১৮ নভেম্বর ২০১৭
বিকাল ৫:৫১, শনিবার

পদ্মায় ৩ লঞ্চডুবি: একজনের মরদেহ উদ্ধার

পদ্মায় ৩ লঞ্চডুবি: একজনের মরদেহ উদ্ধার 

588

শরীয়তপুর, ১২ সেপ্টেম্বর : শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া তিনটি লঞ্চের উদ্ধার কাজ দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে।এ সময় একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দুলারচর এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন।

তিনি জানান,নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস নৌযানে করে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। এর মধ্যে দুটি লঞ্চের সন্ধান পাওয়া  গেছে।

ওসি জানান, দুর্ঘটনার স্থল থেকে ৮/৯ কিলোমিটার দূরে সজল তালুকদার (৩৫) নামে এক জনের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানয়ীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি নড়িয়া-২ লঞ্চের কর্মচারী।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে ১৪ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন, রবিন সরদার (২০), লিটন শেখ (২৫), মানিক সরদার (৩৫), বশির (২৯), মো. রফিক (৫০), পলাশ (২০), জাকির (৪৫), শাহ আলম (৩৫), সালাউদ্দিন (৩০), জয় (১৬), সাদেক (২২), ফকরুন্নেছা বেগম(৫০), পারভীন বেগম (৩৫) ও পারভীনের পাঁচদিনের নবজাতক শিশু।

বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ এমভি প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জ থেকে ঘটনাস্থালে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। এছাড়া মাওয়া থেকে ডুবুরিদের একটি দল ও খুলনা থেকে নৌবাহিনীর ১৫ সদস্যের একটি দল এসে পৌঁছে উদ্ধারে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের নড়িয়ায় পদ্মানদীর ওয়াপদা চেয়ারম্যান ঘাটের টার্মিনালে তীব্র স্রোতে সোমবার তিনটি লঞ্চ ডুবে যায়। এতে অন্তত অর্ধশতাধিক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

দুই হাত হারানো সিয়ামকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ 

622

শরীয়তপুর, ৪ জুলাই : শরীয়তপুরে পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া তারে জড়িয়ে দুই হাত হারানো সিয়াম খানকে ৩০ দিনের মধ্যে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট এ রায় দেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। সঙ্গে ছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী সিফাত মাহমুদ।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

পরে সিফাত মাহমুদ বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা ৩০ দিনের মধ্য সিয়ামের পরিবারকে দিতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

‘দুটি হাত কেটে ফেলতে হয়েছে সিয়ামের’ শিরোনামে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত মে মাসে আদালতে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ অন্তর্বর্তী আদেশ দেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পুলিশ দিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী নির্মূল করা সহজ জঙ্গিবাদ নয় 

287

শরীয়তপুর, ৫ মার্চ : জঙ্গি নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, জঙ্গিগোষ্ঠী পুলিশ দিয়ে নির্মূল করা সহজ কিন্তু জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সহজ নয়। জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের নরকলিকাতা গ্রামে পুলিশের আইজি একেএম শহিদুল হকের প্রতিষ্ঠিত মজিদ জরিনা ফাউন্ডেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল ও ভোজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান একেএম নুরুল হক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মাদারীপুরে বাস খাদে পড়ে নিহত ২, নিখোঁজ ৮ 

65

শরীয়তপুর, ১৯ নভেম্বর : মাদারীপুরে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায় দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই শিশুসহ নিখোঁজ রয়েছে আরও আটজন।

এ ঘটনার পর ২০ জন সাঁতরে তীরে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ডাসার থানাধীন পান্তাপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি হলেন বরগুনা জেলার কামাল উদ্দিন (৩৫)। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার ফুলঝরি এলাকায়। তিনি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বলে জানা গেছে।

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক জানান, ভোরে ঈগল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিল। পথে পান্তাপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক ২০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়। পরে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছে আটজন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত বাসটি তোলা সম্ভব হয়নি। বাসটি পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। তাই উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।

তাৎক্ষণিক হতাহতদের পরিচয় জানাতে পারেননি ওসি।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল পুলিশ সদস্যের 

ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল পুলিশ সদস্যের

শরীয়তপুর, ১ নভেম্বর : শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের এক নেতার থাপ্পড়ে সেলিম মাতুব্বর নামে এক পুলিশ সদস্যের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ সদস্যকে আহত করার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার নাম আক্তার হোসেন। তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি।

শরীয়তপুর সদর থানা সূত্র জানায়, আক্তার হোসেন আজ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎ​সক দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদার। তাঁরা দেবাশীষ সাহার কাছে হোসেন খন্দকার নামের এক রোগীর আঘাতের চিকিৎসাজনিত সনদ চান।

রোগী ছাড়া সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন চিকিৎসক। তখন আক্তার চিকিৎসককে গালাগাল দিয়ে অপদস্থ করতে থাকেন। সেখানে তখন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছিলেন পুলিশের নায়েক সেলিম মাতুব্বর। তিনি চিকিৎসককে কেন এভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে তা জানতে চান। তখন আক্তার উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করতে থাকেন। আক্তারের থাপ্পড়ে পুলিশ সেলিমের ডান কানের পর্দা ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।

পুলিশ সদস্য সেলিম মাতুব্বরকে চিকিৎসা দেন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ইমরান খান। তিনি বলেন, আঘাতের কারণে সেলিমের কানের পর্দা ফেটে গেছে। তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তার আঘাতটি গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

খবর পেয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে দেখতে হাসপাতালে আসেন জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, সহকারী পুলিশ সুপার তানভীর হাসান।

ছাত্রলীগ নেতা আক্তার হোসেনকে আটক করার জন্য পুলিশ তাঁর মামা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদারের বাসভবন ও ক্লিনিকে অভিযান চালায়।

এ সময় আক্তারের কক্ষ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। দুপুরে উপজেলা সদরে আলমগীর হাওলাদারের মালিকানাধীন হাওলাদার ক্লিনিকে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নীতিমালা ও আইন লঙ্ঘন করে ক্লিনিক চালানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত মালামাল বাজেয়াপ্ত করে ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন। এ সময় ক্লিনিকে ভর্তি থাকা রোগীদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, আক্তার হোসেন প্রায়ই হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে চিকিৎসা সনদ নিতে চান। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ কারণে তিনি আজ চিকিৎসক দেবাশীষ সাহাকে অপদস্থ করেন। এর প্রতিবাদ করলে একজন পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেন।

এ বিষয়ে আলমগীর হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ডাক্তারের কক্ষে ছিলাম। হইচই শুনে বাইরে এসে দেখি আক্তার আর এক ব্যক্তি হাতাহাতি করছে। আমি তাদের নিবৃত্ত করি।’ তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পর আমি আক্তারকে মারধর করে তাড়িয়ে দিই এবং পুলিশ সদস্যর কাছে ক্ষমা চাই।’

ঘটনার পর থেকে আক্তার পলাতক রয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসককে অপদস্থ ও পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শরীয়তপুরের লিংকন হত্যায় দুইজনের প্রাণদণ্ড 

33

শরীয়তপুর, ৭ সেপ্টেম্বর : শরীয়তপুরের পালংয়ে লিংকন নামের এক তরুণকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে দুইজনের ফাঁসির রায় দিয়েছে ঢাকার দ্রুত বিচার আদালত। চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সর্দার আজ বুধবার আসামিদের উপস্থিতিতে তিন বছর আগের এই হত‌্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

দুই আসামি হলেন- সোহাগ হাওলাদার ও আতাবুর রহমান বাবলু। সর্বোচ্চ সাজার আদেশের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। শরীয়তপুরের পালংয়ের বেড়া চিকন্দি এলাকার মো. মোজাম্মেল খাঁর ছেলে ১৮ বছর বয়সী লিংকনকে ২০১৩ সালের ২৫ জুন অহরণের পর হত‌্যা করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শরীয়তপুরে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা 

07744

শরীয়তপুর, ৩ আগস্ট : শরীয়তপুরে প্রতিদিনই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে প্লাবিত হচ্ছ নতুন নতুন এলাকা। লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধদের। মানুষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে গবাদি পশু নিয়েও।

জেলার সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ এবং গোসাইরহাট উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে কিছু নগদ টাকা ও ত্রাণ সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। বন্যা ও নদী ভাঙনকবলিত পাঁচ হাজার ৬০০ পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। এদিকে, গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে জাজিরায় ২০০ পরিবারের মাঝে ৫০০ করে নগদ টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।

