১৮ আগস্ট ২০১৭
বিকাল ৪:৪৪, শুক্রবার

ভাস্কর্যে দুর্নীতি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, কুবি শিক্ষককে নোটিশ

ভাস্কর্যে দুর্নীতি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, কুবি শিক্ষককে নোটিশ 

5666

কুবি, ১০ আগস্ট : সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং শিক্ষক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার ওই নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে দুর্নীতি, দায়সারাভাবে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করে গত ৩১ জুলাই ওই শিক্ষক ফেসবুকে তাঁর ব্যক্তিগত প্রোফাইলে স্ট্যাটাস দেন। এ অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণাদিসহ লিখিত বক্তব্য রেজিস্ট্রারের কাছে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘স্বয়ং উপাচার্যই বলেছেন, ভাস্কর্য নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আমি এর পরিপ্রেক্ষিতেই ফেসবুকে লিখেছি। আর প্রথমে যদি মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করা হতো, তাহলে আগের ভাস্কর্য সরিয়ে নতুন করে কেন বসানো হলো? উপাচার্যের দমনমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘উপাচার্যের নির্দেশমতো এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষকের কাছে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তিনি তা উপস্থাপন করবেন।’

এদিকে শিক্ষককে নোটিশ দেওয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কুবি শিক্ষক সমিতি ও বঙ্গবন্ধু পরিষদ। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘উপাচার্য খামখেয়ালিপনায় মেতে উঠেছেন। শুধু ওই শিক্ষকের নয়, শিক্ষক সমিতির কথাই ছিল যে ভাস্কর্যে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে, যার ফলে ত্রুটিপূর্ণ ভাস্কর্য সরিয়ে নতুনভাবে বসানো হয়েছে।’

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংকুচিত জায়গায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। পরে শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ প্রতিবাদ জানালে ভাস্কর্য সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের শিল্পী মৃণাল হক মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকাজ শুরু করার সময় ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের পরিচয় দিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। ভাস্কর্য নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ থাকায় তা সরিয়ে নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে।’ -এনটিভি অনলাইন

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

ধর্ষনের অভিযোগে বখাটে যুবক আটক 

00

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ৯ আগস্ট : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার ভবানিপুর দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রীকে(১২) প্রেমের ফাদেঁ ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ অতপর অন্তসত্বা হলে গর্ভপাত করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক প্রেমিক রাসেল(২২) বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষিতার বাবা মো: জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় একটি মামলা করেন।

মঙ্গলবার রাতেই ধর্ষণের অভিযোগে মুরাদনগর থানার এসআই আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে আটক করে। ধর্ষক উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে রাসেল(২২)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতারণার শিকার (কিশোরী) ও প্রতারক প্রেমিক রাসেল দু’জনই উপজেলার ভবানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। রাসেল বিভিন্ন ভাবে প্রলোবন দেখিয়ে প্রায় দুই বছর পূর্বে মাদ্রাসার ছাত্রীকে প্রেমের ফাদেঁ ফেলে এবং প্রতারনার মাধ্যমে মেয়েটির সাথে শারীরিক সর্ম্পক গড়ে তুলে। রাসেল কিশোরীটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বারবার ধর্ষন করতে থাকে। এরই মধ্যে সে অন্তসত্বা হলে রাসেল তাকে নানা যুক্তি পরার্মশ দিয়ে সন্তান নষ্ট করার জন্য ঔষধ সেবন করায়। ঔষধ সেবনের ফলে প্রতারণার স্বীকার কিশোরীটে অসুস্থ হয়ে পরলে গত সোমবার বিকেলে পরিবারের লোকজন তাকে মুরাদনগর  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে ডাক্তার মেয়েটি অন্তসত্বা বলে যানায় তার অভিভাকদের। পরে একটি মৃত ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় ঐ কিশোরী। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এঘটনার পর কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে প্রতারক রাসেলের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঐদিন রাতেই অভিযোক্ত ধর্ষককে আটক করে।

এব্যাপারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষক রাসেলকে আটক করে বুধবার দুপুরে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কনস্টেবল পারভেজের চেষ্টায় রক্ষা পেল অর্ধশত বাসযাত্রী 

882

কুমিল্লা, ৮ জুলাই : এক দুইজন নয়। অন্তত ২০ থেকে ২২ জন যাত্রীর জীবন বাঁঁচিয়েছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানির নিচ থেকে তাদের উদ্ধার করেছেন। তার এই কাজের জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক স্কুল থেকে আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অনেকে তার পদোন্নতির ও রাষ্ট্রীয়ভাবে এ কাজের স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছেন। অনেকেই তাকে নিয়ে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তিনি হলেন হাইওয়ে পুলিশ কনস্টবল পারভেজ।

জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডের পার্শ্ববর্তী ডোবায় পড়ে যায় ঢাকা থেকে মতলবগামী অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে মতলব এক্সপ্রেস বাসটি। উপস্থিত লোকজন যখন দাঁড়িয়ে  দুর্ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করছিলেন, তখন গৌরীপুরে দায়িত্বরত দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার কনস্টেবল পারভেজ মিয়া মহানায়কের মতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা ডোবার পানিতে তাৎক্ষণিক লাফিয়ে পড়েন। তিনি প্রথমে দ্রুত গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন। এতে করে সহজে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরিয়ে আসতে পারেন।

গ্লাস ভেঙে দ্রুত পানির নিচে গাড়ির ভেতর গিয়ে বের করে আনেন সাত মাসের এক শিশুকে। গাড়ির ভেতর আটকা পড়া পাঁচ নারীসহ ২০ থেকে ২২জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন তিনি নিজেই।

পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। সংবাদ পেয়ে একে একে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পেন্নাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, ‌‘গাড়িটি ডোবায় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল পারভেজ মিয়া দ্রুত লাফিয়ে পড়েন পানিতে। তিনি প্রথমে গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন যাতে করে ভেতরে আটকা পড়া যাত্রীরা সহজে বের হতে পারে। তাতে তিনি থেমে থাকেননি। পানির নিচে গাড়ির ভেতর থেকে বের করে আনেন সুস্থ সবল সাত মাসের এক শিশুকে। তার বুদ্ধিবলে রক্ষা পায় বহু প্রাণ।’

স্থানীয়রা জানায়, দুর্ঘটনার সঙ্গেসঙ্গে যেভাবে পারভেজ ঝাপিয়ে পড়ে যাত্রীদের উদ্ধার করেন তা অবিশ্বাস্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পচা ও গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে ডুবে তাৎক্ষণিক যাত্রীদের উদ্ধারের ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পারভেজের এ বীরত্বের জন্য উপস্থিত হাজারো মানুষ তাকে তথা পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায়। তারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মোবাইল ক্যামেরায় পারভেজের ছবি তুলতে।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে পারভেজের বীরত্বপূর্ণ কাজ ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। ফেসবুকে অনেকেই পারভেজের এ কাজের জন্য তার পদোন্নতি, কেউবা আগামী পুলিশ সপ্তাহে তার পিপিএম পুরস্কারের দাবি জানান।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কনস্টেবল পারভেজ মিয়ার এ কর্মতৎপরতায় গর্বিত হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন। তার সাহসিকতায় কুমিল্লা রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ ১০ হাজার টাকা, স্থানীয় পেন্নাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পাঁচ হাজার টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার পরিতোষ ঘোষ জানান, যাত্রীদের জীবন বাচাতে আমাদের পারভেজ ঝুঁকি নিয়ে যা করেছে তা হাইওয়ে পুলিশ বিভাগের জন্য সত্যই প্রশংসনীয়। পুরস্কার দিয়ে কাজের মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। তবুও এ কাজের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি যাতে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে পান এ ব্যাপারে সুপারিশ করা হবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ধর্ষণ 

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ৫ জুলাই : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের ডালপা গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলমের প্রতিবন্ধী মেয়েকে(২৯) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই তরুণী ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ধর্ষনের অভিযোগে ধর্ষিতা বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা করেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডালপার গ্রামের হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধার প্রতিবন্ধী মেয়েকে বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের মৃত আনু মিয়ার ছেলে প্রতারক জানু মিয়া(৪৫) শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এত করে মেয়েটির শারীরিক পরির্বতন শুরো হলে পরিবারের লোকজন তাকে ডাক্তারের নিকট নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে ৫ মাসের অন্ত:সত্ত্ব কথা বলে। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় জানু মিয়া তাকে ধর্ষন করে। এতে মেয়েটির পরিবারর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েটিকে জানু মিয়াকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মিমাংসার কথা বলে বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ও পরিবারটিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে ধর্ষক। এমতা অবস্থায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি বাঙ্গরা বাজার থানাকে এযহার ভূক্ত করার নির্দ্দেশ প্রধান করে।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দ্দেশক্রমে মামলা এযহারভূক্ত করা হয়েছে। ধর্ষক পলাতক রয়েছে। তাকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মুরাদনগরে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী জব্দ, আটক ২ 

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ৪ জুলাই : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে প্রাইভেটকার বোঝাই ভারতীয় শাড়ী কাপড় জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ১টি প্রাইভেটকারসহ ২ জনকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন, জেলার কোতয়ালী থানার রতœবতী এ/পি-কাপ্তান বাজার এলাকার মাইন উদ্দিনের ছেলে ঈমন(২৮) ও একই থানার বিষ্ণুপুর গ্রামের আবুল কাষেমের ছেলে সোহেল(২৬)।

সোমবার গভীর রাতে মুরাদনগর-ইলেয়টগঞ্জ সড়কের ছালিয়াকান্দি নামক স্থানের রবি টাওয়ারের সামনে থেকে আটক করা হয়।

জানা যায়, মুরাদনগর-ইলেয়টগঞ্জ সড়ক দিয়ে অবৈধ মালের একটি চালান যাচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার এসআই আবুল কাসেমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ছালিয়াকান্দি গ্রামের রবি টাওয়ারের সামনে চেকপুষ্ট বসিয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়। এ সময় একটি কাভার ভ্যান (ঢাকা মেট্্েরা: গ-২৬-৯৮৯২) আটক করে তল্লাসী চালিয়ে গাড়ি বোঝাই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ী কাপড় জব্দ করে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান জানান, পুলিশ একটি প্রাইভেটকার থেকে ভারতিয় ২৩৫ পিছ শাড়ী কাপড় জব্দ করেছে। এসময় গাড়িটিসহ ২জনকে আটক করা হয়েছে। আটকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুমিল্লায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা 

935

কুমিল্লা, ১৯ জুন : কুমিল্লার তিতাসে সুমন মিয়া (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত সুমন ওই গ্রামের জালু মিয়ার ছেলে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে জেলার তিতাস উপজেলার বারকাউনিয়া গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

হামলায় তার ছোট ভাই সাইদুলও মারাত্মক আহত হয়েছে। তিতাস থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এখনো হত্যার কারণ জানা যায়নি।

তিতাস থানার ওসি নুরুল আলম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুমিল্লায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫ 

arrest

কুমিল্লা, ১৫ জুন : কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ৫ হাজার পিস ইয়াবা, ১ হাজার বোতল ফেন্সিডিল ও ২শ কেজি গাঁজাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আজ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মঞ্জুরুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়ারবাজার এলাকার শীতলিয়া রাস্তা মাথায় অভিযান চালায়। এসময় মো. নবীর হোসেন নবীর কাছ থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তার অপর ৪ সঙ্গীকে আটক করা হয়।

এদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা এসকল মাদকদ্রব্য গাড়িতে করে অন্যান্য জেলা পাঠানোর জন্য জড়ো করেছিল। তাদের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা হয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

এক ডাকাত নিহত, ৪ জন গুলিবিদ্ধসহ আটক ৬ 

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ১২ জুন : কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের বোড়ারচর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ-ডাকাতদলের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কামাল হোসেন (৩৫) নামের এক ডাকাত সদস্য নিহত, ৪ জনসহ গুলিবিদ্ধসহ ৬ ডাকাতকে আটক করেছে মুরাদনগর থানা পুলিশ। এসময় ২টি এলজিসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কের ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের বোড়ারচর এলাকার এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামাল হোসেন জাহাপুর গ্রামের ইউনুছ মিয়ার ছেলে।

আটককৃত ও গুলিবিদ্ধ ডাকাত সদস্যরা হলো, কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার খানে বাড়ী গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে ডাকাত সর্দার ফারুক, দাউদকান্দি উপজেলার পিপুরিয়াকান্দা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মহসিন, চাদঁপুর জেলার কচুয়া উপজেলার  রাজারামপুর গ্রামের দৌলত মিয়ার ছেলে জুলহাস, জাহাপুর গ্রামের মোশাররফ মিয়ার ছেলে শাহ পরান, চান্দিনা উপজেলার বসিদপুর গ্রামের মৃত চান মিয়া ব্যাপারীর ছেলে রুবেল মিয়া, শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার উত্তরখান গ্রামের মেহেরচান গাজীর ছেলে আলমগীর হোসেন।

জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে মুরাদনগর ইলিয়টগঞ্জ-সড়কের বোড়ারচর এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম বদিউজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবীবুর রহমানের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টেরপেয়ে সশস্ত্র ডাকাতদল পুলিশকে লক্ষ্যকরে গুলি ছুড়ে এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। পুলিশ এসময় ২৬রাউন্ড গুলি বর্ষন করে। পুলিশের গুলিতে সশস্ত্র ডাকাত দলের প্রধান ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী কামালসহ ৫জন ডাকাত সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। মোট সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশ ডাকাতদের কাছ থেকে ২ এলজি, চাইনিজ কুড়ালসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। গুলিবিদ্ধ ডাকাত সদস্যদের প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডাকাত সর্দার কামালের মৃত্যু হয়।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান জানান, গভীর রাতে বোরার চর ব্রিজের কাছে একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর পেয়ে টহল পুলিশসহ আমরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় সশস্ত্র ডাকাত দলের সঙ্গে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে ৫ডাকাত আহত হয় পরে চিকিৎসাধী অবস্থায় এক ডাকাত মারা যায়। ৪জন ডাকাত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুমিল্লায় ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চার প্রতারক আটক 

885

কুমিল্লা, ৫ জুন : কুমিল্লায় ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেটসহ চার প্রতারককে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে জেলার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকের বিষয়টি নিশ্চত করেছেন বুড়িচং উপজেলার দেবপুর ফাঁড়ির এসআই নাসির উদ্দিন।

আটক চার প্রতারক হলেন, ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট নারী মরিয়ম বেগম (৩২), ভুয়া ডিবি পরিদর্শক লিকন চন্দ্র ঘোষ (৩৪), ভুয়া সাংবাদিক ও পেশকার আবু ফয়েজ (২৯) ও গাড়িচালক শেখ ফরিদ (৩৫)। সবার বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার মাইজপাড়া গ্রামে।

দেবপুর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির জানান, আটকরা নিজেদের ম্যাজিস্ট্রেট ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে নিমসার বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নামে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। পরে তাদের আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে আনা হয়।

উপপরিদর্শক নাসির আরও জানান, আটকের সময় সোহাগ ও ইকবাল নামে দুই যুবক পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আটকরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অপরাধ তথ্যচিত্র নামের পত্রিকার কার্ড প্রদর্শন করে। তাদের কাছ থেকে আইডি কার্ড ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

তালাবদ্ধ দোকানে পুড়ে মরল শিশু 

035

কুমিল্লা, ৩ জুন : কুমিল্লায় একটি বাজারে আগুনে লেগে তালাবদ্ধ দোকানে আটকা পড়ায় নাজমুল হোসেন খোকন (১২) নামে এক শিশু দোকান কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় অগ্নিকাণ্ডে দেড়শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে।

শুক্রবার দিনগত মধ্যরাতে জেলার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর কাপড় বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত খোকন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ওই বাজারের ব্যবসায়ী আলী আহাম্মদের কাপড়ের দোকান থেকে রাত সোয়া ১২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় পৌনে চার ঘণ্টা চেষ্টার পর শনিবার ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে হার্ডওয়ার, জুয়েলারি ও কাপড় দোকানসহ ব্যবসায়ীদের অন্তত ৩০কোটি টাকার মালামাল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আগুনে ব্যবসায়ী আলী আহাম্মদের দোকান কর্মচারী নাজমুল তালাবন্ধ দোকানে আটকা পড়ায় বের হতে পারেনি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার জানান, কয়েলের আগুন থেকে ওই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পর আগুনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুমিল্লার মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার খুন 

588

কুমিল্লা, ১ জুন : ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে অবশেষে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার বাসা থেকে কুমিল্লার মুরাদনগরে আসার পথে যাত্রাবাড়ী এলাকার ধলপুর কমিউনিটি সেন্টারের অদূরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

খবর পেয়ে ওই ডেপুটি কমান্ডারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান নিহতের পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করে আসছিলেন। ইতোপূর্বে তিনি মুরাদনগর উপজেলার বেশ কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সচিবালয়সহ কেন্দ্রিয় কমান্ড কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

গত ১৯ মে শুক্রবার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউপির মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি ওই ইউনিয়নের বেশ কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদেরের সামনেই তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়।

পরে তিনি ৩ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ তাদের সন্তানদের বিরুদ্ধে গত ২২ মে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লার মুরাদনগরের উদ্দেশে তিনি বাসা থেকে বের হওয়ার পর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে দিদারুল আলম রিপন জানান, গত ১৯ মে তার বাবার উপর পরিকল্পিতভাবে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা করা হয়েছিল। তার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম ও প্রতিবাদ করে আসছিল।

সে আরও জানায় বেশ কিছুদিন যাবত মোবাইল ফোনে তার বাবাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে আসছিল দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার তার বাবাকে হত্যার পর তার সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা না নিলেও হাতের থাকা ব্যাগটি নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ওই ব্যাগটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন বেশ কিছু তথ্য কাগজপত্রসহ ভিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু আমলনামা ছিল।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাশেদা আক্তার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেলুল কাদের ছুটিতে আছেন। আগামী শনিবার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রমের দিন ধার্য করেছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিছুর রহমান জানান, ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা 

6

কুমিল্লা, ২৮ মে : কুমিল্লায় বন্ধুদের কোপে নিহত হয়েছেন স্থানীয় ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ছাত্রের নাম শাহজাদা (২০)। সে স্থানীয় ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে নগরীর সুজানগর এলাকার সহিদ মিয়ার ছেলে।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সোয়া ১০ টার দিকে শাহজাদার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত শাহজাদার সঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র সাফায়াতের বন্ধুত্ব ছিল। কিছু দিন যাবৎ তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। সন্ধ্যার দিকে নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকায় সাফায়াতসহ আরও ৩/৪ জন শাহজাদাকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহত শাহজাদাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমেক হাসপাতাল ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেয়ার পথে রাত সোয়া ১০ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কোতয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাহ উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত কারণ এখনো জানা যায়নি।

ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ব্যাগের সূত্র ধরে অর্পণ নামে এক ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সে নগরীর মডার্ন স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মুরাদনগরের দৌলতপুরে হারিয়ে যাচ্ছে নজরুল-নার্গিসের স্মৃতি 

0000

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ২৪ মে : মানবতা, সাম্য, দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সৃষ্টিতে এক অনন্য অধ্যায় কুমিল্লা মুরাদনগর উপজলোর কবর্তীথি দৌলতপুর। এখানইে নার্গিসের ভালবাসার আগুনের পরশমানিকের ছোঁয়ায় বেজেছিলেন নজরুলের ‘অগ্নীবিণা’। ১৯২১ সালে বন্ধু আলী আকবর খানের সঙ্গে দৌরতপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে আসেন কবি। এখানকার সবুজ-শ্যামল পরিবেশ কবিকে দারুণভাবে আচ্ছন্ন করে। এখানে কবি রচনা করেছেন বহু কবিতা, গান আর ছড়া। কিন্তু সেই দৌলতপুর আজও অবহেলিত ও উপেক্ষিত। এখানে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবির নামে হয়নি কোনো প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় কিছু সংঘঠন বিভিন্ন সময় কিছু দাবি নিয়ে আন্দেলন করের কোন প্রকার লাভ হয়নি। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে আগামী ২৫ মে বৃহস্পতিবার থেকে কবির ১১৮তম জন্মবার্ষিকী পালন শুরু হবে।

মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়ক ধরে সামনে এগোলেই দৌলতপুর গ্রাম। এ গ্রামে ঢুকতেই চোখে পড়বে ‘নজরুল তোরণ’। তোরণের দুই পাশে ইট-সিমেন্টের তৈরি কালো রঙের টুকরো টুকরো বোর্ডে সাদা কালিতে লেখা কবির পঙ্কিমালা। ওই পথ ধরে আধা কিলোমিটার এগোলেই খাঁনবাড়ি। যে বাড়িকে কেন্দ্র করে নজরুলময় হয়ে ওঠেন ভক্তরা। ওই বাড়ি আর গ্রাম দীর্ঘদিন থেকে পরিচিত হয়ে ওঠে নজরুল-নার্গিসের গ্রাম হিসেবে। এখানে রয়েছে আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়ি। এ বাড়িতেই কবি ছিলেন। এ বাড়ির পলেস্তারা খসে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না কোন সংস্কার। এ ভবনের পেছনে বাঁশঝাড় পার হলেই কবির বাসরঘর।

জানা যায়, ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কবির বাসরঘরটি আটচালা ছিল। পরে চৌচালা হলেও আয়তন ও ভিটির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। ওই ঘরেই ছিল নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুকটি। অযন্ত ও অবহেলার কারনে সে সিন্দুকটি এখন আর নেই। কোথায় আছে এখন তা আর ওই বাড়ির কেউই বলতে পারে না। একসময় ওই ঘরে বাসরখাটটিও ছিল। এখন সেটি পাশের একটি আধা পাকা ঘরে রাখা হয়েছে।

কবিপত্নী নার্গিস বংশের উত্তরসূরিরা জানান, এ বাড়ির পুকুরঘাটের আম গাছ তলায় কবি দুপুরে শীতলপাটিতে বসে গান ও কবিতা লিখতেন। খানবাড়ির ছেলেমেয়েদের নাচ, গান ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখাতেন। পুকুরের পানিতে সাঁতার কাটতেন। শখ করে পুকুরে জাল আর পলো দিয়ে মাছ শিকার করতেন। কবির ওই স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য দৌলতপুরে বানানো হয়েছে ‘নজরুল মঞ্চ’। প্রতিবছর কবির জন্মদিনে সেখানে জেলা প্রশাসন ও মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন সাদামাটাভাবে অনুষ্ঠান করে থাকে। এর বাইরে আর কিছুই এখানে হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, ওই মঞ্চে বছরের অধিকাংশ সময় গরু চরে। শিশুরা হামাগুড়ি দেয়। মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমিটির সভাপতি সৈয়দ রাজিব আহাম্মদ আক্ষেপ করে বলেন, ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির নামে অনেক কিছু হয়েছে। অথচ দৌলতপুরে কিছুই হলো না। কবি এখানে দুই মাস ১১ দিন ছিলেন। এখানে তিনি যৌবনে প্রেম ও বিয়ে করেছেন। অনেক কবিতা ও গান রচনা করেছেন। দৌলতপুরে কবির নামে বড় ধরনের কোনো স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জোর দাবি জানান।

রাজনীতিক ও মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহম্মেদ ফয়সাল বলেন, কবি নজরুলের নামে দৌলতপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ আলী আকবর খানের সুনিপুণ কারুকাজে শোভিত দ্বিতল বাড়িটিকে জাদুঘর বানিয়ে কবি পত্মী নার্গিসের ব্যবহার করা কাঠের সিন্দুক ও বাসরখাটটি সংরক্ষনের দাবি  জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর এখানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বড় ধরনের কোনো স্থাপনা, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, কোম্পানীগঞ্জ থেকে নবীনগর উপজেলা পর্যন্ত সড়কটি কবির নামে করতে চাই। একই সঙ্গে বাঙ্গরা বাজার থানা নজরুল-নার্গিস’র নামে করার উদ্যোগ নিয়ে মুরাদনগর উপজেলা আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রাজিব আহাম্মদ, মুরাদনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ তানভীর আহম্মেদ ফয়সাল, উপজেলা নজরুল নার্গিস স্মৃতি রক্ষা ফাউন্ডেশনের আহবায়ক মো: হুমায়ন কবির খান, নাঈম সরকার ও শেখ সজীব ওয়াজেদ জয় ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মো: গিয়াস উদ্দিন আল মাসুদের নেতৃত্বে স্ব-স্ব সংগঠনের পক্ষ্যে চলতি বছরের গত ১৯১৫ সালের ১৯ মে মুরাদনগরের উত্তরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন থানার নামকরনের দাবিতে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিলেন। আজও সেই দাবি গুলোর কোনটাই আদায় না হওয়ায় আমরাসহ স্থানীয়দের মাঝে হত্যাসা বিরাজ করছে।

এ অবস্থার মধ্য দিয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কবির ১১৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কাল ২৫ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় শুরু হবে ২ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। পরদিন ২৬ মে (মঙ্গলবার) সমাপনী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসক মো: জাহাংগীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এফবিসিআই এর সাবকে সভাপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এমপির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অতিরিক্তি সচিব ও ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, কুমিল্লা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল কাইয়ূম খসরু। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের। আলোচনা সভা শেষে সহস্র কন্ঠে কবিতা আবৃতি ’কান্ডারী হুশিয়ারী’ ও  কমেনোজ্ঞ সাংস্কৃতকি অনুষ্ঠানে মুরাদনগর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করবে। এতে দেশের নামকরা নজরুল গবেষক ও ভক্তরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ 

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ২০ মে : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলা সদরের সিএনজি ষ্ট্যান্ড থেকে অটোচালিত সিএনজির শরিফুল ইসলাম (২৪) নামে এক শ্রমিককে ঘাড়িতে করে উঠিয়ে নিয়ে মারধর করে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘঠেছে। এতে মুরাদনগর থানা পুলিশ বাসটিসহ চালককে আটক করে। এ ঘটনায় উপজেলা সদরে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ, মিছিল ও মানববন্ধন করে। এবং যান চলাচল বন্ধ রাখে। নিহত শ্রমিক উপজেলা সদর মধ্য পাড়ার মালু মিয়ার ছেলে। আটককৃত চালক বাবু ভূইয়া (২৮) তিতাস থানার ওইচারচর গ্রামে গ্রামের নূরুল ইসলাম ভূইয়ার ছেলে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার সময় উপজেলা সদর ইউনিয়নের ঘোড়াশাল গ্রামের জলিল মিয়ার বাড়ির পাশে মুরাদনগর-হোমনা সড়কে এ ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, জেলার হোমনা উপজেলা থেকে হোমনা সুপার (নারায়নগঞ্জ-জ-০৪-০১৮৮) নাম্বারের একটি বাস মাজার থেকে যাত্রি নিয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর হয়ে হোমনার উর্দ্দেশে যাচ্ছিল। এসময় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি মুরাদনগর-হোমান সড়কের সিএনজি ষ্ট্যান্ড অতিক্রম করার সময় ষ্ট্যান্ডে থাকা এশটি অটোচালিত সিএনজিকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিএনজির ড্রাইবার শরিফের সাথে কথা কাটা-কাটি হলে এক পর্যায়ে বাসে থাকা লোকজন শরিফকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়। এবং গাড়িতে থাকা লোকজন সকলে তাকে মারধর করে রাস্থায় ফেলে গাড়ি চাপা দেয় সড়ক দূর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। লাশ ফেলে বাসটি পালিয়ে যায়। স্থানীয় জনতারা দাওয়া করে হোমনা উপজেলার কাশিপুর বাজারে বাসসহ চালককে আটক করে পুলিশে দেয়। এ ঘঁনার খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এসআই আবুল কাষেমের নেতৃত্বে এক দল পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাল (কুমেকে) প্রেরণ করছে।

এ ঘঁনার প্রতিবাদ ও জরিতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদিন শ্রমিকরা সকল রোডে যান চলাচল বন্ধ রাখে। এবং দুপুরে উপজেলা সদরের দোয়েল চত্বরে  মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে ড্রাইবার শ্রমিক ইউনিয়ন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক পার্থ স্বারতি দত্ত, উপজেলা শেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান হেলাল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, ড্রাইবার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দিদারুল আলম, সহ-সভাপতি মোস্তফা, সাধার সম্পাদক সোহেল মিয়া, হোসেন, শাহজালাল, সুমন প্রমুখ।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, গাড়ি ও চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের পিতা মালু মিয়া বাদি করে মুরাদনগর থানায় এশটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর

মুরাদনগরে ডেপুটি কমান্ডার লাঞ্চিত 

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, কুমিল্লা, ২০ মে : কুমিল্লা মুরাদনগর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার ও সেনাবাহিনীর (অব:) সার্জেন্ট জাহাঙ্গীর আলম উপজেলায় ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার ছড়াছড়ি এমন মন্তব্য করায় লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলা কবি নজরুল মিলনায়তনে যাচাই-বাছাই কালে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধাগন জানায়, শুক্রবার অভিযোগ থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই করার জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল। মুক্তিযোদ্ধা হানিফ সরকারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের সহ ছয় সদস্যের মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে সাক্ষ্য গ্রহন চলাকালে এনামুল হক নামের একজন মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হওয়ার সময় অন্য অভিযুক্তরা এসে জাহাঙ্গীরকে কিল ঘুসি মেরে লাঞ্চিত করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এ সময় আহত জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সহ তার গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র হামলাকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ প্রহরায় সে ঘটনা স্থল ত্যাগ ত্যাগ করে। পরে অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধের বিরুদ্ধে আর কেউ স্বাক্ষ্য না দেওয়ায় যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি মুক্তিযোদ্ধাদের দুই এক বার ভাত খায়িছে এমন লোকদেরকেও তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করা হচ্ছে বলে একটি সুত্র জানায়। এ ঘটনার পূর্বমুহুর্তে একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশে সোপর্দ করে যাচাই-বাছাই কমিটি। এ ঘটনায় উল্লসিত হয়ে উঠে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা।
এ বিষয়ে যুদ্ধকালিন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো: গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ বলেন এ অনভিপ্রেত ঘটনায় আমরা মর্মাহত। উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তার সবগুলো অভিযোগ সত্য না হলেও প্রায় ৭০ভাগ সত্য। লাঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে তার বিরুপ আচরণও অনেকাংশে দায়ী।

লাঞ্চিত হওয়া মুকিতিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি ভূয়া মুকিযোদ্ধারে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আজ আমার উপওে হমলার ঠঁনা ঘটেছে। এঘটনার সুস্ঠ তদন্ত কওে বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে আমি মুরাদনগর থানায় এশটি অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রাসেলুল কাদের জানান মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই বাছাই নির্ভর করছে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাক্ষ্যের উপর। জাহঙ্গীর আলমের উপর হামলার বিষয়ে তিনি ধস্তাধস্তি হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

Share This:

এই পেইজের আরও খবর