্ধু শাহরিয়ার আহমেদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। একপর্যায়ে শাহরিয়ার আহমেদকে সাফাতের মুখোমুখি করা হয়। শাহরিয়ার পুলিশকে বলেন, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার দুই ধর্ষিতা বান্ধবীর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। ওই দিন সঙ্গে তার গার্লফ্রেন্ডও ছিল। সেদিন তার গার্লফ্রেন্ডকেও নির্যাতন করতে চেয়েছিল ধর্ষক সাফাত ও নাঈম। এ ক্ষেত্রে বেশি আগ্রাসী ছিল নাঈম।

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি ও আমার ধর্ষিতা বান্ধবী সাফাত ও নাঈমের পা জড়িয়ে ধরে তাকে নষ্ট না করতে অনুরোধ করি। সাফাত আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছিল বলে আমার গার্লফ্রেন্ড ধর্ষিত হয়নি। তবে আমাকে বেধড়ক পিটিয়েছিল সাফাত, সাকিফ ও নাঈম। মাথায় পিস্তল ধরে উল্টাপাল্টা স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। ’

একপর্যায়ে শাহরিয়ারকে সামনে রেখে সাফাত ও সাকিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শাহরিয়ারকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে সাফাত। চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার চার সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত সহায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ডিবির যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন। গত রাতে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ধর্ষণের ভিডিওচিত্রের ব্যাপারে মুখ খুলছে না গ্রেফতার দুজন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত রয়েছে এমন অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে।

চাঞ্চল্যকর এ ধর্ষণ মামলার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, সাফাত আহমেদের দেয়া তথ্য তারা গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন। তবে ওই দুই তরুণীর সঙ্গে তাদের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি আপসে হয়েছে- সাফাতের এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ ওই ধর্ষণ মামলাটি তদন্ত করছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব তথ্য-প্রমাণ আমলে নেয়া হচ্ছে না। কারণ আপসে হলে মামলা হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা। বর্তমানে সাফাত আহমেদ ছয় ও সাদমান সাকিফ পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ মামলার পলাতক আসামি মোহাম্মদ হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ, ড্রাইভার বেলাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের অবস্থান জানতে তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার সাফাত-সাদমানের 

99

ঢাকা, ১২ মে : রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা আছে বলে প্রতীয়মান হয়। তবে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা শুক্রবার ভোরে আসামিদের পেয়েছি। ফলে বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারিনি। আমরা ১০ দিনের রিমান্ডে এনে তাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করবো।

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি তদন্ত সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছ। এই কমিটিতে আছেন যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ), উপকমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ), উপকমিশনার (গুলশান) ও উপকমিশনার উইমেন সাপোর্ট সেন্টার।

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, মামলাটি নিয়ে দেশবাসী উন্মুখ হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে, সেটা আর থাকবে না। দেশবাসীর মনে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা দূর হবে। পুলিশ সব অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করছে এবং করবে।

সেই রাতে কোনো ভিডিও হয়েছিল কিনা বা ভিডিও হলেও সেটি এখনো আসামিদের সংরক্ষণে আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কৃষ্ণ পদ রায় বলেন, বনানী থানার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা আছে কিনা সেটি খুঁজতে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভিকটিমরা যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তারা প্রতিবেদন দেবেন।

পুলিশের এই যুগ্ম কমিশনার বলেন, মামলাটি তদন্তে ডিএমপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে। মামলাটি ডিএমপির ওয়েমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেন্সটিগেশন ছাড়াও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও গুলশান পুলিশ ছায়া তদন্ত করেছে। পাশাপাশি তদন্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে আইজিপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে বিশেষ টিম সমন্বিত করেছেন। এরই ফলশ্রুতিতে সাফাত ও সাদমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে গ্রেপ্তার হন সাফাত ও সাদমান। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি বিশেষ দল রাত নয়টার দিকে জালালাবাদের একটি বাড়ি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিচার-বিলম্বে বাড়ছে ধর্ষণ ও নির্যাতন 

883

ঢাকা, ৯ মে : মাসখানেক আগে গাজীপুর-শ্রীপুরের ছিটপাড়া গ্রামে এক প্রভাবশালীর ছেলের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় ৭ বছরের শিশু আয়েশা আক্তার। ঘটনার বিচার চাইতে শিশুটির বাবা হযরত আলী গিয়েছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে। বিচার পাননি। অভিযোগ জানিয়েছিলেন শ্রীপুর থানায়। সেখান থেকেও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েসহ তাকে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ। তাদের কোনো অভিযোগই আমলে নেয়নি প্রশাসন কিংবা সমাজপতিরা। উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তারা। অগত্যা কোথাও মেয়ের নির্যাতনের বিচার না পেয়ে গত ২৯ এপ্রিল শিশু আয়েশাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান বাবা-মেয়ে।