বানের পানির সঙ্গে প্রবল বর্ষণের কারণে শরীয়তপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা, মেঘনা, কীর্তিনাশা এবং আড়িয়াল খাঁ নদের পানি অব্যাহত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বন্যার পানি ঢুকে পড়ছে নতুন নতুন এলাকায়। বন্যাকবলিত এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত  হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফকির বাবার আস্তানায় নারীকে গলাকেটে হত্যা 

full_2028149858_1440767414

শরিয়তপুর: শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাটে কল্পনা বেগম (২৮) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। সে তিন সন্তানের জননী।

বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কল্পনা বেগম বরিশালের মুলাদী থানার আব্দুল মজিদ ব্যাপারীর মেয়ে এবং একই এলাকার বালিয়াতলী গ্রামের সজল ব্যাপারীর স্ত্রী।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার চিকিৎসার জন্য শরিয়তপুর জেলা গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ছোট কাচনা গ্রামে ফকির বাবা আনাস উদ্দিন ওরফে আনোয়ার সর্দারের বাড়িতে আসে কল্পনা বেগম, তার স্বামী সজল ব্যাপারী ও মা মুকুলী বেগম। পরেরদিন বুধবার রাতে চিকিৎসা শেষে কল্পনা বেগম ও তার মা মুকুলী বেগম পার্শ্বের আলমগীর হোসেন মির্জার ঘরে ঘুমাতে যায়। এ সময় তার স্বামী একই ঘরের বারান্দায় ঘুমায়। পরে রাত ২টার দিকে কে বা কারা কল্পনা বেগমকে বটি দিয়ে গলাকেটে ফেলে। এ সময় কল্পনা বেগমের গোঙানি শুনে তার মা মুকুলী বেগম ঘুম থেকে উঠে চিৎকার করে। চিৎকার শুনে স্বামীসহ অন্যরা এসে তাকে মৃত দেখতে পায়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী, মা ও ফকির বাবাকে আটক করা হয়েছে।

গোসাইরহাট থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কল্পনা বেগম অসুস্থ ছিল। এই অসুস্থতা সহ্য করতে না পেরে সে নিজেই বটি দিয়ে গলাকেটে আত্মহত্যা করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শরীয়তপুরে বিএনপি প্রার্থীকে পুলিশ দিয়ে ধরে এনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ 

শরীয়তপুর

শরীয়তপুর, ৮ এপ্রিল : শরীয়তপুরে সাদা পোশাকধারী পুলিশ দিয়ে ধরে এনে জোর পূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করানো হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন মোল্যা। এ ঘটনায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তবে পুলিশ বলছেন, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানে না। অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

চিতলিয়া ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো.গিয়াস উদ্দিন মোল্যা জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল গতকাল বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু ৪টায় সময় আঙ্গারিয়া বাজারের সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের সামনে বসে পত্রিকা পড় ছিলেন তিনি। হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দু’জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ পরিচয়ে লোক এসে তার পরিচয় জানতে চান।

এর পর তাকে  মটরসাইকেলে করে বগাদী বাজার মোড়ে নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ পাহারায় মটরসাইকেল যোগে শরীয়তপুর সদর উপজেলা রির্টানিং অফিসারের কার্যালয়ে নিয়ে যায় তাকে। রির্টানিং অফিসারের কাযালয়ে থাকা কয়েকজন লোক তাকে জোর পূর্বক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায়। তিনি আরও  জানান, বিষয়টি কাউকেই না জানানোর জন্য হুমকি প্রদান করা হয়। এ ঘটনার পর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে ডিবি ওসি সুব্রত কুমার সাহা বলেন, আমার কোনো পুলিশ যায়নি। অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.খলিলুর রহমান বলেন, যে বিষয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অভিযোগ করেছে, সে বিষয় আমি কিছুই জানি না।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

প্রেম করায় কিশোর-কিশোরীকে বেঁধে নির্যাতন (ভিডিও) 

8999

শরীয়তপুর, ২২ ফেব্রুয়ারি : প্রেম করে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হলো আইরিন আক্তার এবং স্বপন নামের দুই কিশোর-কিশোরীকে। তাদের দুজনকে এক সঙ্গে বেঁধে জুতা পেটা করেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচরে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনা জানাজানি হয় ২০ ফেব্রুয়ারি। আইরিন-স্বপনের নির্যাতনের ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এবং ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়লে এনিয়ে এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

