২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭
রাত ৩:৩০, শুক্রবার

রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহী ট্রাক খাদে, নিহত ৯

রোহিঙ্গাদের ত্রাণবাহী ট্রাক খাদে, নিহত ৯ 

855

বান্দরবান, ২১ সেপ্টেম্বর : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নয়জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরও ১০ জন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা বড় ছনখোলা অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার পথে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সোলতান আহমদ (৩৭), সুরুত আলম (৪৫), নুরুল আবছার (২৫), জলিল আহমদ (২৬), বাবুল (১৬), সুদর্শন বড়ুয়া (৫০), ছৈয়দুল আমিন (২৬), আবদুল্লাহ (২৮), মামুনুল হাকিম (২৫)। নিহতরা সবাই নাইক্ষ্যংছড়ির ১, ২, ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় শ্রমিক ছিলেন।

রেড ক্রিসেন্টের জেলা সেক্রেটারি এ কে এন জাহাঙ্গীর বলেন, ট্রাকটি ছাখদালা সীমান্তের বড় শনখোলায় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বিতরণের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল। ত্রাণ কাজ পরিচালনার জন্য মালবাহী ট্রাকটিতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক ছিলেন। পথে ছাখদালা সীমান্ত চৌকির কাছে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। তখন ট্রাকটি রাস্তা থেকে উল্টে পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশংকাজনক বলে জানান তিনি।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস. এম সরওয়ার কামাল জানান, দুর্ঘটনাস্থলে নিহত ব্যক্তিদের লাশ এখনো রয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

স্থলমাইন বিস্ফোরণে ফের রোহিঙ্গা যুবক নিহত 

895223

বান্দরবান, ১২ সেপ্টেম্বর : বান্দরবান সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে মোস্তাক আহম্মদ (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় তার স্ত্রী নুর আয়েশা (২২) আহত হন।

জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জামছড়ির গর্জনতলী সীমান্তে সোমবার রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দম্পতি কাঁটাতারের বেড়া পার হতে গেলে স্থলমাইনের বিস্ফোরণ ঘটে।

এ নিয়ে গেলো এক সপ্তাহে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে নারীসহ সাতজন নিহত ও তিনজন আহত হলেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল জানান, চার সদস্যের ওই পরিবারটি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় স্থলমাইন বিস্ফোরণ হয়।

এতে মোস্তাক আহম্মদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে অন্য রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে রাতেই গর্জনতলী সীমান্তে দাফন করেন। আর তার স্ত্রী নুর আয়েশাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

বিজিবি ৩১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ারুল আজিম জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেনো আর ফিরে যেতে না পারে সে জন্য তারা কাঁটাতার ঘেঁষে স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ রোহিঙ্গা নিহত 

DM-ST-87-01574

বান্দরবান, ১০ সেপ্টেম্বর : বান্দরবান সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ফের স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মিয়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন রেজু আমতলি ও তুমব্রু সীমান্তে শনিবার রাত ও রোববার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা নারী ও তিনজন আহত হয়েছিলেন।আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সীমান্তের তারকাঁটা ঘেষে মিয়ানমার সরকারের বিপুল সংখ্যক স্থলমাইন ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখার কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে।

বান্দরবানের ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে রেজু অমতলি সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে স্থলমাইন বিস্ফোরণ হলে ৩ রোহিঙ্গা নিহত ও একজন আহত হন। সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবদুল করিমকে চিকিৎসার জন্য উখিয়া হাসপাতালে আনা হলেও লাশগুলো ওপারের জিরো লাইনেই পড়ে রয়েছে।

এই দুই জনপ্রতিনিধি আরও জানান, রোববার ভোরে তুমব্রু সীমান্তের বাংলাদেশ-মিয়ানমার ৩৭-৩৮নং পিলারের মধ্যস্থানে স্থলমাইন বিস্ফোরণের অন্য ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়েরের ছেলে মো. হাসান (৩২) আহত হন।

তারা জানান, ভোরে ঘুমধুমের তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে হাসান গরু আনতে গেলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পুতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে তার একটি পা উড়ে গেছে এবং চোখেও আঘাত লেগেছে।

এ সময় আতা উল্লাহ নামের অপর এক রোহিঙ্গা যুবকও আহত হন। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করেন। বর্তমানে তারা উখিয়া কুতুপালং ইউএনএইচসিআর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির কর্মকর্তরা স্থলমাইন বিস্ফোরণে হতাহতের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তারা বিস্তারিত কিছু জানানিন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীমান্তে অপেক্ষায় হাজারো রোহিঙ্গা 

rohinga_3

বান্দরবান : দুই দিন ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তের জলপাইতলি এলাকায় ত্রিপল টানিয়ে থাকছে কয়েক শ রোহিঙ্গা। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ওই রোহিঙ্গাদের ঘিরে রেখেছেন। তবে তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ঢুকেছে। উখিয়ার অনিবন্ধিত বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরের (ক্যাম্প) সভাপতি মোহাম্মদ হারুন এ প্রতিবেদককে বলেন, শনিবার রাতে শুধু তাঁদের শিবিরেই মিয়ানমার থেকে নতুন
করে আসা ১০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হাজারো রোহিঙ্গা অপেক্ষা করছে। সুযোগ পেলে তারা বাংলাদেশে ঢুকবে। তিনি বলেন, রবিবার দুপুরে উখিয়ার পানবাজার এলাকায় অন্তত ৩০০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ ও বিজিবি। তাদের হয়তো মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।

এদিকে গুলিবিদ্ধ আরও চার রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকেছে। তাদের মধ্যে এক শিশু ও এক কিশোর রয়েছে। রবিবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় তারা। এ নিয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচ। এর আগে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া গুলিবিদ্ধ দুই রোহিঙ্গার একজন মারা যায়।

রবিবার ভর্তি হওয়া চারজন হলেন মো. ইদ্রিস (১০), মো. তোহা (১৬), মো. ইলিয়াস (২০) ও মো. জিয়াবুল (২৭)। তোহার গলায় এবং অন্যদের মাথায় গুলি লেগেছে। শুক্রবার রাতে মিয়ানমারের মংডুর সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন। এরপর শনিবার ভোরে সীমান্ত পেরিয়ে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুবপালং রোহিঙ্গা শিবিরে তাঁরা আশ্রয় নেন।

আহত ইদ্রিসের বাবা মো. রশিদ বলেন, শুক্রবার রাত নয়টায় গুলি চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গুলিবিদ্ধ ছেলেকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করলেও তাঁর স্ত্রী এবং বাকি চার সন্তান মিয়ানমারে।

সীমান্ত পরিস্থিতি দেখতে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন রবিবার দুপুরে ঘুনধুম ও তুমব্রু এলাকায় যান। ঘুনধুম সীমান্তচৌকিতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে বিশ্বাসী। সীমান্তে সাময়িক কিছু সমস্যা হয়েছে। এতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না। মিয়ানমারের যে সমস্যা তা কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সমাধান করা জরুরি। মিয়ানমারের উচিত তার দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া।

বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতিতে কোনো গোলা-বারুদ বাংলাদেশের ভেতরে পড়েনি। যদি আঘাত আসে তাহলে এর উচিত জবাব দেওয়া হবে। মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তের পাহারা আরও জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির মহাপরিচালক ঘুনধুম থেকে তুমব্রু সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের অধিনায়ক কর্নেল আনিসুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত শনিবার ঘুনধুম সীমান্তের ওপারে ঢেঁকিবনিয়া এলাকায় প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ভয়ে রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও বয়স্ক লোকজন সীমান্তের দিকে ছুটে আসতে থাকে।

তবে ঘুনধুম সীমান্তে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা পরিস্থিতি শান্ত হলে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলে জানান সেখানকার বিজিবির কর্মকর্তারা।

রবিবার ভোরে নাফ নদী পেরিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে ঢোকেন রোহিঙ্গা নারী লায়লা বেগম। তাঁর বাড়ি মিয়ানমারের মংডুর ফাতংজা গ্রামে। একমাত্র শিশুকন্যা নুর নাহারকে নিয়ে তিনি দুপুরে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা বস্তির নূর আহমদের ঘরে আশ্রয় নেন।

লায়লা বেগম বলেন, মিয়ানমারের সেনাসদস্যরা তাঁদের গ্রামে ঢুকেই গুলি করতে থাকে। তখন তাঁর স্বামী আমির হোসেন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি প্রাণভয়ে মেয়েকে নিয়ে ঘর ছাড়েন। তাঁর স্বামী কোথায় আছেন, তিনি জানেন না।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ৯১ জন রোহিঙ্গাকে আটকের পর মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের এ প্রতিবেদককে বলেন, শনিবার রাত নয়টার দিকে নারী-শিশুসহ ৭১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। পরে রাত একটার দিকে উখিয়া সীমান্তের দায়িত্বে থাকা বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকা থেকে ২০ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেন তাঁরা। পরে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। সূত্র : প্রথম আলো।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ, সতর্ক বিজিবি 

01

বান্দরবান, ২৭ আগস্ট : বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুনধুম-তুমব্রু সীমান্তে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে ঘুনধুম সীমান্তের কাছাকাছি মিয়ানমারের ভূখণ্ডে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। শত শত রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে ‘নোম্যানস ল্যান্ডে’ অবস্থান নেওয়ায় মিয়ানমার পক্ষ আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে সীমান্ত-সংলগ্ন তুমব্রু বাজারের কাছাকাছি এলাকায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এক দফা গুলি ছুড়েছে। সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মফিদুল আলম এ কথা জানান।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো মর্টার শেল পড়েছে কি না, খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির আওয়াজ শোনা গেছে এবং ঘুনধুম সীমান্তে এখন কয়েক হাজার নারী-শিশু জড়ো হয়েছে।

ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বিকেল চারটার দিকে ঘুনধুম সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়া বাজার ও উত্তর ঢেঁকিবনিয়া এলাকায় প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়।

গোলাগুলির সময় ঢেঁকিবনিয়ার দিক থেকে শত শত রোহিঙ্গা নারী-শিশু সীমান্তের দিকে চলে আসতে থাকে। রোহিঙ্গারা প্রথমে ঘুনধুম সীমান্তচৌকি-সংলগ্ন প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ের মৈত্রী সেতু দিয়ে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। পরে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ঢোকার চেষ্টা করে।

সীমান্ত-সংলগ্ন তুমব্রু বাজার কমিটির সভাপতি তাহের বলেন, সীমান্তে জড়ো হয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের আতঙ্কিত করতে বিজিপি সকালে গুলি ছুড়েছে।

সীমান্ত পরিদর্শনে যাওয়া ম্যাজিস্ট্রেট মফিদুল আলম বলেন, বিজিপির ছোড়া তিনটি গুলি তুমব্রু বাজারে এসে পড়েছে। তবে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিজিবির ঘুনধুম সীমান্তচৌকির অধিনায়ক নায়েব সুবেদার রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তে জড়ো হয়ে রয়েছে।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন অধিনায়ক কর্নেল আনিসুর রহমান বলেন, ঘুনধুম সীমান্তের ওপারে কিছু সমস্যা হওয়ায় কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা সীমান্তে জড়ো হয়েছে। কিন্তু কাউকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সীমান্তে আরও জনবল বাড়ানো হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি। -প্রথম আলো

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ফের পাহাড়ধসে স্কুল শিক্ষিকা নিহত, নিখোঁজ ৫ 

844

বান্দরবান, ২৩ জুলাই : বান্দরবানে ফের পাহাড় ধসের ঘটনায় স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা চিংমে মারমা (২০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় রুমা উপজেলা পোস্টমাস্টার জাবিউল আলমসহ পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

আজ রবিবার সকালে বান্দরবান-রুমা সড়কের দৌলিয়ান পাড়া এলাকায় (রোয়াংছড়ি উপজেলাভুক্ত) এ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়,রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বান্দরবান জেলা সদর থেকে প্রায় ২৬ কিমি. দূরে দৌলিয়ানপাড়া এলাকায় যাত্রীরা পারাপারের সময় সড়কের মোড়ে থাকা একটি পাহাড়ের অংশ ধসে  পড়ে। এসময় তিন নারী,রুমা উপজেলা পোস্ট মাস্টারসহ ছয়জন যাত্রী নিখোঁজ হন। পরে চিংমে মারমার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ওই সড়কের নির্মাণ কজে নিয়োজিত সেনা প্রকৌশল বিভাগের পিকআপ চালক সেনাসদস্য ছালেক জানান, ওই স্থানটি পাহাড়ধসের বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। মাত্র দুইদিন আগে একই এলাকায় তিনি অল্পের জন্যে প্রাণে রক্ষা পান পাহাড়ধসের মাটি চাপা থেকে।

সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা ওয়ারেন্ট অফিসার নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, গত একমাস ধরেই সেনাবাহিনীর নির্মাণ প্রকৌশল বিভাগের সেনা সদস্যরা পাহাড়ধসের মাটি সরানোর কাজে নিয়োজিত থাকায় সেই স্থান দিয়ে পারাপার নিষিদ্ধ করে সাইবোর্ডও দিয়েছে। তবু ওই স্থানের দুইপাশে বান্দরবান এবং রুমা থেকে যাত্রীবাহী বাস জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছিল।

তিনি জানান, রুমা উপজেলা পোস্টমাস্টার জাবিউল আলম, স্বাস্থ্য সহকারী মুন্নি বড়ুয়াসহ আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন।

সেনাসদস্য ও নির্মাণ শ্রমিকরা ঘটনার পরপরই তিনজন বাস যাত্রীকে দ্রুত উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। তাদের একজনের নাম হচ্ছে উথোয়াই মারমা (৩০)। অপর দুইজনের নাম জানা যায়নি।

এদিকে বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য, পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর সদস্যরা যৌথ উদ্ধার কাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকেই বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া ফলে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

রোববার বিকলে বান্দরবান-রুমা সড়কের নির্মাণ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার জানান, সেনা সদস্যরা বিভিন্ন সরকারি বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।

রুমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান লালসিয়াম বম বলেন, বান্দরবান-ওয়াইজংশন-রুমা সড়কের প্রায় ৩০ কিমি সড়কপথ এলাকা যানবাহন চলাচলেল ক্ষেত্রেই খুবই বিপজ্জনক। এ সড়কের নানাস্থানে পাহাড়ধসের মাটি চাপা পড়ে গত ১২ জুন থেকে টানা একমাস সড়কপথ বন্ধ ছিল।

ঘটনার পরপরই দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি,সেনা রিজওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ যোবায়ের সালেহীন,সদর সেনা জোন কমান্ডার লে.কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বান্দরবানের ২ যুবক অপহৃত, মুক্তিপণ দাবি 

588

বান্দরবান, ১০ জুলাই : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী-ঈদগড় সড়কে দুই যুবককে অপহরণের ৪৫ ঘণ্টা পর স্বজনদের কাছে মুঠোফোনে ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা। রবিবার বিকালে একটি গ্রামীণ নম্বর থেকে এ মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

অপহৃত নুরুল আমিনের বড় ভাই শফিকুল ইসলাম জানান, রবিবার বিকালের দিকে একটি গ্রামীণ নাম্বার (০১৭৭৮-৯৬২৬৪৬) থেকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পুনর্বাসন পাড়ার বাসিন্দা জনৈক মুসলিম গাজীর মুঠোফোনে মুক্তিপণের খবর দেয় অপহরণকারীরা। পরে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করলে তারা অপহৃত দুজনকে পেতে চাইলে ছয় লাখ টাকা দিতে হবে বলে জানায়।

এদিকে রামু থানা, বাইশারী তদন্ত কেন্দ্র, ঈদগড় পুলিশসহ নাইক্ষ্যংছড়িস্থ ৩১ বিজিবি অপহৃতদের উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) আবু মুসা বলেন, মুক্তিপণের বিষয়ে স্বজনদের কাছ থেকে কোন ধরনের তথ্য প্রশাসনকে জানানো হয়নি। তবে অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সড়কের অলিরঝিরি নামক স্থান থেকে সাদ্দাম এবং নুরুল আমিনকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩০ 

91

বান্দরবান, ১৪ জুন : দুইদিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত চার সেনা সদস্যসহ ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

মৃতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশষ খবর অনুযায়ী রাঙামাটিতে ৭৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭ এবং বান্দরবানে ৭জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত পাহাড়ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা। সন্ধ্যার পর উদ্ধার করা হয় আরও কয়েকজনকে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রবিবার থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলাগুলোতে চলছে ভারি বৃষ্টিপাত। পাহাড়ি ঢলে সোমবার রাতে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়লে চট্টগ্রামের সঙ্গে রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরই মধ্যে বৃষ্টির পানিতে মাটি সরে গেলে সদর উপজেলাসহ রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায় পাহাড় ধস ও গাছচাপার এ ঘটনা ঘটে।

টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ৭৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি শহরে ২৪ জন, শহরের পাশে মানিকছড়ি এলাকায় চার সেনা সদস্য, কাউখালী উপজেলায় ২৮ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১৫ জন ও বিলাইছড়ি উপজেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। জেলার সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, পাহাড়ধসে রাঙামাটি শহরে ৭৬ জন মারা গেছেন। মানিকছড়ি এলাকায় মারা গেছেন চার সেনা সদস্য। এর মধ্যে সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন তানভীরের মরদেহ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এসেছে। এ ছাড়া আরও তিন সেনাসদস্য এখানে ভর্তি হয়েছেন।

সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভোরে রাঙামাটির মানিকছড়িতে একটি পাহাড় ধসে মাটি ও গাছ পড়ে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে রাঙামাটি জোন সদরের নির্দেশে মানিকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল উক্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। উদ্ধার কার্যক্রম চলার সময় আনুমানিক বেলা ১১টায় উদ্ধার কার্যস্থল সংলগ্ন পাহাড়ের একটি বড় অংশ উদ্ধারকারী দলের ওপর ধসে পড়লে তারা মূল সড়ক থেকে ৩০ ফুট নিচে পড়ে যান। পরে একই ক্যাম্প থেকে আরও একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজন সেনা কর্মকর্তাসহ চারজন সেনাসদস্যকে নিহত এবং ১০ জন সেনাসদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বান্দরবানে পাহাড় ধসে ৬ জনের মৃত্যু 

2

বান্দরবান, ১৩ জুন : ভারী বর্ষণে বান্দরবানে পাহাড় ধসে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার রাত ২টার দিকে জেলার কালাঘাটা, আগাপাড়া ও জেলেপাড়ায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা স্বপন কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী।

মঙ্গলবার ভোরে জেলার কালাঘাটা, আগাপাড়া ও জা্ইল্যাপাড়ায় ভারি বর্ষণের পর পাহাড় ধসের এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রেবি ত্রিপুরা (২৪), লতা বড়ুয়া (৭), মিতু বড়ুয়া (৫), শুভ বড়ুয়া (৪), কামরুন নাহার (৪০) ও সুপ্রিয়া বেগম (৮)।

এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকজন। তারা হলেন- পসান ত্রিপুরা (২২), বীর বাহাদুর ত্রিপুরা (১৬) ও দুজাকিন ত্রিপুরা (২৬), জাইল্লাপাড়ার কামরুন্নাহার ও তার মেয়ে সুফিয়া (২০)।

শহরের কালাঘাটা কবরস্থান এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ২০ ফুট লম্বা একটি কাঁচাঘরের এক-চতুর্থাংশ মাটির নিচে চাপা পড়েছে।

ওই বাড়ির মালিক মাহমুদ মিয়া জানান, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ পাহাড় ধসে তাদের কাচাঘরটি একাংশ চাপা পড়ে। এত রেবির মৃত্যু হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

নিজের মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে কনস্টেবলের গুলি 

111

বান্দরবান, ৩১ মার্চ : বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রে এক পুলিশ কনস্টেবল নিজের মাথায় রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি করেছেন।

আজ শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে তদন্ত কেন্দ্রের ভেতরেই এ ঘটনা ঘটে বলে লামা সার্কেলের এএসপি ভূঁইয়া মাহবুব হাসান জানিয়েছেন। তুষার নমের ২৬ বছর বয়সী ওই পুলিশ সদস্যকে কক্সবাজার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। গুলিতে তার মাথায় যে ক্ষত তৈরি হয়েছে তাতে তার বাঁচার আশা দেখছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

এসএসপি ভূঁইয়া মাহবুব বলেন, তুষারের বাড়ি চট্টগ্রামে। গত কিছুদিন ধরে তিনি ঘুমধুম তদন্ত কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমি শুনেছি সে হতাশায় ভুগছিল। আজ আকস্মিকভাবে নিজের সার্ভিসের রাইফেল মাথায় ঠেকিয়ে সে ট্রিগার টিপে দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে এর বেশি তথ্য জানাতে পারেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লামায় বৃদ্ধ দম্পতি খুন 

leig0bq8-copy

ঢাকা, ২৫ মার্চ : বান্দরবানের লামায় বৃদ্ধ এক দম্পতিকে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছার মারমা অধ্যুসিত ছোট পাড়া এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তারা হলেন, ক্যহ্লাচিং মারমা(৭০) ও চিংহ্লা মে মারমা (৬৫)।

তাদের কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

নিহতদের ছেলে মংক্যহ্লা মারমা জানান, তারা তিন ভাই, তিন বোন। সবাই আলাদাভাবে থাকেন। বাবা- মা একাই থাকেন। সকালে ভাত রান্না করতে এসে তার স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় বাবা-মাকে দেখতে পায়। পরে চিৎকার করলে আশপাশ বাড়ির লোকেরা ছুটে আসে। পরে তারা দেখতে পায় বাবাকে গলা কেটে ও মায়ের বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়।

তিনি বলেন, বাবার ইয়াংছা ছোট পাড়ায় জমি রয়েছে। তবে জমি নিয়ে ভাই-বোন কিংবা অন্যদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই। কী কারণে বাবা-মাকে খুন করা হলো তা বুঝতে পারছি না।

ইয়াংছা ছোট পাড়ার প্রধান (কার্বারি) অংশৈপ্রু মার্মা বলেন, ওই দম্পতির সঙ্গে কারও শত্রুতা আছে এমন জানা নেই। এলাকায় সবার সঙ্গে তাদের সুসর্ম্পক ছিল। কেন তাদের এভাবে খুন করা হলো তা বুঝতে পারছি না।

লামা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ক্যহ্লাচিং মারমাকে গলা কেটে তার স্ত্রী চিংহ্লা মে মারমাকে বুকে ও পেটে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা যায়নি।

জেলা পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সাংবাদিকদের বলেন, দম্পতি হত্যার কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে।

হত্যার সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরে ১৩ মে এক বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ৩০ জুনে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে একইভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা 

3958

বান্দরবান, ২৫ মার্চ : বান্দরবানের লামা উপজেলায় ঘরে ঢুকে এক দম্পতিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা ছোট পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ক্যহ্লাচিং মার্মা (৭৫) ও তার স্ত্রী চিংহ্লানি মার্মা (৫০)। ক্যহ্লাচিং মার্মা ইয়াংছা ছোট পাড়ার বাসিন্দা ও মৃত মংছাচি মার্মার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে এই দম্পতি প্রতিদিনের মতো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাদের গলা কেটে হত্যা করে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে পালিয়ে যায়।

লামা থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বাল্য বিবাহ ঠেকাতে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা 

বান্দরবান, ২৪ ডিসেম্বর : লামার গজালিয়া ইউনিয়নের সাপমারা ঝিরি এলাকায় বাল্য বিবাহ ঠেকাতে ১৩ বছরের এক মাদ্রাসার ছাত্রী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শনিবার বিকালে বসতঘরের ছাদের বিমের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ইয়াছমিন আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

লামা থানার পুলিশের পরিদর্শক জাহেদ নুর আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মাদ্রাসার ছাত্রীর মা শফিকা বেগম(৩৯) জানিয়েছেন, তিন ভাই বোনের মধ্যে ইয়াছমিন ২য় সন্তান। পরিবারের একমাত্র কন্যা সন্তান সে। সে লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে সপ্তম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। শুক্রবার সকালে লামা পৌরসভার টিটিএন্ডডিসি এলাকার আমির হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেনের সাথে বিবাহ দেয়ার জন্য প্রস্তাব নিয়ে ৩জন তাদের বাসায় যায়। এসময় মেয়ের মা শফিকা বেগম বাড়িতে ছিলেননা। বাড়িতে এসে বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টি জানতে পারেন।

নিহত ইয়াছমিন আক্তার বিয়ের প্রস্তাবের খবর শুনে প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে শনিবার বিকেলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তার পিতা নুর মোহাম্মদ রাঙ্গামাটিতে ও বড় ভাই মোঃ ইসমাইল হোসেন চট্টগ্রামে দিনমজুরের কাজ করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

লামায় গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন ২ অপহরণকারী নিহত 

33

চট্টগ্রাম, ২ নভেম্বর : বান্দরবানের লামায় গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন দুই অপহরণকারী নিহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি পুলিশ।

বুধবার ভোর রাতে উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম বগাবিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। তাদের বয়স ৩৫ থেকে ৪০ বছর হবে।

ওসি জানান, ঘটনাস্থলে লাশের সুরতহাল সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।

ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন মজুমদার জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড হারগাজা ফকিরখোলা এলাকা থেকে ৪ জনকে অপহরণ করা হয়।

অপহৃতরা হলেন- মাইনুর আলম (৩৭), জাবের আহমেদ (৩৩), মো. জহির (৪০) ও কালা পুতু (৩৫)।

তিনি জানান, পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা অভিযান চালিয়ে রাত ১১টার দিকে দুর্গম বগাবিল এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে।

অপহৃতদের মধ্যে জাবের আহমেদ নামের একজন গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, ভোর রাতের দিকে বগাবিল এলাকায় সন্দেহভাজন দু’জনকে দেখে স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া দিয়ে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলে তারা মারা যায়।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

বান্দরবানে রাবার বাগানের ৩ প্রহরী অপহৃত 

43

বান্দরবান, ২৩ অক্টোবর : জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন থেকে রাবার বাগানের তিন প্রহরীকে অপহরণ করা হয়েছে।

শনিবার রাত ১০টার দিকে বাইশারীর পিএইচপি গ্রুপের ৮নং রাবার বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, পিএইচপি গ্রুপের ৮নং রাবার বাগানের প্রহরী আজিজুল হক, নুরুল ইসলাম ও আবদুল শুক্কুর বাগানের ফ্যাক্টরির ভেতরে শুয়ে থাকা অবস্থায় কিছু উপজাতীয় দুর্বৃত্ত তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে আজিজুল হকের বড় ভাই আবদুল হামিদ জানান, অপহরণের পর তাদের মোবাইল থেকে ফোন করে প্রত্যেকের জন্য তিনলাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরকারীরা।

বাইশারী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মুছা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলতে পারব।”

Share This:

এই পেইজের আরও খবর