গত শনিবার আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। তাদের অভিযোগ, জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে বনানীর রেইনট্রি নামে একটি বিলাসবহুল হোটেলকক্ষে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অভিযুক্তরা তাদের ধর্ষণ করেন। শুধু তা-ই নয়, ধর্ষণের ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন তারা।

২৮ এপ্রিল রাতে রাস্তা থেকে ধরে এনে রাজধানীর কদমতলীর জুরাইনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে হাত-মুখ বেঁধে আটজন মিলে গণধর্ষণ করে এক কিশোরীকে। গত বুধবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে একটি মিনি গার্মেন্টস কারখানায় ধর্ষণের শিকার হয় ১৪ বছরের এক শিশুকর্মী। ৪ মে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাজিরটেক গ্রামে ধর্ষিত হন ৮০ বছরের এক বৃদ্ধা। ২৩ এপ্রিল যশোরের নড়াইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাবু খাবার হোটেলে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় হোটেলের নারী কর্মচারী ছায়া খাতুনকে।

পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮৭ নারী ও শিশু। হত্যাকা-ের শিকার হয় ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ১০ জনকে হত্যা করে তাদের মা-বাবা। বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয় ৮১ শিশু। আর ধর্ষিত হয় ৫৮ নারী। গণধর্ষণের শিকার হয় ২৪ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ৫ নারীকে। পারিবারিক কলহে আপনজনের হাতে খুন হয় ২৪ নারী। যৌতুকের বলি হয় ২৬ জন, নির্যাতন করা হয় ২৪ নারীকে। অ্যাসিডসন্ত্রাসের শিকার হন ১৫ জন। এ ছাড়া আত্মহত্যা করে ১০৮ নারী। শুধু রাজধানীতেই গত ৫ দিনে ধর্ষণের শিকার হয় ১৫ নারী-শিশু। হত্যাকা-ের শিকার হয় ৪ জন।

গত রোববার এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার (বিএমবিএস) মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন কর্মকর্তা ফাতেমা ইয়াসমিন।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালের তুলনায় চলতি বছর নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে। সামাজিক অস্থিরতা ও বৈষম্য, বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও আইনের ফাঁকফোকর গলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাদের মতে, স্বল্প সময়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সমতাভিত্তিক আইনি নীতি বাস্তবায়িত হলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমবে।

ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির (সিইপি) প্রধান ফারহানা হাফিজ বলেন, নারী নির্যাতনের ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি এর সহিংসতাও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে এর ভয়াবহতা আরও বেশি। বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হলেও প্রথাগত সামাজিক মূল্যবোধ ও পরিবারের সম্মান, পুনরায় নির্যাতনের ভয়, উপযোগী পরিবেশ না পাওয়া ইত্যাদি কারণে নারীরা তা প্রকাশ করতে চান না। শুধু গুরুতর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন ছাড়া অন্য নির্যাতনগুলো প্রকাশিত হয় না। ফলে নির্যাতনের যে চিত্র পাওয়া যায় তা বাস্তব ঘটনার চেয়ে অনেক কম।

বাংলাদেশে নারী-শিশু নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শঙ্কিত খোদ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেনুও। গত ১৪ মার্চ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, আগের চেয়ে নারী নির্যাতনের ধরন পাল্টেছে, সংখ্যাটাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক আইন রয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নেই। তারপরও প্রতিদিন যে নারী নির্যাতনের চিত্র দেখা যায়, তা আমাদের শঙ্কিত করে। নারী নির্যাতন শুধু একা নারীদের সমস্যা নয়, এটা পুরুষদেরও সমস্যা। এখানে নারী-পুরুষ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারীদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, নারী নির্যাতন রোধে আমাদের ভালো আইন আছে ঠিকই। কিন্তু অনেক নারী আছেন যারা এ ধরনের আইন সম্পর্কে জানেন না। এখন আমাদের আইন সম্পর্কে জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাজ-রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসেনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সহজ হবে আশা প্রকাশ করে সমগ্র রাষ্ট্র, সমাজ, নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর জোর দেন তিনি।

ডেপুটি কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন) ও ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রধান ফরিদা ইয়াসমিন জানান, এখনো আমাদের সমাজে প্রতিদিন নিগৃহীত হচ্ছেন নারীরা। আর আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। শুধু আইন দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ অসম্ভব। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি ব্যক্তি, পরিবার, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। -আমাদের সময়

Share This:

এই পেইজের আরও খবর