আইরিন আক্তার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এবং ঘাটকুল গ্রামের হতদরিদ্র সোনামিয়া ছৈয়ালের মেয়ে। স্বপন একই গ্রামের দরিদ্র আসমত আলী খাঁর ছেলে।

জানা গেছে, নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী এবং তাদের হুমকির কারণেই এ নিয়ে মামলা করার সাহস পায়নি দরিদ্র আইরিন এবং স্বপনের পরিবার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পরে স্বপন ও আইরিন। বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত ৯ তারিখে তাদের আটক করে স্থানীয়রা। এরপর তাদের ধরে কুন্ডেরচর আবদুল মান্নান মল্লিককান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ও সুলতান মল্লিক। তাদের নেতৃত্বেই স্বপন ও আইরিনকে চরম নির্যাতন করা হয়। তাদেরকে এক রশিতে বেঁধে জুতা পেটা করে জুতার মালা পরিয়ে স্কুল মাঠে ঘোরানো হয়। আইরিন ওই স্কুলেরই ছাত্রী। জুতার পেটন খেয়েও মুক্তি মেলেনি তাদের। আইরিন এবং স্বপনকে রাতে স্কুলের একটি ভবনে আটকে রেখেও ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আইরিন এবং স্বপনকে নির্যাতনের খবর পেয়ে পরের দিন স্কুল মাঠে ছুটে আসেন তাদের পরিবার। মারাত্মক আহত স্বপন ও আইরিনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। গত ১৩ দিনেও সুস্থ হয়ে ওঠেনি আইরিন এবং স্বপন।

আইরিনের বাবা সোনামিয়া ছৈয়াল জানিয়েছেন, মামলা করলে প্রভাবশালীরা তাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে।

এদিকে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে কুন্ডেরচর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বারের বক্তব্য ভিন্ন। মেম্বার এ ঘটানকে সামাজিক বিচার বললেও এ ঘটনাকে অমানবিক বলেছেন চেয়ারম্যান। চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন বেপারী এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে গণধর্ষণ 

002

শরীয়তপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর : শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর কাশাভোগ গ্রামের এক কিশোরী (১৪) বিয়েতে রাজি না হওয়ায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অসুস্থ ওই কিশোরীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

পালং মডেল থানা ও কিশোরীর বাবা জানান, সদর উপজেলার কাশাভোগ গ্রামের ওই কিশোরীকে একই গ্রামের আলী আকবর বেপারীর ছেলে জাকির হোসেন বেপারীর কাছে বিয়ের জন্য বেশ কয়েক বার প্রস্তাব দেয়।

মেয়ে ছোট বিধায় মেয়ের বাবা-মা বিয়েতে রাজি হয়নি। এতে আলী আকবর বেপারী ও তার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। এ নিয়ে তারা বিভিন্ন সময় কিশোরীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল।

মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরী বাসা থেকে একটি কবিরাজি চিকিৎসার বই নিয়ে মনোহর বাজার মোড়ে তার বাবার কাছে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে আলী আকবর বেপারীর বখাটে ছেলে জাকির হোসেন বেপারী এবং তার দুই সহযোগী এমদাদুল বেপারী ও আসাদুল বেপারী কিশোরীকে জোর করে ধরে নিয়ে একই গ্রামের দাদন বেপারীর ঘরের ভিতরে উপর্যুপরি গণধর্ষন করে।

বাড়ি থেকে মেয়েটি তার বাবার কাছে যেতে দেরী দেখে তার বাবা বাড়ির দিকে এগোতে থাকলে মেয়েটির আর্তচিৎকার শুনতে পান। তিনি ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলে বখাটে জাকির ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।
এ সময় কিশোরী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। কিশোরীর বাবা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে অজ্ঞান অবস্থায় সদর হাসপাতাল ভর্তি করে। খবর পেয়ে পালং মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চারজনকে আসামী করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
পুলিশ রাতেই ঘটনার মূল হোতা জাকির বেপারী, আসাদুল বেপারী ও এমদাদুল বেপারীকে গ্রেফতার করেছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর