১৮ নভেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৪৮, শনিবার

নেত্রকোনায় মন্দিরে আগুন দেয়ার সময় হাতেনাতে আটক

নেত্রকোনায় মন্দিরে আগুন দেয়ার সময় হাতেনাতে আটক 

43

নেত্রকোনা, ৫ নভেম্বর : নেত্রকোনা পৌরসভার সাতপাই নদীর পাড়ে একতা সংঘ কালী মন্দিরে আগুন দেয়ার সময় হাতে নাতে এক দুর্বৃত্তকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ সরকার যিশু জানান, শনিবার ভোরে এক দল দুর্বৃত্ত মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। একজন ঢুকে প্রতিমায় আগুন দেয়ার সময় প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে এক স্কুলছাত্র দেখে ফেলে। এ ঘটনা দেখে ফেলায় দুর্বৃত্তরা ছাত্রটিকে ধাওয়া করে।

ছাত্রটির চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে আতংক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান আটকৃতকে থানায় নিয়ে যান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নেত্রকোনায় যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা 

8544

নেত্রকোনা, ৯ আগস্ট : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হুগলা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান তুলাকে (২৮) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার রাত ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তুলা উপজেলার বড়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুর রহমান বলেন, হাবিবুর রহমান তুলা সোমবার রাত ১০টার দিকে হুগলা বাজার থেকে বড়াকান্দা গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। হুগলা চৌরাস্তা এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

চকলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ ! 

ধর্ষণ

নেত্রকোনা, ২৭ জুলাই : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ গতকাল রাতে একই উপজেলার মো. হারুন অর রশিদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।

শিশুটির মা আজ বুধবার দুপুরে আটক ওই ব্যক্তিকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এলাকার বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে হারুন শিশুটিকে চকলেট দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে হারুনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ রাত ১১টার দিকে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শিশুটির মা বলেন, ‘আমার এই মাসুম বাচ্চাটার যে সর্বনাশ করেছে, আমি তাঁর উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্ত হারুনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

‘যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদেরও ভোটাধিকার থাকবে না’ 

0001

ঢাকা, ৬ ফেব্রুয়ারি : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের সন্তানেরা দেশে থাকতে পারলেও তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষ করেন তাদের বিরুদ্ধে সংসদে নতুন করে আইন পাস হচ্ছে এবং যুদ্ধাপরাধীর সন্তানেরা বাংলাদেশে থাকতে পারলেও তাদের কোনো ভোটাধিকার থাকবে না এবং সরকারি চাকরি করতে পারবে না।’

শনিবার সকালে নেত্রকোণা শহরের মোক্তারপাড়ায় পুরাতন কালেক্টরেট ভবন চত্বরে নবনির্মিত ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন’ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকার। এ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে; যা বিগত সময়ে অন্য কোনো সরকারের আমলে করা হয়নি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে কালেক্টরেট স্কুল প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা হয়। জেলা প্রশাসক ড. তরুণ কান্তি শিকদারের সভাপতিত্বে এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এমপি, পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মতিয়র রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আশরাফ আলী খান খসরু।

এছাড়া পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল আমীন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইয়ুব আলী, দুর্গাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রুহুল আমীন চুন্নু এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি গাজী কামাল হোসেন প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

অজ্ঞাত রোগে ৫ জনের মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক 

অজ্ঞাত রোগে ৫ জনের মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক

নেত্রকোনা, ১৫ জানুয়ারি : নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটী ইউনিয়নে অজ্ঞাত রোগে মৃত্যুতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত এক মাসে কলমাকান্দার জামসেন গ্রামে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল শুক্রবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে।

মাসখানেক আগে জামসেন গ্রামে হঠাৎ অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। রোগটির লক্ষণ বসন্তের মতো। শরীরে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, ব্যথা ও বসন্তের মতো কালচে গুটি গুটি দাগ দেখা দেয়। গুটি গুটি দাগের কারণে গ্রামবাসী ধারণা করছে- ‘এটি গুটি বসন্ত’। ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জামসেন গ্রামের হাসিম উদ্দিনের মেয়ে ও জামসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মারুফা আক্তার (৯) মারা গেছে। একই গ্রামের ফৌজদার মিয়ার মেয়ে ও একই স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুদা আক্তার (১২), ছেলে রবিকুল ইসলাম (৫), একই গ্রামের সমেদ আলীর ছেলে ফজলু মিয়া (৪২) ও রবন খান (৭৫) গত এক মাসে মারা গেছেন।

এ ছাড়া হাসিম উদ্দিনের ছেলে ওয়ালিউল্লাহ (৫), নয়ন মিয়ার ছেলে সাগর (৫), মেয়ে জাকিয়া আক্তার (৩), সজল মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২০), বাহাদুর (২), মেয়ে সোমাইয়া আক্তার (৮), রমজান আলীর মেয়ে হলুদা আক্তার (১২), আবুল কাসেমের ছেলে আলমগীর হোসেন (১০), আবদুল কুদ্দুসের ছেলে আরিফ (৫) এবং পাশের বরুণখিলা গ্রামের খলিল মিয়ার ছেলে সুলতান মিয়াসহ কমপক্ষে ২০ জন আক্রান্ত রয়েছে। আক্রান্তদের পল্লী চিকিৎসক চিকিৎসা দিচ্ছে।

খবর পেয়ে শুক্রবার দুপুরে সিভিল সার্জন ডা. বিজন কান্তি সরকারের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের মেডিক্যাল টিম আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা আক্রান্তদের শরীরের রক্ত, ক্ষত হয়ে যাওয়া চামড়াসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন বলেন, এক মাসে ওই রোগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত রয়েছে কয়েকজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- এ রোগটির নাম ‘ম্যানিন্জকক্কাল ম্যানিংজাইটিস’। তবে রোগটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের কাছে আলামত পাঠাচ্ছেন। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত করে বলতে পারবেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গলায় ফাঁস নিয়ে নতুন বরের আত্মহত্যা 

index_110926

নেত্রকোনা, ৪ জানুয়ারি : বিয়ের একদিনের মাথায় নেত্রকোনায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক নতুন বর। তার নাম মামুন মিয়া (২৮)। নিহত মামুন মিয়া একই গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে।

রবিবার সদর উপজেলার মৌজেবালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ফাঁসি থেকে উদ্ধার করে রবিবার রাত ৯টার দিকে বরের পরিবারের সদস্যরা তাকে নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বরের ভাই আকাশ, চাচা শামীম ও চাচাত ভাই আবুল কালাম খোকন জানান, মামুন রাতে তার বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এর আগের দিন পাশের গ্রাম লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের আতকাপাড়া গ্রামের সামছু মিয়ার মেয়েকে বিয়ে করেন তিনি। মামুন ঢাকার নরসিংদীতে একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীতে চাকরি করতেন বলেও জানিয়েছেন তার পরিবার।

নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই আওয়াল সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নেত্রকোনায় প্রধান শিক্ষককে কুপিয়ে হত্যা 

neterkon_92137

নেত্রকোনা , ২ ডিসেম্বর : নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার মনাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্জুন বিশ্বাসকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তেরা।
আজ বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অর্জুন বিশ্বাসের বাড়ি উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের দশাল গ্রামে।

পুলিশ ও প্রধান শিক্ষকের স্বজনেরা জানান, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও প্রধান শিক্ষক অর্জুন বিশ্বাস স্কুলের সহকারী শিক্ষক সুফিয়া সুলতানাসহ একই মোটরসাইকেলে করে স্কুলে যাচ্ছিলেন। স্কুল থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে ওই প্রধান শিক্ষককে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। আহত প্রধান শিক্ষককে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার ব্যাপারে জানতে অর্জুন বিশ্বাসের সঙ্গে থাকা সুফিয়া সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, মনাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্জুন বিশ্বাসকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নেত্রকোণায় দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা 

net pic_98016_86313

নেত্রকোণা, ২৩ অক্টোবর : নেত্রকোণায় এক দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দুর্গাপুরে এ ঘটনা ঘটে।

তারা হলেন- ব্যবসায়ী অরুণ কুমার সাহা (৬০) এবং তার স্ত্রী হেনা রানী সাহা (৪৫)।

স্থানীয়রা জানায়, অরুণ কুমার সাহা দুর্গাপুর মধ্য বাজারের সুবর্ণা বস্ত্রালয়ের মালিক।

দুর্গাপুর থানার ওসি রেজাউল হক জানান, বিকালে তাদের বাসার দরজা বন্ধ দেখে স্বজনরা দরজা খোলে ভিতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা অরুণ দম্পতির গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

তিনি আরো জানান, ব্যবসায়ী হত্যার কারণ জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার হয়নি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

গ্রেপ্তার হয়নি সন্দেহভাজন যৌন সন্ত্রাসীরা 

images

অনলাইন ডেস্ক : স্কুলছাত্রী মেয়ের উপর চালানো যৌন নির্যাতনের বিচার চেয়েছিলেন বাবা-মা। আর তাতেই সালিসের মধ্যেই শিকার হতে হয়েছে বেধড়ক মারধপিটের। বাধ্য হয়ে মামলা করেছেন থানায়। তবে পুলিশ বলছে, আসামীরা নিখোঁজ। ধরতে অভিযান চলছে।’ আর এ ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ‘সন্ত্রাসীরা এলাকাতেই ঘোরাফেরা করছেন।’

ঘটনাটি নেত্রকোণা সদর উপজেলার বর্ণি গ্রামের। এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় রতন মিয়া নামের এক যুবক ঐ স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও উত্ত্যক্ত করে আসছিলো। এই অভিযোগে বৃহস্পতিবার সালিসি বৈঠক করেছিলেন গ্রামের মাতবরেরা। কিন্তু বৈঠকে ওই ছাত্রীকেই দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ও তার বাবাকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কার হয় বেধড়ক মারপিট। অভিযোগ, সালিসে ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে আসা।

ওই সালিসে উপস্থিত বর্নি গ্রামের মাতবর কামাল এর কাছে দাবি করেন, ‘ওই স্কুলছাত্রী সালিসে ‘বহিরাগতদের’ নিয়ে আসায় তার বাবা ও মামাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।’

আহতদের নেত্রকোনা সদর উপজেলার নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর শুক্রবার স্থানীয় রতন মিয়াসহ (৩০) নয়জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর বাবা।

জেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের বর্নি গ্রামের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ওই ছাত্রী স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। একই গ্রামের রতন মিয়া প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই ছাত্রী পুকুরে গোসল করতে যায়। তখন রতন তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে গেলে রতন পালিয়ে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের কয়েকজন মাতবর সালিসে বসেন। তারা রতনকে বকাঝকা করেন। পরে রতন ও তার লোকজন বাড়িতে গিয়ে ছাত্রী ও তার পরিবারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। গেল বৃহস্পতিবার দুপুরে মাতবরেরা আবার সালিসে বসেন।

এবার তারা ছাত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে বলেন, অসামাজিক কাজের জন্য ওই ছাত্রীই রতনকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। ওই ছাত্রী ও তার বাবাকে মাটিতে পুঁতে বেত মারা অথবা মাথা ন্যাড়া করে গ্রামে ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেন মাতবরেরা। না হলে তাদের গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু ছাত্রী ও তার পরিবার এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সালিসি বৈঠকেই ছাত্রীর বাবা ও মামাকে বেধড়ক মারধর করেন রতন ও তার সহযোগীরা। পরে বাসায় গিয়ে আবারও তাদের মারধর করা হয়।

সালিসি বৈঠকে থাকা ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মঞ্জুরুল হক বলেন, গ্রামের মানুষ তো আর সবকিছু ঠিক মতো বোঝে না। আর মাতবররাও তেমন শিক্ষিত নয়। এ কারণেই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু আমার মতামতের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আর ঐ এলাকার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলেও গিয়েছিলাম। কিন্তু কী কারণে ওই ছাত্রীর বাবা এবং মামাকে মারা হলো সেটাই বুঝলাম না। অপরাধীকে বাদ দিয়ে ভূক্তভোগিদের নির্যাতন কেন করা হলো বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।

যৌন সন্ত্রাসের এই মামলা হলেও কিন্তু পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে ধরতে পারে নি। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুদুর আলম বলেন, আসামিরা সবাই পলাতক। তাদের ধরার চেষ্টা চলছে। আমাদের অভিযান চলছে। তবে বর্নি গ্রামের মেম্বার এবং লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসামিরা এলাকাতেই আছেন। পুলিশ কী কারণে তাদের ধরছে না বিষয়টি তারা বুঝতে পারছেন না। আর এ নিয়ে এলাকাতে বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা।

আর মানবাধিকার কর্মী নূর খানের মতে, `পুলিশ এখন জবাবদিহীতার উর্দ্ধে চলে গেছে। কিছুটা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তাই পুলিশ দিয়ে আর কাজ হবে না। সমস্যা সমাধানে এখন সাধারণ মানুষকেই মাঠে নামতে হবে।’

তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পুলিশের কাছে অধিকার নিয়ে কথা বলতে গেলে নির্বিচারে গুলি করে। আর এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও কোনো কথা বলে না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর